লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৩ আগস্ট ১৯৯২
গল্প/কবিতা: ৫টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - ঐশ্বরিক (মার্চ ২০১৭)

চোখে আমার তৃষ্ণা
ঐশ্বরিক

সংখ্যা

মোট ভোট

অণু অনু

comment ২  favorite ০  import_contacts ৫০৭
পৃথিলা যখন ওর বাবা-মায়ের দোহাই দিয়ে আমাদের চার বছরের সম্পর্ক ভেঙে দিয়ে ওর বাবার পছন্দ করা ছেলেকে বিয়ে করলো আমার সব শেষ হয়ে গেলো। প্রথমটাতে কেমন একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম ,মনে হতো বুঝি দুঃস্বপ্ন দেখছি এখনই ঘুম ভেঙে যাবে। কিন্তু বেশকিছু দিন কেটে যাবার পরও যখন ঘুম ভাঙলো না ,তখন মনে হতো আমি মরে যাবো। হঠাৎ হঠাৎ কেমন দম বন্ধ হয়ে আসতো। কিন্তু আমি মরলাম না ,এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠবার পর এই-সব ভালোবাসাবাসির প্রতি বিশ্বাস উঠে গেলো ,মেয়ে দেখলেই ধোকাবাজ মনে হতো। রাস্তায় কোনো কাপল দেখলে ভণ্ডামি মনে হতো। সব কিছু অসহ্য লাগতো ,বেঁচে থাকা অর্থহীন লাগতো। আমাকে শান্তনা দিতে দিতে বন্ধুরা বিরক্ত ,আমার গোমড়া মুখ দেখতে দেখতে ছোট বোন কথা বলাই কমিয়ে দিলো। মা দীর্ঘশ্বাস ফেলতো আমাকে দেখে,তাও গায়ে মাখতাম না।
এই যখন অবস্থা আমার বন্ধু রাশেদ বললো ,"চল আমাদের গ্রাম থেকে ঘুরে আসি। এক্কেবারে খাঁটি গ্রাম।"
বিরক্ত হলাম রাশেদের কথা শুনে ,আমি তখন এই সব ভাবের দুনিয়া থেকে বহুদূর।আমার কাছে তখন সবই ভেজাল। কিন্তু কি ভেবে রাজি হয়ে গেলাম।
যাবার ব্যবস্থা হলো ট্রেন এ।ট্রেন আমার ভীষণ অপছন্দ ,পৃথিলার আবার খুব পছন্দ ছিল।মানুষজন প্রেম করতে কতজায়গায় যায় ,আমরা হাত ধরাধরি করে ট্রেন লাইন এ হেঁটে বেড়াতাম। কতবার ,কত-শতবার যে তার কোনো হিসাব নেই। আমরা বিরক্ত হতাম না ,প্রতিদিন নতুন লাগতো। ভালোবাসা কি আর পুরানো হয় !
লক্করঝক্কর মার্কা ট্রেন ,আমি রাশেদের উপর ভীষণ বিরক্ত হলাম। ইচ্ছা হলো একটা চড় দেই ,কিন্তু বেচারার নিরীহ চেহারা দেখে মায়া করে দিলাম না।
প্রায় সাড়ে দশ ঘন্টা দীর্ঘ জার্নির পর যখন গন্তব্যে পৌছুলাম ,যতটা বিরক্ত হবো ভেবেছিলাম হলাম না।
আমার বন্ধুরা আমার উপর বিরক্ত জানতাম কিন্তু কতটা তার আন্দাজ হলো যখন রাশেদ প্রায় সাড়ে-চার কিলোমিটার হাঁটানোর পর নদীর ঘাঁটে পৌঁছে বললো এইতো আমরা পৌঁছে গেছি। আমার তখন রাগে মনে হলো রাশেদের চুলের মুঠি ধরে এই নদীতেই চুবিয়ে মারি ,তারপর যা হবার হবে।
তিন ঘন্টা নৌকা করে চলার পর যখন আমরা আরেকটা ঘাঁটে পৌছালাম আমার রাশেদের উপর সন্দেহ হতে শুরু করেছে।নদীর ঘাঁটে নেমে আরো প্রায় আধ যাবার পর রাশেদের বাড়ি পৌছালাম। একটা খাঁটি গ্রামে যা থাকা দরকার তার সবই আছে ওই গ্রামে। পরের তিনদিন সাদামাটা ভাবে কাটলো। বিরক্ত লাগছিলো প্রথম প্রথম। তারপর কেমন যেন একটা শান্তি-শান্তি লাগতে শুরু করলো। সারাদিন রাশেদকে নিয়ে ,কখনোবা ওকে ছাড়াই ঘুরে বেড়াতাম। শহর থেকে গেছি জন্যে সবসময়ই কেউ না কেউ সাথে থাকতো। একদিন সকাল বেলা হাটতে বেরিয়ে বেশ ভিতরে ঢুকে গেছি জঙ্গলের। হঠাৎ মানুষের হট্টগোল শুনতে পেলাম ,চারপাঁচজন মানুষ বেশ ব্যাস্ত ভঙ্গিতে কি জানি বলতে বলতে চলে যাচ্ছিলো। আমি ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করায় বললো ,নিরালা নাকি আবার ক্ষেপেছে। আর কিছুই জানতে পারলাম না ,বাড়ি গিয়ে দেখি খালেদরা আমাকে খুজাখুজি করছে। খালেদের মা কে বেশ চিন্তিত মনে হলো ,আমাদের বললো বেশি বনে-বাদারে ঘুরে না বেড়াতে। কাহিনী কিছুই বুঝতে না পেরে খালেদকে জিজ্ঞেস করার পর বললো, নিরালা দেবী নাকি কয়েক বছর পর পর ক্ষেপে যায় ,তখন লোকজনের ক্ষতি করা শুরু করে lনিরালা দেবী পাগল কিনা ,যদি পাগল হয় তবে চিকিৎসা কেন করা হচ্ছে না এই ধরণের প্রশ্ন শুনে খালেদ আমাকে চুপ করার জন্যে ইশারা করলো। আমি চুপ করে গেলাম।
রাতে শুতে যাবার পর ঘটনা কি জানার জন্যে খালেদ কে চেপে ধরলাম। ও যেটা বললো সেটার সারমর্ম এরকম -এই এলাকা অনেক আগে থেকে এক হিন্দু জমিদার এর আওতাধীন ছিল। প্রায় ১০০ বছর আগের কথা ,হেমচন্দ্র চৌধুরী ছিলেন তৎকালীন জমিদার। তার ছিল তিন ছেলে আর একটা মেয়ে। মেয়ের নাম নিরালা দেবী ,প্রচন্ড ভালোবাসতেন মেয়েকে হেমচন্দ্র।নিরালা দেবীও প্রচন্ড মেধাবী ছিলেন।ঘোড়-সওয়ারি ,অস্ত্র -চালনা থেকে শুরু করে এমন কোনো কিছু নেই যেখানে নিরালা দেবীর দখল ছিল না। শুধু মাত্র এই সব গুন্ ছিল তাই নয় ,নিরালা দেবী অত্যন্ত হৃদয়বানও ছিলেন বলে কথিত আছে l তিনি অস্ত্রচালনা শিখতেন এক মুসলিম ওস্তাদের কাছে। অস্ত্রচালনা শিখতে শিখতে নিরালা দেবী মুসলিম ওস্তাদের অস্ত্রে ঘায়েল হয়। লোক জানাজানি হলে তারা পালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়।কথা ছিল প্রাসাদের পিছনের দীঘির পারে তারা দেখা করবে কিন্তু গিরিবালা সারারাত অপেক্ষা করে সকালে জানতে পারে সেই ওস্তাদ পালিয়ে গেছে। তারপর থেকেই গিরিবালা অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। হাসিখুশি থেকে হঠাৎ করে কেমন গম্ভীর হয়ে যায় ,একা একা প্রতিরাতে দীঘির পাড়ে ঘুরে বেড়ায় ,হঠাৎ ভীষণ ক্ষেপে যায়।
গিরিবালার তিন ভাই ছিল ভীষণ অত্যাচারী, একদিন হঠাৎ করে গিরিবালা খেপে গিয়ে তার বড় ভাইকে হত্যা করে এবং অন্য ভাইদের বিতাড়িত করে নিজেই জমিদারি শাসন শুরু করে। গিরিবালাও তার ভাইদের মতো ভীষণ অত্যাচারী ছিলেন। গিরিবালার শাস্তির একটা বিশেষ কায়দা ছিল গাছের সাথে ঝুলিয়ে নিচে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা। লোকমুখে এমন কথা প্রচলিত আছে মানুষ গাছে ঝুলিয়ে নিচে একটা তামার পাত্র রেখে আগুন ধরিয়ে দেয়া হতো। প্রচন্ড তাপে শরীর পুড়ে চিমসে যাবার সময় একটা বিশেষ তরল তামার পাত্রে জমা হতো। জনশ্রুতি আছে সেই তরল গিরিবালা প্রসাধনী হিসেবে পায়ে ব্যবহার করতো। এখানকার স্থানীয় কিছু লোক দাবি করে এখনো তাদের কাছে এই তেল আছে এবং হার-গোর ভাঙার চিকিৎসায় এই তেল অত্যন্ত কার্যকর।
অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে প্রজারা গিরিবালাকে হত্যা করে একসময়। কিন্তু মৃত্যুর পরও গিরিবালা তার জমিদারি ত্যাগ করেনি,এখনো প্রতিরাতে তাকে দীঘির ধারে অপেক্ষা করতে দেখা যায় আর মাঝে মাঝেই সে ক্ষেপে যায় এবং তার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেবার জন্যে মানুষের অনিষ্ট করে।
এই পর্যন্ত ঘটনা শোনার পর আমি এতটাই অবাক হলাম যে মুখ দিয়ে কোনো কথা বেরোলো না।চোদ্দশো শতকের দিকে ওয়াল্লাছিয়ার (বর্তমান রোমানিয়া) রাজা ভ্লাদ ড্রাকুলার কথা শুনেছিলাম যে কিনা বড় তামার পাত্র তৈরী করেছিলেন ,যার ঢাকনাটা ছিল কাঠের এবং গর্তওয়ালা। যার মধ্যে মানুষ ঢুকিয়ে মাথাটা গর্ত দিয়ে বের করিয়ে বেঁধে ফেলা হতো । তারপর পানি পূর্ণ করে পাত্রটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হতো। মানুষটি তখন অমানুষিক চিৎকার করতে করতে সেদ্ধ হয়ে মারা যেত। মাথাটা বাইরে থাকতো তাই প্রচন্ড যন্ত্রণার অভিব্যক্তি তার চোখে-মুখে ফুটে উঠতো ,যেটা দেখে সাইকো ভ্লাদ আনন্দ পেত।

কিন্তু এই উপমহাদেশ ,তাও আবার একজন নারী শাসকের এতটা নির্মম অত্যাচারের কথা ভাবাই যায় না!
এতক্ষন যে ঘটনা শুনলাম তাতে নারী জাতির প্রতি ঘৃণা আমার আরো বেড়ে গেলো।
এতকিছু শোনার পর হেমচন্দ্রের প্রাসাদ না দেখলে কিছুতেই চলে না। আমি রাশেদ কে বলতেই আমার দিকে এমনভাবে তাকালো মনে হলো আমি ওর একটা কিডনি দুইদিনের জন্যে ধার চেয়েছি।
অনেক বুঝিয়ে সুজিয়েও রাজি করাতেও পারলাম না পরে ঠিক করলাম একাই যাবো।
যেই ভাবা সেই কাজ ,পরদিন সকালে গ্রাম দেখতে বেরুচ্ছি বলে বেরিয়ে পড়লাম। বেরোনোর সময় রাশেদকে কেমন কেমন করে তাকাতে দেখলেও পাত্তা দিলাম না। এর আগেরদিন যেদিক থেকে হট্টগোল শোনা যাচ্ছিলো সেদিকে হাটতে থাকলাম। দেড়ঘন্টা এলোমেলো হাঁটাহাঁটি করে অবশেষে প্রাসাদটা খুঁজে পেলাম। প্রাসাদ বললে ভুল হবে,এখন যতটুকু দেখা যাচ্ছে এটাকে প্রাসাদের কঙ্কাল বলা যেতে পারে। পাশাপাশি চারটা দালান ভগ্নশরীরে হলেও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকেও তৎকালীন জৌলুসের রিচয়প বেশ জাকজমকভাবেই দিচ্ছিলো। চমৎকার কারুকার্যখচিত দালানগুলো সদর্পে তখনও তাদের প্রতিপত্তির কথা বয়ান করে যাচ্ছে। প্রাসাদগুলোর সামনে এসে আমার মনটা কেমন করে উঠলো ,জনশূন্য পরিত্যাক্ত এই দালানগুলো একসময় নিশ্চই মানুষের চরম কৌতুহল ,আকর্ষণ আর ভয়ের কেন্দ্রস্থল ছিল। ঘুরতে ঘুরতে প্রাসাদের পিছনদিকটায় একটা ডোবা মতন দেখতে পেলাম। প্রায় ক্ষয়ে যাওয়া বাঁধানো ঘাট দেখে বুজতে পারলাম এটাই সেই দীঘি যেখানে নিরালা দেবী সারারাত তার প্রেমিকের জন্যে অপেক্ষা করে সকালবেলা বিশ্বাসঘাতকতা উপহার পেয়েছিলো।
হঠাৎ করে আমি নিরালা দেবীর প্রতি কোনো ঘৃণা নয়,বিতৃষ্ণা নয় ,প্রতিহিংসা নয় বরং করুণা বোধ করলাম। যেমনটা নিজের জন্যে করি।
সবকিছু কেমন এলোমেলো লাগতে শুরু করলো। বেঁচে থাকাটা তুচ্ছ মনে হলো ,এই জীবনের কোনো অর্থই খুঁজে পেলাম না।
হঠাৎ বুঝলাম আমার আসলে বেঁচে থাকার কোনো অর্থই নেই ,আমার মরে যাওয়া উচিত। প্রাসাদের বারান্দার লোহার কাজ করা খাঁজগুলোতে মরিচা পরে গেলেও বেশ কাজ করবে। কব্জির ঠিক কোথায় কতটুকু কাটতে হবে আমার থেকে তখন কেও ভালো জানে না।
আমার শরীর থেকে একটু একটু করে রক্ত পড়তে থাকবে আর আমার তৃষ্ণা বাড়তে থাকবে। রক্ত ঝরতে ঝরতে তৃষ্ণা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে ঠিক তখনি আমার সব তৃষ্ণার সমাপ্তি ঘটবে।
আহঃ,কি শান্তি !!!
কখনযে আবার প্রাসাদের সামনে যেদিকটা বারান্দাগুলো সেদিকে চলে এসেছি টেরই পাইনি। কাঁধে কারো স্পর্শে আমার চেতন ফিরে পেলাম। রাশেদ বললো - "আমি ঠিক জানতাম তুই এখানেই আসবি। কতো করে মানা করলো সবাই,শুনলি নাতো !"
বলে আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে থাকলো।
আমি তখনো আমার মধ্যে নেই। বাড়ি ফিরে যাবার সময় প্রাসাদটাকে পিছন ফিরে দেখার লোভ সামলাতে পারলাম না। প্রাসাদটা তখন ভীষণভাবে আমাকে আকর্ষণ করছে। হঠাৎ দোতলায় চোখ পড়তেই দেখলাম ,অন্ধকার জানালা দিয়ে ধক্ধক করে জ্বলতে থাকা দুটো চোখ আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি থম্কে দাঁড়ালাম।
আমাকে দ্বাড়িয়ে পড়তে দেখে রাশেদ আমাকে টেনে নিয়ে চললো।
বাড়ি ফিরেও আমি খুব একটা স্বাভাবিক হতে পারলাম না। সেই চোখ দুটো আমাকে তাড়া করে বেড়াতে লাগলো। কি ভয়ঙ্কর ক্রোধ ! কি ভয়ঙ্কর ঘৃণা !!
কিন্তু ক্রোধও নয় ,ঘৃণাও নয় আমাকে তাড়া করে বেড়াতে লাগলো ওই চোখ জোড়ার অব্যাক্ত যন্ত্রনা আর তৃষ্ণা।
সারাদিন বাড়িতে বসেই কাটিয়ে দিলাম সেদিন। রাতে ঘুমাতে যাবার পর নিজেকে আবারো ওই প্রাসাদের সামনে আবিষ্কার করলাম। কি এক অজানা কৌতুহলে আমি প্রাসাদের দিকে এগিয়ে গেলাম। তালা দেওয়া সদর দরজা খুলে কারুকার্যখচিত কালো-কাঠের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলাম। উপরে সারি-সারি তিন-চারটা ঘরের মধ্যে একটাতে ঢুকে গেলাম। আমি জানি না কেন এই ঘরে ঢুকলাম অথবা আমি জানতাম আমাকে ওই ঘরটাতেই ঢুকতে হবে। প্রকান্ড ঘরের সবকিছু কেমন ধোঁয়াশা লাগলো আমার কাছে ,শুধু একপাশে টাঙানো একটা ছবি স্পষ্ট দেখতে পেলাম। কি এক জাদুর বলে আমি সেটার দিকে এগিয়ে গেলাম। না মুখটা প্রচলিত হিসাবে সুশ্রী নয়। কিন্তু কি প্রচন্ড মায়া তার চোখে !! কি আশ্চর্য মোহময়তা আমি বলে বুঝাতে পারবো না। সব সৌন্দর্য কি আর প্রচলিত নিয়ম মানে ? নাকি ,সব সৌন্দর্যই প্রচলিত হিসাবে বর্ণনা করা যায় ?
