দরজা খুলেই চমকে বলি আমি - এতদিনে এলেন তবে , মনে পরল এবার ?
কাকা মুচকি হেসে বলে - তাইতো এলাম না জানিয়ে , বল তো কেমন চমকে গেলি ?
হ্যাঁ অনেকখানিই চমকে গেছি । কাকার পেছনে তাকিয়ে দেখি বাজার হাতে কুলি ।
এখন রোদটা কড়া হাজার , তার মাঝে কুলি দাড়িয়ে আছে মাথায় মস্ত বাজার ।
কাকা বাজার নামিয়ে পয়সা চুকায় হেসে । অবাক লাগে, এই কি সেই কাকামনি !
ভাবি আমি , আর আমার সাথে ভেবে বেড়ায় চির জ্বলজ্বলে কাকডাকা রোদখানি ।
এখনো দরজায় থেকে কথা বলছেন কুলিটার সাথে । এটা চিরস্বভাব তাঁর ।
আমায় প্রশ্ন করেন, ঘরে দুপুরের খাবার আছে ? মোহগ্রস্তের মতো মাথা নাড়ি ।
এবার কুলিরে আদর করে বলেন, তবে খানাটা এখানেই খা, পরে যাস বাড়ি ।

দুপুরের খানা শেষে ঘুমায় কাকা লম্বা সোফার উপর আর কুলি ঘুমায় ফ্লোরে,
আমি ঝিমাই মাতালের মতো করে আর চোখ আমার রঙিন স্বপ্ন দেখে বিভোরে -
ফুল বাগানে ফুলের মায়ায় খেলছি আর শুঁকছি নানান ফুলের গন্ধ অঝোরে ।
এবার একগাদা ফুল পেলাম , দেখতে ভীষণ মল্লিকার কাছাকাছি । মনে ধরে !
যেই নাকের কাছে নিলাম, দেখি এক বিদ্ঘুটে নাড়ি পচাগন্ধ ফুলের ভেতরে ।
ভেঙে গেলো ঘুম, চেয়ে দেখি কাকা নেই। আমি প্রানখুলে কাকামনি বলে ডাকি জোরে ।

ভেতর থেকে কাকামনি ছুটে আসে। আঁতকে উঠে তাঁর দুটি চোখ, একি সর্বনাশ !
আমারই পা ধরে লেটকে আছে অই কুলির পচা লাশ ........................