লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২০ জানুয়ারী ১৯৯৫
গল্প/কবিতা: ৭টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftমুক্তিযুদ্ধ (ডিসেম্বর ২০১৫)

আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি
মুক্তিযুদ্ধ

সংখ্যা

ইমরানুল হক বেলাল

comment ৪  favorite ০  import_contacts ৩৭১
আমি আর আমার ভাতিজা শামীম জুমার নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হলাম। শামীম সৌদিতে থাকে। গত ঈদে ও ছুটিতে এসেছিল। বয়সে আমার থেকে ছোট্ট। যদিও আমরা অসম বয়সী কিন্তু আমরা ছিলাম অন্তরঙ্গ বন্ধু ;যেমন -এক সাথে চলাফেরা, এক সাথে খেলাধূলা, এক সাথে বসে আড্ডা দেওয়া, সব কিছুর মাঝেই ওকে পেতাম নিতান্তই ভাবে ;
আরেকটা কথা বলা বাহূল্য-
ভিবিন্ন জাতীয় পএিকায় আমার প্রকাশিত সব লেখা, আর আমার প্রকাশিত দুটি উপন্যাস ও সে পড়েছে।
জীবনের প্রতিটি বিষয়ে তাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাছে পেয়েছি।
এই জন্য তাকে আমার খুব পছন্দ।
শামীম বলল, 'কাকা চলো কোথায় ও ঘুরে আসি। '
আমি বললাম, না বাবু ...আজ কোথাও ঘুরতে ইচ্ছে করছে না। একজন মুক্তিযুদ্ধার কাছে যেতে হবে।'
'-হঠাৎ মুক্তিযুদ্ধার কথা মনে হলো কেন কাকু? ' শামীম জানতে চাইল।
'-সে তুমি বুঝবে না...। জানতো নিচ্ছয় এটা বিজয়ের মাস...?'
'কোথায় যাবে তুমি? তোমার কি কোনো মুক্তিযুদ্ধার কাছে পরিচয় আছে? '
'না তো আমার এমন কারো সাথে পরিচয় নেই। তোমার পরিচিত কেউ আছে? '
শামীম বলল, 'না, আমার ও নেই। তবে আমার একটা পরিচিত জায়গা আছে চলো সেখানে যাই। '
আমি বললাম, 'কোথায়? '
শামীম বলল,এমন একজন তো আমাদের (শংকরাদহ) গ্রামেই রয়েছে। '
'আমার তো কাউকে মনে পড়ছে না। '
শামীম বলল, আমাদের উওর পাড়ার মিরবাড়ীর বাদশা মিয়ার কথা শুনেছো নিচ্ছয়?'
'হম। '
'শুনেছি উনি একজন মুক্তিযুদ্ধা ছিলেন। ...।'
আমি বললাম, '...বেশ তাই চলো। '
দুজনে এক সঙ্গে পায়ে হেঁটে চললাম। উনার বাড়ির ভেতর ঢুকেই সালাম বিনিময় করে পরিবারদের সাথে কিছুক্ষণ টুকিটাকি কথা বললাম। তার পর আমাদের উদেশ্য জানালাম। খানিকক্ষণ পরে উনার বড় মেয়ে এসে বললেন, ' আব্বা এসেছে, আপনারা আব্বুর সাথে কথা বলেন। '
'আসসালামুয়ালিকুম চাচা। '
'ওয়ালিকুম সালাম। বাবারা তোমরা কোথায় থেকে এসেছ? ...।'
আমাদের আসার উদেশ্য জানালে দুটি চেয়ার টেনে এনে বসতে দিলেন।
প্রথমে দেখতে শুরু করলাম লোকটা বেশ লম্বা-চওড়া, গায়ের রং ফর্সাা, লম্বা মুখ, সাদা দাঁড়ি। বয়স প্রায় আশির কাছাকাছি। উনাকে দেখে কেমন যেন মনে হলো, আচ্ছা উনি কি সত্যিই মুক্তিযুদ্ধা? রাজাকার নাতো?
আমি প্রশ্ন করলাম, 'আচ্ছা চাচা, মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন কোথায় ছিলেন আপনি? তখন আপনার বয়স কত ছিল? আপনার পরিবারের মা-বাবা, ভাই -বোন, ছেলে সন্তান নিজ পরিবার সহ সবাই কোথায় ছিলেন? '
এ কথা গুলো বলা মাএই দেখতে পেলাম ওনার চোখ দু'টো জলে ভরে উঠল। তার পর ধীরে ধীরে ওনার আত্মাকাহিনী বলতে শুরু করলেন -
'আমরা পরিবারে ছিলাম তেরোজন।