সেই রূপের খোঁজ যে পাবে,সে আর কিচ্ছু দেখতে চাইবে না।
তারপর আমি নিজেকে সেই দীঘির পারে আবিষ্কার করলাম। শানবাঁধানো ঘটে সেই মায়াবতী বসে আছে ,তার মায়াময় চোখে তখন কি ভীষণ বিমর্ষতা !!
আমার বুকটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো। আমি তার দিকে এগিয়ে যেতে থাকলাম কিন্তু হঠাৎ সামনে দীঘির পরিবর্তে গোলাকৃতি বিশাল বেদির সামনে পেলাম। যার উপর কয়েকজন মানুষকে গাছের সাথে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে আর তাদের নিচে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। যন্ত্রনায় মানুষগুলো অমানুষিক চিৎকার করছে। আমি এই ভয়াবহ দৃশ্য আর সইতে না পেরে হাত দিয়ে মুখ ঢাকলাম।
হাত সরালাম একটা মিষ্টি অথচ চাবুকের মতো ধারালো কণ্ঠে এবং নিজেকে আবারো সেই দোতালার কক্ষে আবিষ্কার করলাম। কি মাধুর্য আবার অহংকারের তীর ঝরে তার কণ্ঠে। এ যেন এক বিষমাখানো অমৃত। বিষ মাখানো অমৃত ঝরা কণ্ঠ বললো -
" কি ভয় পেয়ে গেলে ? কাপুরুষ !!"
"কাপুরুষ " আমাকে চাবুকের মতো আঘাত করে আমার হৃদয়কে ক্ষত-বিক্ষত করে দিলো।
মুখ থেকে হাত সরিয়ে পিছন ফিরে আবছাভাবে তাকে আমি দেখলাম।
প্রচন্ড তৃষ্ণা নিয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠলাম।
দুই-তিনদিন পর ঢাকা ফিরে এলাম। তারপর থেকে প্রতিরাতে আমি একই স্বপ্ন দেখি। আমার ঘুম ভেঙে চাবুকের মতো ধারালো অথচ অমৃত মাখানো কণ্ঠে "কাপুরুষ " শুনে।
আমি কত করে তাকে বলতে চাই ,"তোমার তৃষ্ণা মিটলো ?"
কিন্তু আমি বলতে পারি না। ভয়ঙ্কর তৃষ্ণা নিয়ে আমার ঘুম ভাঙে প্রতিরাতে। আমি প্রানপন চেষ্টা করি তৃষ্ণা মেটাবার কিন্তু আমার তৃষ্ণা বাড়ে।
চোখের তৃষ্ণা।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী
    মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী প্রথম দিকে যেটা বোঝালেন এটা প্রায় জিবনেই সবাই ভাবতে থাকে। আর আপনি গল্পের মাধ্যমে সেগুলো, বিভিন্ন দৃশ্য ফুটিয়ে তোলেছেন বেশ ভালো লেগেছে। শুভকামনা, ভোট ও আমার পাতায় আমন্ত্রণ রইলো।
    প্রত্যুত্তর . thumb_up . ১০ মার্চ, ২০১৭
  • কাজী জাহাঙ্গীর
    কাজী জাহাঙ্গীর ঐশ্বরিক নয় যেন ভুতের গল্প পড়লাম হা হা হা...। বেশ লিখেছেন একেবারে গা ছম ছম করা ভয় জাগানো। লিখতে থাকুন ভাল ভাল গল্প। অনেক শুভ কামনা আর আমার পাতায় আমন্ত্রণ।
    প্রত্যুত্তর . thumb_up . ১২ মার্চ, ২০১৭
    • অণু অনু নতুন নতুন লিখছিতো তাই যেটা বোঝাতে চাই ঠিক বোধ হয় ফুটে ওঠে না। কুসংস্কার ,ভয় ,ঘৃণা এগুলোকে ছাপিয়ে শুধু ঐশ্বরিক ভালোবাসা ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলাম ।বোঝা যাচ্ছে ব্যর্থ প্রচেষ্টা । অনুপ্রেরণার জন্য ধন্যবাদ ।আশা করি ধীরেধীরে পরিপক্ব লেখা উপহার দিতে পাড়বো । ধন্যবাদ ।
      প্রত্যুত্তর . thumb_up . ১২ মার্চ, ২০১৭

advertisement