অনেক পরিকল্পনা করে সাজানো-গোছানো কথাগুলো উপস্থাপন করার সময় মনোযোগী শ্রোতার আগ্রহ ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছিল। তাই তার আত্মবিশ্বাস বেড়ে তিনগুণ হয়ে উঠল। কিন্তু কথা শেষে যখন বললেন ‘আপনার উদ্দেশ্য কী?’ তখন মোন্তাজুর রহমানের ভেতর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল।

‘পুলটা খুবই দরকার স্যার।’
‘তা তো শুনলামই...’
‘আমাদের খুব কষ্ট করে যে কোনও একটা উপায়ে নদী পার হতে হয়। কিন্তু বাচ্চারা বর্ষায় স্কুলে যেতে ভীষণ বিপদে পড়ে যায়... দুই মাইল ঘুরে...’
‘এ-কথা আগেও বলেছেন, কিন্তু আমি জানতে চাচ্ছি তাতে আপনার কী লাভ?’
‘কোনও লাভ নেই স্যার! আমাদের সবার খানিকটা উপকার হয়, এই তো।’
চশমার ওপর দিয়ে আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করে, মুখে এসে দৃষ্টি স্থির হয়। পুল সুপারিশকারী জড়সড় হয়ে পড়েন, যেন তিনি নব বধূ—ধর্ষকের মুখে বাড়িতে একা।
‘হুম সবার উপকার হয়! কিন্তু সেই সবার উপকার হলে আপনার কি সুবিধে, সেটাই তো আমি জানতে চাই।’
মোন্তাজুর রহমান মহাবিপদে পড়ে গেলেন। তার কী সুবিধে? আসলেই সেটা তো ভেবে দেখা হয়নি।
‘এত করে সব সমস্যাগুলোর কথা গুছিয়ে প্রায় মুখস্থ করে ফেললাম, আর আমার কী লাভ সেটাই বলতে পারছি না। মাথা চুলকাতে লাগলেন। স্যার যেহেতু বলছেন, কথা ঠিক। আমার লাভ অবশ্যই আছে, কিন্তু কী সেটা?’
‘এত কী ভাবছেন? এত কথার পেছনে আপনার উদ্দেশ্য বলুন দেখি—পুলটা পাশ করে দিচ্ছি।’
ভয়ার্ত চোখে নেতার দিকে তাকালেন মোন্তাজুর রহমান—তবে কি পুলটা হবে না! ধরা-পড়া মাছ-চোর বেড়ালের মত চোখে-মুখে অসহায় ভাব ফুটে উঠল।
‘আমি এখন উঠছি... এই... ভদ্রলোকটাকে চা দিয়ে যা।’
পুল আবেদনকারী কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলেন—মনে মনে হাতড়াতে লাগলেন—পুল তৈরি হলে তার কোন উদ্দেশ্য সফল হয়? ভেতরে ভেতরে ঘেমে উঠলেন। মাথা ঘুরতে লাগল, কানে শুধু ভোঁ ভোঁ শব্দ। টালুমালু করতে লাগলেন। এরমধ্যে নেতা উঠে দাঁড়িয়েছেন। হঠাৎ মোন্তাজুর রহমান হাঁপাতে হাঁপাতে বলতে শুরু করলেন ‘স্যার পুলটা হলে আমার স্ত্রীর কাঁথা শুকোনোর খুব সুবিধে হয়...’