লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৮৮
গল্প/কবিতা: ৩টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৯

বিচারক স্কোরঃ ২.২২ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৬৮ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftদুঃখ (অক্টোবর ২০১৫)

তুমি কে?
দুঃখ

সংখ্যা

মোট ভোট ১৪ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৯

এস আই গগণ

comment ৮  favorite ১  import_contacts ১,৪০৪
মিরা। স্বপ্নের সাগর পাড়ি দেওয়ার বড় সাধ ছিল তার। জঙ্গলি ফুল আর কাশফুলের গাঁথা মালা ছিল তার প্রিয়। অজানা আচমকা ঝড়ো হাওয়ায় মিলিয়ে গেল তার স্বপ্নের সাগর পাড়ি দেওয়ার সাধ।

১৯৯৫ সাল।
একটা ফুল নেবেন ভাই?
কত দাম?
৫ টাকা দেন।এক্কেবারে তাজা ফুল।
২ টা নিব, ৮ টাকা দেই?
দেন, ৮ টাকা খুচরা দিয়েন।
প্রায় প্রতিদিন কলেজে যাওয়ার পথে ১২/১৪ বছরের মেয়েটির কাছ থেকে ফুল কিনে নিতাম।ফুল খুব বেশি পছন্দ ছিলনা, তবুও কেন জানি মেয়েটির মায়াভরা কণ্ঠ আর মলিন মুখশ্রীর কাছে হার মেনে যেতাম। প্রায় দুই বছরের মতো প্রতিদিন ফুল নিতাম। হঠাৎই ফুলওয়ালির আসা বন্ধ হল। ততদিনে ফুল ও ফুলওয়ালির সাথে বেশ সখ্যতা গড়ে উঠেছে আমার। একদিন, দুইদিন, দেখতে দেখতে মাস পেরিয়ে বছর হয়ে গেল আর কখনোই তাকে পথেঘাটে দেখতে পাইনি। ভেবেছিলাম হয়তো বিয়ে হয়ে গিয়েছে।

পড়াশুনার পাঠ চুকিয়ে কাজের সন্ধানে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। যাত্রাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড পৌঁছে বাস থেকে নেমে গন্তব্যে যেতে আচমকা চোখ চলে যায় রাস্তার পাশের আবাসিক হোটেলের দিকে। অনেক বেশি পরিচিত মুখটি আমার। কাছে যেতেই...
ফুলওয়ালি তুমি এখানে? আমাকে চিনতে
পেরেছ?
হ্যা চিনতে পেরেছি। আপনি ডাবল ফুল কিনতেন। আমি এখানেই থাকি, রান্না করি, ঘরদোর ঝাড়ু দেই। রাতে সিঁড়িঘরের এই ঘরটাতে থাকি। থাকা খাওয়ার বিনিময়ে এই কাজ করি।
কত টাকা দেয়?
টাকা দেয়না। থাকা আর খাওয়া দেয় মাত্র।
তোমার মা বাবা কোথায়? বিয়ে করেছ?
সে অনেক কথা, এত কথা এখন বলতে পারবোনা।ম্যানেজার দেখে ফেললে অনেক ঝামেলা হবে, আমার এই কাজটাও চলে যাবে, আপনি যান।
আচ্ছা এখন যাই, পরে আবার আসবো।
বাসায় যেয়ে ফ্রেস হয়ে কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে পড়লাম।বেশ কিছুদিন পর চাকরি হল। পোস্টিং দিল গাজীপুর। এখন থাকছি রামপুরায়, গাজীপুর থেকে রামপুরা যাতায়াতে সমস্যা হওয়ায় ওখানেই বাসা নিয়ে থাকতে শুরু করলাম। রান্নার সময় হবেনা ভেবে পাশের ফ্লাটের অ্যান্টির কাছে গেলাম বুয়ার উদ্দেশ্যে। অ্যান্টি বললেন বিকালে বুয়া এসে রাতের খাবার রান্না করে দিয়ে যায়, আর অনেক ভোরে এসে সকাল ও দুপুরেরটা রাধে। এই দুইবেলা আসবে, চাবি দিয়ে যাও। বুয়া আসলে রান্না করে দিতে বলবো এখন থেকে। বুয়া অনেক ভাল, অনেক বিশ্বাসী, নিশ্চিন্তে চাবি দিতে পারো। আজ মঙ্গলবার, শুক্রবারে তো বাসায় থাকবে,সেদিন পরিচয় করিয়ে দেব। অবশ্য ভোরে উঠতে পারলে ভাল হতো, সেটা তো আর পারবেনা। আমি আবার নয়টার আগে ঘুম থেকে উঠতে পারতাম না, যেটা অ্যান্টি জানতো। চাবি দিয়ে চলে গেলাম অফিসে। আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে যায়, খাবারটা বেশ লাগছিল।বুধ, বৃহস্পতি, অবশেষে শুক্রবার বিকাল। দরজা নক করতে খুলে দিলাম।
একি তুমি? এখানে কিভাবে? ভিতরে আসো, পরে আর তোমার কাছে যাওয়ার সুযোগ হয়নি, ব্যস্ততার কারনে ভুলে গিয়েছিলাম। যাই হোক বলো, কিভাবে এলে? আমি এখানে জানলে কেমন করে? তাছাড়া আমার কাছেই বা কি?
আমি আপনার জন্যই এখানে এসেছি, আপনি সেদিন যে আমার সাথে কথা বলেছিলেন, সেটা ম্যানেজার দেখে আমাকে কাজ থেকে বের করে দিয়েছে, অবশ্য আমারও বেরিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। এখানে পরিচিত একজনের সহায়তায় এসে বিভিন্ন বাসায় কাজ করি। ওইপাশের অ্যান্টি আপনার রান্নার জন্য বলেছিলেন, আমি এই দুইদিন রান্না করে দিচ্ছিলাম, এখনও এসেছি রান্না করতে, কিন্তু এখানে যে আপনি থাকেন এটা জেনে আমি আসিনি।
আজতো শুক্রবার, আমার ছুটি, তোমার যদি কোনো সমস্যা না থাকে তবে রান্না শেষে কিছু কথা বলতে চাই।
আচ্ছা, রান্নাটা আগে সেরে নেই।
রান্না শেষে একটাই প্রশ্ন ছুড়ে দিলাম, তুমি কে?

১৯৮৮ সাল। তখন আমি অনেক ছোট। অনেক বড় বন্যা হল, বন্যা শেষে গ্রামের অনেকেই ডায়রিয়ায় মারা গেল, তার মধ্যে আমার বাবাও ছিলেন। মা কোন রকম গোবরের মুঠে বানিয়ে, নারকেল পাতার সলা, গাছের সুপারি ইত্যাদি বিক্রি করে সংসার চালাতো। আমরা দুই বোন, নিরা বড় আমি ছোট। ছোট হওয়ায় আদরটা বেশিই পেতাম। কয়েক বছর পর নিরা’র বিয়ে হয়ে গেল। ছেলে সরকারি চাকরি করে, কুমিল্লা শহরে ছোট্ট একটা বাসা নিয়ে থাকে। বেশ সুখেই ছিলাম আমরা (মা-মেয়ে)। হঠাৎ মায়ের অসুখটা যেন বেড়ে গেল, কিছুটা জমি বিক্রি করে চিকিৎসা করানো হল, তবুও যেন রোগ নামক অসহ্যটা পিছু ছাড়লোনা। মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়লো। ছাগল, গরু, বাকি জমিটুকুসহ যা কিছু ছিল সবই বিক্রি করে চিকিৎসায় ব্যয় করা হলেও মা’কে বাচাতে পারিনি, মা মারা গেলেন ১৯৯৪ সালে।
অসহায়, সম্বলহীন আমি আশ্রয় নিলাম বোনের বাসায়। বেশ ভালই কাটছিল দিনগুলি। ভর্তি হয়েছিলাম ক্লাস এইটে, পড়ার পাশাপাশি গান শিখছিলাম, নাচের ক্লাসেও ভর্তি করিয়ে দিয়েছিল দুলাভাই। দেখতে দেখতে পার করলাম ক্লাস এইট, ক্লাস নাইনে উঠে বেশ কিছু টাকার প্রয়োজন হল, টাকা চাইতেই আপুর মনটা কেমন যেন হয়ে যেত। পরিবেশটা কেন জানি ঘোলাটে মনে হতে লাগলো। দিন দিন দুলাভাই আমার সাথে কেমন একটা অদ্ভুত আচরণ করতে লাগলো। সকালে ঘুম থেকে ডেকে তোলা, খাবার খাইয়ে দেওয়া, গোসলের সময় দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা, এমনকি কোলে মাথা রেখে ঘুম পাড়িয়ে দিতে চাইতো, যেটা আপুর গরম চাহনিতে হয়তো পারতোনা।
সকাল থেকে অনেক বর্ষা আরম্ভ হল, দিনটি ছিল বুধবার, আমার নাচের ক্লাস থাকায় রেডি হলাম, ক্লাস কখনোই মিস দিতাম না, ছাতা নিয়ে এগিয়ে যাব ভাবতেই দুলাভাই বললো, চলো আমি এগিয়ে দিয়ে আসি। বর্ষায় একা পারবেনা। আপত্তি জানানোর প্রশ্নই আসেনা, কারন গার্ডিয়ান বলতে তিনিই এখন সব। ঝিরি ঝিরি হাওয়ায় পিশি পিশি বর্ষার চিকচিকে দানা শরীর ছুঁয়ে যেতেই উতলা মন যেন আরো উত্তাল হতে চায়। আচমকা বজ্রপাতে ভাবনাহীন হয়ে ক্লাসে পৌঁছলাম, ক্লাসে কেউ আসেনি, ম্যাডাম অফিস রুমে বসে ছিল। দুলাভাই পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে, আমি গায়ের পানি ঝাড়ছি, আস্তে আস্তে দুলাভাই বুকের দিকে হাতটি নিল, কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুখ চেপে ধরে সর্বনাশা জীবনের সূচনা করলো। অবাক হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম। মানুষ এমন হতে পারে? আমাকে রেখে চলেও গেল? সেতো আমারই বোনের জামাই, আমার গার্ডিয়ান সে? কতশত প্রশ্ন, কাকে বলবো?

ধিরে ধিরে বাসায় ফিরলাম, আপু রান্না করছে, আমি গোছলে ঢুকতেই জিজ্ঞাসা করলো, কিরে দুলাভাই কই? আজ ক্লাস হয়নি? কি জবাব দিব আমি? কোন কথা না বলেই বাথরুমে ঢুকে গেলাম। শত যন্ত্রণা সত্তেও আপুকে জানানোটা উচিৎ মনে করিনি। আমার যে কেউ নেই এই আপু ছাড়া, আমি বলে দিলে হয়তো সংসারটা নষ্ট হয়ে যেত,তখন দুই বোনের কি উপায় হতো ভেবে চুপ রইলাম। দিনের পর দিন হায়েনার হিংস্র থাবা আর মানুষিক যন্ত্রণায় ভুগতে থাকলাম, তিন মাস পার হয়ে গেল পিশাচের অত্যাচার থেমে নেই।অসুস্ত হয়ে পড়লাম, বমি শুরু হল, খুদা বেড়ে গেলো। নাচের ক্লাসের এক বন্ধুর সহায়তায় বাজারের হাতুড়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হলাম। ডাক্তারের কথায় হতবম্ভ হওয়া ছাড়া আর কিইবা করার আছে আমার? প্রেগন্যান্ট অবস্থায় আমি কিভাবে বোনের কাছে থাকব? “অভাগা যেখানেই যায় সাগর শুকিয়ে যায়” প্রবাদটি আমার বেলায় এসে রূপধারণ করবে বুঝতেই পারিনি।অজানার উদ্দেশে পাড়ি জমালাম, গলিপথ পার হয়ে বড় রাস্তায় এসে পড়লাম। বাস ধরে সোজা চট্রগ্রাম। উদ্দেশ্যহীন চলছি, সারাদিন না খেয়ে শরীর যেন চলতে চাইছেনা, মাথাটা কেমন চক্কর দিল, আর কিছুই মনে নেই। চোখ মেলে দেখি অন্ধকার একটা রুমে মাটির উপর পাটি বিছানো, তার উপর ছোট একটা কাথা আর একটা বালিশ, যেটাতে আমি শুয়ে আছি। ভাঙ্গা গলায় আওয়াজের মতো উপরে ফ্যান ঘুরছে। আস্তে আস্তে উঠলাম, ঘর থেকে বের হওয়ার সাথেই একজন মুরব্বী দৌড়ে এদিকে এলো,এখন কেমন লাগছে জানতে চাইলো। গলার স্বর বের হতে চাইছেনা,ছোট্ট করে বলে দিলাম, ভাল।হাত ধরে নিয়ে গেলো তার হোটেলে। খাওয়া দাওয়া শেষে জিজ্ঞেস করলো আমার পরিচয়, সব খুলে বললাম।
নুরু মিয়া নাম তার, ছোট্ট একটা ভাতের হোটেল চালায়। নুরু কাকার সহায়তায় বাচ্চা ফেলতে বাধ্য হলাম। তিন বেলা খাবার পর হোটেলের থালা বাসন ধুয়ে দিতাম, বাকি সময়টুকু ফুল বিক্রি করে যা হতো জমিয়ে রাখতাম, ছিলাম বেশ ভালই। মনুষ্যজাত, বিশেষ করে পুরুষ এতোটাই খারাপ আগে বুঝলে নদীতে ঝাপ দিয়ে মরে যেতাম। অবশ্য বেচে থাকার সাধ সবার যেমন আছে, আমারও ইচ্ছা করে বাচতে, পড়ালেখা করতে, চাকরি করে প্রতিষ্ঠিত হতে। নুরু কাকার অত্যাচারে আমার চট্রগ্রাম ছাড়তে হলো।
ঢাকাতে এসে ওই আবাসিক হোটেলের রান্না, ঘর ঝাড়ু দেওয়াসহ অনেক কাজ করতে হতো। কিছুদিন পর হোটেলের ম্যানেজার ও আশেপাশের কিছু বখাটের অত্যাচারও শুরু হয়ে গেলো। সেদিন আপনার সাথে কথা বলতে দেখেছিল ম্যানেজার। সইতে না পেরে বলেছিলাম আপনি আমার পরিচিত, যে কারনে আমাকে বের করে দেওয়ার পর এক রিক্সাওালার মাধ্যমে সামনের বাসার অ্যান্টির কাজ শুরু করলাম, তিনিই আমাকে আপনার রান্নার কথা বলায় আমি রাজি হলাম এবং সে কারনেই রাতের রান্নার জন্য এখন এসেছিলাম।

নিথর, নিস্তেজ শরীর এতক্ষণে সতেজ হলো, মনে হচ্ছে পৃথিবী ঘুরছে, পাঁচতলা বিল্ডিং একটা ঝাঁকুনি দিয়ে ভেঙ্গে পড়বে মনে হল, বাথারুমে যেয়ে মাথায় পানি দিয়ে ফ্রেস হয়ে সোজা সোফায় শুয়ে পড়লাম, ভাবতেই গাঁ শিউরে উঠে। কিভাবে এতটুকু একটা মেয়ে এখনো বেচে আছে? দেখলেই বোঝা যাচ্ছে, রোগাটে, চোখের নিচে কালো আবরণ, উস্কখুস্খ চুল, চামড়ায় কিঞ্চিৎ ভাজ, কি বলবো, সান্তনা কিইবা দিতে পারি।
সুন্দর স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে চাই, গ্রহন করবে?
মিরা নামক মেয়েটির হ্যা সূচক মাথা কাঁত হলেও ঘৃণাত্তক চাহনিই আমাকে ধিক্কার দিতে ব্যাস্ত। যেন সে বলছিল ছিঃ, পুরুষের পোষাকে হায়েনার জাত ছিঃ, অসহায়ত্ব ঘোচানোর নামে সর্বস্ব লুট করাই বুঝি তোমাদের কাজ? মিরার কথায় সম্বিৎ ফিরে পেলাম।
কিভাবে স্বাভাবিক জীবন দিতে চান?
তোমায় বিয়ে করবো, তোমাকে আবার স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেবো, নাচের ক্লাস করবে তুমি, গান শিখবে তুমি, তোমায় প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করবো আমি।
আমি অসুস্থ, আমার জরায়ুতে টিউমার, যার চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য আমার হয়নি, আপনার কাছে একটাই অনুরোধ আমাকে ভালভাবে চিকিৎসা করিয়ে আমাকে পরিপূর্ণ সুস্থ হতে সাহায্য করুন।
ডাক্তার দেখিয়ে বিভিন্ন টেস্ট করালাম, রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারকে দিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর খেয়াল করলাম, ডাক্তার চিন্তিত হয়ে বার বার আমায় দেখছে।
আচ্ছা রোগী আপনার কি হয়?
আমার স্ত্রী।
এতদিন ডাক্তার দেখান নাই কেন ?
আসলে সুযোগ হয়নি, তাছাড়া ও কখনো তেমন কিছুই বলেনি। (কিছু একটা তো বলতে হবে)
এতদিন পরে এসেছেন ডাক্তার দেখাতে? আপনার স্ত্রীকে বাড়ি নিয়ে যান। শেষ সময়ে তার আবদারগুলো পূরণ করুন। আর হয়তো ৫/৬ মাস বাচতে পারে। আপনার স্ত্রীর ক্যান্সার। মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মতো কেউ যেন নিচের দিকে চাপ দিতে লাগলো, শরীরের শক্তি সবটুকু হারিয়ে ফেললাম। কি হচ্ছে এসব, কিছুই বুঝতে পারছিনা, মাথাটা চক্কর দিচ্ছে। ডাক্তারের রুম থেকে বের হয়ে বাসার দিকে চললাম। শরীর চলতে চাইছেনা, পা দুটো আস্ত শরীরটাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে, কি বলবো তাকে, কোন ভাষায় সান্ত্বনা দিবো?
নক করতেই দরজা খুলে দিল, গোসল করে বেরিয়েছে মনে হয়, জানালার ফাক দিয়ে সূর্যের আলো তার ভেজা চুলে উঁকি দিচ্ছে, যেন জোনাকির আলো আর রাতের তারা একটু একটু করে শরীর স্পর্শ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। নাকফুলটি কিনে দিয়েছিলাম গতকাল, আজ পরেছে হয়তো গোসলের আগে, লম্বা সরু নাকে নাকফুলটা মানিয়েছে বেশ। কাজল কালো চোখ তার, গোলাপ রাঙ্গা ঠোট, স্বয়ং দেবীকেও হাঁর মানাবে। চাঁদের গায়েও কলঙ্ক আছে সত্যি, কিন্তু তোমার গায়ে? হ্যা, কলঙ্কই কেঁড়ে নিলো তোমাকে আমার কাছ থেকে। কোনো এক মিষ্টি সকালে দেবীর মুখখানি দেখেছিলাম, নিথর পড়ে থাকা দেবীকে সাজিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত করে ফিরেছিলাম, যখন ছিল দুপুর। দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা নিভে মিষ্টি সকাল, সকাল থেকে আবার সন্ধ্যা, দিনের পর দিন, মাস থেকে বছর পেরিয়ে আজ সতেরোটি বছর।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement