লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১০ নভেম্বর ১৯৯৫
গল্প/কবিতা: ৫টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবৈশাখ (এপ্রিল ২০১৫)

গল্পটা চল্লিশ বসন্ত আগের
বৈশাখ

সংখ্যা

মুহম্মদ ফজলুল করিম

comment ১  favorite ০  import_contacts ৩১৮
যথারীতি আরেকটা সকাল। রফিক সাহেবের নিরুত্তাপ জীবনে , একেকটা একঘেয়ে সকাল আসে , দীর্ঘশ্বাসকে বাড়ানোর জন্যে। ছেলেটা চাকরি করে। সকাল হলেই টাইয়ের নট ঠিক করতে করতে ব্যস্তসমস্ত হয়ে একসাথে নাস্তা করে। মেয়েটার বিয়ে অনেক আগেই হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে মেয়েকে দেখতে যান , বনানীতে। জামাই মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করে। মেয়েটা সুখেই আছে। ছেলের জন্যে মেয়ে দেখা হচ্ছে। বিয়েটা দিয়ে দেয়া দরকার। বয়সতো অনেক হল , আর কত। সবকিছু শেষ করে যেতে হবে। পারভীন বছর দুয়েক আগে দুই ছেলে মেয়েকে রেখে , একাই চলে গিয়েছে। ফুসফুসের ক্যান্সার ছিল। শেষ বয়সে অনেক কষ্ট পেয়ে মরেছে , বেচারি। ডাক্তার সাহেব যখন বলছিলো , “পরিস্থিতি আসলেই খারাপ , উনার বাঁচার সম্ভাবনা কম!” তখন রফিক সাহেব , বোকার মত হুট করে বলে উঠেছিল , “ডাক্তার সাহেব , ফুসফুস অদল-বদল করা যায় না। ইয়ে মানে , ধরেন আমার ফুসফুস ... !” এই বলেই চুপ মেরে গেলেন। আর কথা বাড়াননি , কারণ ডাক্তার রীতিমত উন্মাদ দেখা দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে। এই দৃষ্টি রফিক সাহেব চিনে। ছোটবেলায় গ্রামের জাফইরগা পাগলার যখন পাগলামি শুরু হত , তখন মানুষজন এই ভঙ্গিমায় তাকাতো।

প্রতিদিন সকালবেলা রফিক সাহেব হাঁটতে বের হন। ছেলে অফিসের দিকে যায় , আর উনি পার্কের দিকে। রমনা পার্কের কাছেই বাসা। তাই হেঁটে হেঁটে যাওয়াটা আসলে বড় কোন সমস্যা না। অনেক বন্ধু-বান্ধবও জুটে গিয়েছে। সবার বয়স ষাট পার। হাঁটাহাঁটির চেয়ে গল্পের দিকেই ঝোঁক বেশি তাঁদের। তাই, রফিক সাহেব মোটামুটি এদের এড়িয়ে চলেন। তিনি নিজে ধীরে সুস্থে হাঁটা-চলা করেন। চা - সিগারেট খান। ঘণ্টা দুই থেকে আবার বাড়ি ফিরে আসেন। আজকে বেরিয়েই টের পেলেন , আজকে হাঁটা সম্ভব না। আসলেই সম্ভব না। আজকে পহেলা বৈশাখ। মনেই ছিল না। বয়স হতে হতে ইদানীং গোল্ড ফিসের মেমরি হচ্ছে। কিচ্ছু মনে থাকে না। উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়ে থেকে শুরু করে মধ্যবয়সের দম্পতিরাও সারা ঢাকা শহর জুড়ে। মিছিল-টিছিলতো আছেই। এই বয়সে এগুলো আর সত্যি সত্যি ভাল লাগে না। যখন বয়স কম ছিল , তখন উৎসাহের কমতি ছিল না। ঢাকা ভার্সিটির ছাত্র তখন। বন্ধুবান্ধবের সাথে কত আড্ডা দিয়েছেন। রমনাতে কতবার এসেছেন। তাও , যেহেতু একেবারেই এসে পড়েছেন , কি আর করা একটু ঘুরে ফিরেই ফিরে যাওয়া যাক। পার্কে এতদিন উনাদের মত বয়সী মানুষদের রাজত্ব ছিল , সকাল বেলার এই সময়টাতে। আজকের দিনে উনিই সবচেয়ে বড় আগুন্তুক। গান হচ্ছে বটমূলে। উনি ঐদিকে গেলেন না , ইতিউতি ঘুরে বেড়াতে লাগলেন।


আচ্ছা , এই আমগাছটা খুব চেনা চেনা মনে হচ্ছে। পার্কের কোণার দিকের একটা পুরনো গাছ। কি কারণে যেন খুব চেনা চেনা মনে হচ্ছে। পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করলেন। ঈশ , দেয়াশলাইতো আনা হয়নি। যাহ , দিন দিন কি যে হচ্ছে। বয়স তো মাত্র ৬৪ হল। এর মধ্যেই যদি এরকম হয় , সামনে যে কি হবে ভেবেই পাচ্ছেন না। নাহ , গাছটা আসলেই খুব চেনাচেনা লাগছে। বড়সড় গাছ। বয়স যে অনেক হবে , এটা আন্দাজ করা সহজ। আস্তে আস্তে মনে হতে লাগলো , আচ্ছা ছাত্র বয়সে যখন রমনায় এসেছিলাম , তখন হয়ত এ জায়গায় এসেছিলেন। তখন এরকম লক্ষ লক্ষ মানুষ ছিল না। বৈশাখের প্রথম আঁচ অনুভব করা যেত। এখন , বৈশাখের আঁচ অনুভব করবে কি , ঘাড়ের উপর গাদাগাদি করে মানুষের নিঃশ্বাসের আঁচ অনুভব করতে করতেই দিন শেষ। দার্শনিক ভাবনা ভাবতে ভাবতে এক দার্শনিকের একটা কথা মনে পড়ে গেল ।কথাটা এরকম , “যত কাছে থেকে দেখবে , ততই কম দেখবে।” কোথায় পড়েছেন মনে নেই। এইবার ভাবলেন , আচ্ছা দেখি তো গাছটার কথা মনে করা যায় কিনা। দূরের থেকে কিভাবে দেখা যায়। আচ্ছা , অন্য জিনিস ভাবলেই তো দূর থেকে দেখা যায়। কি ভাবা যায় ? হু , মনে পড়েছে। উনার মেয়ের কথা ভাবা যেতে পারে। মেয়ে হয়ত স্বামীর সাথে বটমূলে আসতে পারে গান শোনার জন্যে। মেয়েটার পছন্দ নীল রঙের শাড়ি। জামাইয়ের হাত ধরে বটমূলের আশেপাশেই তো দেখতে পাওয়ার কথা। তিনি এদিক ওদিক তাকাতে লাগলেন।

এরপর যেটা হল , সেটা অবিশ্বাস্য। না তিনি মেয়েকে দেখেন নি। তাঁর আম গাছের কথাটা মনে পড়ে গেল। আজকে থেকে চল্লিশ বছর আগের ঘটনা। এখন যেভাবে পরিষ্কার মনে পড়ে গেল সেটা অবিশ্বাস্য। সেদিনও ছিল পহেলা বৈশাখ। ঢাকা ভার্সিটির বাংলা বিভাগের ছাত্র ছিলেন তিনি। ক্লাসের সবাই মিলে দল বেঁধে রমনার বটমূলে এসেছিলেন। গান হবে , সবাই শুনবে। রফিক সাহেবও সেসময়ে একই দলে মধ্যে। সবাই গোল হয়ে বসেছিল। এতো লাখ লাখ মানুষ না। সংখ্যা মোটের উপর হাজারে। ক্লাসের মেয়েরা সবাই বাসন্তী রঙের শাড়ি পড়ে এসেছিল। একমাত্র রেবেকারই বাসন্তী রঙের শাড়ি নেই। পছন্দের নীল শাড়িটা পরে এসেছে। রফিক সাহেবের অভ্যাস ছিল , সবার সাথে ঠাট্টা মশকরা করা। রেবেকাকেও তখন থেকে খোঁচাতেই লাগলেন , “আরে তোর শাড়ি নেই , বললে তো আমরাই চাঁদা তুলে কিনে দিতাম। কেউ না দিলে , যাহ , আমিই দিয়ে দিতাম।” সেসময় অনেক প্রাণোচ্ছল ছিলেন। ৩৫ বছরে হাই-স্কুলের হেড মাস্টার হয়ে সব প্রাণোচ্ছলতা সস্তাদরে বিকিয়ে দিয়েছেন। এখন সব শেষ , চুপচাপ জীবন পার করেন। রেবেকাও অনেক ঠাট্টা মশকরা করতো। কিন্তু , সেদিন রেবেকা কিছুই বললেন না। ঐদিন কোন এক অদ্ভুত কারণে চুপ করেছিলেন।

বটমূলে গান হচ্ছে। রফিক সাহেব পিছন দিকেই বসেছে। রেবেকা একদম গিয়ে সামনের দিকে। হঠাৎ করে দেখা গেলো , রেবেকা উঠে সামনের থেকে পিছনে আসছে। অনুষ্ঠান ছেড়ে উঠে যাওয়া দেখে , রফিক সাহেব দূর থেকে হাত দেখিয়ে ইঙ্গিত করলেন , “ কই যাস?” রেবেকা উত্তর না দিয়েই সবার ফাঁক-ফোকর দিয়ে আসর থেকে বেরিয়ে যেতে থাকে। রফিক সাহেবও ভাবলেন , ব্যাপারটা দেখে আসা দরকার। রেবেকা তাঁর ভাল ক্লাসমেট। নিয়মিত রফিক সাহেবের কাছ থেকে নোট নিয়ে যান। রফিক সাহেব নিজেই ভাল ছাত্র না , উল্টো তাঁর কাছে থেকে নোট নেয়া দেখে তিনিই অবাক হন। রেবেকা সবসময় , রফিক সাহেবের কাছ থেকে যেকোনো বিষয়ে পরামর্শ নিবেই নিবে। আল বন্ধু হিসেবে , রফিক সাহেব রেবেকাকে দেখে আসাটাই দায়িত্ব মনে করলেন।


রেবেকা হাঁটছে তো হাঁটছেই। রফিক সাহেবও পিছন থেকে ডাকছেন , “এই থাম , থাম... কি হয়েছে বলবি তো।” রেবেকা থামেই না। অবশেষে রফিক সাহেব দৌড়ে গিয়ে ধরলেন বললেন , “বয়, আম গাছটার নিচে বোস। তোর কি হয়েছে, শুনি?” রেবেকা হু হু করে কেঁদে উঠলেন। কিছুক্ষণ পরে ফট করে রফিক সাহেবের হাত ধরে মরিয়া হয়ে বলে বসলেন , “আমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে!” রফিক সাহেব বিদ্যুৎ গতিতে হাত ছুটিয়ে নিলেন , “আরে বোকা মেয়ে , হাত ধরে বসে আছিস কেন? মানুষ জন দেখলে কি ভাববে। বিয়ে ঠিক হয়ে গেলে বিয়ে করবি। এতো বয়স হয়ে গেলো , বিয়ে করবি না তো কি করবি?” রেবেকা চুপ করে বসে রইল। রফিক সাহেব ভাবলেন কড়া ব্যবহার হয়ে গেছে হয়ত। একটু নরম সুরে বলতে হবে। তিনি বললেন , “আচ্ছা , তুই বিয়ে না করে করবি কি ?” রেবেকা এবারো চুপ করে থাকল। রফিক সাহেব ভাবল পরিস্থিতিটা হালকা করা দরকার। পরিস্থিতি হালকা করা জন্যে বললেন , “আচ্ছা তুই আজকে নীল শাড়ি পড়ে এসেছিস দেখে , আমি তোকে খালি খেপাচ্ছি। আসলে , নীল শাড়িতে তোকে না অসম্ভব মানিয়েছে।” রেবেকা এবারও হু হু করে কেঁদে উঠলো। রফিক সাহেব এবার দেখলেন , নাহ এ আজকে মন খারাপ মুড নিয়ে বের হয়েছে। এর মন ভাল করার কোন উপায়ই নেই। তাই ঠাট্টা করে বললেন , “আচ্ছা যা , তোর বিয়েতে আমি একটা বাসন্তী শাড়িই উপহার দিবো , এইবার খুশি তো।” রেবেকা এইবার যেটা করলো , সেটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। কাঁদতে কাঁদতে এক দৌড়ে উঠে গেলো। রফিক সাহেব বোকার মত পিছন থেকে দেখলেন। আশ্চর্য ব্যাপার , কি হল কিছুই বুঝলেন না।

এর পর থেকে আর ভার্সিটিতে আসেনি , রেবেকা। বিয়ে হয়ে গেছে। সবাই বিয়ের দাওয়াতের কার্ড পেয়েছে , একমাত্র রফিক সাহেব বাদে। এই হচ্ছে , আম গাছের বৃত্তান্ত। রফিক সাহেবের গোল্ড ফিস মেমরিতে এই জিনিস কিভাবে মনে পড়ে গেল , সেটাই বিস্ময়ের ব্যাপার। মনে মনে চিন্তা করতে লাগলেন। আচ্ছা , রেবেকা এরকম করেছিল কেন? রফিক সাহেবও তো দুই বছর পরে মহানন্দে বিয়ে করেছেন। কোন সমস্যা হয়নিতো। রেবেকা এরকম করেছিল কেন। রেবেকা এখন কোথায় থাকে। বিয়ে তো হয়েছিল , ঢাকাতেই। এতদিন খোঁজ নেয়া হয়নি। একবার নেয়া দরকার। খুব জানতে ইচ্ছা করছে , রেবেকা ঐরকম করেছিল কেন। জানার ইচ্ছাটা হত না। ইচ্ছাটা হয়েছে কাকতালীয় ভাবে। কারণ , আম গাছটার নিচে নীল শাড়ি পরা একটা মেয়ে আর একটা সাদা পাঞ্জাবি পরা ছেলে হাত ধরে বসে আছে। দৃশ্যটা দেখতে অনেকটা ৪০ বছর আগের দৃশ্যের মতই লাগছে , কেন জানি ? তাহলে কি ... ?

রফিক সাহেব পকেট থেকে ফোন বের করলেন। নুরুলকে একটা ফোন দেয়া দরকার। নুরুল ওদের সাথেই পড়ত। এখন বিরাট শিল্পপতি। দুইদিন আগে ও কল করেছিল , ও নাকি সেই সময়ের বাংলা বিভাগের সবাইকে নিয়ে রি-ইউনিয়ন করবে। সামনের মাসের এক তারিখে। উনাকেও কল দিয়েছিল। তাহলে হয়তবা রেবেকার খোঁজও পাওয়া যেতে পারে নুরুলের কাছে থেকে। সেই আশায় কল দেয়া। প্রথমে পি.এস ধরল , এরপর নুরুল সাহেব। নুরুল বাচাল প্রকৃতির ছেলে ছিল। এখনো আছে। অনেক কথা বলার পর , অবশেষে রেবেকার ঠিকানা দিলেন। রফিক সাহেবের আন্দাজ ঠিকই আছে। রেবেকা এখনো ঢাকাতেই থাকে এবং খুব দূরে না। এখান থেকে মাত্র ১০ টাকা বাস ভাড়া।


বিলাসবহুল বাড়ি। চারতলার ফ্ল্যাটে থাকে রেবেকা। সম্ভবত এটা নিজেদের বাড়ি। বাসার সামনে লেখা আছে , “রেবেকা লজ”। দরজায় নক করলেন রফিক সাহেব। কাজের মেয়ে দরজা খুলে দিল।
“কাকে চান?”
“এটা কি রেবেকাদের বাসা? আমার নাম রফিক।”
ভিতর থেকে বৃদ্ধ মহিলার কণ্ঠ আসলো , “কে এসেছেরে , ফরিদা?” বলতে বলতে দরজার কাছে এসেই রীতিমত রফিক সাহেবকে দেখে শক খেলেন। কোনমতে বললেন , “তুমি?”
“হ্যাঁ রেবেকা , আমি রফিক।”
“এসো , বসো।” রফিক সাহেব ভিতরে ঢুকলেন। আভিজাত্যের ছোঁয়া ঘর জুড়ে। রেবেকার দীর্ঘ চুলে পাক ধরে গেছে। সোফা সেটের পাশে পানের বাটা রাখা। রেবেকা স্তম্ভিত হয়ে বসে আছে সোফায়। কিছুক্ষণ পরে ঘোর কাটলো। দুজন দুজনের খোঁজ খবর নিলেন। রেবেকার স্বামী বছর পাঁচেক আগেই মারা গিয়েছেন। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। এখন ছেলের সাথে থাকেন। পহেলা বৈশাখ দেখে , ছেলে ছেলের বউ নিয়ে রমনায় বেড়াতে গিয়েছে। বাসায় একা। রফিক সাহেব ভণিতা না করে সোজাসুজি জানালেন , “আমি সেদিনের কথা জানতে এসেছি , সেদিন তুমি এরকম করেছিলে কেন?”
“কারণ আমি ভেবেছিলাম। তুমি বুঝবে আমি কি বলতে চেয়েছিলাম। মেয়েরা মুখ ফুটে সব বলতে পারে না। আমিও পারিনি ?”
“কি বলতে পারোনি?”
“যেটা সেদিন বলতে পারি নি , সেটা আজও বলতে পারবো না। অনেক অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। তুমি এতোটা বোকা কি এখনো আছো?”
রফিক সাহেব চুপ করে বসে রইলেন ঠিক চল্লিশ বছর আগে যেভাবে রেবেকা বসে ছিলো। যা বোঝার বুঝে গিয়েছেন। অনেক আগেই বোঝা উচিত ছিল তাঁর। অন্তত জীবনের চল্লিশটা বসন্ত আগে। বিড়বিড় করে আনমনে বললেন , “আমি আসলেই খুব বোকা , রেবেকা।”

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement