লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবৈশাখ (এপ্রিল ২০১৬)

সন্ধিক্ষণ
বৈশাখ

সংখ্যা

আরেফিন শিমন

comment ০  favorite ১  import_contacts ২৮৫
বৈশাখ মাস এলেই আকাশের ছোটবেলার কথা মনেপরে। মেলায় যাওয়ার জন্য কত বায়নাই না করেছে। আর সেই নাগরদোলার কাহিনীটা।হাহা এখনো হাসি আসে।নাগরদোলায় উঠব উঠব বলে কত ভ্যাজাল।পরে উঠে সেকি কান্না,সেকি ভয়। অনেক কষ্টে মেলার বাতাসা,মিষ্টান্ন গুলো কিনেদিয়ে শান্ত করেছিল তাকে। তবে বৈশাখের সবচেয়ে ভয়ংকর জিনিস হল কালবৈশাখী ঝড়।আকাশের এই ঝড় জিনিসটা ভাললাগেনা।
ভার্সিটিতে কিছু কাজ আছে।তাই আজ বাধ্যহয়ে অনেক দিন পরই যেতে হচ্ছে তাকে।
অদ্রিতাদের সাথে অনেকদিন দেখা হয় না।তাই সবার জন্য চকলেট নিয়েছে। ঠিক যেন কোন বাচ্চাদের সাথে দেখা করবে।তবে তার বন্ধুগুলো প্রায় বাচ্চাদের মতই কারবার করে।আকাশ তো ফাযলামি করে ওদের "বয়স্ক বাচ্চা" বলে।
.
ভার্সিটিতে গিয়ে সবাইকে খোঁজ করল।ফোন করার চেয়ে সামনে গিয়ে সার্প্রাইজ দেয়া ভাল।তাই কাউকে না পেয়ে কাজ সেরে নিল।
কিন্তু কাজটাতো শেষ হলই না,উল্টা প্রচুর মাথা শুরু হল।তাই কাল নাহয় দেখা করবে ওদের সাথে।
যাওয়ার সময় হটাৎ অদ্রিতার সাথে দেখা।দুর থেকে তো তাই মনেহচ্ছে। যদিও ওপাশ ফিরে আছে,তবুও খোলা চুল আর হাতের ব্রেসলেট টা দেখেই চিনে ফেলেছে। ও যেন আগের মতই আছে,নাকি সুন্দর্যটা একটু বেড়েছে বোধয়।
ডাকবে বলে সামনে যেতেই অদ্রিতা এপাশ ফিরে তাকাল।
--কিরে কি খবর?
-এইতো..
--অনেকদিন পর দেখা..
- হুম আসলেই...
-- তোর চেহারার একি হাল।
-আরে এ কিছু না।
--তোর পিঁপড়া গুলো কেমন আছে?
- কিসের পিঁপড়া?
--আরে পাগলা,তুই যেগুলো নিয়ে স্ট্যাটাস দিতি।
--হাহা মনে আছে নাকি..
-ইয়ে মানে আমি কিন্তু এতটা "ভুল্লাকার" না...
.
অনেকদিন পর দেখা। আগে নিয়মিত দেখা হত।কথা গত,গান গাওয়া হত,আড্ডা হত...
এখন আর কিছুই হয় না।
তারপর একটা বিরতি, বড়সড় বিরতি,একটা গ্যাপ, বিশাল গ্যাপ।
