লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৮ নভেম্বর ১৯৮৮
গল্প/কবিতা: ৩টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftরম্য রচনা (জুলাই ২০১৬)

মগের মুল্লুক
রম্য রচনা

সংখ্যা

আহমেদ রাকিব

comment ২  favorite ০  import_contacts ৩১৮
-নো বল।
-এইটা নো বল স্যার?!
-নো বল।
-কোন নো বল, পায়েরটা না কোমরেরটা?
-পায়েরটা।
-পা তো আমার অই যে দাগের পিছনে ছাপ দেখা যাইতেছে, ঐ জায়গায় ছিল।
-আম্পায়ার আপনি না আমি?
-আপনি।
-আমার কাজ আমি ভালো জানি। আপনার কাজ বল করা, বলের দিকে না তাকিয়ে পায়ের দিকে তাকান কেন?......যত্তসব!


-হাউজ দ্যাএএএএএট????
-নো বল।
-এইটা আবার কিসের নো বল!
-নো বল।
-তা তো হাত উঠান দেইখাই বুঝতে পারছি, কোনটা? তা জিগাইছিলাম।
-কোমরেরটা হইতে পারে।
-কোমরেরটা হইতে পারে! কি বলেন!!! আর ইঞ্চিখানেক বামে লাগলে ব্যাটস্ম্যানের **** গইলা যাইত! আপনি দেখেন নাই??
-দেখুন, আজেবাজে কথা বলবেন না……আমি ব্যাটস্ম্যানের **** দেখতে যাবো কেন?
-কিন্তু স্যার! এইটা কেমনে নো হয়?!?
-আপনি ভালো করে দেখেন, এটা নো বলই……ব্যাটস্ম্যান তার প্যান্ট অনেক উপরে পড়েছে। তাই বুঝতে পারছেন না।

আম্পায়ারের এমন আজব যুক্তিতে কুদ্দুইচ্চা একেবারে চুপসে গেল। মন খারাপ করে পরবর্তী বলের জন্য রান আপ নিতে হাটতে লাগলো। পেছনে শুনতে পেল আম্পায়ার ফ্রি হিট কল করেছেন। নিরাশ কুদ্দুইচ্চা কিসের উপর যেনো বিষফোঁড়ার উপস্থিতি টের পেল।

ভি. আই. পি. বক্সের ভেতরে………
-কি ব্যাপার আক্কাস……ক্রিকেট খেলার জনপ্রিয়তা কি কমে গেছে? পাবলিক কই??
-পাবলিক আছে তো স্যার! এই যে নেন, দূরবীন দিয়া দেখেন।
-কই? আমি তো তেমন কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। উত্তর গ্যালারীতে কুত্তা……আর দক্ষিনে কাক দিয়া ভরা! পশ্চিমে কিছু দর্শক আছে দেখছি……এতটুকুই।
-হে হে! স্যার! ঐগুলা আমাদেরই লোক। খেলা শেষে আপনারে শুভেচ্ছা জানাইতে আসছে।দর্শক দিয়া কি হপে স্যার। দর্শকের কাম চাইয়া থাকা। তারা চাইয়া থাকবে। আমরা ফুলের মালা গলায় দিব, তারা চাইয়া থাকিবে। আমরা BMW, MERCEDES থেকে নামিব, তারা চাইয়া থাকিবে। আমরা আমাদের মুল্যবান বক্তব্য রাখিব, তারা কান পেতে শুনিবে। এই রোইদের মইধ্যে তাদের বাইর হইয়া কি লাভ!
-বাহ্ বাহ্……ভালো বলেছো তো। আচ্ছা! অইগুলা কি?
-ক্যামেরা স্যার। টেনশান কইরেন না অইগুলাও আমাদের……আর বাকিদের খেলোয়ারদের নিরাপত্তার জন্য ঢোকা নিষেধ।
-হুম্ম্……আটঘাট বেঁধেই নেমেছো দেখছি। কিন্তু ছাগলগুলার খেলার অবস্থা তো খুবই বাজে! অই যে আবুইল্লা, ব্যাটিং করছে এখন। ছেলেটা এই নিয়ে তিন বার চান্স পাইল! একটা তো ক্লিন বোল্ড! আম্পায়ার নো বল দিয়ে বাচাঁলো!
-হে হে স্যার! তাইলে বোঝেন মাত্রাডা কেমন ছিল!
-কিসের মাত্রা??
-(চোখ টিপে) গুড় আর চিরতার স্যার! তবে আজ কাল গুড়ের চাইতে চিরতার ডিমান্ড হাই।
-ওহ্ হা হা হা গুড গুড……তবে আক্কাস! আমার কিন্তু ঐ টিমের জন্য খারাপ লাগছে। atleast, দুই তিনটাকে তো আউট দিতে পারে। নাকি??!


দুজনেই হেসে উঠল। স্যারের হাসি দেখে আক্কাসের হাসি যেন থামতেই চায় না। শরীর দুলিয়ে দুলিয়ে হাসতে হাসতে চোখ মুছতে লাগলো। পানি এসে গেছে চোখ দিয়ে। স্যার কথা বলতেও জানে। হঠাত্-ই স্যারের হাসি থেমে গেলো। চিন্তার রেখা ফুটে উঠলো কপালে। তাই দেখে আক্কাস বিচলিত হয়ে বলে উঠল,
-কি হইল স্যার? কোন সমস্যা??
-আচ্ছা আক্কাস! এত কিছুর পরও যদি আমরা হেরে যাই?
-কি বলেন স্যার! হে হে! তা সম্ভব না।
-যদি হেরে যাই?
-কেমনে হারব? আম্পায়ার তো কম টাকা খায় নাই।
-ধর তোমার আম্পায়ার পল্টি নিল তখন?
-নিব না স্যার। তা ছাড়া অর কি জানের মায়া নাই?
-ধর নিল।

এবার আক্কাসের কপালেও চিন্তার রেখা ফুটে উঠল। এর মধ্যেই আউট হয়ে গেল আবুইল্লা। আক্কাসের চিন্তার আগুনে যেন তুস্ দিল বিষয়টা। কিছুক্ষন পর স্যার বলে উঠলেন,
-আক্কাস!
-জ্বী স্যার।
-“উদাম”-ই যখন হলাম, তাহলে মাথায় টুপি রাখার চিন্তা করে কি লাভ!
-কথা তো হাচা। কিন্তু এই কথা কেন্ কইলেন স্যার।
-এত এত টাকা খরচ করে দেখ, এখনও টেনশান করতে হয়। আর ওদিকে অল্প টাকাতেই কাজ হয়ে যেত!
-স্যার তাড়াতাড়ি বলেন, আমি এক্সাইটমেন্টে মাথা ঘুরাইয়া পইরা যামু!
-শোন তাহলে……খেলা শেষে স্কোর বোর্ডের স্কোরটা ঘুরিয়ে দিলেই তো হয়! লেটা চুকে যায়।
-কি বলেন স্যার! ধরা পড়লে?
-আরে বোকা! তোমার কি মনে হয়, ধরা পড়ার আর কিছু বাকি আছে? কেউ কিছু জানতে চাইলে বলবে, বোর্ডে ভুল ছিল। ভুল…সেটা আগে হোক আর পরে, ভুল তো ভুলই। তা কি সংশোধন করা উচিত নয়??
-স্যার! আপনি একটা মাল! এমন চিন্তা তো আমার মাথায় আসে নাই কখনও!
-(হেসে) এই! আজে বাজে কথা বলবে না!
-এই মাত্র একটা কবিতা মাথায় আসল, বলব স্যার?
-কার কবিতা? তোমার না তো?
-জ্বী স্যার! স্বরচিত……বলি স্যার?

নিতান্তই অনিচ্ছা সত্ত্বেও স্যার মাথা দোলালেন। আক্কাস খুশিতে গদ্গদ হয়ে শুরু করল,

“আমগো সবার প্যান্ট খোলা,
লজ্জা কি আর খাও কোলা!”

-এতটুকুই?
-জ্বী স্যার। এতটুকুই।
-প্যান্ট খোলার সাথে কোলা খাওয়ার সম্পর্ক কি?
-স্যার মাথায় আসল তাই বলে ফেললাম।
-হুম্……নেক্সট টাইম এমন কবিতা মাথায় আসলে আর বলবা না।
-ঠিক আছে স্যার।
-এখন যাও, স্কোর বোর্ডের কাজটা করে ফেল তাড়াতাড়ি। আমি কোন রিস্ক নিতে চাই না।
-ওকে স্যার।

হন হন করে বেরিয়ে গেল আক্কাস। স্যার এদিকে খেলা দেখতে লাগলেন। তবে অদ্ভূতভাবে খেয়াল করলেন আক্কাসের দু’লাইনের কবিতা তার মাথায় ঘুরছে। আজ সারাদিন হয়তো তা মাথাতেই থাকবে।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement