লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ এপ্রিল ২০১৮
গল্প/কবিতা: ১৭টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftনববর্ষ (এপ্রিল ২০১৭)

শুভ নববর্ষ-১৪২৪ সন শহর ও গ্রামীণ।
নববর্ষ

সংখ্যা

সালমা সেঁতারা

comment ০  favorite ০  import_contacts ১৬১
বৈশাখি সুপ্ত নদী, উত্তাল বাসনাকে বেঁধে
ভেবেছিলো ভাংবেনা তীর, কোজাগরী চাঁদের জোয়ার ছলনায়
একি শোনে, অভিরূপী প্রেম আলাপনী
চঞ্চল হলো কেন নীর?।

সু-স্বাগতম নববর্ষ-১৪২৪ সন। এই বাংলায় এখন ঋতুবৈচিত্রের পালায় এসেছে পহেলা বৈশাখ। মোঘল সম্রাট জালালউদ্দিন মোঃ আকবর প্রণীত এই বাংলা সনকে কৃষকদের আবাদাদির মৌসুম নির্ধারণ করার সুবিধার্থে করা হয়েছিলো। এই বৈশাখ মাস-ই হলো অংকুরোদগমের মাস। ফাগুন চৈত্র মাসে সব ফসলাদি বনবনানীর বীজ ফুটে এ মাটির বুকে লুকিয়ে থাকে, আর বৈশাখে মাটিতে যখন পানির স্তর উঠে এসে মাটির বুক নরম করে দেয় তখন সব লুক্কায়িত বীজ দু-পাতা খুলে চেয়ে দেখে তার ধরনী মাতাকে।
অমিয় পিয়াসী পাঠক, শুভনবর্ষ। আজ অভিষেক ১৪২৪ সালের। মনের ভিতর অংকুরোদগমের উষ্ণতায় ব্যাকুল চিত্ত কিসের যেন আগমনী বার্তা শুনতে চায়। সেকি বৈশাখি ঝড়? ভাঙ্গাগড়ার আনন্দ নাকি মৃত্ত্ব্কিাজাত ঋতুবৈচিত্রের স্বাদ আস্বাদনে বাংলার মন উদ্বেল হলো আজ? সভ্যতা পরাসভ্যতার দুর্মদ পাথর ডিঙিয়ে মন কেন ফিরে যেতে চায় বোশেখের গোড়ায়? অভিরূপী চাঁদ নদীর সাথে ছলনার ফাঁদ পেতেছে। আর প্রকৃতি তার রূপের ভান্ডার খুলে বসেছে বনানীর শ্যাম অবয়ব সাজাতে। ফুলে ও মুকুলে কচি কিশলয়ে সমস্ত বাংলার অপু দূর্গারা লুকিয়ে আছে কোন গাছের ছায়ায়। লতা পাতাদের সরায়ে আজ শৈশব খোজার দিন যেন এই পহেলা বৈশাখ।

আজ শুভ নববর্ষ। পাঠক, মানুষতো রক্তমাংসে গড়া জীব - শ্রান্তি, অবসাদ, বিষন্নতা, আনন্দ বেদনা - এসব জীবনেরি উপক্রিয়া বিশেষ। ক­ান্তি শ্রীহীন বেপরোয়া বিজ্ঞানের কালজয়ী নেশা মানুষকে যন্ত্র বানিয়ে ছাড়লেও মানুষ কাল্পনিক বিজ্ঞান কলা ছেড়ে অন্তত একটা দিন প্রকৃতির সাথে বনজ গন্ধে মিশে যেতে চায়। সুদৃশ্য দামী ডাইনিং টেবিল ছেড়ে মাটির কাছাকাছি এসে শানকিতে জাতীয় খাবার পান্তা খেতে চায়। পিৎজা বার্গার ছেড়ে চিনির হাতি খোঁজে পাতার বাঁশী খোঁজে। তালপাতার সেপাই বানিয়ে নিজের মেজাজ ও মনের সুক্ষ চিন্তার আদর্শিক রূপ দেখে নিতে চায়। বিগত দিনের ভুলগুলিকে শুদ্ধ করে নেয় সালতামামী করে। নতুন পাতার মতই জীবনের হালখাতা খুলে বসে জীবন, ভবিষ্যতের অনাগত ভাবনার আপ্যায়নে মন যেন ব্যতিব্যস্ত সভ্যতাকে বলে।


তুমি না হয় ধান গুটাবার পাট দ্রুত টেনে যাচ্ছো বৃষ্টিতে ভেজার ভয়ে
আর আমি বোশেখের গোড়ায়, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিস্তৃত বাকিটকু
সযতেœ খুটে নেবো তোমার কাছে, তারপর দুজনেই এক সাথে তুলে দেবো
ক্ষুধাতুর বিশ্বের ঘাটতি পুরণে।

ডিবেট হচ্ছিলো বিটিভি-তে। “গ্রাম ই-সংস্কৃতিকে লালন করে শহর নয়।” ডিবেটে জিতেছিলো শহর। আসলে সত্যটি হলো, বাঙালি জাতির যাপিত জীবনের প্রচারিত দৈনিকের সংস্কৃতিই হলো গ্রাম শব্দের সূতিকাগার। অতএব সংস্কৃতির লালিত নাম হচ্ছে গ্রাম। শহর তার লীলা প্রদর্শনের ভূমি। অর্থাত সংস্কৃতির লীলাভূমি। যেখানে দিবসে দিবসে তার নান্দনিক রূপ শহরবাসীর রূপায়নের মাধ্যমে প্রদর্শিত হয় অতএব দুভাবেই আমাদের সংস্কৃতি লালিত হয় আমাদের শহর গ্রামে। নববর্ষ, পহেলা বৈশাখ, আর বাকি ঋতুরাও। এখানে ডিবেট করে বাংলার একাত্ব মানসিকতাকে দু-ভাগ করার, বা বিতর্কিত করার কারণ দেখিনা। করা উচিৎও নয়।

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন