একটা ঝড় তুলি পিচঢালা রাতে, একটা আকাশ ভাঙা শব্দ ছুটে আসে তীব্র গতিতে;
কিছু বুনো মেঘ থমকে দাঁড়ায় সীমানার প্রাচীর, কিছু বুকফাটা আহাজারি ক্লান্ত হয় বুকের ভিতর!
এই যে বৃষ্টির ঝাপটায় উন্মাতাল দু'চোখ, অবাধ্য হয়ে ছুটে আসে বিষাদের উন্মাদনা;
স্টিয়ারিং এর ব্যস্ত এক পথে ছুটে চলি অবিরাম, দখিনা বাতাস প্লাবিত করে দু'চোখ
প্রচণ্ড বেগে জমকায় পাহাড়িকা মেঘ, চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয় স্পর্শতার অনুভূতি!

স্মৃতির বিলাপ অন্ধকারে বয়ে চলে নিরুদ্দেশ; এলোমেলো চুল, গিটার হাতে ভূপালী সুর
কি যেন খোঁজে চলে মন, কেমন যেন হারানো বিজ্ঞপ্তিতে ছেয়ে যায় প্রান্তরেখা।
মনে পড়ে শৈশবের হাসি, মায়ের হাত ধরে স্কুলে আসা যাওয়া
মনে পড়ে বিকেলের স্নিগ্ধতায় মাঠে মাঠে নাটাই হাতে ঘুড়ি উড়ানো
দোলনচাঁপার ফুলের বাগানে দৌড়াদৌড়ি।
অথচ আজ নিলীন অশ্রু বুকে নিয়ে সুনীল আকাশ তাকিয়ে থাকে
ধীরেধীরে ডাইরির ঘুমোট পাতা জেগে তুলে বিষণ্ণতার রাজপ্রাসাদ;
অতঃপর নিলামে কষি নিষ্ঠুরতার হিসেব, প্রত্যাশার আর্তচিৎকার!

ল্যাপ্টে থাকা নীলাম্বরী হাসিগুলো আজ জ্বলন্ত পিদিম
একচ্ছত্র অধিকার নিয়ে বারবার চিতায় পোড়ায় মন,
বারবার তেজোদৃপ্ত সূর্যের সাথে জানায় যুদ্ধের অভিবাদন।
আঘাতে রক্তাক্ত হই, পুড়েপুড়ে পোড়া মাটি হই;
তবুও শত তাচ্ছিল্য, ঘৃণা আর অবজ্ঞার ব্যাকুল স্রোতে আবারো তুলি প্রতিশ্রুতির দেয়াল!

নিস্তব্ধ রাতের প্রহর ভেঙে খোলা জানালার পথ বেয়ে যখন নেমে আসে চাঁদনিরাত
তখন আমি এক এক করে পুনরায় দোসর স্বপ্নগুলোকে জড়িয়ে ধরি, আকুলতার কথা বলি;
যদিও উপেক্ষা করি মায়াবী হাসি, জ্যোৎস্নার রাত
যদিও এই অশ্রুসজল দু'চোখ খোঁজে নেয় এক একটি শ্মশান,
তবুও আশা বেধে রাখি, তবুও স্বপ্ন তুলে রাখি
ঠিক একদিন অবসান ঘটবে এই উত্তাল পাতাল সমুদ্র ঝড়ের, শিকলে বাধা বন্দী কারাগারের
ঠিক একদিন স্তব্ধ হবে টুকরো টুকরো করা ব্যর্থতার আকাশে জেগে উঠা মেঘের,
সেদিন না হয় ফিরে পাবো আমি আমার অতীতের ঋণ, নীলাঞ্চল হাসি!!