ভোর বেলাকার একমুঠো রোদ ফিরে বারে বারে আসে
ব্যার্থ চোখের চাউনিতে যেন বিচ্ছেদ ছায়া ভাসে।
বিষন্ন মনে গড়াগড়ি খেলে জীর্ণ বারান্দাটায়
ক্ষণপরে দূরে সমাধিটাতে আদর বুলিয়ে যায়।
ভরা সাংগুর কিনারায় নামে বুনো শালিকের ঝাঁক
কোথা সেইজন তারাও খোঁজে কীসে এতো ক্ষোভ রাগ?
মনে পড়ে দাদু' সাত কিসিমের গপ্পো বলার দিন,
মাদুর বিছিয়ে আসন পেতে পান চিবানোর সে ক্ষণ।
বাদলা দিনের মেঘের গরজে ভয়ে দুরু দুরু বুক
মিষ্টি ধমক, ভয় পেতে হয়! ঢেকে রাখ তবে মুখ।
শ্বেত আচলের তলায় রেখে দিয়েছ ন্সেহে ভরিয়ে
শুন্য বুক যে ফেটে যায় দাদু কোথায় গেলে হারিয়ে।
ক্ষনে ক্ষনে চোখ উত্থলে উঠে ঝাপসা যে চারিধার
আসবেনা ফিরে ভাবতেযে বুকে ঝড় বহে তোলপাড়।
বলবেনা আর বিস্মিত স্বরে কী যে হবি তুই বোন
দোয়া করি দাদু বড় হ' অনেক বুকের মানিক ধন।
কোমল স্বরের আদূরে সে ডাক 'আয় দাদু শুনে যা'
মিষ্টি পানের খিলি বানিয়েছি মুখে পুরে দিয়ে যা।
বুকের গভীরে লুকানো ক্ষতের অঝোর রক্তক্ষরণ
জানবেনা দাদু ডাকবেনা কাছে এতোই নিঠুর মরণ!
গ্রাম বাংলার মাটিকে যে তুমি বড়ই বাসতে ভালো,
শুয়ে আছ তুমি সে মাটির বুকে এ কেমন প্রেম বলো!
বিধাতার ডাকে সাড়া দিয়ে তুমি ভাসিয়েছ দূর সোপান
ভালো রেখো তারে 'বিধাতা ওগো প্রভু মেহেরবান'।