লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২১ নভেম্বর ১৯৯০
গল্প/কবিতা: ৭টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - ফাল্গুন (ফেব্রুয়ারী ২০১৬)

ভালোবাসা
ফাল্গুন

সংখ্যা

মোট ভোট

মোহাম্মদ আলম

comment ৩  favorite ০  import_contacts ৮২৮
সুমন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র থাকার সময় পরিচয় হয় অনামিকার সাথে। এই পরিচয় প্রেমে রূপ নেই খুব অল্প সময়ের মধ্যেই। সুমনের ইচ্ছা হলো পড়ালেখা শেষ করে চাকুরিতে জয়েন করে অনামিকাকে বিয়ে করে নিয়ে আসার।


সুমন মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় সন্তান। সুমনের আরো ২ ভাই আছে যারা ক্লাস ৫ ও ৩ তে পড়ে। অনামিকাও বাসার বড় সন্তান। অনামিকার ছোট একটি বোন আছে ও ১০ম শ্রেনীর শিক্ষাথী। অনামিকাদের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিলো না। অনামিকার বাবা নেই , মা কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছে। অনামিকার স্বপ্ন পড়ালেখা শেষ করে বড় চাকুরী করে নিজেদের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানো।


অনামিকা ও সুমনের সময় ভালই কাটছিলো। অনার্স ও প্রায় শেষ পর্যায়ে দুইজনেই স্বপ্ন দেখে একটা সুন্দর সুখের সংসারের। হঠাত করেই অনামিকার মা মারা যায়। মা মারা যাওয়ায় ঘরের সমস্ত দায়িত্ব এসে পড়ে অনামিকার কাধে। অনামিকা চেস্টা করতে থাকে একটা চাকুরী যোগার করার জন্য। অনামিকা যখন চাকুরী খুঁজে পাচ্ছে না তখন অনামিকার বাসায় আসে অর এক দূরসম্পর্কের চাচা। উনি অনামিকাকে চাকুরী পায়ে দিবে বলে কিন্তু চাকুরীর জন্য অনামিকাকে গাজীপুর যেতে হবে।


সুমনকে চাকুরীর কথা বলে অনামিকা। সুমন গাজীপুর যাওয়ার সিদ্ধান্তে অসম্মতি জানায় বলে কিছুদিন অপেক্ষা কর আমি দেখি কিছু করা যায় কি না। অনামিকা সংসারের কথা ভেবে চাচার প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়। বোনকে আরেক পরিচিত এক খালার বাসায় রেখে যায় অনামিকা।


অনামিকা অর দুরসম্পর্কের চাচার সাথে গেছে ১ মাস হতে চললো কিন্তু অনামিকার কোনো খোজ নেই। অনামিকার কোনো খবর না পেয়ে সুমন যায় অনামিকার খালার বাসায় উনারা কোনো খোজ জানে কি না জানার জন্য। অনামিকার খালা জানায় উনিও কিছু জানেনা। সুমন চিন্তায় পরে যায় সব জায়গায় খোজ খবর করতে থাকে কিন্তু অনামিকার কোনো খোজ সে পায় না। দিন যায়, মাস যায় অনামিকার খবর না পেয়ে ভেঙ্গে পড়তে থাকে সুমন। সুমন পুলিশের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। সুমনের এক পরিচিত মামা পুলিশের এস আই। সুমন অর মামার কাছে যায় আর ঘটনা খুলে বলে। সুমনের মামার পরামর্শে একটা জিডি করে সুমন।



অনামিকা অর চাচার সাথে গেছে ১ বছরের ও বেশি সময় হয়ে গেছে এই সময়ের মধ্যে কারো সাথে যোগাযোগ হয়নি অনামিকার। সুমন বিভিন্ন ভাবে চেস্টা করতে থাকে অনামিকাকে খুঁজে বের করার। বন্ধুরা ও সুমনের পরিচিতজনরা সুমনকে অনামিকার আশা ছেড়ে দিতে বলে। বছরের পর বছর অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকে সুমন। সুমনের নিজের উপর আক্ষেপ হতে থাকে কেনো যে ও অনামিকার জন্য কিছু করতে পারলো না। সুমনের মনে হয় আজ অর নিজের জন্য অনামিকা হারিয়ে গেছে।



অনামিকাকে খুঁজে বের করার জন্য সবধরনের চেষ্টাই করে সুমন। পুলিশ , হাসপাতাল , পতিতা পল্লী থেকে শুরু করে এমন কোনো জায়গা নেই যে যেখানে সুমন যায় নি তবুও একটু খবর ও পায়নি সুমন। প্রায় ৬ বছর পড়ে সুমন ওর এক বন্ধু যে একটা বেসরকারী এনজিও তে চাকুরী করে তার মাধ্যমে জানতে পারে ভারতের পতিতা পল্লী থেকে কিছু মেয়ে উদ্ধার করা মেয়েদের মধ্যে একজনকে দেখতে অনামিকার মতো।


সুমন উদ্ধার হওয়া মেয়েদের দেখতে যায় সেখানে গিয়ে দেখে তার মধ্যে অনামিকাকে। সুমনকে দেখে অনামিকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। সুমন সকল আইনি কার্যকরণ শেষ করে অনামিকাকে নিয়ে আসে। অনামিকাকে সুমন নিজের বাসায় নিয়ে আসে কিন্তু সুমনের বাবা - মা অনামিকাকে গ্রহণে সম্মত হয়না। সুমন বাবা - মাকে অনেক বুঝানোর চেস্টা করে ও বুঝতে পারেনা। অনামিকা সুমনকে বুঝিয়ে বলে অর বাবা-মার সাথে থেকে যাওয়ার জন্য।


বাবা -মাকে বুঝতে ব্যর্থ হয়ে অনামিকার হাত ধরে চলে যায়। সুমন কোনো মূল্যেই অনামিকাকে হারাতে চায় না তাই হাজার অনিশ্চয়তা ও সমাজের চোখ রাঙ্গানি উপেক্ষা করে অনামিকাকে নিয়ে পারি দেয় অজানার উদ্দেশে।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement