একজন মহানুভব শিক্ষকের কাহিনী বিবৃত হয়েছে এ গল্পে
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৪ এপ্রিল ২০১৯
গল্প/কবিতা: ৫০টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - শিশু (সেপ্টেম্বর ২০১৯)

মহানুভব
শিশু

সংখ্যা

শরীফ মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান

comment ১  favorite ০  import_contacts ৩৮
না রনজু তোমাদের দিয়ে কিছু আশা করা যায় না।একটা কাজও তোমরা করতে পারো না।শুধু শুধু আমি তোমাদের পিছনে টাকা নষ্ট করি।চেয়ারম্যান নকীব খান নিজের শালা বাবু রনজু সম্পর্কে অভিযোগ আকারে কথাগুলো বলল।
রনজু তার এক বন্ধুকে নিয়ে চেয়ারম্যান নকীব খানের ডানহাত বামহাত হিসেবে ক্জ করে আর সবধরনের অপকর্মে সাহায্য করে থাকে।আজকে কোনো একটা সমস্যা হয়েছে বোধহয় আর সে কারণেই নকীবখানের এমন মন্তব্য।তার কথা শুনে রনজু একটু বিব্রতবোধ করলো। কালক্ষেপণ না করে উল্টা রনজু নকীব খান কে পাল্টা প্রশ্ন করলো,কেন কি হয়েছে দুলাভাই ,আমি আর মজিদ কি শুধু বসে বসে খাই ,কোনো কাজ করিনা।কি হয়েছে আবার নতুন করে?
তেমন কিছু নয়। এই যে দেখ আঞ্চলিক খবরের কাগজে আমার বিরুদ্ধে খবর প্রকাশিত হয়েছে। আমি নাকি ত্রাণ এর অর্ধেক এর বেশি মেরে দিয়েছি ।সাথে সাথে আমি নাকি আরো নানা ধরণের অপকর্ম করেছি যা ধারাবাহিকভাবে সবকিছু প্রকাশ করা হবে।বোঝ এবার অবস্থা , আমার ইজ্জত আর চেয়ারম্যানগীরি কি আর থাকবে ? নকীবখান কথাগুলো বলে রনজু র হাতে খবরের কাগজটা ধরিয়ে দিলো।
রনজু খবরের কাগজ হাতে নিয়ে পড়তে লাগল। আর তার বন্ধু মজিদ পাশে বসে খবরের কাগজটা পড়তে লাগল।খবরের কাগজ পড়ে মজিদ মনে মনে বলল,যা লিখেছে তা তো ঠিকই লিখেছে,গ্রামের সব ধরণের অপকর্মের হোতা তো আপনি ই আর আমরা আপনার হুকুমের গোলাম। ভাগ্যিস মজিদ উচ্চ শব্দে কথাগুলো বলেনি।তাহলে এক্ষুণি তার রফাদফা হয়ে যেত।
রনজু সবটুকু পড়ে উত্তেজিত হয়ে উঠল। কারণ সহকারি হিসেবে তার ও মজিদের নামও রয়েছে সেখানে।খবরের কাগজটা ভাজ করে রেখে দিয়ে রনজু বালিশের নিচ থেকে পিস্তলটা বের করে হাতে নিয়ে তার দুলাভাইকে বলল,দুলাভাই খবরটা প্রকাশকারি সাংবাদিক তো ঐ পাড়ার রফিক মাষ্টার তাই না? আমি তার ব্যবস্থা করে আসছি যেন সে ধারাবাহিকভাবে খবর প্রকাশ করতে না পারে।
জবাবে নকীব খান বলল,ঠিক আছে যা ,তবে যদি কথা না শোনে তবে একেবারে ব্যবস্থা করে আসিস।
দুলাভাইয়ের গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে রনজু রফিক মাষ্টারকে একেবারে শেষ করে দেবার জন্য মজিদকে সাথে নিয়ে বেড়িয়ে পড়ল।
ততক্ষণে বিকেল গড়িয়ে রাতের আঁধার নেমে এসেছে ধরার বুকে।চারিদিকে ঘুটঘুটে আঁধার নেমেছে। মজিদ রনজুকে বলল,চল এখনই সময়।রফিক মাষ্টারকে হয়তো বাজারে পাওয়া যেতে পারে।
যেই বলা সেই কাজ। মজিদের কথা অনুযায়ি দুজনে বাজারে গিয়ে রফিক মাষ্টারকে খুঁজতে লাগল। বাজার তন্ন তন্ন করে খুঁজে কোথাও পেল না তাকে। কিছুটা হতাশ হলেো রনজু আর মজিদ। এই মাষ্টারকে থামাতে না পারলে আবার আগামিকাল তো খবরের কাগজে প্রকাশিত হবে তাদের সবার অপকর্মের কথা।সুতরাং মাষ্টারকে থামাতেই হবে তাদের।একটু ভাবলো রনজু।
সহসা তার মোবাইল ফোন বেজে উঠল।তার দুলাভাই কল করেছে।রিসিভ করে রনজু বলল,জ্বি দুলাভাই বলেন।
কোনো খবর আছে। কিছু করতে পারছিস।নকীব খান জানতে চাইল।
না খুঁজেই তো পাইনি। কিভাবে কি করবো। রনজু বলল।
আরে বোকা এখন বাড়ীতে গিয়ে খুঁজে দেখ।আর শোন প্রথমে ভয় দেখাবি আর হুমকি দিবি তাতে যদি কথা শোনে কিছু করার দরকার নাই।আর যদি কথা না শুনে বেশি বাড়াবাড়ি করে তোর কথা না মানে আর আমাদের খবর ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করতে চায় তবে খবর বানিয়ে ওকেই শেষ করে দিস। নকীব খান রফিক মাষ্টারকে শেষ করে দেবার হুকুম দিয়ে দিল রনজু আর মজিদকে।
তার কথা শুনে রনজু বলল, ঠিক আছে দুলাভাই তোমার কথা অনুযায়ি কাজ হবে। এতটুকু বলে রনজু মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিল।
এবার মজিদ আর রনজু দুজনে সরাসরি রফিক স্যারের বাড়ীতে এসে উপস্থিত হলো।তারা দুইজনেই উত্তেজিত হয়ে আছে। কারণ দুইঘন্টা পর্যন্ত তারা রফিক মাষ্টারকে খুঁজেছে।কিন্তু তার দেখা পায়নি। তাই মজিদ জোড়ে দরজায় টোকা মেরে রফিক স্যারকে ডাক দিয়ে বলল, স্যার বাড়িতে আছেন।একটু বাইরে আসেন কথা আছে।
ভিতর থেকে জবাব এলো মহিলা কন্ঠে,তোমাদের স্যার বাড়ীতে নেই ,মসজিদে এশার নামায পড়তে গেছেন।
রনজু আর মজিদ একটুও অপেক্ষা করলো না।দুইজনে রফিক মাষ্টারের মৃতু্যদূত হয়ে দ্রুত মসজিদের দিকে ধাবিত হলো।
ততক্ষণে এশার নামায শেষ হয়ে গেছে। বাড়ীর কাছেই মসজিদ,তাই সবার শেষে দু রাকায়াত নফল নামায পড়ে বের হন রফিক মাষ্টার ।মসজিদের দরজা প্রায় দিনই সে বন্ধ করে আসে।মসজিদের দরজা দিয়ে রনজু আর মজিদ ভিতরে রফিক মাষ্টারকে দেখতে পেল,বসে আছে।বিদু্যতের আলোতে পরিস্কারভাবে দেখা যাচ্ছে তাকে।রনজু একবার ভাবলো এখান থেকেই শেষ করে দেই শালারে। আবার ভাবলো না যদি কথা মেনে নেয় তাহলে তো খুন করতে নিষেধ করেছে তার দুলাভাই। আগে বলেই দেখি। খুনির কাছে সবকিছুই সমান।এটা যে মসজিদ তা ও সে ভুলে গেল।সোজা ঢুকে পড়লো মসজিদে।
রফিক মাষ্টার তাদেরকে দেখে ভয় পেয়ে গেল।দাঁড়িয়ে বলল,তোমরা এখন কি চাও আমি তো মসজিদ বন্ধ করে দেব ভাবছিলাম।তোমরা কি নামায পড়বে?
হা হা করে হাসলো রনজু আর মজিদ।তারপরে পিস্তলটা বের করে রফিক মাষ্টারের মাথায় ধরে রনজু বলল,আমরা তো আপনার জীবনটাই এখন বন্ধ করে দেব।যদি আমাদের কথা না শোনেন।

তোমরা কি চাও? রফিক মাষ্টার জানতে চাইল।
দুলাভাই আর আমাদের নামে আর কোনো অপকর্মের খবর ছাপা হাবে না ঐ খবরের কাগজে,এটাই আমাদের চাওয়া।রনজু হুমকি দিয়ে বলল।
যা সত্য তা তো প্রকাশিত হবেই।তোমরা অপরাধ ছেড়ে ভালো পথে ফিরে এসো।আমার অনুরোধ পিস্তলটা সরিয়ে নাও।রফিক মাষ্টার রনজুকে অনুরোধ করে বলল।
না প্রকাশিত হবে না।আর কোনো খবর প্রকাশিত হবে না।আমরা চাই যেটুকু হয়েছে তার জন্যও ভুল স্বীকার করতে হবে।রনজু আবার বলল।
সেটা সম্ভব নয়।আমি সত্যি লিখবই।আর চেয়ারম্যান এর অপকর্ম এর সব পর্ব সম্পাদকের কাছে জমা দেয়া হয়ে গেছে।সুতরাং তোমরা ভালো হও তোমাদের দুলাভাই সহ। রফিক মাষ্টার আবার রনজুদেরকে ভালো হবার আহ্বান জানিয়ে বলল।
তাহলে আমাদের কথা শুনবেন না।রনজু কঠোরভাবে রফিক মাষ্টারকে বলল।
কিছুতেই না। রফিক মাষ্টারের সোজা জবাব।
তাহলে আপনাকে কেউই এখন বাঁচাতে পারবে না।সুতরাং রেডি হন মৃতু্যর জন্য।রনজু গুলি করার জন্য প্রস্তুত হলো।
আমার বিশ্বাস আল্লাহ্ আমাকে বাঁচাবেন। রফিক মাষ্টার রনজুদেরকে এ কথা বলে মনে মনে কলেমা পড়তে লাগলো।
রফিক মাষ্টারের বিম্বাসই সত্য প্রমানিত হলো।আল্লাহ্ ই তার সহায় হলেন।যেই গুলি করতে যাবে রনজু ওমনি বিদু্যত চলে গেল।আর রফিক মাষ্টার এক লাফে মসজিদের এক কোনে চলে গেল।অন্ধকারে কিছু দেখা যাচ্ছে না।রনজু হাক দিয়ে মজিদকে বলল,ঐ মজিদ জেনারেটরের লাইনটা অন কর।
জবাবে মজিদ বলল,কোথায় আমি জানি না।
মজিদের কথা শুনে রনজু নিজেই এবার জেনারেটরের লাইনটা খুঁজতে লাগল।আর এদিকে বিদু্যতের লাইনের একটা তার ছেঁড়া ছিল তার সঙ্গে গিয়ে রনজুর হাত লাগল। যেহেতু রনজু আর মজিদের মসজিদে আসা যাওয়া নেই তাই তাদের জানা ছিল নিা কোথায় কি আছে। অত্রএব রনজু ছেঁড়া তার ধরে হাতাতে লাগলো ,নাড়াচাড়া দিতে লাগলো।সহসা বিদু্যত চলে এলো। রনজু শক খেয়ে বিদু্যতের তারের সঙ্গে আটকে গেল।ভয়ে মজিদ দিল দৌঁড়।
এ পরিস্থিতি দেখে রফিক স্যারের বিবেক নাড়া দিল।সে মজিদকে ডাক দিয়ে বলল,এই মজিদ পালিয়ে যেও না রনজুকে ছাড়াতে হবে তো।
রফিক মাষ্টারের কথা শুনে এবার মজিদ থেমে গেল ।দ্রুত রফিক স্যার মসজিদের বিদু্যতের লাইন বন্ধ করে দিল।রনজু ফ্লোরের ওপর অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল। রফিক স্যার আবার বিদু্যতের লাইন সংযোগ দিয়ে দিল।
রফিক স্যার মজিদকে তাগাদা দিয়ে বলল,দ্রুত ধরো রনজুকে, ওকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। দুইজনে ধরে রনজুকে নিয়ে রাস্তায় উঠতেই একটা ভ্যান গাড়ী পেয়ে গেল।রনজুর ভাগ্য ভালোই বলতে হবে।
হাসপাতালে দ্রুত চিকিৎসা দেয়া হলো রনজুকে।আল্লাহ্ র রহমতে রনজু বেঁচে গেল।তার জ্ঞান ফিরে এলো।রফিক স্যার আলহামদুলিল্লাহ্ বলে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এলো।
রফিক মাষ্টার চলে যেতে এবার মজিদ নকীব খানকে মোবাইলে খবর দিল।খবর শোনা মাত্র নকীব খান তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে হাসপাতালে এসে উপস্থিত হলো।ভাইকে জড়িয়ে ধরে নকীব খানের স্ত্রী কাঁদতে লাগলো।
এবার নকীব খান মজিদের কাছে বিস্তারিত সবকিছু জানতে চাইল।
মসজিদে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা স-বিস্তার মজিদ খুলে বলল সবার কাছে। মজিদের কথা শুনে সবাই বিস্মিত হলো।নকীব খান মনে মনে একটা বড় ধাক্কা খেলেন।যাকে খুন করতে গেল রনজু সেই রফিক মাষ্টার ই আজ রনজুকে বাঁচাল।আমি অমানুষ হয়ে গেছিলাম,তাই এমন মহানুভব মানুষকে মারার জন্য রনজুকে পাঠিয়েছিলাম।নকীব খান যেন পুনরায় বিবেক ফিরে পেলেন।মনে মনে আল্লাহ্ র কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলেন।
রাতেই রনজুকে নিয়ে বাসায় ফিরে এলো সবাই।
সকালে দরজায় টোকা শুনে রফিক মাষ্টার দরজা খুলে দিল।সে কিছুটা অবাক হলো কারণ চেয়ারম্যান নকীব খান সহ সবাই তার বাসায় এসে হাজির হয়েছে।
স্যার আমাকে মাফ করে দেন বলে রফিক স্যারের দুই পা জড়িয়ে ধরলো রনজু।নকীব খান আর তার স্ত্রীও তার পায়ে পড়ল।রফিক স্যার বিব্রতবোধ করলো। সে বলল,তোমরা সবাই ওঠো,আমার কোনো অভিযোগ নেই তোমাদের প্রতি। আশা করি তোমরা সবাই সঠিক পথে ফিরে আসবে।আমি তোমাদের জন্য দোয়া করি।আল্লাহ্ তোমাদের হেফাযত করবেন।
রফিক স্যারের কথা শুনে নকীব খান তার কান ধরে বলল,এই কান ধরে বলছি স্যার আর জীবনেও অপরাধ করবো না।সবকিছু দিয়ে হলেও মানুষের সেবা করবো।
তোমার মনের আশা পূরণ হোক আমি এই দোয়া করি। রফিক স্যার নকীব খানকে দোয়া করে বলল।
নকীব খান সবাইকে নিয়ে ফিরে আসার আগে বলল,স্যার আপনার বিশ্বাস দেখে আর মানুষের প্রতি ভালোবাসা দেখে,আল্লাহ্ র ওপরে মজবুত বিশ্বাস দেখে আমার মনে যে পরিবর্তন এসেছে তা যেন ধরে রাখতে পারি এই দোয়াটুকু ও করবেন স্যার।
রফিক মাষ্টার দেখল এবার সবার সত্যিকারের সুশিক্ষা হয়েছে তারা হয়তো এবার মানুষের কাজে লাগবে।তাই সে হাসিমুখে স্কুলের পথ ধরলো আর সবাইকে উদ্দেশ্যে করে বলল,আল্লাহ্ র ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে তোমরা এগিয়ে গেলে জীবনে সফল হতে পারবে। আর আমি সবার জন্য সেই দোয়াই করি। আমি স্কুলে চললাম আর তোমরা মানুষের কল্যাণে কিছু করার জন্য এগিয়ে যাও।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement