আপনার একমাত্র প্রেমিকার প্রথম প্রেমিকটি আপনি নন— শুনেই
চমকের প্রথম ধাক্কায় আপনি বোবা হ’য়ে যাবেন। কান দুটো বিষবাষ্পে
ঝাঁ ঝাঁ করবে আর আপনি তখন আড়াই বছরের বাচ্চার মতো বুক ফাটিয়ে
খুব কাঁদতে চাইবেন। কিন্তু কান্না আসবে না। আপনার বিস্ফোরিত চোখকে
নির্মম অবহেলায় এড়িয়ে যাবে সমস্ত প্রতারক জল। আর ঠিক সেই সময়
রাগে কম্পমান আপনারও মনে হবে— ‘পৃথিবী একটা শুয়োরের বাচ্চা’,
সব শালারা জোচ্চোর, বিশ্বাসের মা-বোন তুলে অশ্রাব্য খিস্তি কাটবেন।
তবু দুর্লভ প্রশান্তির ছিটেফোঁটাও আপনার অশান্ত বুক স্পর্শ করবে না।
বিশ্বাস করুন— ঘুম আসবে না। চোখ বন্ধ করলেই তাকে আবিষ্কার করবেন
অচেনা এক যুবকের ওষ্ঠে, মুখে বা বুকে বা দুই উরুর সন্ধিস্থলে ঝুঁকে থাকা
অবস্থায়। আপনার সমস্ত দিন-রাত-প্রিয় মুহূর্তগুলো পুড়ে যাবে এই সকল
অসভ্য আর ইতর চিন্তায়। আপনাকে দেখে মনে হবে নেকড়ের চেয়েও
ভয়ংকর আর তুমুল ধ্বংসাত্মক হ’য়ে উঠবে আপনার দুই চোখ। অথচ
আপনার গোপন বুকেই তখন তৃতীয় বিশ্ব— সবথেকে জরা-খরা-শোক প্রবণ
একটি অঞ্চল। জ্ব’লে চলবে দাউ দাউ ক’রে। কেউ বুঝবে না। আর ঠিক তখন
জীবনের বেহায়া পশ্চাৎদেশে দুই লাথি কষিয়ে আপনার ম’রে যেতে ইচ্ছা হবে।
হয়তো কিছুই না পেয়ে আপনি গিলে ফেলবেন এক বোতল রঙিন স্যাভলন।
ম’রে গেলেন তো হেরে গেলেন— শোনাবার সুযোগটা না দিয়েই হয়তো আপনি
হেরে যাবেন আর পরক্ষণেই আপনার আর আমার দ্যাখা হবে নরকের সর্বোচ্চ
আক্ষেপের শেষ বারান্দায়। ঠিক যেখানটায় আজও প্রতিধ্বনিত হয় আমার কান্না,
আমার একমাত্র প্রেমিকার প্রথম প্রেমিক হ’তে না পারার এক অসভ্য দুঃখবোধ!