লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৯ জুন ১৯৬৯
গল্প/কবিতা: ৬টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftস্বাধীনতা দিবস (মার্চ ২০১৭)

স্বাধীনতা দিবসের পত্রিকা
স্বাধীনতা দিবস

সংখ্যা

ধুতরাফুল .

comment ৩  favorite ০  import_contacts ৩০২
আংকেল আমার ছবি আর নাম তো দেখছি না ? এটা কি পরের পাতায় দেবেন? আমার তখন মনে হচ্ছিল। পৃথিবী সমস্ত শব্দ ভান্ডার সরিয়ে নিয়েছে। বুকের মধ্য অব্যক্ত কষ্ট নিয়ে বলতে বাধ্য হলাম “অনিক কি একটা ঝামেলা হয়েছে তোমার স্কুলে। স্যার তোমার নাম এবং ছবি আপাতত পত্রিকাতে প্রকাশ করতে নিষেধ করেছেন”। এক মূর্হতে যেন সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেল। নিষ্পাপ কিশোরের দু’চোখে তখন অথৈ শ্রাবণ ধারা। আমাকে লুকোতে দ্রুত পিছন ফিরে ধীরে ধীরে কম্পিউটারের দোকান থেকে বের হলে গেল। কয়েক ফোটা চোখের জল কার্পেটের উপর পড়লো কি পড়লো না। তাতে হয় তো কারো তেমন কিছু যায় আসবে না.... অনিক নবম শ্রেনীতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ে স্থানীয় এক নামকরা স্কুলে। অনিকদের ক্লাশের সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা মিলে স্বাধীনতা দিবসের পত্রিকা প্রিন্ট করছে আমার প্রতিষ্ঠান থেকে। লেখার প্রুফ দেখা থেকে শুরু করে ছবি স্ক্যান, নামের সাথে ছবি মেলানো, কাভার ডিজাইন সবকিছুতেই আমার সাথে থেকে সাহায্যে করেছে অনিক । মাঝে মাঝে নিজ হাতে দোকান থেকে চিনি ছাড়া চা এনে খাওয়াতো। পত্রিকার কাজ যখন একদম শেষের দিকে হঠাৎ তার ক্লাস টিচার ফোনে জানালো ইভ টিজিং এর দায়ে অনিক কে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওর নামটা যেন পত্রিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়.....
অনিকের মত একটা কিশোর ছেলে কি বা এমন পাপ করতে পারে যে একদম টিসি দিয়ে দিতে হলো ? হয়তো কোন এক কিশোরীর প্রতি গোপন ভালোবাসা জন্ম নিয়ে ছিল। যা ঐ কিশোরীর পছন্দ হয়নি । ভালোবাসা প্রকাশের চিরন্তন আকুলতা প্রকাশকে ইভটিজিং এর নাম দিয়ে এই কিশোর ছেলেটার শিক্ষা জীবনটা ধ্বংশ করে দিবে। অনিকের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগন একটা বার ভাবলেন না এই বয়ঃসন্ধী কালে অনেকে বিপথে চলে যেতে পারে। একটু খানি ভালোবাসা আর সহানুভূতিই পারে তাদের কে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে....।

কি সুন্দর ফুটফুটে ছেলে একটা। একবার দেখলে চোখ ফেরানো যায়না। আহারে এমন একটা ছেলে যদি আমার থাকতো? বাপ বেটা মিলে মোটর বাইক নিয়ে চলে যেতাম দুরের কোন গ্রামে। সারাদিন প্রকৃতির ছবি তুলতাম। রাতে খাবার টেবিলে কতশত বিষয়ে যে গল্প করতাম। গল্পের ছলে কখন যে তোর পড়া বুঝিয়ে দিতাম টের ও পেতিস না। আমার স্ত্রীর গোপন একটা কষ্ঠ আছে তার কোন ছেলে নেই বলে। তোকে পেলে আমার একমাত্র কন্যা তিথির মত তোকেও ঠিকই মানুষ করে ফেলতো......
এখন অনেক রাত। কিছুই ভালো লাগছে না আমার। তিথির মাকে ফাঁকি দিয়ে কখন যে ছাদে চলে এসেছি। এই একচিলতে ছাদে তিথির মায়ের রাজত্ব। এক পাশে একটা চিলে কোঠায় তার শখের কবুতর আর বাকী ছাদ জুড়ে টবের মধ্যে বাহারী সব ফুলের বাগান। সে সবের নাম ও আমি সব জানি না......সামনের স্বাধীনতা দিবসে অনিক কি করবে ? বন্ধুরা কি আগের মত সাথে নিবে অনিক কে? নাকি অনিক নিজেকে গুটিয়ে নিষিদ্ধ জগতের মায়ালোকে হারিয়ে যাবে? আমি জানি না.......
আকাশে একফালি চাঁদ মেঘের সাথে লুকোচুরি খেলছে গলির মোড়ে ল্যাম্পপোষ্টের নিচে পাড়ার কয়েকজন উঠতি কিশোরের জটলা। বাতাসে নিকোটিনের সাথে নিষিদ্ধ ঘাসের গন্ধ। চায়নিজ মোবাইলের তীব্র শব্দে ভেসে আসছে কবির-সুমনের সেই বিখ্যাত গান...“ ও গান ওয়ালা তুমি আর একটা গান গাও ........আমার আর কোথাও যাবার যায়গা নেই .........কিচ্ছু করার নেই..............”

( বিঃ দ্রঃ স্কুল ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি আমার বন্ধু, তার সাথে কথা বলে অনিকের বহিষ্কার আদেশ বাতিল করতে পেরেছি। স্বাধীনতা দিবসের পত্রিকায় অনিকের ছবি সহ নাম এসেছে। আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে..........)

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement