ওগো আলসে মেয়ে,
কতোটা আধুনিকতায় বিদ্যাকে ঠুনকো করে
ভুলেছো তুমি নদী কুলি নারী।

আজকাল, অলস নিদ্রায় কাটাও দিনকাল।
জরুরি শুকাতে দাও
অলস জোছনায় দিনের ভেজা শাড়ি।

ওগো ধীবর মেয়ে, কবে থেকে বল্ছি,
ভেজা জাল পড়ে আছে, থোক ধরে ধরে,
পাট কাটা কাল গড়ালো ভাদরে। অথচ!

একটু তো নড়ে চড়ে বসো! কেটে যাক শম্বুক রাগ
শরীরের ভাঁজে ভাঁজে দাও, রোদের নিরাময়
খোঁপা এলো করে নাও ঝিরি ঝিরি হাওয়া
উড়ে যাক বরষার ভাঁপ।

ওকি? অলসা মেয়ে? পাশ ফিরে শোও
আলের আগাছা খেয়ে খেয়ে
এক থোকা ডিম পেড়ে দাও।

গেল ঋৃতুতে কত ডিম চলে গেল সাগর সলিলে
তুমি তেমনি ঘুমে। ওগো মহুয়া অলসা
তোমাকে ভেজাতে পারে? সে কোন বরষা?

বলি যতোটা সময় পাও, সাগর বিহারে যাও
শৈল শেখরের হিমাদ্রি চূর্ণ করে
জমিনে ছড়াও,
দেহ কুলে টেনে দাও সুবর্ণ রেখা।

ওঠো জেগে অলসা এখনও খোলনি কেন
শারদীয়া শাড়ি, মোছনি তো ভাদই শ্যাওলা।
ঠগা দিয়ে পাট কাঠি নাড়ো,
তড়িঘড়ি পরে নাও শিশির নূপুর।

জানো না?
কান পেতে আছে ঐ ডাহুক রাত
শিঞ্জিনি ছন্দ শুনে কখন গভীর হবে তার
তিমির প্রপাত।

ও মরি,আলসে মেয়ে!
মুছে ফেলেছো সূর্যের বাম অঙ্কের বিম্ব
বেণীআসহকলা। বলতো!! কতোটা-
অলসতায়, না রইলে আরাধ্যা, না হলে অঞ্জলিকা

ভেবে ভেবে গালে হাত
কী করে কাটবে তোমার শামুক মেঘলা কাল
কী করেই বা দুপুর বিকাল!

নড়ে চড়ে উঠবে তো! আবার বৈশাখে?
নইলে সংসার তোমার? রোদছায়াহীন শ্যাওলামলিন,
খেরোখাতাই থেকে যাবে যে চিরকাল।