লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ ডিসেম্বর ১৯৮২
গল্প/কবিতা: ১১টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftআমার বাবা (জুন ২০১৫)

আমার বাবা
আমার বাবা

সংখ্যা

মুহাম্মাদ হেমায়েত হাসান

comment ১  favorite ০  import_contacts ৩৯১


আজ এই মনমমুগ্ধকর আয়োজনের এই র্পযায়ে আপনাদের জন্য কবিতা আবৃত্তি করতে আসছে কাজী ফরিদ উদ্দনি।
ঘোষণার সাথে সাথে চারদিক থেকে দুয়ো আওয়াজ উঠতে থাকে। হল ঘরের এক পাশ থেকে বলতে থাকে ফকির উদ্দনি গ্রামে যা, তোর কবিতা শুনব না।
কলেজ ফাংশনে এতোক্ষণ গান, নাচ, কৌতুক অনেক কিছুই হয়েছে। সবাই উপভোগ করেছে। কন্তিু এবার কবিতা তাও আবার ফরিদ উদ্দনি এর কবিতা। তাইতো সবাই এমন হৈ চৈ শুরুæ করেছে।
ফরিদ গ্রাম থেকে এসে এবার ঢাকার এই কলেজে ভতর্ িহয়েছে। তাই চাল-চলনের কারণে সবাই তাকে গয়েো বলে ডাকে। কেউ খুব একটা তার সাথে মিশেনা। তাতে আবশ্য সে কিছুই মনে করেনা। কন্তিু আজ কেও এ রকম হবে সে বুঝতে পারেনাই।
হঠাৎ একজন বলে উঠলো এই বাঙ্গালরে নামা।
ফরিদ নিজের ভিতর কিছু একটা অনুভব করলো। সে আনমনে বলতে লাগলো।
- কাজী নজরুল ইসলাম এর নামে নাম ছিল তার। মাথা ভরাছিল ঝাকড়া চুলও । কন্তিু বয়স খুব বেশি হয়নি। এর মধ্যে তার বাবা ধরে বিয়ে করিয়ে দিলেন।
চারিপাশ থেকে আবার হৈ চৈ শুরু হয়। এটা কেমন কবিতা? নামা ওরে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে পাঠা।
ফরিদ কোন দিকে কান না দিয়ে আনমনে বলতে থাকে।
- কাজী নজরুলের মতই এই নজরুলেরও আর বেশি লেখা পাড়া হয়না। সে সংসারে মনযোগ দেয়। বাজারে বড় কাপড়ের দোকান। বেশ ভালই চালায় সে তাই তার বাবা তার কাধে ব্যবসা বুঝিয়ে দেন। সব কিছু ভালই চলে। কন্তিু হঠাৎ দেশ জুরে শুরু হয় গন্ডগোল। দেশ নাকি ভাগ হবে। পাকিস্তান নাকি আর এক সাথে থাকবে না বাঙ্গালরিা তাদের আলাদা দেশ চায়। (হৈ চৈ এতোক্ষণে কমে আসে সবাই মন্ত্রমুগ্ধর মত শুনতে থাকে ফরিদের কথা)। নজরুলের বাবা খুব অসুস্থ নজরুল ইসলামকে ডেকে বলে বাবারে খুব সাবধান। দেশে বড় কোন ঘটনা ঘটতাছে। বউ মা আর দাদা ভাই এর দিকে খেয়াল রাইখো। আমি মনে হয় আর বাচুমনা। নজরুল ইসলাম তার বাবাকে শান্ত থাকতে বলে। কন্তিু নজরুল ইসলামের বাবা দুইদিনের বেশি আর টিকে নাই। এদিকে তার বউ আমেনা বেগম আবার পোয়াতি। এ সপ্তাহইে কিছু একটা হবে। ছেলে টা খুব খুসি সারাদিন আমেনা বেগমের সাথে সাথে থাকে। স্কুলওে যায় না। পিছনে জংলা পুকুরে গিয়া শাপলা তুইলা এনে মায়ের হাতে দেয়। মা রাগ করে তোমারে না বলছি, ঐ পুকুরে সাপ আছে কেন গেছিলা। ভাই এর জন্য শাপলা আনতে। মা রে জড়াইয়া ধইরা জজ্ঞিাসা করে মা আমার ভাই কবে আসবো।
- মা হাঁসে। তুমি কেমনে জানো তোমার ভাই হইবে?
- ছেলে বলে আমার সাথে কথা কয়তো!
- মা বলে কি কথা?
- ছেলে বলে আমারে বলে ভাই কেমন আছো? তুমি সারাদিন আমার কাছাকাছি থাইকো। আমরা দুই ভাই খেলা করমু।
- মা বলে তাই?
এদিকে আমেনা বেগমের ব্যাথা উঠে। নজরুল ইসামের ঘরে আবারো ছেলে হয়। বড় ছেলে ফখ্রুদ্দনি সারা বাড়ি দৌড়ায় আর বলে আমি বলছিলাম না আমার ভাই হইছে।




এদিকে দিন যত যায় দেশের অবস্থা তত খারাপ হতে থাকে। নজরুল ইসলামও চায় দেশটা ¯^াধীন (সাধীন) হোক। আমাগো নিজেগো একটা দেশ হোক যেখানে আমাদের ভাষাতে মন খুইলা কথা কইতে পারুম। তাই গোপনে সে ¯^ধীনতার পক্ষে কারা কারা আছে তা জানার চেষ্টা করে। মোটামুটি দশ পনের জনের একটা দল সে তৈরী কইরা ফেলে। ১৯৭১ এর ৭ মার্চ এর ভাষণের পর সব কিছ্ইু পরিস্কার হইয়া যায়। নজরুল ইসলামের বাড়িতে রাতে গোপন মিটিং চলে। তারা মুক্তযিুদ্ধে যাবার জন্য পস্তুতি নেয়। কন্তিু নজরুল ইসলাম বলে তোমরা এখন চইলা যাও আমি ছোট বাচ্চা বউ ওগরে রাইখা এখন আসতে পারমুনা। আর এদিকেও খোজ খবর রাখতে হইবো। সবাই সম্মত হয়ে চইলা যায়।
বড় বাবারে বলে বাবা মুক্তযিুদ্ধ কি?
বাবা কিছু বলে না শুধু আপন মনে বলে মুক্তযিুদ্ধ।

হঠাৎ রাতের আধারে নজরুল ইসলাম গাড়ি থামার শব্দ পায়। নজরুল ইসলাম তার বউকে ডাক দেয়। বউ উঠে বলে কি হইছে। নজরুল ইসলাম বলে। তুমি ছেলে দের নিয়া পিছন দরজার কাছে যাও আমি দেখতাছি কি হইছে। এর মধ্যে দরজারতে কড়া নাড়ার শব্দ হয়। নজরুল ইসলাম বলে তাড়াতাড়ি কর। আমেনা বেগম বলে আপনি যাইয়েন না আমি দেখতাছি। আপনি ছেলেদের লইয়া পিছনের দরজা দিয়া বাইর হন। নজরুল ইসলাম আর তর্ক করেনা। সে পিছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে যায় আমেনা বেগম পিছনের দরজা লাগিয়ে দয়ে। সামনের দরজার কাছে এসে দাড়ায়। আবার কড়া নাড়ার শব্দ হয়। আমেনা বেগম জিজ্ঞাসা করে
- আপনেরা কারা এতো রাইতে কি চান?
- বাহির হতে শব্দ আসে ভাবীসাব দরজা খুলেন আমি আজমত।
- আপনার ভাইতো বাড়িত নাই।
- অসুবিধা নাই খুলেন জরুরী কথা আছে।
আমেনা দরজা খুলে দেয়। আজমত ঘরে ঢুকে। তার পিছন পিছন বন্দুক হাতে পাকসেনারা ঢুকে। সারা ঘর তন্ন তন্ন করে খুজতে থাকে। নজরুল ইসলাম এতোক্ষণ দরজার ফাকদিয়ে সব দেখছিল। এবার আস্তে পিছনে সরে যায়। রাতের আধারে নেমে পরে পানা পুকুরে ছোট ছেলেটাকে এক হাতে আগলে রাখে বড় ছেলেটাকে বলে আমার কাধে শক্ত করে ধরে রাখবি। বড় শুধু বলে বাবা সাপ। নজরুল ইসলাম বলে কিছু হবেনা। তিনি ধিরে ধিরে রাতের আধারে এই ঠান্ডা জলে নেমে বড় পানার আড়ালে যেতে থাকে। এর মধ্যে শুনতে পান আমেনা বেগমকে বার বার বলতে কেউ বাড়িত নাই। ওরা সব নানা বাড়ি গেছে।
পাক অফিসার জিগাসা করে ঠিকছে বাতাও বো কাহাহে?
আমিনা বেগম একই জবাব দেয়।
এ বার আমিনা বেগমের গালে ¯^ জোরে থাপ্পর দেয় বোল . .? কন্তিু তাতে আমিনা বেগমের জবাবের কোন পরিবর্তন হয়না।
আজমত বলে আমি নিজে দেখছি দোকান বন্ধ কইরা বাড়ির দিক আইতে। ঠিক মত ক’ কইতাছি।
আমিনা বেগম আর কোন কথা বলে না।
এবার আমিনা বেগমের তল পেটে বুটদিয়ে ¯^জোরে লাথি মারে।
আমিনা বেগম চিৎকার করে আল্লাগো বলে মাটিতে পড়ে যায়।
আজমত কাছে গিয়ে দেখে। স্যার ও বেহুশ হোগেয়া। অরে লেকে চলেন।
পাক অফিসার বলে ঠিক হে ইসকো লেকে চলো।
আমিনা বেগমকে দুই জনে ধরে নিয়ে যায়।



ফরিদ উদ্দেিনর চোখ দিয়ে ঝর ঝর করে জল ঝরতে থাকে। চারিদেকে সব নিরব। হল রুমের সবাই যেন নির্বাক শ্রোতা হয়ে গেছে। একজন বলে উঠলো তারপর।
ফরিদ চোখ মুছে আবার শুরু করে
- নজরুল ইসলাম গাড়ী চলে যাবার শব্দ শুনতে পায়। তারপরও শব্দ করে না। এক হাতে আগলিয়ে রেখেছেন ঘুমন্ত শিশু টিকে আর অন্য হাতে কাধে থাকা বড় ছেলেটিকে ধরে আছেন। কতক্ষোণ পার হয়েছে তিনি বলতে পারবেন না। তিনি আরো কিছুক্ষোন অপেক্ষা করে পাড়ে উঠে আসেন। বড় ছেলেটি ভয়ে ঠন্ডায় কাপছে। তিনি পাড়ে উঠে একটি ঝোপের আড়ালে শিশুটিকে নামিয়ে রাখেন। বড়কে বলেন ভাইয়ের কাছে বস আমি না ফেরা পর্যন্ত লড়বেনা। বড় মাথা কাত করে। তিনি আস্তে আস্তে পিছনের দরজার কাছে যান। দরজাটি এখন অবশ্য খোলা তিনি একপাশ থেকে উকি দিয়ে দেখে ভিতরে প্রবেশ করেন। ঘরের মেঝেতে বিভিন্ন জিনিস ছড়ানো ছিটানো। নজরুল ইসলাম ঘর ময় ছুটতে থাকেন আর আস্তে আস্তে ডাকদেন আমিনা, আমিনা বেগম। কন্তিু কোথাউ তাকে দেখতে পাননা এবং তার কোন সারাও পাননা। তিনি আরো অস্থির হয়ে উঠেন। এবার তিনি চিৎকার করতে থাকে, আমিনা, আমিনা। তিনি পাগলের মত রাস্তার দিকে ছুটে যান। আবার ঘরের ভিতর ছুটে আসেন। ঘরের মেঝেতে তিনি হাটু গেড়ে বসে পরেন। মনে মনে নিজকে দোষতে থাকেন আমি কেন গেলাম তোমারে একলা রাইখা।

- হঠাৎ তার খেয়াল হয় বাচ্চা দুইটারে ঝোপের মধ্যে বসাইয়া রাইখা আসছেন। তিনি ছুটে যান ঐ দিকে। গিয়ে দেখেন ছোটর ঘুম ভংেগে গেছে, বড় ছোটকে কোলের মধ্যে নিয়ে শান্তনা দিতেছে ভাই কাইন্দো না। মায় এখনি আইসা পরবো। নজরুল ইসলামের দিকে ছেলেটি তাকায়। বলে বাবা আইছো। তুমি একলা কেন মায় কই ভাইতো উইঠা গেছে। নজরুল সাহেব কিছু বলে না। শুধু কাছে গিয়ে ছোটকে কোলে তুলে নেয়। ছয় মাস বয়সের শিশু মা ছাড়া কিভাবে থাকবে। তিনি কি করবেন। নানান চিন্তা মাথার মধ্যে ঘুর পাক খায়। তিনি দু’জনকে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। এর মধ্যে ঘরে প্রবেশ করে হাশেম, জাহিদ। নজরুল ভাই আপনার এইখানে এক মুহুতর্ েথাকা ঠিকনা। আমরা আপনারে নিতে আসছি। আপনি চলেন।
- তোমরা কই থাইকা আইলা।
- আমরা গত পরশু এইগ্রামে ক্যাম্প করছ।ে আইজকাই আপনার লগে দেহা করতে আইছিলাম। কন্তিু সব যে কি হইতে কি হইয়া গেল। জাহিদ বলে।
- হাশেম বলে ভাবীরে ওরা সাথে নিয়া গেছে। আইজ অন্তত একশ লোক মারছে। ক্যাম্পে ধইরা নিছে আরো জনা পঁিচশ। আপনি চলেন।
- নজরুল ইসলাম বলে, আমিনা।
- জাহিদ বলে, এহন কিছু ভাবার সময় নাই। ছোটরে আমার কাছে দেন। হাশেম তুই কাপড় আর বাবুর খাবার ল। দেড়ী করণ যাইবো না। ওরা আবার আইতে পারে।
সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে ওরা এখান থেকে বের হয়ে যায়। কারো মুখে কোন কথা নাই। বড় বলে মায় কই? আমরা কই যাই বাজান? মারে নিবানা?
ভাইরে খাওয়াইতে হইবোতো? মায় কই? নজরুল সাহেব ছোটকে কোলের মধ্যে চেপে ধরে হু হু করে কাদেন। কিছুই বলতে পারেন না। জাহিদ বলে, আমরা তোমার মায়ে কাছে যাইতাছি। তোমার মায় আমাগো পাঠাইছে তোমাগো নিয়া যাইতে। তারপরও বড় শান্ত হয়না। কিছুক্ষোন পরপর মায়ের কথা জিজ্ঞাসা করে। নজরুল ইসলাম কোন কথা বলে না।




নজরুল ইসলাম দুই ছেলেকে নিয়ে মুক্তযিুদ্ধ করে। তাকে অনেক সতর্ক থাকতে হয়। ছোট ছেলেটিকে গামছা দিয়ে পিঠের সাথে বেধে নেন আর বড় ছেলেটি পাশেই থাকে। কন্তিু তিনি কখনই বড়কে কোন কিছু ধরতে দেননা। এর মাঝেই ছেলেকে বই পড়ান। বড়র বয়স আট বছর। সে প্রথম প্রথম অনেক প্রশ্ন করত। এখন আর করেনা। সে যেন কেমন নিরব হয়ে গেছে। মায়ের কথা মনে পরলে নিরবে কাঁদে। বাবাকে বুঝতে দেয়না। তার চোখে শুধু ভাসে মায়ের ছবি। সে শুনেছে আজমত রাজাকার নাকি তার মাকে ধরিয়ে দিয়েছে। আজমত কে আগে থেকেই চিনে। এখন তার ছবিটা বেশ চোখে ভাসে। সবাই যখন বিভিন্ন সময় আক্রমণের প্লান করে। সে শুনে। কিভাবে কোন অস্র চালাতে হয় সে দূর থেকে দেখে। একবার জাহিদ কাকা তার হাতে একটা বন্দুক দিয়ে বলেছিলেন কিরে পারবিনা পাকসেনাদের মারতে। বড় কিছু বলার আগেই তার বাবা জবাব দেয় খবরদার জাহিদ ওর হাতে কখনো অস্র দিবানা, বলে নজরুল ইসলাম বন্দুকটি কেড়ে নেন। কন্তিু কোন এক ফাকে বড় একটি গ্রেেনট লুকিয়ে পকেটে পুরে ফেলে। আর মনযোগ দিয়ে দেখে কিভাবে কোনটা চালাতে হয়।

এভাবে চলে অনেক দিন নভেম্ব^রের শেষের দিকে তারা গ্রামের দিকে ফিরে। এখানে একটা অপারেশনের দায়িত্ব পড়েছে নজরুল ইসলামের। আজ রাতেই আক্রমণ চালাতে হবে। আজ এই ক্যাম্প থেকে অর্ধেক পাকসেনা অন্য জায়গাতে সরিয়ে ফেলা হবে। এতে করে অতি সহজেই এই ঘাটি টি দখলে নেয়া যাবে। সন্ধ্যা ৬ টায় বদলি হবার কথা। সে অনুযায়ী তারা ১০ টার পর আক্রমণে যাবে। কন্তিু কোথাউ একটা ভুল হয়ে যায়। নজরুল ইসলাম যখন মুক্তিসেনা নিয়ে ঘাটি আক্রমণ করে তখনও সেনা বদল হয়নি। যে কারণে নজরুল ইসলাম সহ ৭/৮জন মুক্তিযোদ্ধা ধরা পরে। আর বেশ কয়েক জন শহীদ হয়।
সকাল ৬টা তে সেনা বদল হয়। রাতে মুক্তিযোদ্ধা ধরা পরেছে শুনে সকাল সকাল দেখতে আসে স্থানিয় রাজাকার আজমত আলী। এদিকে সবাইকে লাইনে দাড় করানো হয়। শুটাউট করার জন্য। নজরুল ইসলাম কেও সারিতে দাড় করায়। তাঁর পিঠে তখনো ছয় মাসের শিশু টি গামছা দিয়ে বাঁধা।বড় বাবার পাঁশে গিয়ে দাড়ায়। এর মধ্যে আজমত আলী নজরুলের সামনে এসে দাড়ায়। তর বউ তো গাড়ির থাইকা লাফদিয়া পইরা মরসে তুই তো আইজকা গুস্তিশুদ্ধা মরবি। পাকিস্তান কে আলাদা করতে চাস। শালা বাঙ্গালের বাচ্চা হইসও। স্বাধিন বাঙলা করবা।
ফরিদ উদ্দিন চোখ মুছে। আমি সবার কাছে ক্ষমা চাই। আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করার জন্য। আসলে আমি কবিতা বলতে উঠে এতো কথা বলে ফেলেছি। আসলে কেউ যখন অন্য কে বাঙ্গাল বা বাঙ্গালী বলে গালি দেয় তখন আর আমি সহ্য করতে পারিনা। যেই বাংলার জন্য এতো বিসর্জন সেই বাংলা কিভাবে গালি হয়। আপনাদের কাছে অনুরধ আমাকে যত খুশী গালি দেন দেশকে দিয়েননা। ভুল হলে ক্ষমা করবেন। বলে ফরিদ যাবার জন্য হাটতে থাকে। এর মধ্যে দুই তিনজন দাড়িয়ে যায়। আমাদের ভুল হইসে আমরা ক্ষমা চাচ্ছি। তুমি আমাদের ক্ষমা কর। তাঁরপর কি হইল তুমি কথা শেষ করে যাও। ফরিদ উদ্দিন আবার ফিরে আসে। মাইক হাতে ধরে আবার বলতে শুরু করে।
-আজমত আলীর কথা শেষ করে পিছিয়ে যায়। পাক অফিসার কে বলে এ বহি লোক হেয় সার, জিসকা বিবি গাড়িছে কুদাথা। ইস্ক মার দেন। গুলি করেন।
-অফিসার বলে ও। এক এককো মারদো। টেক পজিশন।
-বড় সবার কথা শুনছিল। বিশেষ করে আউমতের কথা। হঠাৎ সে পকেটে হাত দেয়। নয় বছরের শিশু। মা হারানোর জ্বালা বুকে। পকেটে হাত দিতেই গ্রানেটটি হাতের মুঠোই চলে আসে। সে গ্রানেটটি হাতের মুঠোই করে বের করে পিছনে নিয়ে যায়। আর এক হাত দিয়ে পিনটা খুলে ফেলে। সে ক্যাম্পে বহুবার দেখেছে কিভাবে কি করতে হয়। সে একবার দেখেনিল ছোট বাচ্চা ভেবে কেউ তাকে খেয়াল করছেনা।
-অফিসার আবারো বলে উঠলো টেক পজিশন। আর ঐ মুহুরতেই বড় হাতটা পিছন থেকে এনে গ্রেনেটটা ছুড়ে মাড়ল। তারপর একটা বিকট আওয়াজ হল। বড় ছিটকে গিয়ে পড়ল। নজরুল ইসলামও ছিটকে পড়ল। এভাবে কতক্ষণ কেটেছে কেউ বলতে পারবেনা। হতাৎ বড় দেখে বড় কে কাঁধে নিয়ে সবাই নাচছে। বাঘের বাচ্চা।
-বলেছিলাম না বাঘের বাচ্চা তো বাঘই হয়ই। জাহিদ বলে উঠে। নজরুল ইসলাম দেখ তোমার ছেলে . . . . । কিন্তু কই নজরুল ইসলাম এখানে তো নাই।
পিছনে জংলার মধ্য থেকে আওয়াজ আসে। জাহিদ এদিকে আস। সবাই ছুটে যায়। দেখে নজরুল ইসলাম নিচু হয়ে আছে। সামনে গিয়ে দেখে ছোট্ট শিশুটি কাঁটা ঝপের মধ্যে পরে আছে। বড় ছুটে যায় ভাই। জাহিদ কাছে যায়। দেখে একটি বড় কাঁটা ছোট্ট শিশুটির বা পায়ের মাঝামাঝি এফোঁড় ওফোঁড় হয়ে গেছে। তবু তাঁর মুখে যেন বিজয় এর হাঁসি। সে যেন বুঝে গেছে আমরা জিতে গেছি। জাহিদ অনেক ভেবে চিনতে একটা হ্যাঁচকা টানে পাটা খুলে নেয়। পায়ের হাড়টি মনে হয় ছিদ্র হয়ে গেছে। নজরুল ইসলাম কিছু না বলে ছেলে কে কোলে তুলে নেন। বড় কাছে এসে গামছা দিয়ে পাটা বাধার চেষ্টা করে।
ফরিদ উদ্দিন আর কিছু বলতে পারেনা। তাঁর চোখ ভরা জল। কিন্তু মুখে বিজয়ীর হাঁসি। চারিদিক থেকে প্রশ্ন আসে কে এই নজরুল ইসলাম? শিশুটিই বা কে?
ফরিদ উদ্দিন কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপর চোখ মুছে বলে নজরুল ইসলাম আমার বাবা। বলে আর সে দাড়ায় না। বা পা টা টানতে টানতে ইস্টেজ থেকে নেমে যয়। সবাই হা মুখে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকে।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement