সে দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশদিয়ে কামাল ও তার বন্ধুরা হেঁটেযাচ্ছিল। সে দিনছিল ছুটিরদিন। এদিন যদি নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে হাঁটা যায় মনে পড়ে সেই ব্যস্ত সময়গুলির কথা।মনে পড়ে তখন নিজেদের যান্ত্রিকতার কথা।
কামাল ছেলে হিসেবে চরম ভ্রমণপিয়াসী। সে বরাবরই ঘুরতে পছন্দ করে।তার চোখ পড়ল সহসা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের দিকে।ওখানে কেউ একজন দাড়িয়ে আছে।সেহাতে একটা কাষ্ঠখণ্ড নিয়ে কার সাথে যেন কথা বলছে।সে যে হাসিটা দিচ্ছে মনে হচ্ছে সেটা যেন অস্বাভাবিক।সে এক সপ্তাহ পর তার বোনের বাড়ি যাবার সময় ঐ লোকটিকে আবার দেখল।তার মনে হল সে ঐ লোকটিকে সে যখন এখানে ভর্তি হয়েছিল তখন দেখেছিল। সে তাকে বেশির ভাগ সময় কপোত হিসেবে দেখেছে। মজার বিষয় হল সেতার বোনের বাড়ি থেকে ফেরার সময় আবার ঐ লোকটিকে দেখল।কামাল কিছুটা গোয়েন্দা প্রকৃতির ছেলে। সে এর রহস্য বেরকরতেচাইল। সে প্রথমে কৌশল করে তার নাম জানল তারই কাছ থেকে।তার নাম বিধান ।পরে সে তার আসল ইতিহাস এক কর্মচারীর কাছ থেকে জানল।
সে জানতে পারল যে তার প্রেমিকার বিয়ে হয়ে গেছে।সেই মেয়েটির নাম ছিল রিয়া। বেকার ও দরিদ্র পরিবারের ছেলে হওয়াই রিয়া তাকে প্রত্যাখান করেছে।বিধান এখন সিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত।সে ঐ গেটের কাছে এসে রিয়াকে ফোন দিতো।রিয়া আসত।তাদের মাঝে সুখ দুঃখের অনেক কথা হতো ।
অনেক অপরাধের বিচার হলেও এই মন ভাঙা অপরাধটার বিচার হয়না।আর তাইতো বিধান হয়ে গেছে এক সিজোফ্রেনিয়া রোগী।সে আর পাবেনা জীবনে উজ্জ্বল নিশানা।