ধুসর হয়ে আসা বিকেলে,
আবছায়া কনেদেখা আলো...
শুকনো পাতায় ছেয়ে থাকা পথঘাটে
পদভারে রব ওঠে, মর্মর মর্মর...
অত কি সময় আছে চেয়ে দেখার?
দিনমান ছুটে চলা পা দু'টিতে
নেমে আসে রাজ্যের ক্লান্তি যত।
শরীর জুড়ে ভর করে স্থবিরতা,
তবু তোড়েজোড়ে ধেয়ে চলা দ্বিগুণ বেগে।
দুধের শিশুটিকে ঘরে রেখে কাজে আসা--
সেই কোন্‌ কাকডাকা ভোরে।
'মা' ডাকটি ফোটেনি আজো মুখে,
সাথী তার একমাত্র বোন, বড় মোটে বছর পাঁচেক।
পুতুল খেলার বয়সে,
হাতে তুলে নিতে হয়েছে জ্যন্ত পুতুল।
পেটের দায়কে কেম্‌নে করে উপেক্ষা?
বুকের কষ্ট চাপা থাকে বুকে,
চোখের পানি মিশে যায় শরীরের ঘামে।
রোদ, বৃষ্টি, ঝড় পায়ে ঠেলে,
অকাতরে বিলিয়ে দেওয়া সস্তা শ্রম।
তীর্থের কাকের মত চেয়ে থাকা
এই সময়টুকুর পানে।
কখন নামবে বিকেল?
কখন মিলবে ছুটি?
কখন বুকের মানিক দুটিকে বুকে নিয়ে
শান্তির পরশ পাওয়া---
দু'মুঠো অন্ন তুলে দেওয়া
ওদের ক্ষুধার্ত মুখে............।।