লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২০ অক্টোবর ১৯৬০
গল্প/কবিতা: ৫টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী (সেপ্টেম্বর ২০১৫)

নক্ষত্রে নীলাঞ্জনা
বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী

সংখ্যা

রানা টাইগেরিনা

comment ০  favorite ০  import_contacts ৩০৭
সহস্রকোটি আলোকবর্ষ দূরেরএক মনুষ্যহীনলাল খর্বাকৃতিরেড-ডোয়ার্ফ নক্ষত্রের কথা।
চল্লিশ বছরের সমানসেখানকার দীর্ঘ গ্রীষ্মকালেরএক অলস দুপুরে কল্পনার ক্যানভাসে রং-তুলির আঁচড়ে অদেখা এক প্রেয়সীর ছবি এঁকে আনমনে শুধু তাকিয়ে রইলাম।
মনে মনে ভাবলাম কেমন করে এই অপরূপা নীল চোখের নীলাঞ্জনাকে এঁকে ফেললাম।
ছবির মেয়েটি এতই মায়াময় যেতাঁর রুপ-লাবন্যে মোহিতনা হয়ে পারলাম না।নিজের আঁকা ছবিটিপ্রতিদিন দেখতে দেখতে কেমন যেন ওই ছবি-মানুষটিরপ্রেমেও পড়ে গেলাম।
ছবির নীল নীলাঞ্জনাকে দেখে এতই পাগল প্রায় হলাম যে, শুধু তাঁর দিকে অপলক নয়নেঅনন্তকাল ধরে চেয়েথেকে থেকে মহাকালের আবর্তে আমিও কোথায় হারিয়ে গেলাম।
এরপরকৃষ্ণপক্ষের এক রাতে নির্মল আকাশের মিটিমিটি তারার ছায়াপথ বেয়ে সপ্তর্ষিমণ্ডল হতে ঠিকানাটা পেয়ে হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটলাম।
হেঁটেহেঁটে হেঁটে পৃথিবীর পথে একদিন অবারিত রূপসী বাংলায় এসে পড়লাম।
পরিশেষেচিত্রা মধুমতি গড়াই পেরিয়ে পূবালী ফসলেরমাঠঘাট ছাড়িয়েশাশ্বত বাংলার এক চিরন্তন ছায়াঘেরাগ্রামেনিজের কল্পনারনীল চোখেরসেই অপরিচিতা নিলাঞ্জনাকে খুঁজে পেলাম।
তাঁর চোখে চোখ রেখে অনুযোগের সুরে বললাম, এতদিন কোথায় ছিলে?
বিহ্বলতায় অপরূপা নীলাঞ্জনা কোন উত্তর না দিয়ে হাসিমুখে অবাক চোখে তাকিয়ে রইল।
মুখে তার কথা নেই। কোন ভাব নেই ভাষা নেই।চোখে শুধু অবিশ্বাস্য এক বিস্ময়ের ছায়া। অপরিচিত অচেনা আমাকে দেখে সে হতভম্ব,ভীতসন্ত্রস্থ ও চকিত হল।
আকস্মিকভালবাসার দংশনে আরও নীল হয়ে ওঠা নীলাঞ্জনাকেস্বাভাবিক হওয়ার জন্য বললাম,
কেমন আছ তুমি?ভাল তো।
হুম… ভাল আছি।
তারপর বললাম আমি তোমাকে নিতে এসেছি। তোমাকে সঙ্গে নিয়েবাংলার আকাশপথে গ্রহাণুর সাম্পানে মহাশূন্য পাড়ি দিয়ে দূর থেকে বহুদূরে মিশে যাব আকাশলীনায়সব তারকাদের ভিড়ে। তুমি কি যাবে আমার সাথে?
কাল অক্ষিপক্ষ্মের নেত্রপল্লব দুটি দ্রুত কয়েকবার পিটপিট করে সেভ্রূ কুঁচকিয়ে জিজ্ঞাসা করল,
কে তুমি? কী তোমার পরিচয়? তোমার সঙ্গেসেখানে গিয়ে কী হবে?
বললাম সেখানে পৌঁছে তোমাকে নিয়ে যাববর্ণালী সূর্যকরোজ্জলএক স্বর্গগঙ্গার তীরে।
সেখানকার সৈকতের উষরবালুতটেআদিম বন্যতার প্রনয়লীলায় মত্ত হয়ে যখনদুজনেইক্লান্ত হব, তখন মহাকাশেরধোঁয়া ধোঁয়াবাষ্পীয় শীতল কুহেলিকায়অবগাহন করব।এরপর অর্ধসিক্ত বসনে একটু একটু করে একে অপরের দেহপল্লবীর ভাঁজ দেখব। স্বল্প বসনায় দুজনেই দুজনারশরীরীনিটোল সৌন্দর্যস্বচক্ষে দেখে মনেপ্রানে আনন্দ ভাগ করে নেব।
ছিঃ আমি কী ভেজা কাপড়ে অপরিচিত একজনের সামনে খোদাই-করা প্রতিমূর্তি হয়ে থাকব নাকি? কী বলছ এসব? তারপর কী করবে?
এরপর চরম সুখের স্নানটি সেরে পরাব তোমাকেঅ্যাপলিক করা সবুজ-কাল পাড়েরজুপিটার সিল্কের অতিবেগনী স্পেস-শাড়ি।পরতে দেব মঙ্গলগ্রহ থেকে আনা সিঁদুরলাল অন্তর্বাস।সাথেধূসর নেপচুনে তৈরিবৈসাদৃশ্য রংয়েরহাতা-হীনব্লাউজ।
তারপরআমরা আশ্রয় নেব সুমেরু প্রভায়ভাসাআলোঝলমলে তেজস্ক্রিয়তায় ভরামহাজাগতিক-রশ্মির আলোকছটায় গড়া আমাদের ঝুলন্ত রেড-ডোয়ার্ফ নক্ষত্রেরবিশালকষ্টি-পাথরের রাজপ্রাসাদে।
তুমি আসলে কে? তুমি কী মহাকাশের রাজকুমার? সেখানে থেকে আমরা কী করব শুনি?
সেখানে আমরা দুজনে রৌদ্রস্নানার্থ কাচে ঘেরা ঘরে বাস করব অনন্তকাল ধরে। বিকেল হলেইসপ্তরঙাফ্লাইং-সসারে চেপে ঘুরে বেড়াব আনমনে। অন্তহীন আকাশী রঙের মহাকাশে।যেখানে খুঁজে ফিরব সৃষ্টির অশেষতা আর ঘুরে দেখব বিশাল শূন্যের রহস্যময়তা।
তারপরতুমি আমি মিলে দিনভরস্বর্গ থেকে পাওয়া প্রেমবিলিয়ে বেড়াব অনুক্ষণে। এরপর ক্লান্ত শ্রান্তিতে দেহটা অবসাদে যখন ভরে যাবে তখন শুক্লারাতের সন্ধ্যায় জ্যোৎস্নার স্নিগ্ধতায়তোমার কোলে মাথা রেখেশুধু দেখব আকাশময় বর্ণিল আলোর ব্যঞ্জনা। সাথে উপভোগ করবমহাকাশের আলো আঁধারের অপার খেলা।
হাস্যকর এসব। শুধুই মায়াভরা, মোহময় ও বিভ্রান্তিকর কথার কথা।তুমি কী বিভ্রমে আবিষ্ট হওয়া যুবক?জাননা, আমি বাংলার এক অবলা নারী। আমি সপ্তাদশী।আমার জাত মান কূল আছে। আছে পরিবার। আমি ভ্রষ্টা নই, আমি সতী-সাধ্বী কুমারী।আমি ওসব অলীক মিথ্যা বিশ্বাসে প্রতারিত হতে চাই না।