এদের মাঝে অনেকজন বেঁচে নেই। সেই সময়কারে আমার বয়স ছিল চল্লিশের কাছাকাছি। আমার মেয়ে ছিল চারজন। বড় মেয়ে আমার ছোট ভাইয়ের বাড়িতে ভেড়াতে যাওয়াই বেঁচে গিয়েছিল। তিন মেয়েকে ঘরের ভেতর বেঁধে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছিল পাকিস্তানীরা।ছেলে ছিল তিন জন। তাঁরা যুদ্ধে শহীদ হয়েছিল। আমার বউ, দাদা -দাদী, মামা-মামী এদের ধরে নিয়ে গিয়েছিল। পরে আর কারো সন্ধান পাইনি। আমি বেঁচে গিয়েছিলাম যুদ্ধে যাওয়ায়। ......।'
বাদশা মিয়ার করুণ ইতিহাস শুনার
পর বেদনায় আমার ও
দু 'চোখের অশ্রু মুক্তোর মত দু 'গাল বেয়ে মাটিতে পড়ল। মনে হলো, পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীরা কী নিঠুর আর বর্বর ছিল! ওরা মানুষ না হয়ে মায়াবি পৃথিবীতে দানব হয়ে জন্ম নিয়েছিল!
তা না হলে ওদের হাতে তিরিশ লক্ষ শহীদ সেদিন কেন প্রাণ দিতে হয়েছিল? তবুও বাদশা মিয়ার মত
মুক্তিযুদ্ধারা তাদের কাছে হার মানেনি।সেইদিন কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে, মৃত্যুকে পরাজয় করে করে এনেছিলেন একটি লাল সবুজের পতাকা। কারণ তাঁদের হৃদয়ে ছিল দেশপ্রেম।তারা জানতেন দেশকে ভালবেসে মৃত্যুকে বরণ করে নিতে।প্রতিটি মুক্তিযুদ্ধার আত্মাত্যাগ,অসহায় মানুষের কষ্টের হাহাকার নির্যাতিতাদের দুঃসহ বেদনা, বিন্দু বিন্দু রক্তের সমুদ্রের বিনিময়ে আজ আমাদের শেষ্ঠ অর্জন
মুক্তিযুদ্ধের বিজয়।
আজ আমি শুধু মনে মনে একটা কথা ভাবি, -"আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি "
তবুও মুক্তিযুদ্ধ আমাকে আলোড়িত করে, রক্তে জাগায় শিহরণ! ছেলেবেলায় বাবা -মায়ের মুখে আর বইতে একাত্তরের বীরত্ব ও আত্মাত্যাগের ঘটনা পড়ে, আজ এই বৃদ্ধ মুক্তিযুদ্ধা লোকটার মুখে মুক্তিযুদ্ধের গৌরব গাঁথা শুনে আমার ও মনে হয় আমি ও একজন মুক্তিযুদ্ধা।
বুঝতে পারি,মুক্তিযুদ্ধের বিজয় একটি জাতীয় পতাকা এবং বিরাট ও সুদূর প্রসারী।বাঙালি জাতীয় জীবনে এক আশচর্য অনুভূতিময় আনন্দ বেদনায় শিহরিত এক উজ্জ্বল দিন। বিশ্বের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ভিয়েতনামের পর আরেক গৌরব রচনা করেছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ইতিহাসের এ -এক লাল তারিখ। শ্রেয়োবোধ ও শুভবুদ্ধিকে অাশ্রয় করে আমরা প্রতিকূল ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলাম। প্রতিটি বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মশাল করে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে
যেতে হবে। হতাশা ও দীর্ঘশ্বাস ঠেলে! প্রতেয়ে ও সাহসে বুক বেঁধে, পরিস্থিতির কাছে আত্মাসমর্থণ না করে প্রগতি ও পরিবর্তনের ধারায় অগ্রসর হতে পারলে আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন অর্থবহ হয়ে উঠবে।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement