শোনরে তার, কদিন আগে মা দুনিয়াকে দেয় ছুটি।
সকাল দুপুর খেতো না খানা রাত্রে খেতো এক রুটি।
মায় যদি আনতে বলে কিছু, রেগে যেতো বাবা।
বেধম মারা মারতো মাকে চড় ঘুসি লাথি থাবা।

কোন জিনিস কিনে বাবা আনতো না যে বাড়ি।
লুঙ্গি বানিয়ে পরাতো মোদের, ছিঁড়ে মায়ের শাড়ি।
শত যন্ত্রণার এই পাহাড় ভেঙে মা যে গেল মরে,
কিছু দিন পর নতুন মাকে আনলো বাবা ঘরে।

আমরা, মা বলে ডাকলে মাকে করতো শুধু রাগ,
রাতে শুইতে গেলে বলতো বিছানা থেকে ভাগ।
আমরা দুই ভাই শীতে কাঁপি করেনি তবু আদর,
দেয়নি গায়ে শীতের জাম্পার মায়ের ছেঁড়া চাঁদর।

বছর দেড়েক পরে মায়ের কোলে আরেক ভাই এলো।
আমাদের পাতে দেয় না ভাত, দেয় যে দুরে ঠেলে।
দাদু, দাদু, মা আমাদের খালি বিনা দোষে মারে,
আমাদের মারলে তুই কিছু বলিসনে কেন তরে?

দাদু বলে, পুড়া কপাল নিয়ে বল যাব কার কাছে,
তোর বাবা মা তো আমারেও মারতে পারলে বাঁচে।
হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে দেখি ভাই নেই বিছানাতে,
ছোট ভাইকে হয়তো মেরে ফেলেছে মা সেই রাতে।

কোথায় ভাইকে রেখেছে মা পাইনি ভাইয়ের খোঁজ,
ভাইয়ের কথা বললে মা কে, মারে আমায় রোজ।
হয়তো শিয়াল কুকুর খেয়েছে পাইনি ভাইয়ের খবর,
নয়তো, এক হাত মাটি চাপাই হয়েছে ভাইয়ের কবর।

শুনলি আকাশ শুনলি তারা আমার জীবনের ঠিকানা,
মায়ের মত আসবো আমি, আমার জায়গা দিবি কিনা?
শুধু আমার বাবা মা নয়, পৃথিবীও আজ আমার বৈরি,
ভাইয়ের সাথে মায়ের কাছে যেতে আমিও আছি তৈরি।

(ঘটনা অনুসারে রচিত)