হে আমার প্রিয়তমা নীলকণ্ঠি নীলাঞ্জনা, তুমি কী বলতে চাইছ মিথ্যা মরীচিকা আমি?
না না-বিশ্বাস কর, আমি যে কী সে-টা শুধুই জানেন অন্তর্যামী।
আমি মহাশূন্যেরকোনরাজকুমার নই।আমি সন্ধ্যা আকাশের উজ্জ্বল এক ধ্রুবতারা।
কখনও আমি গ্যালাক্সির পথকলি, ধুম্র কুয়াশাছন্নছায়াপথেরসাধারন এক অনাথ - পথহারা।
আমি দিকভ্রান্ত। এক অশুভ অভিশাপের স্বীকার।
শুধু তুমিই আমাকে অবমুক্ত করতে পার এই অমঙ্গলময় দৈব দুর্বিপাক থেকে।তুমিঠিকই ভেবছ, আমি অজানা কোন গ্রহ থেকে এসেছি। আমি ভিনগ্রহি।
আমি বহিরাগতকিন্তু দিব্যি দিচ্ছি, সত্যিই আমি কোন এলিয়েন নই।
আমি মনুষ্য-জন্ম।আমার উপর অনেক অত্যাচার হয়েছে। আমাকে সূর্যজাত পরমাণু রশ্মিকণা দিয়ে কয়েক সৌরকাল ধরে প্রভাবিত করা হয়েছে। তাই আমি আলোকময়, রুঢ় ও রুদ্র।
আমার কোন দেশ নেই, ভিনগ্রহে আমি অভিবাসি কিন্তু আমি এক সত্যাগ্রহী।
আমি শেষ রাতের মধ্যআকাশে ধূমকেতু হয়ে কখনোবাউদয় হই। শুধুই তোমাকে দেখার জন্যে। আমি অসীমে ভাসা অনুজ্জল এক ভাগ্যগ্রহ।ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ আমার এই হতদ্দশা।
অনাদি কাল হতে এই আমিএকা।
একা একাই ভেসে চলেছি ঠিকানা ছাড়াআকাশমণ্ডলেরগন্তব্যহীন মহাশূন্যে। অন্তহীন হাহাকারে।
অন্যায় অবিচারে তাই আমি ভীষণ রুষ্ট।
সে জন্যেইমাঝেমাঝে আমি জলন্ত উল্কাপিণ্ড হয়ে করি বিদ্রোহ। সত্যি বলছি-এই বিশাল নক্ষত্র সাম্রাজ্যেআমি এক্সট্রা-টেরেস্ট্রিয়াল, সেলেসসিয়াল-বডি আমি সুপার ন্যাচারাল।
উৎকর্ষতার কথা যদি বল তাহলে বলব আমি অতিকায় এবং সর্বাধুনিক।
আমি ভীষণ ফাস্ট, ফিউরিয়াস ও সুপারসনিক।
এতদসত্বেওআমার আছে কোমলমতি একটি প্রান, রয়েছে আকাশের মত বিশাল একটি হৃদয়। আমি প্রেমের কাঙাল।আমি তোমার সান্নিধ্য চাই। ভালোবাসা চাই। কল্পনায় আঁকাআমার ভালোবাসার নীল নীলাঞ্জনাকে পেতে চাই। একান্ত আপন করেঅতি নিভৃতে।
সেনা-হয় বুঝলাম।কিন্তু আমি তোমাকে কিভাবে বিশ্বাস করি? আমি সত্যি সত্যি কনফিউজড এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ়।
ওআমার প্রিয়দর্শিনী বাংলার নীল নীলাঞ্জনা। তুমি এখনও কী আমাকে ভয় পাও? এখনও অবিশ্বাস করছ? এখনও দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে আছ? এখনও লজ্জায় মাথা অবনত করে পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে মাটি সরাচ্ছ?
প্লিজ আমাকেআর ভয় পেওনা!এস আমার কাছে।
অতি সন্তর্পণে ধীর পায়ে। উড়ন-শূন্যযানেতোমাকে নিয়ে উড়াল দেব পবনবেগে। অবিশ্বাস্য আলোর গতিতে নিমিষেই মিলিয়ে যাব দূর আকাশের মেঘমালায়। কেউ আমাদের ছুঁতেও পারবে না।
তারপর কি? কি হবে তোমার মহা আকাশে গিয়ে?
আমার আকাশস্থ লাল নক্ষত্রালয়েতুমি থাকবে। আজীবন আমার পাশে।
সেখানে থেকে মহাকাশের দিগন্তবিস্তৃত ওই নভঃমণ্ডলের সবকিছুই তোমাকে দেখাব।বিশ্বনিখিলের সৃষ্টি সংক্রান্ত সব রহস্য তোমাকে অবলোকন করাব। সময় ব্যাতিত বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অস্তিত্বের ত্রি-মাত্রিক প্রেক্ষাপটের সন্মুখে তোমাকে হাজির করব। মেলে ধরব কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।
তারপর?
তারপর মহাশূন্যচারী হয়ে তোমার হাতে হাত রেখে গ্রহান্তরে ঘুরে বেড়াব।চোখে চোখ রেখেবিমুগ্ধ আলিঙ্গনেআজীবন ভালোবেসে যাব। একান্ত আপন করে তোমাকে হৃদয়ের স্বর্গ-শিখরে অধিষ্ঠিত করব।
অতি যত্ন করে রাখব তোমায় মিল্কিওয়ের মিট্‌মিট্‌ করে জ্বলা লক্ষ তারার ঘরে।
নক্ষত্রখচিত কুমকুম পরাবকপালে আর নাকে শনিগ্রহ থেকে আনা বায়বীয় নোলক। কানে দেব মীটিওরিটের ঝুমকা, সিঁথিতে ঝুলাবস্থিরতারকাপুঞ্জের ঝিক্‌মিক্‌ করা টিকলি।
মাথায় দেব অবিনাশী এস্টরয়ডের রাজমুকুট।
আকন্ঠ ভালোবাসায় বুকের মধ্যেখানে চেপে ধরে রাখবযেন তুমি ছুটে না যাও।
তোমাকে হারিয়ে যেতে দেব না কক্ষনো কোনকৃষ্ণগহ্বরে।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement