কে বলে এই করোনার যুগে অকবি লেখালেখি ভুলে গেছে?
গতকাল পৃথিবীর পিঠে অজস্র ধারায় যে জল আকাশ থেকে
ঝরে ঝরে পড়েছে; শরীরে তার লুকিয়েছিল ভীষণ উত্তাপ
নিপুণ রাঁধুনীর রন্ধনকৌশলে মিশে থাকা সৃজনশীলতা যত
নতুন প্রাণের সৃজনানন্দের তীব্র উত্তেজনার মত
ঝিরঝির ঝরঝর অজর আনন্দের সংগীত আত্মহারা
যেন প্রথম গানশেখা খুকীর খুশিতে বাধনহারা
যেন প্রথম কাউকে বলা " তোমাকে ভালবাসি"
যেন প্রথম চেষ্টা, প্রথম দ্বিধা, প্রথম অভিজ্ঞতা
প্রথম স্পর্শ, প্রথম কেঁপে কেঁপে উঠা, প্রথম ক্লান্তি
অধীন জাতির স্বাধীনতা, দুরারোগ্য ব্যধির আরোগ্য
বন্ধ্যার সন্তান লাভ, প্রথম ওহীর আগমনী
এমনি কিছুর মত এক আশ্চর্য অনুভূতি এই জলের উত্তাপে
গলিয়ে দিতে চায় সকল পাপ, সকল আবর্জনা, জঞ্জাল
পটভূমিতে ইটপাথরের আপাদমস্তক ব্যর্থ আধুনিক সভ্যতার-
আড়ালে লোভী হিংস্র মানবরুপীদের মরণ চিত্কার ছাপিয়ে
পৃথিবীর বুকে অজস্র ধারায় শান্তির জল নামে
সবাইকে বলতে থাকে, স্রষ্টা এক ও অদ্বিতীয়
সর্বশক্তিমান, অবিনশ্বর| ব্যস, যথেষ্ট!
এই চারগুণের মাঝেই প্রকাশিত তাঁর সকল গুণ
তিনি ক্ষমাশীল নন, তিনি চান না আমি ক্ষমা পেয়ে যাবার নিশ্চয়তায়
পাপের পরিকল্পনা সাজাই, ক্ষমা আমি পাবো না!
তিনি ঘুষখোর না যে আমি প্রশংসার ঘুষ দিয়ে খুশি করার নামে
তাঁর একটি সৃষ্টিকেও কষ্ট দেই| হোক সে প্রাণি বা অপ্রাণি|
আমি প্রার্থণা করি নিজের মনের শান্তির জন্য ,
প্রার্থণা আমার প্রয়োজনীয়তা, স্রষ্টার নয়
বলি, স্রষ্টা আমি নিজের জন্য তোমার প্রশংসা করি |
বলি, আমার দ্বারা তোমার সৃষ্টির অকল্যাণ হবে ন||
বলি, আমি চাই না কিছুই, মানব জীবন আমার শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি|
বলি, আমি সুখি, আমার সব আছে| সবাই সুখে থাকুক|
বলি, সবার কল্যাণে আমার কল্যাণ, আমি একা কেউ না
মহাকাল, মহাবিশ্ব, মহাশান্তিতে করুক নতুন সূত্রপাত|