যেগুলো তৈরি করেছে শুন্যস্থান,একটা দেয়াল।
অবশ্য আকাশের হাত নেই এতে... তাই সে মেনে নিয়েছে, ভাগ্য কে মেনে নেয়াই ভাল। অযথা আফসোস করে লাভ নাই।
--কিরে শালা, কই ডুব দিলি...??
অদ্রিতার হালকা চিৎকারে আকাশ বোধয় চমকে উঠল।
-আরে নাহ।কই যাব। এমনেই মাথাব্যথা করছে দোস্ত।
-- হটাৎ এখানে কেন? আসলি নাকি একেবারে
-হুম।দেখি।
-- সবাই ঐদিকে আছে, চল ওদিকে যাই।
-নারে প্রচুর মাথাব্যথা করছে।চলে যাব।অন্য কোন একদিন।
অদ্রিতাকে বিদায় দিয়ে হাঁটা শুরু করল সে। রিকশায় যাবে।আগের মত আর বাসে জার্নি করতে অসস্থি লাগে।ভাল লাগেনা।
রিকশায় উঠে চারপাশ দেখা যায়।বিভিন্ন রকমের মানুষের অভিব্যক্তি, কাজগুলো দেখা যায়।খুব ভাল লাগে তাই রিকশায় ঘুরতে।
অদ্রিতাকে নিয়ে ঘুরতে চেয়েছিল।কিন্তু বলাই হয় নি কখনো
"চল রিকশায় ঘুরি"
ও হ্যাঁ একবার একগুচ্ছ ফুল এনেছিল, কদমফুল।
বর্ষায় ভিজে একাকার। সবাই কি হাসাহাসি।
কদমের গুচ্ছ পাপড়ি গুলো লেপ্টে ছিল ব্যাগে।শুধু মাঝের অংশটুকু ভাল ছিল। সবাইমিলে তাই ওই অংশ নিয়ে খেলা শুরু করেছিল। দেয়াই হয়নি ফুলগুলো ।
সেদিন অবশ্য ভালই ছিল দিনটা। শুধু আকাশের দীর্ঘশ্বাসটা আরো একটু দীর্ঘ হয়েগেছিল....
.
-- ওই আকাশ, শোন।
--কি হইছে? ডাকিস কেন?
-তোর শার্টে ছস ভরে আছে।কেমন লাগতেছে দেখ। টিস্যু আছে?
--না নাই।
আকাশের শার্ট টা সত্যি বিশ্রি লাগছে।মানুষ বলবে "আরে এত বড় ছেলের হুস জ্ঞান নাই নাকি"
--এই নে।তুই আর বড় হইলি না।
আকাশ আশ্চর্য হচ্ছে, ভেবেছিল তার আর বন্ধু নেই। থাকলে কি আর এমন থাকে সে।ভেবেছিল অদৃশ্য দেয়াল টা ঘিরে রেখেছে ওকে। সেটা টপকানোর ক্ষমতা,শক্তি, সামর্থ্য কিছুই নেই যে তার।কিন্তু একি,অনেক কষ্ট লাগছে কেন।এটা অচেনা কষ্ট,প্রতিদিনের থেকে আলাদা।খুব বেশিই আলাদা।
.
আকাশের হাচি আসছে।হাচি আটকানো কষ্টকর তবুও চেষ্টা করছে। শেষমেষ হাচি দিয়েই ফেলল।হাচি দিয়ে শার্ট এর নিচের অংশটুকু মুখে ধরল।
অদ্রিতা ঝাপ দিয়ে উঠল "কি বিশ্রি রে তুই,ছস গুলো এখন নাকে ঢুকবে। "

---আমি যাইরে ধুলাবালিতে এলার্জি জানিসই ত। তাড়াতাড়ি যেতে হবে।
--আচ্ছা টাটা।
অদ্রিতা চলেগেল।
আকাশ আবার হাটা শুরু করল। অদ্রিতা খেয়াল করল আকাশ টা সত্যি বদলে গেছে। একবার থামতেও বলল না ওকে।
আগে তো এমন ছিল না। কাঁচুমাচু করত।কাঁচুমাচু দেখে অদ্রিতা বলত "ঐ তুই কিছু বলবি??"
তখন অনেক কষ্টে আকাশ বলত "থাক না আর একটু। এই পড়াটা বুঝিনি, একটু বুঝিয়ে দে... "
অদ্রিতা ঠিকই বুঝত যে আকাশের এসব শুধুই বাহানা। আকাশ যে ওকে কিছু বলতে চায় সেটাও বুঝেছিল।অনেকবার জিজ্ঞাসও করেছিল "কিছু বলবি??"
শুধু এড়িয়ে গেছে আকাশ। পড়া পড়া পড়া।এই একটাই তার মুখে।মাঝেমাঝে বিরক্ত লাগত। এমনেই ক্লাস,ল্যাব, প্রেজেন্টেশন এর ঝামেলা,তার মধ্যে এই ছেলের সাথে বসলেই এক প্যাঁচাল।পড়ার প্যাঁচাল।
মেয়েরা অনেক কিছুই বলে না মুখফুটিয়ে।এটা বোঝেনা কেন এই ছেলে।তার মধ্যে আর যোগাযোগ রাখেনা এই ছেলে।অনেক রাগ জমে আছে, অনেক রাগ।
তবুও ও সামনে এলে সব ভুলে যায়।এমন ভাব ধরে যে কিছুই বুঝেনি।
.
মন খারাপ হলেই অদ্রিতা ভার্সিটির ছাদে চলে যায়।
ছাদ থেকে চারপাশ দেখা যায়।দেখা যায় আকাশটাও। আকাশ দেখতে ভাল লাগে অদ্রিতার। মেঘলা হয়ে আছে আকাশ।
কাল বৈশাখী শুরু হবে বোধয়।
নিচে তাকিয়ে দেখে আকাশ রাস্তার পাশে কানে হাত দিয়ে বসে আছে। কি আজব ছেলে। ওর তো ধুলাবালিতে এলার্জি।অদ্রিতা তাড়াতাড়ি নিচে আসার জন্য দৌড় দিল। ততক্ষনে ঝড় এসেই পরেছে।
ঝড় বেড়েই চলছে। একেবারে প্রায় অন্ধকার হয়ে গেছে চারপাশ।আকাশ কে চিৎকার করে কয়েকবার ডাকল অদ্রিতা।শুনল না বলে নিজেই কাছে গেল। "ওই পাগলা,তুই বসে আছিস ক্যান? বাসায় না যাবি??"
আকাশ তখনো বসে আছে।গায়ের শার্ট টা দিয়ে নাক মুখ চেপে বসে আছে। ছোট বেলার অভ্যাস ছাড়া সত্যিই অনেক কঠিন একটা কাজ।
--কি রে কথা কানে যাচ্ছে না? ঝড় শুরু হয়ে গেছে আর তুই এখানে এমন ভাবে বসে ক্যান??
আকাশ অদ্রিতার দিকে মুখ তুলে তাকাতেই আদ্রিতা আতকে উঠল। আকাশের নাক, মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছে। ছস ভেবে ভুল করা শার্টের অংশে তবে রক্তই লেগে ছিল।
আকাশ ওখানে বসে বমি করছিল। রক্ত বমি। অদ্রিতা কে থামতে বলা হয় নি।একটু দুরে সরে যেতেই শুরু হয় তার এখনকার নিত্য দিনের কাজ।
আকাশ একটু মুচকি হেসে বলল "আরে যা ক্লাসে যা, আমার কিছুই হয় নি। এমনেই মাথা ঘুরছিল...."
কথা শেষ হতে না হতে আবার শুরু।নাক দিয়ে বয়ে পরছে রক্ত।ঝড় বেড়েই চলছে। অদ্রিতা আকাশকে ধরে এক পাশে নিয়ে গেল। অবস্থা আরো খারাপ হচ্ছে।অদ্রিতা এ্যাম্বুলেন্স এ খবর দিল।
এ্যাম্বুলেন্স এর নাম্বার টা আকাশই দিয়েছিল।শুধু এ্যাম্বুলেন্স নয়,সব গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার লেখা আছে এই ডাইরিতে।অদ্রিতার জন্মদিনে দিয়েছিল গিফটটা। সে আরেক কাহিনী।
এ্যাম্বুলেন্স টা এসে তাড়াতাড়ি আকাশকে নিয়ে গেল।ওর বাড়িতে অদ্রিতা ফোন দিয়েছিল।শুধু সেই যেতে পারল না।
অদ্রিতা আকাশকে বারবার বলছিল "তোর কি হয়েছে?কি অসুখ?"
আকাশ সত্যি জানেনা। মাঝেমাঝেই সে ভাবত।একজন ফাঁসির আসামিকেও তো মৃত্যুর আগে বলা হয় তার ফাঁসি হবে।তবে তাকে কেন কেউ কিছু বলে না।
কেউ মৃত্যুর পথযাত্রী হলে নাকি তাকে বলতে নেই,৯০% নাকি মন থেকেই মারা যায় সে...! এটাকে নাকি মানসিক মৃত্যু বলে।তাহলে সে কি মৃত্যু পথযাত্রী?
আকাশ সত্যি জানেনা কি হয়েছে।শুধু জানে সে বাঁচতে চায়।অদ্রিতাকে বলতে চায় "তোকে ভালোবাসি...সত্যি অনেক বেশি ভালোবাসি...."
.
কালবৈশাখী ঝড় তখন থেমে গেছে। তবে রেখে গেছে কিছু দাগ।পাশের গাছটার কিছু ডাল ভেংগে পরে আছে,অস্থায়ী চায়ের দোকান টা লন্ডভন্ড হয়ে আছে।মানুষ এসে আবার ঠিক করার চেষ্টা করছে।
অদ্রিতার মনেও হটাৎ একটা ঝড় বয়ে গেল। এ ঝড়ের দাগের গভীরতা বোধয় একটু বেশিই। যা হয়ত কখনই ঠিক হবে না কিংবা হবে....কিছু প্রশ্নের উত্তর জানা যায় না... মেনে নিতে হয় প্রশ্ন আর উত্তরের সন্ধিক্ষণে কিছু একটা....

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement