লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২১ এপ্রিল ১৯৮৪
গল্প/কবিতা: ৫টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftনববর্ষ (ডিসেম্বর ২০১৪)

শিশুর স্বপ্ন বাস্তবের সরণিতে
নববর্ষ

সংখ্যা

পবিত্র বিশ্বাস

comment ১  favorite ০  import_contacts ২০৭
ডিসেম্বর মাস । হেমন্তের শেষে শীতের আলতো ছোঁয়ায় প্রকৃতি যেন ঝিমিয়ে পড়েছে । ভোরের অস্পষ্ট কুয়াশায় দূরের দৃশ্যমানতা প্রায় নেই বললেই চলে । উদ্ভিদকুল সাধ্যমতো নিজের নিজের পাতা ঝরিয়ে রুক্ষ প্রকৃতির বার্তা দিচ্ছে । আর এসবেরই মাঝে ছোট্ট সোনামণি অপু গায়ে সোয়েটার চাপিয়ে জুতো-মোজা পায়ে দাদুর সাথে প্রাতঃভ্রমণে বের হয়েছে । চারিদিকের কৌতূহলী দৃষ্টির মধ্যে সবকিছুই তাকে আকৃষ্ট করে । আরো বেশি করে জানতে চায় সে—কেননা, আগামী বছরে এগুলোই তো তার পড়াশুনার উপাদান হয়ে উঠবে ।
“দাদু ! চলো না, আর একটু ঘুরে আসি ।”—অপুর সকাতর অনুনয় ।
“না, দাদুভাই । এখন আর নয় । অন্য কোনো একদিনে হবে । এখন চলো দিকি বাড়িতে- সকালের জলখাবার খেতে হবে তো”—এই বলে দাদু অপুকে একরকম জোরপূর্বক সাথে নিয়ে বাড়ির দিকে পা বাড়ায় । পথে দেখা হয়ে গেল তাতাই-এর সঙ্গে । অল্প কুশল বিনিময় করে আবার দুজনে এগিয়ে চলে । বাড়ি ঢোকার ঠিক আগেই দেখা হয়ে গেল গ্রামের প্রাইমারী স্কুলের সহকারী শিক্ষক নিশীথরঞ্জন উপাধ্যায়ের সঙ্গে ।
“অপু কেমন আছো ? সকালে ঘোরা হয়ে গেল বুঝি ?”—মাস্টারমশাইয়ের এমন প্রশ্নে বালক অপু প্রথমে একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়লেও নিজেকে সামলে নিয়ে সম্মতি জানিয়ে দিল । অগত্যা দুজনে বাড়িতে ঢুকল ।
“মা, আমি কবে স্কুলে যাবো ? মাস্টারমশাইয়ের সাথে আমি কথা বলেছি”—একেবারে এতগুলি কথা শুনে অপুর মা ছেলেকে কি বলবে ভাবতেই পারল না । অতঃপর কিছু সময় পরে ছেলেকে বলে—“তুমি স্কুলে যাবে, বেশ তো, সামনের বছরেই তোমাকে স্কুলে ভর্তি করে দেবো । এখন থেকেই সবকিছু দাদুর কাছ থেকে শিখে নাও ।”
মায়ের কথা শুনে বালক অপুর অন্তঃকরণে পুলকের সঞ্চার হল । এক অভুতপূর্ব আনন্দের শিহরণে তার সর্বশরীর রোমাঞ্চকর হয়ে উঠল । নতুন স্কুলে যাওয়ার আনন্দ, বন্ধুদের সাথে ছুটোছুটি-হৈহুল্লোড়, খেলাধুলা ইত্যাদি কল্পনায় তার শিশু অন্তরাত্মা টগবগ করে ফুটতে লাগল ।

দেখতে দেখতে ডিসেম্বর মাস শেষ হয়ে এল । এই কদিনে অপু নিজেকে নানা ভাবে প্রস্তুত করে তুলেছে কিভাবে নতুন পরিবেশে অন্যদের সাথে মানিয়ে নিতে হবে । বাবার কাছ থেকে স্কুলের নতুন বই কিনে নিয়েছে । এখন কখন সেই কাঙ্খিত সময় আসবে তার জীবনে তার অপেক্ষায় সে সময় গুণতে থাকে । বাড়ির সকলেই তার এই অস্থিরতাকে লক্ষ্য করল । বড়দিনের আনন্দে সকলেই কয়েকটা দিন একসাথে কাটাল পিকনিক, কেক কাটা, সিনেমা দেখা ইত্যাদি করে ।
অবশেষ এল সেই সন্ধিক্ষণ—সকাল থেকেই সাজো সাজো রব বিশ্বাস বাড়ির আসেপাশে । এ বাড়ির একমাত্র ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস আজ প্রথম স্কুল জীবনে পা রাখবে । পঞ্চম বর্ষ অতিক্রম করে আজকের দিনেই সে ষষ্ঠ বর্ষে পদার্পণ করেছে । নতুন স্কুল ড্রেস বাবা-মায়ের হাত ধরে ছোট্ট অপু স্কুলের পথে পা বাড়ায় ।
“বাবা ! স্কুল আর কতদূর ?”—ছেলের এত উৎসাহ দেখে বাবা বলে ওঠে
“অপু সোনা এই তো এসে গেছি, আর একটু এগোলেই আমরা স্কুলে পৌঁছে যাবো । তোমার ভয় করছে না তো ?”
মা এওতক্ষণ চুপচাপ ছিল । এবার সে নীরবতা ভেঙে ছেলেকে নানাভাবে বোঝাতে লাগল-কোনো দুষ্টুমি করবে না, সকলের সাথে ভালো ব্যবহার করবে, শিক্ষকদের কথা শুনবে ইত্যাদি ইত্যাদি । কথা বলতে বলতে সবাই স্কুলে প্রবেশ করল । বালক অপু এক দৃষ্টিতে স্কুলটাকে দেখে নিল । তারপর বন্ধুদের সাথে শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করল । শুরু হল অপুর নতুন জীবনের পথ চলা নতুন বছরের হাত ধরে........................।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement