আমাদের প্রতিদিনের কাহিনী, পত্রিকার শিরোনাম; বৃদ্ধ মা-বাবার প্রতি সন্তানের দুর্ব্যবহার। তাদের প্রতি অবহেলা, ঘৃণিত আচরণ। সম্পদের লোভে পড়ে মা-বাবাকে বিষপান করে মারা। কিন্তু আমাদের জীবনের পিছনে কিংবা শ্রেষ্ঠত্বের পিছনে মা বাবার অবদান-ই যে সবচেয়ে বেশি ছিল, তা আমরা মোটেও ভাবতে চাই না। অথচ বৃদ্ধ বয়সে এসে তারা না খেয়ে, যত্নের অভাবে, খেদমতের কারণে অকালে মৃত্যুর বুকে ঘুমিয়ে পড়েন। -) আর মা-বাবার যদি কোন সম্পদ থাকে, তাহলে সে সম্পদের মালিক তো আমরা-ই। কিন্তু আমরা তাদের খেদমত না করে সে সম্পদের আশা করি কিভাবে? নিশ্চয়ই এটা ঘৃণিত কাজ। আর মা-বাবা এমনিতেই চাই, যে/যারা তাদের দেখা শোনা করেন তাকে/ তাদের নামে সম্পদগুলো লিখে দেওয়া। তবুও লিখে দেওয়া ব্যক্তি যদি চাই, সবাইকে দিতে পারেন। এ গল্পতে গল্পের নায়েকের ভাইরা বাবাকে সম্পদের লোভে মেরে ফেলেছেন; হয় তো তারা জানেন না যে, সম্পদ তো এখন বাবার হাতেও নেই, ভাইয়ের হাতে। বাবাকে মারতে পারলে ভাইকে মারা কোন কঠিন কাজই নয়। যা হোক, এ গল্পে নায়েকের ভাইদের লোভ-লালসাকে গল্পের বিষয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে টানা হয়েছে। -(()) সুতরাং গল্পটি ব্যাখ্যা করলে বিষয়ের সাথে শতভাগ সামঞ্জস্য পাবে বলে মনি করি।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ মার্চ ১৯৯৭
গল্প/কবিতা: ৪৭টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৬১

বিচারক স্কোরঃ ২.৫৭ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.০৪ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - কৃপণ (নভেম্বর ২০১৮)

বিষাদের অন্তরালে
কৃপণ

সংখ্যা

মোট ভোট ১৭ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৬১

মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী

comment ১৮  favorite ০  import_contacts ৬৩২
(এক)
আজকাল রাত আমায় সঙ্গী করে ভালোবাসা দিতে, ভালোবাসা নিতে। আর আমি তাকে ভালোবাসি বন্ধু ভেবে, মনের দু একটি কথা বলতে। হয় তো সে জানে আমার বেদনার দু'চারটে বর্ণমালা। আমার নীরবতারর প্রকোপে জেগে উঠা কঠিন পরিস্থিতি।
-)আমি আবার একটু অন্যরকম মানুষ। বেদনা লুকিয়ে হাসতে জানি। সবাইকে ভালোবেসে আগলে রাখতে জানি। যে যা ভাবুক তাতে আমার যায় আসে না। শুনেছি ভালোবাসার মানুষের মাঝে ছলনা থাকে, বাস্তবতার অজুহাতে মিছামিছি স্বপ্ন সাজাতে জানে। আমি তেমন নই। বৃদ্ধ বাবার খোঁজ নিতে দেরি করি না, খেদমত করতে কোন দ্বিধা আসে না। মা এখনো বেশ হাটতে পারেন। এই যে লাটির উপরে ভর দিয়ে। সর্বোচ্চ পা চেঁচিয়ে উঠোন কুড়াতে পারেন। খুব সকালে উঠি; ওযুর পানি দিই, ওযু করে নামাজ পড়ে। সাথে আমিও পড়ে নিই। পান চেঁচিয়ে দিই। সব কিছু রেডি করে নিজের কর্ম সংস্থানে চলে যায়। সেখান থেকে আসতে আসতে কতবার খোঁজ নেওয়া হয় তা বলা বাহুল্য। এগুলো করতে আমি কখনো ভাবি না, ভাবনাও আসে না।
:) পাশের ঘরের সাবিনার মা আমাকে দেখলে কেমন যেন মুখ ঘুরিয়ে নেয়! আমি আবার তেমন পারি না, ইচ্ছে করলেও হয় না। কেউ কেউ আমাকে দেখলে অট্টহাসি দেয়, তাতে আমার কোনকিছু যায় আসে না। আমি বেদনার ভিতরেও মিষ্টি ছন্দ খুঁজে নিতে জানি। ভালোবাসার শিকলেও বাঁধতে জানি। সংসার কি আজো বুঝি না। তবুও মাঝেমাঝে কিছু শয়তান আসে, মধুর কণ্ঠে আলাপন করে যায়। আর কত রাহুল, এবার না হয় বউ নিয়ে আসবি তো! বাহ, কি সুন্দর ও চমৎকার আলাপন!!
যদিও মিষ্টি কথাতে তেঁতো বেশি থাকে, তবুও আমি রাগ করি না। রাগ করতে মোটেও জানি না। পুরুষের সাথে যদিও শয়তান থাকে আটারটা, নারীর সাথে থাকে একুশটা। এটি নতুন কথা নয়, পুরাতন বললে কম কি! দাদাভাই খুব মজা করে বলতেন, তোমার দাদুর সাথে একুশটা শয়তান আছে। আমি অবাক হয়ে যেতাম; এক শয়তানের জ্বালায় থাকতে পারি না, একুশটা কিভাবে সম্ভব? পরক্ষণে দাদাভাই বলতেন, সব সম্ভব। আগে বড় হও, সে সময় প্রাক্টিক্যালে বুঝে নিও। হ্যাঁ আজ খুব বুঝে নিয়েছি। দীর্ঘবিরতির পর অবলোকন করতে পেরেছি। ভাবীরা আমাকে একদম দেখতে পারেন না; ভাতিজি, ভাতিজাদেরকে কাছে আসতে দেয় না। কেমন যেন হীনমন্যতা মনে করেন। তাই বলে আমি কি না দেখে পারি!? আমি কি আমার সন্তানতুল্য ভাতিজী-ভাতিজাদের খুঁজ না নিয়ে পারি!? সম্ভব নয়। কুকুরের স্বভাব মানুষকে কামড় দেওয়া, তাই বলে মানুষ কুকুরকে কামড়াতে পারে না। তাদের আচরণ এটা হয় তো আমার নীরবতা। আর তাদের করুণ ব্যবহারের পরেও যখন আমার মুখে হাসি ফুটে সেটা আমার নীরবতার সমীকরণ। হয় তো সুত্র মিলালে ফলাফল চলে আসতো, কিন্তু আমি পেরেও যে প্রিয়জনের সাথে দুর্ব্যবহার করতে পারি না। তাই শূন্য ছাড়া আর কিছু পাই না!

(দুই)
ইদানিং দুচোখে একটা সমুদ্র জন্ম নিয়েছে। আমি কোনভাবে তার গভীরতা নির্নয় করতে পারি না। রাত যত বাড়ে, এখানে জোয়ারের গতি তত বাড়ে। আমি এ ও জেনে নিতে পারি না, কেন শুরু হয়েছে, আর কোথায় গেলে তার সমাপ্ত ঘটবে? তবে এতটুকু বুঝার ক্ষমতা হয়েছে, রক্তের সাথে রক্তের সম্পর্কের মানুষগুলো একটু বেশি কষ্ট দিতে জানে। হাতে নয়, মুখে। এ বিষ খুব জ্বালাতন করতে শিখে। এই যে ভাইরা, প্রতিবেশীরা। একেবারে কাছের প্রিয়জনেরা!
-) সেদিন বাবাকে খাবার দিতে গিয়ে বাবা বললেন, আমি মরে যেতে পারি। মৃত্যুর সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করি। এত যুদ্ধ করার পরেও এতটুকু বেঁচে থাকা আমাকে মানায় না। হঠাৎ মরণ ছুঁয়ে দিতে পারে। তবে এখনো বেঁচে আছি, তাতে আল্লাহর কাছে অনেক শোকরিয়া। আমি মরে গেলে তোর মাকে দেখার মত আর কেউ নেই। তুই দেখিস, মন ভরে ভালো বাসিস। বাবার এমন কথা শুনে দু'চোখ অশ্রু বয়ে চলতে লাগলো। যদিও চোখে দেখেন না, ঠিকই বাবারা সন্তানের চোখের পানি অবলোকন করতে পারেন। চোখ মুছে দিয়ে বুকের ভিতর জড়িয়ে নিলেন। আর বললেন আমার সম্পদগুলো তোর নামে লিখে দিবো। তুই কালকে আমার সাথে যাস। আমি বারণ করলাম। এটা কোনভাবে কাম্য নয় বাবা। মেঘ কখনো সাগরের আশায় বৃষ্টি দেয় না। চাঁদ কখনো নিজের ইচ্ছায় আলো ছড়ায় না। এরা সৃষ্টিকর্তার আদেশের বাহিরে এক চুলও নড়ে না। তুমি কেন? এখানে সবার ভাগ আছে। সবাই ভাগ নেওয়ার অধিকার রাখে।
নিয়মের বাহিরে আমি নিতে পারি না, পারবো না। ক্ষমা চাচ্ছি তোমার কাছে। বাবা কতক্ষণ চুপ করে থেকে হয় তো ভেবে নিয়েছেন, সাদাসিধে ছেলে। কি আর ভাববে। আমি তাকে দিবোই।
-) নারীর একটা অভ্যাস আছে কানপেতে শুনার। কে কি বলে, কোথায় কি হয়..... অল্প হলেও তারা দশ পাতার একটা দৈনিক পূর্বকোণ কিংবা আজাদি পত্রিকা বানাতে জানে। আর নারীর কথায় যে, কোন পুরুষ কান না দেয় এমন ভাগ্যমান পুরুষ আজো জন্ম হয়নি। হলেও সেটা মহান প্রভু খুব ভালো জানেন। আমাদের কথোপকথন শুনে পুরো এলাকাই বাজনা বাজিয়ে দিয়ে এসেছেন মেঝো ভাবি। আমি কিছু বলতে পারি না, বলারও সাহস রাখি না। যদি না আমার বৃদ্ধ বাবা- মায়ের সাথে দুর্ব্যবহার করেন, যদি না তাদের সাথে নিষ্ঠুর আচরণ করেন। তখন আমি সহজে মেনে নিতে পারবো না। তবুও তাদের নিরুৎসাহিত জ্বালাতন, আমি মেঘের শহরে হারিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি। আর এ স্বপ্নের মাঝে একটু বাঁচার আকুতি কেবলি সমুদ্রের সাথে মরণ পান যুদ্ধ।

(তিন)
আজ বাবার শরীরটা বেশি ভালো নেই। আমি খেয়াল করতে পেরেছি, মা নিরবে কেঁদেছেন। সেই কান্নায় প্রভুর কাছে কি যেন চাওয়া পাওয়ার আকুতি করেছেন। হয় তো এক টুকরো জান্নাত, আর আমাদের শান্তির পরিসর।
-) তখনো বিকেলের আবছা আলো চতুর্দিক ঘিরে রেখেছে। পানকৌড়ির সন্ধ্যাবেলা বললেও কম নয়। আজ ডাক্তার পরীক্ষা- নিরীক্ষা করে ছোট একটি প্রেসক্রিপশন দিয়েছেন। আমি বাবার ওষুদের জন্য প্রেসক্রিপশনটা নিয়ে রাস্তায় বের হলে বড় ভাই আমাকে একটু ভাব দেখিয়ে নিয়ে গেলেন। বললেন, "তুই বাবা- মা'কে দেখ, আমি ওষুধ নিয়ে আসছি"। একদিকে আমার মনের ভিতর কেমন যেন সৃষ্টি হলো, অন্যদিকে বিস্মিত হলাম। এই প্রথম বড় ভাইয়ের ভালোবাসা দেখলাম বৃদ্ধ বাবা-মা'র প্রতি। সম্মান রক্ষার্তে কিছু বলতে চেয়েও, বলতে পারিনি। আমি সোজা ঘরে চলে গেলাম। কিন্তু ভাবনা আমাকে কোনভাবে ঠাই দিচ্ছে না। একবার উত্তরে নিয়ে যায়, আবার দক্ষিণের কথা ভাবায়। অতঃপর চুপটি করে বসে রইলাম। কিছুক্ষণ পর বড় ভাই ডাক দিলো, রাহুল...... রাহুল। আমি কাছে গেলে আমাকে নিয়ে বাবার কাছে যায়। বাবাকে ওষুধ দেখিয়ে দিচ্ছেন, পাঁচপদ ওষুধের তিনপদ এখন খাওয়ার কথা বলছেন। কোনভাবে ওষুধগুলো আমার মাথায় ধরছে না। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের সাথে একটি ওষুধ কোনভাবে মিল পাচ্ছি না। আমি ভাইয়াকে বলি, বাবার এখন বিশ্রাম প্রয়োজন। এখন আপনি যেতে পারেন, পরে আমি খাওয়াবো। ভাই আমাকে দমক দিয়ে বের হয়ে গেলেন, আমি কিছু বললাম না। ওষুধের প্যাকেটগুলো আর প্রেসক্রিপশন নিয়ে আমার দক্ষ এম.বি.বি.এস রফিকুল ইসলাম স্যারের কাছে গেলে তিনি আমার প্রতি রাগ হয়ে গেলেন। আমি সব খোলে বললে, তিনি বলেন এই একপদ ওষুধই ছিল তোমার বাবার শেষ নিশ্বাস। হয় তো বড় ভাই ভেবেছেন, আমাকে মিথ্যে অপবাদে থানায় পাঠিয়ে সব সম্পদ তাদের নামে লিখে নিবেন! কিন্তু আমি অত সহজে হেরে যেতে পারি না। এখনো হাতের চামড়ায় ফোস্কা ধরেনি।

-)আমি হতবাক হয়ে গেলাম, ভীষণ মাথা ঘুরাতে শুরু করলো। শুধু তাই নয়, এই ১ম আমি জানতে পারলাম; বাবাও সন্তানের শত্রু হয়। যে লোকটি রাত চায়নি, দিন চায়নি। শীত কি বুঝার প্রয়োজন মনে করেনি, রৌদ্র কি ভাবনার শহরে নিজেকে ডুবায়নি। সন্তানের জন্য আহার যোগার করা, ঘুম নষ্ট করি ভোরে স্কুলে দিয়ে আসা, রাতে বাজার থেকে পাঁচ টাকা বাঁচিয়ে খাবার কিনে এনে সন্তানের মুখে হাসি রাখাই ছিল যার একমাত্র কাম্য সে বাবাও কি একদিন সন্তানের শত্রু হয়? বাবাকে মারার জন্য যুদ্ধ করে! ভাবতেই প্রশান্ত মহাসাগরে ডুব দিলাম।

(চার)
হঠাৎ করে আজ আমি ভেঙে পড়লাম। যেমন করে কোনদিন ভেঙে পড়িনি, কিংবা ভেঙে পড়ার স্বপ্ন সাজাইনি। অথচ ভেঙে পড়তে যে স্বপ্ন সাজানো লাগে না, তারই প্রমাণ ক্রমানুসারের এই দিনগুলো। মা আজ পৃথিবী ত্যাগ করে, আকাশ পরিমাণ মেঘ জমিয়ে বিদায় নিয়েছেন। এই অভিমানের শহরে কেবলি মেঘ, কেবলি জলরাশি। যেখানে বাবা বলেছেন, আমি আগে বিদায় নিবো; সেখানে মা আগে বিদায় নিয়েছেন। বাবাও আমার সাথে ভেঙে পড়েছেন, তবুও আমাকে বুঝতে দিচ্ছেন না। বিভিন্ন কথা বলে বেদনা দূর করতে চেয়েছেন।
বাবা আমাকে খুব ভালোবাসতেন। কারণ তিনি নাকি তার মাঝে আমাকে খোঁজে পেতেন। আমিও বাবাকে খুব ভালোবেসেছিলাম। আর মায়ের কথা তো না বললেই নয়, তিনি ঠিক সময় আমাকে না পেলে দিশাহারা হয়ে যেতেন। নিজেকে আর নিজের মত তখন কন্ট্রোলে রাখা দুঃসহ ছিল। যে যতটুকু ভালোবাসা, শ্রদ্ধা পাওয়ার অধিকার আমি তাকে কিঞ্চিৎ পরিমাণ কম দিইনি। কখনো কম দেওয়ার চেষ্টাও করিনি। তবুও একদল মানুষ পিছনে লেগে থাকে৷ আমাকে দেখলে বিষাক্ত সাপের মত আচরণ করে। আমি তা মোটেও পারি না৷ শত্রুকে ভালোবাসা দিয়ে দেখাতে হয়, সেটা যেমনি হোক না কেন। সেই ভালোবাসা দিতেও আমি ব্যর্থ হই না। তারপরেও বড় ভাইয়ের স্ত্রী ও মেজো ভাইয়ের স্ত্রী সহ প্রতিবেশীরা আজকাল আমাকে সুখ দেয় না। নির্মল অপবাদ এঁকে দেয়। এতদিন মায়ের জন্য কেউ কিছু বলতে পারেনি। বলার সাহসও রাখেনি। অথচ মায়ের মৃত্যুর দিন বাড়ে, আর প্রতিবেশীর চঞ্চলতা বাড়ে। এটা মোটেও আমার ধৈর্য ধারণ নয়, তবুও ধৈর্যের একটু চেষ্টা শুধু বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে। এই তো সেদিন খাবার পানির সাথে বিষ মাখিয়ে দিয়েছিলেন! কিন্তু পরক্ষণে সতের বছরের ভাতিজির কারণে বেঁচে গেলাম। ভাতিজি জানতো বলে আমাকে ইশারা দিয়েছিল। খারাপের ঘরে যে কিছু ভালো মানুষের জন্ম হয়, এখানে এরও প্রমাণ পাওয়া যায়। আমি শত্রু চিহ্নিত করতে পেরেও কিছু বলতে পারিনি৷ শুধু নীরবতার শহরে নিজেকে চুপ করে রাখার চেষ্টা করেছি।
ইদানিং বাবাও কেমন জানি করেছেন। তার নাকি মন খারাপের ক্রসিং কাটে বুকের উপর। ডাক্তারের কাছে যাবেন বলে, আমাকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছেন যেখানে তার সম্পদের তিন ভাগের দু'ভাগ আমার নামে দিয়ে দিলেন। আর এক ভাগ তিন বোনের নামে দিয়ে দিলেন। আমি বুঝে উঠতে পারিনি। আমি জানিও না যে, এর মূলে লুকিয়ে আছে আমার নামে সম্পদ দেওয়া! বাবার ইচ্ছের বাহিরে কখনো আমি এক কথা বলতে শিখিনি, আজো বলতে না বোধক শব্দ ব্যবহার করছি। তারপরেও আমার চেতনা আমাকে জাগ্রত করেছে, কারো অধিকার থেকে আমি কিঞ্চিত পরিমাণ কাউকে বঞ্চিত করবো না। করতে পারিও না। এটা আমার বিধির বিধান।

(পাঁচ)
আজ বড় ভাইরা মিলে এক ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে স্যালাইনের সাথে মিশিয়ে বাবার শরীরে বিষ ঢুকিয়ে দিয়েছেন। শুধু বাবার সম্পদ নিজেদের নামে ভাগ করে নেওয়ার জন্য। কিছুক্ষণের ভিতরে বাবা পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন। বাবার করুণ মৃত্যুতে আরো ভেঙে পড়তে হয়েছে আমাকে। একবুক অভিমান আর এক সাগর পানি বুকের উপর গড়াতে শুরু করেছে। এখন আমার বেঁচে থাকা কেবলি ধূপছায়ার মত কিংবা নাবিকবিহীন জাহাজের মত!
তবুও নিষ্পেষিত এ দু'চোখ আজকাল কথা বলতে শিখে গেছে। একাকী চাঁদের সাথে, হাজার হাজার নক্ষত্রের সাথে। এরা আমার এ অবহেলার দিনের বন্ধু। আমার সুসময়ের প্রিয়জন। খুব ভালোবাসি তাদের। ভাইয়ের মত আপনজনেরা সম্পদের প্রতি লোভ ও বাবার প্রতি এ কৃপণতা, আঘাত কখনো ভুলে যাওয়ার নয়। ভুলে যাওয়ার মত নয় এক একটি ঘৃণাও!!

-) হে রাতের ধ্রুব তারা তুমি সাক্ষী থেকো; তারা আমার ভালোবাসা, আমার উচ্ছ্বাস। থাক না তাদের আমার প্রতি যত কৃপণতা, যত ঘৃণা। আমি তাদেরকে কোনভাবে পদত্যাগ করতে পারি না, যেমন কোনদিন তোমাকে পদত্যাগ করতে পারিনি। আমি এ গভীর রাতে প্রভুর কাছে ক্ষমা চাই, তিনি যেন সর্বোত্তমভাবে তাদের ক্ষমা করেন।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement