সবাই এক একটা আশা নিয়ে বুক বাঁধে। স্বপ্ন দেখে সুদূর প্রান্তে সেই আশা পূরণের। প্রতিনিয়ত কঠিন পরিশ্রমের সাথে যুদ্ধ করে, বিষণ্ণতার পথে হেটে চলে, নীরবতাকে আত্মগোপন করে। এক এক করে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয় স্পর্শতার অনুভূতি। এমন কি পুরনো স্মৃতির কথা ভেবে ভেবে অনেক কষ্ট জমায়। মাঝেমাঝে এই স্মৃতিগুলো আলো না দেখিয়ে যেন অন্ধকারে নিয়ে যায়। ডাইরির ঘুমোট পাতাগুলো আগুনের মত জাপটে ধরে। মরণ ছুঁয়ে যায় নিত্য। তবুও তারা স্বপ্ন দেখে, প্রতিশ্রুতির দেয়াল তুলে। ঠিক একদিন অবসান ঘটবে এই উত্তাল পাতাল সমুদ্র ঝড়ের, শিকলে বাধা বন্দী কারাগারের। ঠিক একদিন স্তব্ধ হবে টুকরো টুকরো করা ব্যর্থতার আকাশে জেগে উঠা মেঘের। সেদিন না হয় ফিরো পাবো অতীতের ঋণ, স্মৃতির বুকে ঘুমিয়ে থাকা নীলাঞ্চল হাসি।। পুরনো অভিমানগুলোকে কবিতায় স্মৃতি হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে এবং সেই স্মৃতিগুলো ভেবে ভেবে যে বেদনার সৃষ্টি হয় সেগুলোকে বিলাপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর জীবনের এই বেদনা ও কষ্টগুলো এক একটি ঝড়ের চেয়ে বেশি সমতুল্য বলে মনে হয়। সুতরাং "স্মৃতির বিলাপ" কবিতাটি "ঝড়" বিষয়ের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্ছস্য পাবে বলে আশা করি।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ মার্চ ১৯৯৭
গল্প/কবিতা: ৪০টি

সমন্বিত স্কোর

৫.৩

বিচারক স্কোরঃ ৩.৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftকবিতা - ঝড় (এপ্রিল ২০১৯)

স্মৃতির বিলাপ
ঝড়

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৫.৩

মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী

comment ১৬  favorite ০  import_contacts ২৮৮
একটা ঝড় তুলি পিচঢালা রাতে, একটা আকাশ ভাঙা শব্দ ছুটে আসে তীব্র গতিতে;
কিছু বুনো মেঘ থমকে দাঁড়ায় সীমানার প্রাচীর, কিছু বুকফাটা আহাজারি ক্লান্ত হয় বুকের ভিতর!
এই যে বৃষ্টির ঝাপটায় উন্মাতাল দু'চোখ, অবাধ্য হয়ে ছুটে আসে বিষাদের উন্মাদনা;
স্টিয়ারিং এর ব্যস্ত এক পথে ছুটে চলি অবিরাম, দখিনা বাতাস প্লাবিত করে দু'চোখ
প্রচণ্ড বেগে জমকায় পাহাড়িকা মেঘ, চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয় স্পর্শতার অনুভূতি!

স্মৃতির বিলাপ অন্ধকারে বয়ে চলে নিরুদ্দেশ; এলোমেলো চুল, গিটার হাতে ভূপালী সুর
কি যেন খোঁজে চলে মন, কেমন যেন হারানো বিজ্ঞপ্তিতে ছেয়ে যায় প্রান্তরেখা।
মনে পড়ে শৈশবের হাসি, মায়ের হাত ধরে স্কুলে আসা যাওয়া
মনে পড়ে বিকেলের স্নিগ্ধতায় মাঠে মাঠে নাটাই হাতে ঘুড়ি উড়ানো
দোলনচাঁপার ফুলের বাগানে দৌড়াদৌড়ি।
অথচ আজ নিলীন অশ্রু বুকে নিয়ে সুনীল আকাশ তাকিয়ে থাকে
ধীরেধীরে ডাইরির ঘুমোট পাতা জেগে তুলে বিষণ্ণতার রাজপ্রাসাদ;
অতঃপর নিলামে কষি নিষ্ঠুরতার হিসেব, প্রত্যাশার আর্তচিৎকার!

ল্যাপ্টে থাকা নীলাম্বরী হাসিগুলো আজ জ্বলন্ত পিদিম
একচ্ছত্র অধিকার নিয়ে বারবার চিতায় পোড়ায় মন,
বারবার তেজোদৃপ্ত সূর্যের সাথে জানায় যুদ্ধের অভিবাদন।
আঘাতে রক্তাক্ত হই, পুড়েপুড়ে পোড়া মাটি হই;
তবুও শত তাচ্ছিল্য, ঘৃণা আর অবজ্ঞার ব্যাকুল স্রোতে আবারো তুলি প্রতিশ্রুতির দেয়াল!

নিস্তব্ধ রাতের প্রহর ভেঙে খোলা জানালার পথ বেয়ে যখন নেমে আসে চাঁদনিরাত
তখন আমি এক এক করে পুনরায় দোসর স্বপ্নগুলোকে জড়িয়ে ধরি, আকুলতার কথা বলি;
যদিও উপেক্ষা করি মায়াবী হাসি, জ্যোৎস্নার রাত
যদিও এই অশ্রুসজল দু'চোখ খোঁজে নেয় এক একটি শ্মশান,
তবুও আশা বেধে রাখি, তবুও স্বপ্ন তুলে রাখি
ঠিক একদিন অবসান ঘটবে এই উত্তাল পাতাল সমুদ্র ঝড়ের, শিকলে বাধা বন্দী কারাগারের
ঠিক একদিন স্তব্ধ হবে টুকরো টুকরো করা ব্যর্থতার আকাশে জেগে উঠা মেঘের,
সেদিন না হয় ফিরে পাবো আমি আমার অতীতের ঋণ, নীলাঞ্চল হাসি!!

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement