লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১০ জানুয়ারী ১৯৯৮
গল্প/কবিতা: ২টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftআমার প্রিয়ো বন্ধু (আগস্ট ২০১৫)

A friend in need is a friend indeed
আমার প্রিয়ো বন্ধু

সংখ্যা

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম

comment ১  favorite ০  import_contacts ৩০৫
আকাশদের বাড়ির সামনে বিশাল এক শিলকড়ই গাছ। বহু বছরের পুরনো। বৃহদাকার ডালাপালা মেলে দাঁড়িয়ে
আছে। বহু দূর-দূরান্ত থেকে গাছের মগডাল দেখা যায়। এই অত্র পাড়াগাঁয়ে এমন সুন্দর আর বৃহদাকার আর দ্বিতীয়
কোন গাছ নেই। অন্য গ্রাম কিংবা শহর থেকে মেহমান অতীথি এসে আকাশদের খোঁজ করলে সবাই বলে দেয়, ঐ
যে মস্তবড় শিলকড়ই গাছটা দেখা যাচ্ছে বাড়ির সামনে। ওটাই আকাশদের বাড়ি। রানা মাষ্টার হচ্ছেন আকাশের বাবা।

আকাশের কিছু গুণও আছে। সেটা হচ্ছে আকাশ খুব ভালো ফুটবল খেলতে পারে। তাদের স্কুলের
ফুটবল টিমের সে প্রধান স্ট্রাইকার। গত বছরের বার্ষিক ক্রিয়া প্রতিযোগিতায় 'চরপাড়া' স্কুলকে ৪-০ গোলে
হারিয়েছে। এছাড়া, আরো অনেক গুণও আছে আকাশের। আকাশ খুব ভালো গল্প লিখতে পারে। এছাড়া, আবৃত্তিতেও সে পটু।
অন্য স্কুলের উঁচু শ্রেণীর ছাত্ররা প্রায়ই আকাশকে ডেকে নিয়ে যায় তাদের কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায়।

আকাশের বাবা রানা সাহেব এই পাঁড়াগ্রামের স্কুলে শিক্ষকতা করেন তো তাই ওনাকে গ্রামের সবাই বলে
রানা মাস্টার। আকাশ শুনেছে, একসময় ওর দাদাও নাকি ছিলেন এই পাঁড়াগাঁ স্কুলের হেডমাস্টার। সেই সময়ে আকাশের
মত আকাশের বাবাও এই স্কুলে পড়েছেন। তখন অবশ্য স্কুলটা হাইস্কুল হয়নি।
ছিলো অনুন্নত প্রাইমারি স্কুল। এখন আবার এই স্কুলে
আকাশ
পড়ছে। ক্লাস ফাইভে। স্কুলের সবাই জানে ক্লাসের ফার্স্টবয় আকাশ এ বছর পি.এস.সি পরীক্ষা দেবে এবং ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি
পাবেই পাবে। কিন্তু এখন অাকাশের ভয় হচ্ছে সে মনে হয় বৃত্তি পরীক্ষা দিতেই পারবে না। আজ প্রায় দুই সপ্তাহ হলো
আকাশ বিছানায় পড়ে আছে। তার ডানপাশের পায়ে ভীষণ ব্যথা আর জ্বর জ্বরভাব! কখনই ছেড়ে যাচ্ছে না। কিছুদিন আগে
'রাধানগর ফুটবল খেলা' প্রতিযোগিতায় বড় এক ভাইয়ের পায়ের হাঁটুর সাথে লেগে পা ফুলে উঠেছিল। আমলে নেয়নি তখন কেউ, সবাই বলেছে সেরে যাবে। পায়ের ব্যথায়
আকাশ এখন হাঁটতে পারে না ঠিকমত। কী কষ্ট!

আকাশ তার এ কয়েকদিনের ছোট্ট জীবনে কখনও এমন করে শুয়ে থাকেনি। স্কুলে
কখনও সে অনুপস্থিত থাকেনি। নিয়মিত উপস্থিতির জন্য প্রতিবছর বার্ষিক পুরস্কার বিতরণীর সময় ক্লাসে
ফার্স্ট হওয়ার জন্য পুরস্কার ছাড়াও নিয়মিত উপস্থিতির জন্য একটা বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে। আর
সেই আকাশ কি না এখন দিনরাত বিছানায় শুয়ে রয়েছে। লেখাপড়াতেও ইদানিং মনোযোগী হতে পারছেনা।
গত সপ্তাহে আকাশের বাবা রানা সাহেব আকাশকে নিয়ে গিয়েছিলেন ডাক্তার দেখাতে। ডাক্তার
আকাশকে গভীরভাবে দেখে ওষুধপত্র দিয়েছেন। তবে একথাও বলে দিয়েছেন যে, এইসব ওষুধে ভালো না হলে আকাশকে
ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বড় ডাক্তার দেখাতে হবে। আকাশ শুনেছে সেই ডাক্তার নাকি অস্থি বিশেষজ্ঞ, যারা
হাড়ের চিকিৎসা করেন। এরা অনেক অনেক লেখাপড়া করেছেন। এছাড়া, বাহিরের দেশ থেকেও এরা নাকি ডিগ্রি নিয়ে এসেছেন।

সেদিনের পর থেকে রানা সাহেবের মন খুব খারাপ।
আকাশকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করাতে হলে অনেক টাকা দরকার। এতো
টাকা তিনি কোথায় পাবেন? তাঁর তো তেমন
জমিজমাও নেই। স্কুলে বেতনের টাকাই একমাত্র ভরসা। ওদিকে ডাক্তার বলেছেন, ঢাকায় নিয়ে
আকাশকে বড় ডাক্তার দেখিয়ে এবং হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করাতে কমপক্ষে দশ বারো হাজার
টাকা লেগে যাবে। এই সব সমস্যা আর দুশ্চিন্তায় আকাশের বাবা, মা আর দাদী খুবই অস্থির হয়ে পড়েছেন।
কিন্তু আকাশ তো এতসব বোঝে না। সে শুনেছে তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হতে পারে।
আকাশ কখনও ঢাকা শহর দেখেনি। গ্রামের ঘের থেকেই সে কখনো বের হয়নি। এই সুযোগে তার ঢাকা
দেখা হবে এটা ভেবে এত ব্যথা বেদনার মধ্যেও তার একটুখানি খুশি খুশিই লাগছে। ওর ছোটবোন সুরভীও বলছে,
ভাই, তুই ঢাকায় যাবি? অসুখ ভালো হয়ে গেলে ঢাকায় মজা করে বেড়াতে পারবি তাই না? (একটু মন খারাপ করে)
"তোর জন্য একটা পুতুল নিয়ে আসবো, হ্যা"
'সত্যিই আনবি..?? তুই শুধু শুধু মিথ্যে কথা বলিস, তুই পচাঁ যাহ। '
"আচ্ছা, তাহলে আনবো না যাহ"
'না, না। আনিস কিন্তু, তোকে আমি দুইটা মাটির পুঁতুল দিবো নে'

সুরভীর কথা শুনে হাসতে হাসতে ঘরে ঢুকেন আকাশের বাবা-মা। আকাশেরও একটু ভালো লাগতে থাকে সুরভীর
কথা শুনে। সত্যিই তো..!! এ যাত্রায় ঢাকা শহরটা ঘুরে আসা যাবে। ঢাকায় আকাশের মেজমামার মেয়ে
লিজা তারই সমান। নিশ্চয়ই আকাশ সেরে ওঠার পর মেজমামা তাকে আর লিজাকে নিয়ে শিশুপার্ক,
চিড়িয়াখানা, শহীদ মিনার, জাতীয় স্মৃতিসৌধ এইসব জায়গায় বেড়াতে নিয়ে যাবেন।

আজ সকাল থেকে আকাশের পায়ের ব্যথাটা যেন একটু কম। জ্বর অবশ্য কমেনি।আকাশ বিছানায় শুয়ে জানালার
দিকে চেয়ে রয়েছে। শিলকড়ই গাছটার ঘন সবুজ ঝিরি-ঝিরি পাতাগুলো বাতাসে দুলছে, পাতার ফাঁকে-ফাঁকে
ফিকে গোলাপি রঙের ফুল ফুটেছে। ফুলগুলো কেমন তুলতুলে দেখতে আর হালকা মিষ্টি গন্ধ। এই
গাছটা আকাশের খুবই প্রিয়। আকাশের দাদী বলেন,
তিনি যখন বিয়ের পর নতুন বউ হয়ে এই বাড়িতে আসেন সেই বছরে শিলকড়ই গাছটাতে প্রথম ফুল ফুটেছিলো।
আকাশের দাদাজান নাকি অনেক দূরগ্রাম থেকে শখ করে এই গাছটার চারা এনে
লাগিয়েছিলেন। রানা সাহেব আকাশের জ্বরটা দেখবেন বলে ঘরে ঢুকলেন। দেখলেন আকাশ কেমন উদাস চোখে জানালার বাইরে তাকিয়ে রয়েছে। তার বুকের ভেতরটা কষ্টে মুচড়ে উঠলো।

আজ আকাশকে অমন করে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকতে দেখে রানা সাহেবের ভীষণ কষ্ট
হলো। মনে পড়ে গেলো, আকাশের দাদাও অসুস্থ হয়ে সারাক্ষণ জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে
থাকতো। তিনি আর সুস্থ হয়ে ওঠেনি,বাঁচেনি। তাহলে কী তাঁর আকাশও বাঁচবে না? রানা
সাহেব শিউরে উঠলেন। না-না। যে করেই হোক তাঁকে টাকা জোগাড় করতেই হবে। আকাশকে শহরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর দেখলেন রানা সাহেব।
এখনও একশো দুই ডিগ্রি জ্বর রয়েছে। না, আর দেরি করা চলে না। যে করেই হোক আকাশকে ঢাকাতে নিয়ে
যেতে হবেই। আর সে জন্য টাকা চাই। রানা সাহেব স্কুল থেকে কিছু টাকা ধার চেয়ে দরখাস্ত দিয়েছেন
স্কুলের সেক্রেটারির কাছে। এখনই একবার সেক্রেটারি সাহেবের বাড়িতে যাওয়া দরকার কিন্তু
কতো টাকাই বা স্কুল তাকে ধার দিতে পারবে! একবার ভাবলেন, নিজের একটা কিডনি যদি বিক্রি করে
দেয়া যায় তাহলেতো আকাশকে বাঁচানো সম্ভব। বাড়ির কাউকে না জানালেই হলো..


মাথা নাড়াতে নাড়াতে এদিক-ওদিক হিসাব মিলাতে মিলাতে বাহির উঠানে পা দিতেই
রানা সাহেবের মাথার ওপর ঝুর ঝুর করে শিলকড়ই পাতা ঝরে পড়লো। সাথে সাথে আর
মনের ভেতর যেন বিদ্যুৎ খেলে গেলো। এই তো! এইতো রয়েছে উপায়। মনে পড়লো, মাসখানেক আগে পাশের
গ্রামের করাত কলের মালিক কুদ্দুছ বেপারী তার কাছে এসেছিলো। শিলকড়ই গাছটা সে কিনতে চায়। কুদ্দুছ
বেপারী জানে এই বিশাল আর পুরনো শিলকড়ই গাছ থেকে যে কাঠ আর তক্তা পাওয়া যাবে তার অনেক দাম। এত
বড় আর পুরনো গাছ এই আশপাশের দশখানা গ্রামের মধ্যে নেই।
কিন্তু রানা সাহেব তার কথাকে পাত্তাই দেননি।
তিনি হেসে বলেছিলেন, এই গাছ আমার আব্বাজানের হাতে লাগানো গাছ। সারা গ্রামে এরকম একটা গাছ
নাই। কী চমৎকার ছায়া দেয় এই গাছ। আমিতো আর পাগল হইনি যে এই গাছ বিক্রি করবো।
তবুও কুদ্দুছ বেপারী বলেছিলো, কিন্তু মাস্টার সাব এই গাছতো অনেক পুরনো হয়ে গেছে। একটা কোনো বড়
রকমের ঝড় হলে গাছটা কিন্তু ভেঙে পড়তে পারে। আমি আপনাকে গাছের দাম বারো হাজার টাকা দিচ্ছি, গাছটা আপনি আমাকে দিয়ে দিন!

আকাশ যখন শুনলো তার চিকিৎসার টাকা জোগাড়ের জন্য তার বাবা শিলকড়ই গাছটা বিক্রি করে দিচ্ছেন
তখন তার খুব কষ্ট হলো। কাঁদো কাঁদো হয়ে বললো, আব্বু তুমি যে বলো গাছ আমাদের বন্ধু, তাহলে কেন
তুমি এই গাছটা বিক্রি করে দিচ্ছ? এখন তো কুদ্দুছ চাচার লোকেরা গাছটা কেটে নিয়ে যাবে। আমার
খুব খারাপ লাগবে। দাদীরও ভীষণ দুঃখ হবে। ও গাছটা তো দাদাজান লাগিয়েছিলেন।
আকাশের কথা শুনে দাদী বললেন, আমার সোনা ভাই।গাছ বিক্রির টাকায় যদি তোমাকে চিকিৎসা করে
সুস্থ করে তোলা যায় তাহলে আমার কোন দুঃখ হবে
না। এ গাছটা আমার আদরের হলেও তোমার চেয়ে আদরের আর কোন কিছুই নেই আমার জন্য।
রানা সাহেব বললেন, নিশ্চয়ই গাছ আমাদের প্রিয় বন্ধু। আর বন্ধুর প্রয়োজনে যে নিজেকে উৎসর্গ করতে
পারে সেই হচ্ছে প্রকৃত বন্ধু। তোমার মনে আছে ইংরেজি প্রবাদটা, "A friend in need is a friend indeed". ঐ শিলকড়ই
গাছটাও তোমার সেই রকম বন্ধু। তবে গাছটা কাটতে দেখলে তোমার কষ্ট হবে জেনেই আমি কুদ্দুছ বেপারীকে বলেছি
তোমাকে ঢাকায় নিয়ে যাবার পর যেন সে গাছটা কাটে। এতে, না দেখাতে তোমার কষ্টটাও একটু কম হবে।

ঢাকার বড় ডাক্তার আকাশকে দেখে বললেন, কালই ওকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব
ওর পায়ের হাড়ে একটা ছোটোখাটো অপারেশন করতে হবে। এটা একটা হাড়ের কঠিন অসুখ, যা কমবয়সী ছেলেমেয়েদেরেই বেশি হয়ে থাকে।
যদিও আকাশ খুব সাহসী ছেলে। তবু অপারেশনের কথা
শুনে ভয় পেয়ে গেলো। কাঁদো কাঁদো হয়ে বললো, ডাক্তার আঙ্কেল! আমি কি তাহলে আর নিজে নিজে হাঁটতে পারবো না?
ডাক্তার সাহেব হেসে আকাশের পিঠ চাপড়ে দিয়ে বললেন,
নিশ্চয়ই পারবে। হাঁটতে পারবে, খেলতে পারবে, সব পারবে। তবে প্রথম কয়েক মাস বেশ সাবধানে
চলাফেরা করতে হবে। এই ধরো তিন চার মাস। তার আগে অবশ্য একবার তোমাকে ঢাকায় এসে আমাকে
পা-টা দেখিয়ে যেতে হবে। আকাশের কপালে তবুও চিন্তার রেখা গেলোনা। এসময় বাবার কাছে আকাশ একটা দামি পুতুলের বায়না করলো।

অপারেশনের দেড়সপ্তাহ পর, আকাশ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলো। বাসে করে যেতে আকাশের কষ্ট হবে বলে
মেজমামা তাঁর একজন বন্ধুর কাছ থেকে গাড়ি জোগাড় করেছেন। আকাশদের সাথে মেজমামাও
যাবেন। আর যাবে লিজা। এ যাত্রায় আকাশের পায়ের অসুবিধার জন্য ঢাকায় কিছুই বেড়ানো হয়নি। দেখা
হয়নি কোন কিছুই। তবে তিন চার মাস পরে যখন আকাশ আবার ঢাকায় আসবে, তখন মেজমামা তাকে আর লিজাকে নিয়ে অনেক বেড়াবেন। চিড়িয়াখানা,
বাচ্চাদের জন্য ফ্যান্টাসি পার্ক এই সব দেখাবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
খুব সকালে আকাশ'রা ঢাকা থেকে মাত্রা করেছে।
শহরের মধ্যে পথের দু’পাশে সব বড় বড় দালান। শহর ছাড়িয়ে যেতেই দু’পাশে বড় বড় সব আম, জাম, শিশু, বট
আর অশ্বত্থ গাছ। সারি সারি বাবলা গাছের ঝিরি-ঝিরি পাতার ফাঁকে গোলগোল তুলোর মত ফুল।
আকাশের তাদের বাড়ির শিলকড়ই গাছটার কথা মনে পড়ে মন খারাপ হয়ে গেলো। নিশ্চয়ই ওদের বাড়ির সামনের
সেই ছায়াঢাকা জায়গাটা এখন ধু-ধু হয়ে গেছে। হঠাৎ মেজমামা বললেন, আকাশ! লিজা! দেখো, এইবার
আমরা আরিচা ঘাটের কাছাকাছি এসে গিয়েছি। ভালো করে দেখো।

আকাশ আর লিজা খুব উৎসাহে গাড়ির জানালার বাইরে চেয়ে রইলো। ঢাকায় যাবার সময় আকাশ জ্বর আর পায়ের
ব্যথায় এতই কাতর ছিলো সে কোথা দিয়ে আরিচা ঘাট আর কোথা দিয়ে ফেরী
পার হয় বুঝতেই পারেনি। লিজাও কখনও আরিচা ঘাট
দেখেনি। তার খুব আনন্দ হচ্ছে নদী আর ফেরী পারাপার দেখে। আকাশরা বাড়িতে পৌঁছবার সাথে সাথে
আকাশের মা আর দাদী ছুটে এলেন। সুরভী এলো লাফাতে লাফাতে। বাইরের বারান্দায় পেতে রাখা
চেয়ারটাতে আকাশকে বসিয়ে দিলেন বাবা। আকাশ দেখলো বাড়ির সামনের জায়গাটা একবোরে ফাঁকা।
মেজমামা গাড়ির ভেতর থেকে সব জিনিসপত্র বের করছেন। আকাশের বাবা গাড়ির পেছনের ডালাটা
একটুখানি তুলে ধরে বললেন, এবার আমি আকাশের কয়েকজন বন্ধুকে বের করছি।

"বন্ধু! তাও আবার গাড়ির পেছনে বন্ধু!" সবাই যেন চমকে গেলো।
আকাশের বাবা গাড়ির ডালাটা তুলে একে একে চারটে গাছের চারা বের করলেন। তিনি বললেন, গতকাল আমি
ঢাকার নার্সারি থেকে এই গাছের চারাগুলো কিনে এনেছি। এইটা হচ্ছে মেহগিনি, এই দুটো সেগুন।
আর এই যে দেখছো ঝিরিঝিরি পাতা এটা হচ্ছে কৃষ্ণচূড়া ফুলের গাছ।
ছোট্ট সুরভী চোখ গোলগোল করে বললো,
মাগো! এতো গাছ!
এতো গাছ আমরা কোথায় লাগাবো আব্বু?
বাবা বললেন, আমি ঠিক করেছি মেহগিনি গাছটা বাড়ির ডানপাশে লাগাবো, সেগুন দুটো বাড়ির পেছনে।
আর কৃষ্ণচূড়াটা বাড়ির একদম সামনে। যেখানটায় এখন ফাঁকা হয়ে রয়েছে। দু’তিন বছরের মধ্যেই দেখবে
বৈশাখ মাসে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটে বাড়িটা আলো হয়ে যাবে।
তখন লোকে বলবে, ঐ যে লাল ফুলে ভরা গাছটা যে বাড়ির সামনে ওটাই আকাশদের বাড়ি।
একটা গাছের বদলে চারটে গাছ! একজন বন্ধুর বদলে চারজন বন্ধু। আনন্দে বিস্ময়ে আকাশের মুখে কোন কথা
এলোনা। তার কেন যেন কেবলই কান্না পেতে লাগলো!

"বিশ্বস্ত বন্ধু হচ্ছে প্রাণরক্ষাকারী ছায়ার মতো। যে তা খুঁজে পেলো, সে একটি গুপ্তধন পেলো।"–নিটসে
উক্তিটার কথা মনে করে আকাশ বিড়বিড়িয়ে বললো, তার মানে আমি এতদিন গুপ্তধন পেয়েছিলাম !!

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement