লেখকের তথ্য

Photo
গল্প/কবিতা: ৬টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৭১

বিচারক স্কোরঃ ১.৯১ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগভীরতা (সেপ্টেম্বর ২০১৫)

কুলী
গভীরতা

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৭১

Shimul Shikder

comment ৫  favorite ০  import_contacts ৭৮৪
বাজার শেষ করে আনিস সাহেব দুহাতে দুটো ব্যাগ নিয়ে দ্রুতপদে হাঁটতে লাগলেন। কয়েকটা কুলী পেছন পেছন দৌড়াতে লাগলো, ‘স্যার, কুলী লাগবো।’
আনিস সাহেব হাতের ইশারায় ‘না’ উত্তর দিয়ে হাঁটতে লাগলেন। আনিস সাহেব যদি মত বদলান এই আশায় কুলিরা পেছন পেছন আসতেই লাগলো । আনিস সাহেব মত বদলালেন না বরং কুলীদের পীড়াপীড়িতে বিরক্ত হলেন। বাঙালি জাতের এই এক সমস্যা। এরা সহজ ভাষায় কথা বুঝে না, ধাক্কা দিয়ে বুঝাতে হয়। কুলির প্রয়োজন নাই বলার পরও ছোটলোকগুলো পেছন ছাড়ছে না। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার কারণেই হয়তো তিনি দেশ ও দেশের মানুষ সম্পর্কে এক ধরনের তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের মনোভাব পোষণ করেন। দেশের সব কিছুতেই তার খুব সহজেই বিরক্ত ধরে যায়।
- স্যার, কই যাবেন? বাজার দিয়া আসি।
কুলীদের একজন বলল। আনিস সাহেব দাড়িয়ে পড়লেন। কড়া চোখে পেছনের দিকে তাকালেন। কুলীরাও একসাথে দাড়িয়ে পড়লো। আনিস সাহেব দেখলেন জন তিনেক কুলী, বয়শে সবাই তরুণ। সবার হাতে একটা করে ঝাকা। আনিস সাহেব একটু নরম সুরে বললেন, পেছন পেছন আসবি না।
আনিস সাহেব আবার হাঁটতে শুরু করলেন। পেছনে না তাকিয়েই টের পেলেন, কুলীগুলো পেছন ছেড়েছে।
লম্বা সময় বিদেশে থাকলে যা হয়, খুব বেশী প্রয়োজন না হলে অন্যের দ্বারস্থ হতে চায় না। আর যদি কারো কৃপা নিতেই হয় তাতে খুব একটা স্বস্তি বোধ করেন না। কারো কৃপা নেওয়া মানে মাথা নত করা। বিদেশীরা মাথা উঁচু করেই চলতে পছন্দ করে।
আনিস সাহেব শুধু মানসিক ভাবেই নয়, শারীরিক ভাবেও যথেষ্ট সবল। প্রতিদিন সকালে ঘুম ভেঙ্গে ঘণ্টাখানেক যোগ ব্যায়াম করেন, চার পাঁচ মাইল হাঁটেন। আজ সকালে হাঁটা হয়নি। তাই ভাবলেন, রিকশা না নিয়ে হেটেই বাসায় যাবেন, ব্যায়ামটা হয়ে যাবে।
- স্যার, ব্যাগটা দেন, বাড়ি দিয়া আসি।
আনিস সাহেব দেখলেন, দশ বারো বছর বয়েসের আর এক কুলী তার পেছন পেছন আসছে। কপালে জমা বিন্দু বিন্দু ঘাম মুছে বললেন, লাগবে না।
- দেন না স্যার।
- বললাম না লাগবে না। এক কথা কয়বার বলবো?
ছেলেটা পেছন পেছন আসতেই লাগলো। এক পর্যায়ে ব্যাগটা ধরে বলল,
- দেন স্যার।
আনিস সাহেব ভীষণ বিরক্ত হলেন। তিনি ঝাড়া দিয়ে ছেলেটাকে ফেলে দিলেন। ছেলেটা মাটিতে পড়ে গেলো।

- কথা একবার বললে বুজিস না? যা ভাগ। ফকিরের জাত কোথাকার। ফকির মিসকিনে দেশ ভরে গেছে। আবার পিছু নিলে কিন্তু মার খাবি।
আনিস সাহেব মারের ভঙ্গিতে হাত উঠালেন। তখন লক্ষ্য করলেন ছেলেটার পায়ে খানিকটা কেটে গেছে। রক্ত ঝরছে। আনিস সাহেবের মনটা খারাপ হয়ে গেলো। তার মনে হল, বেচারাদের রুজি রোজগারের এটাই হয়তো একমাত্র উপায়। বাজারে কুলীর কাজ করেই হয়তো জীবন চলে। আনিস সাহেব উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত। ধন সম্পদের অভাব নেই। নিজের দেশের দরিদ্র একটা ছেলে না হয় তার কাছে না হয় একটু অনুগ্রহই চেয়েছে। তিনি এতো কঠিন ব্যবহার না করলেও পারতেন। তিনি ছেলেটার দিকে ভালো করে তাকালেন। আহা, সত্যিই ছেলেটা জীর্ণশীর্ণ, অনাহারক্লিষ্ট। আনিস সাহেবের ছোট ছেলের বয়েশী। আনিস সাহেবের হৃদয়ে দয়ার সঞ্চার হল।
- সবুজবাগ পর্যন্ত যেতে পারবি?
ছেলেটা হাসি মুখে লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালো।
- পারমু।
ছেলেটার হাসি দেখে আনিস সাহেব স্বস্তি বোধ করলেন। তিনি বললেন, কতো নিবি?
- আপনের যা মন চায় দিয়েন।
- ঠিক আছে আয়।
আনিস সাহেব হাঁটতে লাগলেন। ছেলেটা দৌড়ে এসে ব্যাগ নিতে চাইল। আনিস সাহেব ব্যাগ দিলেন না। বললেন, আয়।
আনিস সাহেব হাঁটার গতি বাড়ালেন।
ছেলেটা খালি ঝাঁকা মাথায় নিয়ে পেছন পেছন দৌড়াতে লাগলো।
কিছুক্ষণ পরপর ছেলেটা বলতে লাগলো, স্যার, ব্যাগটা দেন।
প্রতিবারই আনিস সাহেব বললেন, আরে তুই আয় না।
বাসার সামনে যখন আনিস সাহেব পৌঁছলেন তখন দেখলেন ছেলেটা হাঁপাচ্ছে। পকেট থেকে তিনি বড় বড় কয়েকটা নোট বের করে বললেন, নে রাখ এগুলো।
ছেলেটা নোটগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল, এতো টাকা কী জন্য?
- রাখ, তোকে দিলাম।
- কিন্তু আপনার বাজার তো টানলাম না।
- তুই বাচ্চা মানুষ এই ব্যাগ টানবি কি?
- স্যার আমি বাচ্চা না। এই কাম কইরাই আমার সংসার চলে।
আনিস সাহেব আরও দুটি নোট বের করে বললেন, এই নে আরও দিলাম। এখন যা।
- ব্যাগ টানাবেন না আগেই বলতেন। খামাখা সময় নষ্ট।
ছেলেটা উল্টো দিকে হাঁটা দিলো।
- এই টাকাগুলো নিয়ে যা।
পেছনে না ফিরে চলে যেতে যেতে ছেলেটা বলল, ভিক্ষা নেই না।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement