লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ জানুয়ারী ১৯৭৪
গল্প/কবিতা: ৩টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

১০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - রমণী (ফেব্রুয়ারী ২০১৮)

খোকার দেশপ্রেম'
রমণী

সংখ্যা

মোট ভোট ১০

মনির হোসেন মমি

comment ৩  favorite ০  import_contacts ২২৩
পিতা পুত্রের কথোপকথন।পিতা দেশের একজন সন্মানীত গুণী ব্যাক্তি আবিষ্কারক হেদায়েত উল্লাহ।পুত্রের বয়স সবে মাত্র বারো তের বছর।সিদ্ধিরগঞ্জ রেবতী মোহন হাই স্কুল এন্ড কলেজ এর ক্লাশ এইট এ পড়ুয়া ছাত্র।ছেলে টিভিতে নাসার পৃথিবী ও সৌর জগৎতের একটি প্রতিবেদন দেখে অবাক হন এ আবার কি!এ পর্যন্ত অনেকেই প্রশ্ন করেছে সে কিন্তু মন মতন তেমন কোন উত্তর না পেয়ে অবশেষে বাবাকে লক্ষ্য করে।পিতা নতুন এক আবিষ্কারে খাতা কলম স্কেল নিয়ে কাজে মত্ত ঠিক সে সময় তার উপস্থিতি সে চিন্তিত।কাজের সময় ছেলেটি থাকা বা আসা মানে হচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে হাজারো প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে নতুবা তার এখানে বসে নিশ্চিন্তে কাজ করা সম্ভব হবে না।তাই ছেলেকে দেখেই হেদায়েত সাহেব একটু ঘুরে সহজে ছেলেকে বিদায় করার প্লান।
-কি খবর আব্বু তোমার পড়া নেই?
-না সব শেষ করে ফেলেছি।
-ও আচ্ছা তাহলেতো ভাল কথা তবে এখানে কেনো এসেছো?কোন প্রশ্ন?
-এইতো!এই না হলে কি আমার আব্বু!
-বলো তবে দ্রুত?
-কেনো দ্রুত কেনো?
-আমার যে অনেক কাজ আছে আব্বু।
-তোমার কাজ অর্ধেকটাই কমে যাবে যদি আমাকে তোমার মতন গড়ে তুলতে পারো আর সে জন্যেইতো তোমাকে এতো প্রশ্ন করি।
ছেলে এমন বুঝ পিতাকে দিল পিতাতো অবাক!এ কি আমারই ছেলে!সে কাগজ পত্র সব রেখে ছেলের প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত হলেন।ছেলেও একটু নড়েচড়ে বসল।
-এবার বলো কি বলবে।
-টিভিতে দেখলাম আমাদের এ পৃথিবী ছাড়াও আরো অনেক জগৎ আছে সেগুলো কি?
-সেগুলো হলো গ্রহ উপগ্রহ আর নক্ষত্ররাজি।
- এ গ্রহ উপগ্রহ নক্ষত্র বা কি?সেখানে কি আমাদের মতনই কোন মানুষ জন থাকে?
-এই যে এই পৃথিবীটা দেখছো তা কিন্তু গোলাকার একটি গ্রহ এছাড়াও আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে পৃথিবীর চেয়ে আরো বড় বড় গ্রহ উপগ্রহ ঐ সব গ্রহগুলো প্রত্যাকটিরই একটি করে নাম আছ,আছে বৈশিষ্ট।পৃথিবীর মানুষ প্রায় এ সব গ্রহ উপগ্রহে গিয়েছেন আবিষ্কার করেছেন বিভিন্ন অজানা তথ্যাদি।মানুষ চাদেঁও গেছেন কিন্তু সৌরজগতে সূর্য্য নামক যে গ্রহটি আছে তার নিকটবর্তীও কেউ আজ পর্যন্ত যেতে পারেননি।আর ভবিষৎতে যেতে পারবেন বলে মনে হয় না।
-কেনো?
-এইতো চালাক বুদ্ধিমান ছেলে আমার বোকার মত প্রশ্ন করলে।তুমিতো জানোই বা অনুভব করছো সূর্য্য আমাদের অন্ধকার রাতকে আলোকিত করে সুতরাং আলো মানেই কোন না রশ্মি বা আগুন আর আগুনতো বুঝোই কেমন তার স্বভাব।তোমার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হলো না সেখানে এখনো কোন মানবের অস্তিস্ত খুজে পাওয়া যায়নি।তবে মঙ্গল নামে এক বিশাল গ্রহ আছে যেখানে বর্তমানের বিজ্ঞানীরা গবেষনা চালিয়ে এ যাবৎ এটাই প্রমানীত হয়েছে যে সেখানে মানুষ বসবাসের চিন্তা ভাবনা চলছে।
-ওটা কি পৃথিবীর চেয়ে অনেক বড়?
-হ্যা কয়েকগুণ বড়।
-তাহলেতো ভালই হয় পৃথিবীর চাপ কিছুটা কমবে।আচ্ছা আব্বু তুমি তোমার কাজ করো আমি আবার আসবনে।
-ঠিক আছে তবে আজকে আর না।
-যদি মাথায় নতুন কোন চিন্তা আসে?
-তবুও না।আমি আজ একটি সিরিয়াস কাজ হাতে নিয়েছি।
-ঠিক আছে,কি কাজ আব্বু বলবে?
-রোবট নিয়ে কাজ।
-ও ঐযে টিভিতে দেখাইছিল সোফিয়া রোবট?
-ঐ আর কি,ঐরকমই।
-আচ্ছা আব্বু রোবটরাতো দেখতে আমাদের মতই,কাজও করতে পারে তাহলেতো আমরা মানে তোমরা রোবট বানিয়েই জগতের সব কাজ করাতে পারো!
-হ্যা পারি।
-তবে বানাচ্ছো না কেনো?সমস্যা কোথায়?
ছেলের আবারো এমন প্রশ্ন শুনে দুষ্টুমির ছলে ওর এক কান মচকিয়ে ছেলেকে আদুরী শাষন করলেন।
-ওরে দুষ্টু তুমি না বললে চলে যাচ্ছো এ আবার প্রশ্ন কেনো?
-এই একটাই শেষ….
-এই একটার উত্তর দিতে দিন শেষ হয়ে যাবে।অন্য একদিন বলবো নে।তুমি এখন যাও বাবা আমি কাজ করব।
-ঠিক আছে,কিন্তু বন্ধু অজয়তো এলো না,,,,,
ঠিক এ সময় বন্ধু অজয়ের ডাক….জীবন,,,জীবনরে ঘরে আছিস।দৌড়ে সে পিতার ঘর হতে বাহির হলেন।

ওরা পাচ বন্ধু অজয় নয়ন অয়ন মেয়ে বন্ধু স্মৃতি ও আলো।এক সাথে পাঠশলায় যাওয়া আসা থেকে শুরু করে খেলাধুলায়ও একত্রে বাড়ীর আশে পাশে।কি মনে করে যেন ওরা পাচ বন্ধু স্কুল প্রাঙ্গনের দিকে গিয়ে হঠাৎ থেমে গেল।নিস্তব্ধ পৃথিবী গভীর অন্ধকার কেবল মাত্র দূর আকাশেঁ তারাদের খেলা ধূলা আর ধূয়ার কুন্ডলিগুলো বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে এক কথা মুহুর্তেই সেখানে একটি ভুতুরে পরিবেশ সৃষ্টি হয়।ওরাতো ভয়ে জড়োসরো হয়ে স্কুল মাঠের এক কোণে একটি কড়ুই বৃক্ষের নীচে বসে পড়ল ঠিক সে সময় রোবটদের মত কথা ভেসে আসছে তাদের কানে।অজয় সাহসী এবং বৈজ্ঞানীক বাবা ছিল বলে এ সব বিষয়ে মোটামোটি ভাল জ্ঞান ছিল তার তাই তার সাথীদের অভয় দিল।
-এই ভয় করিস না…এ ডাক রোবটদের।
ফিস ফিস করে অয়ন বলছে।
-মানে এটা কি ভুতেরও বাপ!~
-আরে না।এটা ভিন গ্রহ থেকে আসা কোন এক আজব যন্ত্র।
-মানে!
-তোরা এখন বুঝবি না,পরে আমি তোদের বুঝিয়ে দেবো।এখন চুপচাপ থাক দেখি রোবটটির দেখা পাই কি না।
রাতের গভীর অন্ধকার ভেঙ্গে আলোর কুন্ডলির ভিতর থেকে বেরিয়ে এলো এক শিশু রোবট।তা দেখে বিষ্ময়ে ওদের চোখ বড় হয়ে গেল।মনের ভিতর অজানা আতংকের ভয় আবার কৌতুহলী মন দৃশ্যের শেষ দৃশ্যটি দেখার অপেক্ষা।শিশু রোবটটিকে স্কুল মাঠে ফেলে রেখে আলোর কুন্ডলি দ্রুত আকাশে মিলিয়ে গেল।ওরা লক্ষ্য করল শিশু রোবটটি স্কুলের একটি রুমে মানে ওদের ক্লাশ রুমটির দিকে হাটি হাটি পা পা করে এগুচ্ছে।রুম সহ পুরো স্কুলটিই তালা বদ্ধ অবস্থায় ছিলো তা শিশু রোবটটির হাতের তালু হতে নির্গত হওয়া আলোর রশ্মি দ্বারা খুলে ফেলে ক্লাশ রুমের ভিতরে প্রবেশ করে।তাদের কৌতুহল আরো বেড়ে গেল।রাতের গভীরতা ভয় আর বাড়ী ফেরার কথা যেন তারা বেমালুম ভুলে গেল।রোবটটি ভিতরে প্রবেশের পর ওরাও চুপিসারে ভিতরে ঢুকে ক্লাশের বেঞ্চের নীচে লুকিয়ে রোবটটি কি করছে তা দেখছে।রোবটটি শ্রেনী কক্ষের ব্লাক বোর্ডে পাশেই রাখা চক দিয়ে কি যেন ড্রইং করছে।শিশু রোবটটির হাই বা উচ্চতা ব্লাক বোর্ড থেকে অপেক্ষাকৃত কম বা খাটো হওয়ায় মাষ্টার সাহেবের বসার চেয়ারটির উপর দাড়িয়ে রোবটটির কপাল থেকে বের হয়ে আসা টর্চ লাইটের ন্যায় আলোয় নাম লিখল অজয়,নয়ন,অয়ন স্মৃতি আর আলো।এবার সে লুকিয়ে থাকা তাদের সম্মুখ বরাবর নিজেকে মুভ করে ভাঙ্গা ভাঙ্গা শব্দে নাম ধরে ডাকছে,,,,
-অজয় নয়ন অয়ন আলো স্মৃতি…তোমরা বেরিয়ে এসো আমি এই পৃথিবীতে এসেছি শুধু তোমাদের জন্য।ভয় নেই আমি তোমাদের নতুন আরেক খেলার সাথী হব।
বেঞ্চের নীচে লুকিয়ে থাকা ওরা ফিস ফিস করে বলছে।
-ও’ আমাদের নাম জানল কি করে?আর সে যা বলছে তা কি সত্যি!’ও কি আমাদের বন্ধু হবে!
-এই শোন ও’যখন আমাদের নাম জানে তবে ও নিশ্চয় জাদুও জানে তাই ভাল হয় ও’র সাথে সাক্ষাত করা ভাল।বলল আলো।তাই ওরা ওদের প্লান মত বের হয়ে ভয়ে ভয়ে ওটার সামনে গিয়ে দাড়াল
-তাই হউক।বলে অয়ণ নয়ন ও অজয় প্রথমে গেল মেয়ে দুটো রয়ে গেল লুকায়িত অবস্থা্য় ওদের পর্যবেক্ষণের খাতিরে।কিন্তু বুদ্ধিমান রোবট বুঝে ফেললেন।সামনে আসা ওদের দিকে তাকিয়ে ওদের সমস্থ ডাটা নিজ সংগ্রহে রাখল।এবং এক এক করে নাম বলছে আর হাত মিলাচ্ছে রোবটটি।ওরা অবাক এতো নিদিষ্ট করে নির্ভুলে ওদের নাম বলছে কি করে।
-হ্যালো অজয়,,,হ্যান্ডসেকের জন্য হাত বাড়িয়ে দিল রোবট।অজয় কিছুটা ভয় সাহসে হাত বাড়িয়ে করমোর্দন করল।তার পর বাকীদের সাথে করমোর্দন করে জানতে চাইলো মেয়ে দুটো কেনো তার কাছে আসছে না।
-আলো আর স্মৃতিকে ডাকো আমি তোমাদের সাথে একটি জরুরী কথা বলব।
অজয় মেয়ে দুটোর সামনে গিয়ে অভয় দেখিয়ে রোকটের সামনে দাড় করাল।
-ভয়ের কিছু নেই আমি মানুষ না হলেও আমি তোমাদের মানুষের মত নির্দয় নই।তোমরা সবাই প্রথম বেঞ্চে বসো আমি কিছু লিখবো তার উত্তর তোমরা দিবে যেটা না পারবে তার সমাধান আমি করব।
ওরা সবাই বেঞ্চে গিয়ে বসল।রোবটটি চেয়ারের উপর উঠে লিখব।
-আমাদের দেশে শিক্ষা ক্ষেত্রে বর্তমানে সব চেয়ে বড় সমস্যা কি?
এক বাক্যে উত্তর দিল অজয়,,,,,প্রশ্ন পত্র ফাস।এর সমাধান কি?
রোবট খুব খুশি মেজাজে বলল-আর কি কোন সমস্যা?তাদের কেউ কিছু কথা না বলাতে রোবট ব্লাক বোর্ডে দেশের সমস্যাগুলো তুলে ধরল।তারপর সে বলতে লাগল।
-সবতো আর এক সাথে সমাধানের পথ দেখানো সম্ভব নয় তাই এক এক করে সমাধানের পথে এগুতে হবে এমনো হতে পারে আমরা শুরু করলে অন্যেরা এর সমাধান করবে।এই যে সমস্যাগুলো যেমন ধরো প্রশ্ন পত্র ফাস,এর সমস্যা সমাধানে কোথাও যেতে হবে না,এর মুল হোতা দু একটারে ধরে প্রকাশ্যে ফাসিতে ঝুলালে বাকীরা ভয়ে এ পথ ছেড়ে দিবে আর সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল তোমরা যারা ছাত্র,তোমাদের শিক্ষা গ্রহণ করাটা হতে হবে জ্ঞান আহরণে দেশ ও দশের সেবায়,কেবল মাত্র সিম্পল পাশ মার্ক নয় এই মানষিকতা তোমাদের কচি মনে গেথে দিতে পারলেই এ সমস্যা থেকে চিরতরে বের হয়ে আসা সম্ভব হতে পারে কারন ভোক্তারা যখন কোন বস্তু গ্রহণ করবে না তখন ধীরে ধীরে তা বিলিন হয়ে যাবে।আমি জানি দুদিন পর তোমাদের এ স্কুলেই বসবে এসস এস সি পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে প্রথম বাংলা বিষয়ে পরীক্ষা হবে তারও প্রশ্ন পত্র ফাসের সমস্ত আয়োজন শেষ করেন বাকী আছে অপরাধী দলটি তা চড়া দামে প্রকাশ করবে এটিকে ধরে দেয়ার জন্য আমার এ পৃথিবীতে আগমন।এখন আর সময় অপচয় করা ঠিক হবে না তোমাদের সাথে আমি আছি।তোমরা রেডি তো?
-হ্যা বন্ধু আমরা রেডি,,,,
শিশু রোবটটি শিক্ষকের স্থান হতে সরে নীচে তাদের সামনে এসে দু হাত পাখির ডানার ন্যায় মেলে দিয়ে ইশারা করল ছয় মাথা এক সাথে করতে।ওরা তাই করল আর সঙ্গে সঙ্গে ওরা অনুভব করতে লাগল তাদের শরীরে মন মেজাজে কিছু একটা পরিবর্তন এসেছে।ছয় মাথা এক হওয়াতে রোবটের সমস্থ প্লান ওদের মগজে ঢুকে গেল।রোবট অজয়ের গলায় একটি রকেট ঝুলিয়ে দিয়ে বলল,
- এই নাও এটা তোমাকে দিলাম যখনি আমার প্রয়োজন পড়বে তখন এই রকেটটিকে আকাশের দিকে মেলে ধরলে আমি তৎক্ষণাত এসে হাজির হবে।তবে আমাদের এ কাজে তোমার বাবা হেদায়েত স্যারকে লাগবে।বলে রোবটটি অদৃশ্য হয়ে গেল।
এ দিকে রাত্রী দ্বি প্রহরে বাবা বাবা করে চিৎকার শুনে হেদায়েত সাহেব ছেলের রুমে গিয়ে দেখলেন ছেলে ঘুমে অচেতন তার গরম ল্যাপের ভিতরে থেকে বার বার আব্বু আব্বু বলে ডাকছে।হেদায়েত সাহেব ছেলেকে জাগিয়ে তুলতে সক্ষম হন বেশ কয়েববার ডাক দেবার পর।অজয় আধো ঘুমে বাবাকে দেখে চোখ মিলে তাকিয়ে চারপাশে তাকাতে লাগল।দেখলো ওর বন্ধুরাতো কেউ এখানে নেই বরং রোবটিও নেই,এ দিকে তার বাবা তাকে স্বপ্ন দেখছে বলে আবারো ঘুমিয়ে যেতে বললেন।কিন্তু অজয় বাবার কোন কথাই কানে না নিয়ে বাবাকে প্রশ্ন করে বসলেন।
-আচ্ছা বাবা তুমি কি কখনো ভিন গ্র্রহের আজব জীবগুলোর কাউকে কখনো বাস্তবে দেখেছো?
-এই রাত দুপুরে তোমার এমন প্রশ্ন করার কোন মানে হলো?
-তুমিইতো বলেছিলে যখনি মনে কোন প্রশ্ন আসবে তখনি এর সমাধান খুজবে নতুবা ভুলে যাবে।কারন মানুষ মাত্রই ভুল করে ভুলে যায়।।
-তা তোমার এমন প্রশ্নের মানে কি?স্বপ্নে কি কোন কিছু দেখেছো?
-হ্যা,,,,পরক্ষণে মনে পড়ল রোবট তার গলায় পড়িয়ে দেয়া রকেটটির কথা।আর তখনি সে গলায় হাত দিয়ে বাস্তবে রকেটটি দেখে অবাক হয়।মনে মনে ভাবেন আমি যদি ওটা স্বপ্নই দেখলাম তবে বাস্তবে এ রকেট এলো কি করে?তবে রোবট এ রকেট সম্পর্কে কাউকে কোন কিছু বলতে নিষেধ করিছিল তাতে এর কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাবে।তাই তার পিতার নিকটও এ তথ্য লুকিয়ে রাখলেন।পরক্ষণে বাবাকে আবারো প্রশ্ন করলেন।
-আচ্ছা আব্ববু এ পৃথিবীতে যত ধরনের রহস্য্যময় ঘটনা ঘটে তার সব রহস্যের বেড়াজাল হতে বের হতে পারে বা পেরেছেন।
-না,পৃথিবীতে এমন কিছু ঘটনাও ঘটে যা রহস্য্য বৃত্তেই থেকে যায় বলতে পারো সেই সব ঘটনাগুলো অলৌকিত ভাবেই ঘটে।,,,,আর কোন প্রশ্ন নয় এবার লক্ষী ছেলের মত ঘুমাও।ছেলে মাথা নেড়ে সায় দিয়ে ল্যাপমুড়ি দিয়ে আবারও ঘুমিয়ে পড়ল।হেদায়েত সাহেব রুমের লাইট নিভিয়ে দিলেন।

ঘুম আসছে না অজয়ের এটা কি দেখলো!স্বপ্ন নাকি বাস্তব।বাস্তবই যদি না হয় তবে এ রকেট তার গলায় এলো কি করে?কিছুটা ভয় কিছুটা সংশয়ে রকেটটি হাতে নিয়ে উপরের দিকে মেলে ধরতেই রোবট এসে হাজির।
-তোমার ঘুম আসছে না তাইতো?
-হ্যা তা তুমি বুঝলে কি করে!আরেকটা কথা হল আমার বন্ধুরাও সে সময় আমাদের সাথে ছিল,ওওরা কোথায় কি ভাবে গেল?
-ওওরাও তোমার মতই ভাবছেন তবে সে সময় ওরা সবাই ছিল।আমিই ওদের নিজ নিজ বাসায় তোমারি মত করে ঘুমের রাজ্যে রেখে এসেছি।এবার বলো তোমার বাবা কি বলে গেল?
-বাবাকেতো কিছুই বলিনি আর বললেও তা বিশ্বাস করবে না।
ঠিক সে সময় আবারো পিতার আগমনের আন্দাজ পেয়ে অজয় বিছানা থেকে উঠে রোবটকে কোথাও লুকাতে বলল।রোবট তাতে নারাজ।
-না আমাকে লুকাতে হবে না তোমার আব্বুকে আমি চিনি এ দেশের একজন বড় মাপের স্পেস গবেষক।সে আমার সম্পর্কেও জানেন। দরজা খোলে দিয়ে তাকে আসতে দাও।
হেদায়েত সাহেব রুমে প্রবেশ করে দ্রুত দরজা জানালা সব লাগিয়ে ঘরের লাইট জ্বালিয়ে দিলেন।।কারন অন্ধকার ঘরে রোবটের দেহের আলোর রশ্মি তীরের ন্যায় ছিদ্র ভেদ করে বাহিরে চলে গেছে।তাই রোবটের তীব্র আলোটাকে ম্লান করতেই তার লাইট জ্বালানো।বোবটের কাছে গিয়ে হেদায়েত সাহেব তার দেহের আপাদমস্তক দেখছেন।
-আপপনি আমমাকে ওমন করে কি দেখছেন আমিই সেই যাকে আপনি খুজছেন।আমার পৃথিবীতে আসার আগেই আপনি জানতেন যে আমি আসব।তবে আপনার কাছে ধরা দেয়ার আগে আমি আপনার ছেলেকে কিছু ভাল কাজে সহযোগিতা করব বলে কথা দিয়েছি..কাজ গুলো হল নাম্ভার ওয়ান প্রশ্ন পত্র ফাস চিরতরে বন্ধ,নাম্ভার টু চাকুরীর বানিজ্যে ঘোষ বন্ধ,নাম্ভার থ্রি মাদক সেবক ও বিক্রয় সব বন্ধ করা,নাম্ভার ফোর এ দেশকে দুর্নীতি মুক্ত দেশ হিসাবে গড়া,নাম্ভার ফাইভ রাজনৈতিক দলগুলোর ভিতর জাতীয় স্বার্থে ঐক্যমত গড়া এমন জাতীয়য় যত সমস্যা আছে সব বিলিন না করা পর্যন্ত আপনি আপনার গবেষনার জন্য আমাকে এখনিই ব্যাবহার করতে পারবেন না।আর আপনি যদি আমাদের সহযোগিতা করেন তবে আপনিও আপনার গবেষনা অনেক তথ্য পেয়ে যাবেন।আজকের কথা এখানেই সমাপ্তি আমাকে এক্ষুণিই যেতে হবে।আল্লাহ হাফেজ।

আর ক’দিন পরই এস এস সি পরীক্ষা।তাই পরীক্ষার্থীরা সব আতংকে আছেন।গত বারের মত এবারো কি পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন পত্র ফাস হয়ে যাবে!চিন্তিত হেদায়েত সাহেব অজয় ও তার বন্ধুরা।অজয় ও তার বন্ধুদের ভাব না জাতি ধ্বংসের এ প্রশ্ন পত্র ফাস যদি এখনি রুখতে না পারি তবে আমরাও বা পরবর্তী যত শিক্ষার্থীই আছেন সবাই ভুল পথেই পা পাড়াবেন।এটা যদি চলতে থাকে তবে লেখা পড়ার করে মানুষের জ্ঞান অর্জনে বাধা আসবে তাতে জাতি হবে মেধা শুণ্য।এখন উপায়?বন্ধুদের সাথে অজয় এমন ভাবনার মত প্রকাশের এক পর্যায় অয়ণ কথা বলে।
-অজয় তুই এক্ষুনি রোবট বন্ধুকে ডাক আমরা পরামর্শ করব।নিশ্চয় সে কোন একটা উপায় বের করে দিবেন।
-ঠিক কইছোস তবে এখানে নয় নিরিবিলি স্থানে যেতে হবে তারপর ওকে ডাকব।
পরক্ষণে মনে হলো কয়েশ বছরের পুরনো একটি দূর্গের কথা যেখানে এখন কেবলি ইতিহাস কথা কয়।তেমন কোন লোকজনে আনাগোনা নেই বললেই চলে।
-চল ঐ খানে যাই।
ইট খষে খয়ে পড়া আধ ভাঙ্গা ইটের দেয়ালে ঘেরা এক বিশাল দূর্গ যেখানে ভয়ে কেউ পা রাখে না।ওরা পাচ বন্ধু ছোট ছোট গাছ গাছালি ডিঙ্গিয়ে,কখনো বা তা মুড়িয়ে হাত দিয়ে মাকড়শার বাসা ভেঙ্গে এগিয়ে গেলেন তাদের পূর্ব ঠিক করা নিদিষ্ট স্থানে।স্থানটি এতো গভীরে যে বাহির থেকে কেউ আর আচ করতে পারবে না যে এ গহীন দুর্গম দূর্গে কে কি করছেন।প্রায় দশ পনের মিনিট পর তারা একত্রে মিলিত হয়ে হাফিয়ে উঠল।

একত্রে হয়ে রকেটটি উপরের দিকে ধরল অজয়।সাথে সাথে আলাদিনের চেরাগ ঘর্ষণের মতন দৈত্যের ন্যায় রোবটটি এসে হাজির।
-আমি জানতাম তোমরা আমাকে ডাকবে আমিও সব তথ্য নিয়েই এসেছি।
-তথ্য!কিসের তথ্য?
সবাই অবাক হয় এর পর অজয় বলল।
-কি ভাবে কখন কে বা কারা প্রশ্ন পত্র ফাস করার ধান্দায় নামবেন।।শোন সবাই এক মাথা হও আমি তোমাদের মগজে ঢুকিয়ে দিচ্ছি সব কিছু।
রোবটকে মাঝ খানে রেখে ওরা পাচ বন্ধু একে অন্যে মাথাগুলোকে লাগিয়ে জমিনের দিকে তাকালেন।রোবট তাদের মাথার সাথে তার মাথাটি মাঝখান দিয়ে লাগালেন।এভাবে দশ মিনিট থাকার পর রোবট বিচ্ছিন্ন হতে ইশারা করলেন।
-ঠিক আছে যে কথা সেই কাজ।ও হে তার আগে এ সব বিষয়ে কাউকে কিছুই বলবে না।ঠিক আছে?
সবাই মাথা নাড়লেন।

গণ জন বসতিপূর্ণ ঢাকা শহর।এখানে সকালের রং এক রকম আর বিকেলের রং আরেক রকম।ওরা পাচঁ বন্ধুদের মধ্য থেকে কেবল অজয় আর অয়ণ ঢাকা শহরে আসে।বড় বড় উচু দালান আর গাড়ীর হর্ণ শুনে মাঝে মাঝে আৎকে উঠে।অজয়ের বাবার এক ঘনিষ্ট বন্ধুর বাসায় উঠলেন।বন্ধু একাই একটি ফ্লাটে থাকেন।সে চির কুমা।অজয়ে বাবার মতোই বিচক্ষণ ব্যাক্তি।রোবটটিকে ওরা আর যেতে দেয়নি কারন এ ঢাকা শহরে প্রয়োজনে ওকে ডাকলে ওযে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে যে ভাবে আসে তাতে এ পুরো ঢাকা শহর আলোকিত হয়ে জানান দিয়ে দিবে যে এ শহরে কিছু একটা ঘটেছে তাই তাকে একটি বড় ব্যাগে ভরে কাধে নিয়ে অজয় সঙ্গে নিয়ে এসেছে।অজয়ের বাবা তার বন্ধুকে আগেই ই-মেইলে ছবি পাঠিয়েছেন যাতে তাদের চিনতে বন্ধুটির কোন সমস্যা হয় না।সে অনুযায়ী বন্ধুটি তাদের স্ব স্ব থাকা ঘর মানে জনপতি রুম দেখিয়ে দিলে ওরা আপত্তি জানিয়ে বলে না ওরা এক সাথে এক রুমেই থাকবেন।বন্ধুটিও আর কোন কথা বাড়ালেন না।
-তোমাদের যেমন খুশি,,,তবে কোন প্রয়োজন পড়লে এই নম্বরে ফোন দিবে।তোমাদের মধ্যে কারো সাথে ফোন আছে কি?
-জি আংকেল আমি এনেছি,এইতো।
-বাহ এতো দেখছি এ্যান্ড্রুয়েট ফোন।তুমি চালাতে জানো?
-হ্যা আব্বু আমাকে সব শিখিয়েছেন।
-বেশ ভাল।তোমরা রেষ্ট নাও আমি তোমাদের খাবারের ব্যাবস্থা করছি।
বিশাল রুম।ক্লান্ত শরীরে অয়ণ সোফায় বেডে শুয়ে স্বস্থির নিঃশাষ নিচ্ছে।এ দিকে ব্যাগের ভিতরের থাকা রোবটিও ভিতরে বদ্ধ ব্যাগে থেকে থেকে হাফিয়ে উঠেছে।
-আমাকে একটু বের করো অজয়।
-ও হ্যা,
বলে সে ব্যাগের বন্ধন খুলে দিলে ব্যাগ থেকে বেরিয়ে এলো ক্ষুদে এক রোবট যা হাটুর তলায় পড়ে থাকে।তা দেখে সবাই অবাক।সবাই হা করে তাকিয়ে আছে তার দিকে।
-কি ব্যাপার তোমরা এ ভাবে আমার দিকে চেয়ে আছো কেনো।আমি সেই তোমাদের রোবট বন্ধু শুধু আকার পরিবর্তন করেছি যাতে তোমরা আমাকে নিয়ে অনিরাপত্তায় না পড়।
-গুড বন্ধু,তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
রাতে খাওয়া দাওয়া শেষে সবাই যখন গভীর ঘুমে বিভোর ঠিক তখন রোবট ও অজয় অন্য একটি রুম যেখানে কম্পিউটার ইন্টারনেট আছে সেই রুমে বিশেষ কাজে ব্যাস্ত।সেই কম্পিউটারে ইন্টারনেটে রোবট এ দেশের প্রত্যাকটি কোচিং সেন্টারের অয়েব সাইটগুলো এক এক করে হ্যাক করে।না এটাতে নেই নাহ ওটাতেও নেই।কোথাও কোন প্রশ্ন ফাসের আলামত খুজেঁ পেলো না।দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করে রোবট ও অজয় ক্লু খুজেঁ না পাওয়ায় খুব চিন্তিত।রোবট বসা চেয়ারটিতে হেলান দিয়ে উপরের দিকে তাকাতে অটো হাওয়াই ম্যাসেজ আসে তার চোখের সামনে।
তুমি বৃথা চেষ্টা করছো!এই কম্পিউটার দিয়ে তা তুমি খুজেঁও পাবে না।প্রশ্ন ফাসকারীরা বড় শেয়ান ওরা খুব টেকনিকে তা করে থাকে তাই এই হাওয়াই কম্পিউটারে তা খুজতেঁ হবে ওদের ব্যাক্তিগত সাইটগুলোতে।
তাছাড়া আমার মনে হয় ওদের কোচিং সাইটে না ঢুকে ওদের মোবাইলগুলোকে হ্যাক করলে ওরা কোথা হতে প্রশ্ন পত্র ছাপাচ্ছে তা জানতে পারবে।যদি তা পাওয়া যায় তবে তোমাদের কাজ হবে প্রশ্নগুলো মুছে দেয়া নয় প্রশ্নগুলোকে পরিবর্তন করা তাহলে যারাই টাকা দিয়ে প্রশ্নগুলো ক্রয় করবেন আর যখন পরীক্ষার সেই প্রশ্ন কমন পড়বে না পরবর্তীতে প্রশ্ন ক্রয়কারীরা একজোট হয়ে তাদের গণপিটুনি দিবেন তাতে সহজেই দেশবাসী প্রশ্ন ফাসের মুল হোতাদের চিনতে পারবেন তখন সরকার এর একটি সমাধানে বা তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিবেন।
এই হাওয়াই কম্পিউটার তোমার কাজের জন্য রেডি।
অজয় অবাক বিষ্ময়ে তাকিয়ে রইল এ আবার কেমন কম্পিউটার!রোবট দ্রুততার সহিত অজয়কে জিজ্ঞাসা করছে আর রোবট দ্রুতই সেই সব সাইটগুলো হ্যাক করছে।
-তোমাদের দেশে কি কি মোবাইল ফোন অপারেটর আছে দ্রুত বলো।
-টেলিটক,বাংলা লিংক,এয়ারটেল,রবি,গ্রামীন ফোন।
-সবচেয়ে পুরনো কোনটি?
-গ্রামীনফোন।
-ওকে,,,,,,দ্রুত দু হাত চালিয়ে একের পর এক দেশের কোচিং সেন্টারগুলোর টিচারদের মোবাইল নম্ভর হ্যাক করছে না পেয়ে দ্রুত ডিলিট করছে।এভাবে প্রায় কয়েক হাজার নম্ভর হ্যাক ও চেক করা হয়।নাহ্ কোথাও কোন ক্লু নেই,,,,হঠাৎ তার মনে পড়ল কোচিং সেন্টারের অফিস বয় গুলোর কথা।প্রথম ধাপেই সন্দেহ হল এবং পেয়েও গেলো।একটি স্বনাম ধন্য কোচিং সেন্টারের অফিস বয়।তার কর্ল রেকর্ডটি ওপেন করল,হ্যা স্পষ্ট কথা ভেসে আসছে।সার্চে সাফল্য পেয়ে হিতাহিত জ্ঞান ভুলে আনন্দে হঠাৎ রোবট ইউরেকা বলে চিল্লান দিলে বন্ধু অয়ণের ঘুম থেকে জেগে যায় এবং এ ঘরে ঢুকতে দরজায় নক করছে।আনন্দে দরজা খুলে অজয়।সাফল্যের ভাগিদার হলো তার বন্ধুরা।
ফোন রেকর্ডে জানতে পারল কোথায় তা ছাপাতে দিয়েছেন।শুরু হলো ছাপানো কারখানাটির হ্যাক।না নেই কোন অনলাইনেই শো করছে না।তাহলে উপায় অজয় ঘড়িতে লক্ষ্য করে দেখল রাত অনেক হয়ে গেছে এবার ঘুমাতে যাওয়া দরকার।
-সমস্যা নেই আমরা কাল সকালেই ঐ কারখানায় যাবো।সবাই ঘুমোতে যাও কাল ফাষ্ট আওয়ারে আমরা সেখানে পৌছব।
ফোন রেকর্ড হতে ঠিকানাটা নোট করে নিল রোবট।সেও কিছুটা রেষ্ট নিতে নিজ রুমে মানে বন্ধুদের রুমে এলো।

সকালে হেদায়েত সাহেব বেড টি হাতে নিয়ে চুমুক দিয়ে চা পান করছেন আর টিভির স্কিনে চোখ রাখছেন।হঠাৎ এক খবরে তার চেতন ফিরে এলো।খবরটি হলো বাংলাদেশে এই প্রথম কোন ভিন গ্রহের এলিনের আগমন।যদিও সেই আগত অতিথিটি কারো নজরে পড়েনি কিন্তু এ দেশের কিছু বিশিষ্ট গবেষক তার ছায়া দেখতে পেয়েছেন যা দূর্গের ভিতর এর প্রমাণ প্রমাণীত হয়েছে।এখন দেশের প্রশাসন তাকে খুজতেঁ বেরিয়ে পড়েন দুর্গের বিভিন্ন আনাচে কানাচে।এই খবরটি যখন টিভিতে প্রচার হচ্ছে তখন মনে পড়ল অজয়ের কথা তার গবেষক বন্ধুর কথা।ফোন করলেন বন্ধুকে।
-হ্যালো,
-হ্যা বল কেমন আচিস?
-ভাল খবর দেখেছিস?
-না,
-ওরা কোথায়?
-এইতো সবাই মিলে বাহিরে গুড়তে গেলো।
-বলিস কি তুই ওদের একা ছাড়লি কি করে!
-কেনো?তাতে কি হয়ে,ওরা বলল এই আশে পাশেই থাকবে।
-না,এমনি!যদি ওরা পথ হারিয়ে ফেলে তাই?
-কোন চিন্তা করিস না।আমি আছিতো!তাছাড়া অজয়ের ফোন নম্ভর আমার কাছে আছে।
-আচ্ছা,ওদের দেখে রাখিস,রাখলাম।।
অছয় অয়ণ দুজনে বেড়িয়ে পড়ল ছাপা কারখার উদ্দ্যেশ্যে।কাধে ব্যাগে ভরে ঝুলিয়ে নিল রোবটিকে।অজয় মোবাইলে অনলাইনে লোকেসন দেখে দেখে এগুচ্ছে।হঠাৎ ফুটপাতে বসা পত্রিকার দোকানে পত্রিকার দিকে নজর পড়ল।প্রথম পেইজেই বড় হেড লাইনে একটি নিউজ “বাংলাদেশে এলিয়েনের আগমন”।।কিছুক্ষণ থমকে দাড়িয়ে পত্রিকাটি হাতে নিয়ে পড়ল।তারপর এগিয়ে চলল গন্তব্য স্থানে।

একে বেকে সরু রাস্তা দিয়ে সেই ছাপা কারখানায় অবশেষে পৌছাল তারা।ছোট ছাপা কারখানাটিতে যখন তারা পৌছল তখন কারখানার মালিক ছিলো না যখন মালিক আসল তখন তাকে দেখে বুঝাই গেলো না সে একজন ব্যাবসায়ী।তার অনবরত ফোনে কথা বলা দেখে অজয় বুঝতে অসুবিদা হলো না যে সে কোন এক দলীয় ছত্র ছায়ার নেতা।ফোনটা রেখে অজয়কে দেখে জিজ্ঞাসা করল।
-কে তোমরা কি চাও?
-অজয়’একটি লেখা ছাপাবো।
-ও আচ্ছা,এই করিম দেখতো এদের কি কাজ।
এরমধ্যে আবারো তার মোবাইলে ফোন কল আসে।সে অত্যান্ত বিনয়ের সাথে সালাম দিয়ে কথা বলছেন।অজয়ের কানটা ছিলো তার কথার দিকে।
-না স্যার না কোন সমস্যা নেই,কেউ বুঝতে পারবে না।এ ব্যাপারে আমি আপনাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি তবে স্যার আমার ফি টা একটু দেইখেন।বুঝেনইতো এক নম্বর আর দুই নম্বর বলে কথা।জি জি আছে একেবারে লকারে চাবি আমার কাছে।হ্যা আজ রাতেই কাজটা সেরে ফেলবো।
লোকটি লকারের শব্দটা উচ্চারণ করার সাথে সাথে ব্যাগের ভিতরে রোবট আনন্দে আটখানা।অজয় রোবটের সংকেত পেয়ে তাকে ব্যাগ থেকে খুলে একটি টেবিলের উপরে রাখল।ইতিমধ্যে মালিক ফোনে কথা বলতে বলতে কারখানা হতে বের হয়ে গেলেন।
রোবট টেবিলে দাড়িয়ে নজর দিল লকারের দিকে।রোবটের স্কেন মেমোরিতে দ্রুত স্কেন করতে লাগল।লকারের ভিতরে সকল কাগজ পত্র একের পর এক স্কেন করলেন।এর মধ্যে পাশের মসজিদ হতে যোহরের আযান ভেসে আসছে।কারখানার কর্মচারী এক জন ঐ করিম মিয়া আর একজন অপারেটর।অপারেটর এখনো কারখানায় আসেননি তাই সে দুপুরে খেতে বাসায় যাবেন বলে ছেলেটি অজয়কে একটু বসতে বললেন।
-ছোট ভাই তুমি একটু বসো আমি বাসা থেকে আমার আর কারিগরের খাবার আনতে যাবো।এসেই তোমার কাজটি হাতে নেব।বসবে একটু?
-হ্যা হ্যা সমস্যা নেই।
করিম কারখানা থেকে বের হতে আলতু ভাবে হাত পড়ল রোবটির উপর।চমকে উঠে সে যেন হাতে বিদুৎ এর সর্ট খেল।হাতটি হঠাৎ সরিয়ে ফেলেন।তারপর রোবটটির দিকে ভাল করে তাকালেন।
-বাহ্ পুতুলটিতো বেশ সুন্দর।তবে এর বডি এতো গরম কেনো?
-আরে ও কিছু না অনেক সময় চালিয়েছিতো তাই ওর বডি একটু গরম হয়েছে এই আর কি।
-ও আচ্ছা!ঠিক একটু খেয়াল রেখ।
মাথা নাড়ালেন অজয়।পাশে বসা অয়ণও সায় দিলেন।লোকটি বেরিয়ে যাবার সাথে সাথে রোবটের মেমোরিতে রাখা প্রশ্নগুলো চেঞ্জ করে নিজের পশ্চাৎদেশ হতে প্রিন্ট হয়ে বের করলেন দুটো কাগজ।তারপর সে লকারের লকের দিকে লক্ষ্য করলেন।খুলে গেল লকারের তালা।সেই লকারের ভিতর হতে আসল প্রশ্নপত্র বের করে রোবটের চেঞ্জ করা প্রশ্নপত্র ঢুকালেন।অতপর মার তালা।লকার ঠিক আগের মতই হয়ে গেল।ওদের কাজও আপাতত শেষ।এরই মধ্যে লোকটি খাবার নিয়ে এলেন।
-কি খবর ছোট ভাই কেউ আইছিল?
-না,
-আচ্ছা তোমার কাজটি দাও
-না মানে এই যে একটা পোষ্টার ছাপাবো এই রোবটের ছবি দিয়ে।কত কি দাম পড়বে তাই জানতে এলাম।
-ও আজকে অর্ডার দিবে না?
-না শুধু টাকা কত লাগবে তা জেনে আগামীকাল এ্যাডভান্স নিয়ে আসব।
-একশ ছাপাতে মিনিমাম তিন হাজারে পড়বে।
-ও আচ্ছা আজ তাহলে আসি।
-ঠিক আছে।
-ধন্যবাদ
রোবট যখন লোকটিকে ধন্যবাদ দিলেন তখন লোকটি অবাক হয়ে গেল।লোকটি কোন কিছু বুঝার আগেই অজয় রোবটটিকে দ্রুত ব্যাগে ভরে কাধে নিয়ে দোকান হতে বেরিয়ে পড়লেন।

ও আমার দেশের মাটি তোমার পায়ে ঠেকাই মাথা”মনের আনন্দে চমৎকার গান গাইছেন রোবটটি।অজয় তাকে কাধে নিয়ে নিউ মার্কেটের দিকে গেল।জনগণের কত টাকা যে আছে তা মার্কেটগগুলোতে না এলে বুঝা যায় না।গানের তালে আনন্দে অজয় অয়ণও কম যায় না।রীতিমত অয়ণতো চলন্ত গাড়ীয় রাস্তায় ব্র্যেক ডেন্স দিতে দিতে হেটে যাচ্ছে।তা দেখে অনেকে মোবাইল ক্যামেরায় ছবি তুলছেন।এর মধ্যে ব্যাগে থাকা রোবট অজয়কে বলছেন।
-বন্ধু!আমার অবস্থাতো খারাপ।
-কেনো?কি হয়েছে?
-আমাকে যেতে হবে।
-মানে!
রাস্তার পাশে একটি ল্যাম্প লাইটের খাম্বার পাশে থমকে ধাড়ালেন অজয় ও অয়ণ।এর পর ব্যাগটিকে চোখ সম্মুখে ব্যাগের আংটায় হাত দিয়ে ঝুলিয়ে ধরে কথা বলছেন।
-মানে কিছু নয়।এটা আমাদের জগতের নিয়ম।কেউ দুদিনের বেশী এলিয়েন জগতে অনুপস্থিত থাকতে পারবে না।আমিতো দুদিন পার করে দিচ্ছি।ইতিমধ্যে আমার মেমোরিতে রেড এলার্ড এসে গেছে।
-ও আচ্ছা তুমি যে এখানে মানে পৃথিবীতে এসেছো তোমাদের কেউ কি জানেন না?
-সবাই জানে না তবে আমার লিডার জানেন।তার সাথে চ্যালেঞ্জ করেছি পৃথিবীর মানুষের সাথে আমি মিশবো তেমনি ভাবে যেমনি তোমরা তোমাদের দৈনিক কাজ কর্ম সহ সাংসারিক হও।লিডার বলেছিল পৃথিবীর মানুষ অনেক খারাপ।অনেক চালবাজ দয়া মায়াহীন।আমি নাকি তোমাদের সাথে মিশলেই তোমরা আমাকে ধ্বংস করে দিবে।তখন আমি তাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম পৃথিবীতে আমি যাবো মিশবো এবং ওদের ভালবাসা অর্জন করতে আমি সক্ষম হব।আর তার ফলশ্রুতিতে আমি তোমাদের এ সব অপারেসনে নেমেছি।আমি বা আমরা এ মিশনে কামিয়াব হলে নিশ্চয় জনগণ আমাকে ভালবাসবে।কি বলো বন্ধু অয়ণ।
-হ্যা অবশ্যই।
-কিছুই করার নেই বন্ধু এখন এই মুহুর্তে আমাকে বিদায় নিতে হবে।তোমরা আমাকে কোন নির্জন স্থানে নিয়ে চল।
অয়ণ অজয় দুজনেই চার দিকে তাকাচ্ছেন।এই ঢাকায় নির্জন নীরব স্থান আর কোথায়!তবুও ওরা একটু নীরব স্থানে গেলেন যেখানে গাড়ীর হর্ণ না বাজলেও টুকটাক মানুষ জনের চলাচল আছেই।ব্যাগ থেকে রোবটকে বের করল।রোবট আলোর বিচ্ছুণ যথা সম্ভব কমিয়ে হঠাৎ মিশে গেলেন ঐ দুর আকাশের দিকে।তবুও তার যাওয়ার রেস থেকে যায় বাতাসে।অনেকটা রকেটের মতন সাদা সরু রেখা তৈরী হয় আকাশে বাতাসে।অনেকে তার চলে যাওয়া সরাসরি দেখে ফেলেন।তবে আন্দাজ করতে পারেননি কিছুক্ষণ আগে এখানে প্রকৃত কি ঘটনা ঘটে ছিল।শুধু বিজলির মত চমকাতে দেখলেন।টিভি সাংবাদিকক ক্যামেরা ম্যানরা তার চলে যাওয়া পদ চিহ্নটি ভিডিও করছেন।প্রত্যাক্ষ স্বাক্ষীর জন্য এর মধ্যে এক জন সাংবাদিক টিভি ক্যামেরা নিয়ে তাদের সামনে এলেন।
-তোমরাতো এই আলোর নিকটবর্তীই ছিলে তা তোমরা কি কোন কিছু দেখেছো?
ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল অজয় ও অয়ণ।কি বলবে তারা!
-না মানে কিছুইতো দেখলাম না।
-ও আচ্ছা!
-ভাই আমাদের একটু তাড়া আছে।আমরা গেলাম।
এরই মধ্যে আরো অনেক টিভি ক্যামেরাই তাদের সামনে আসছিল।তারা অত্যান্ত কৌশলে তা এড়িয়ে গেল।

এস এস সি পরীক্ষা শেষ হয়নি চলছিল বেশ বাকী বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপর।এরই মধ্যে শহরে একটি প্রভাবশালী লোকের সাথে ঝগড়া হলো শিক্ষামন্ত্রণালয়ের পিয়নের সাথে।বিষয় ছিল প্রতারণা করা।ঝগড়াটি এক সময় এমন এক পর্যায়ে চলে যায় দ্বিতীয় দফায় পিয়নকে এমন ধোলাই দিলেন সেই প্রভাবশালী ব্যাক্তির লোকজন যা তাকে হাসপাতালের বেডে শুইতে হয়েছিলো।এর পর পরই মিডিয়ার মাধ্যমে ঝগড়ার কারনও স্পষ্ট হয়।প্রশ্ন ফাসে জরিতদের সংখ্যা মানে টাকার ভাগ বাটোয়ারের সংখ্যা বাড়তে থাকে।এক সময় বেড়িয়ে আসে থলের কালো বিড়ালটিও।সরকার বিপাকে পড়লেন,মন্ত্রীপরিসদ রদ বদল।কারন প্রশ্ন ফাস ছিলো বাঙ্গালী জাতি ধ্বংসের পায়তারা।যে জাতি যত শিক্ষিত সে জাতি তত উন্নত কথাটি সুশিক্ষায় কুশিক্ষা বা নকল করে নয়।শিশু কিশোদের মনে রাখা বাঞ্ছনীয় লেখা পড়া কেবলি চাকুরী বাজারের জন্য নয় লেখা পড়া নিজ জ্ঞান অর্জনের জন্য বেশী অপরিহার্য।নকল বা প্রশ্ন পত্র ফাস হওয়া প্রশ্নপত্র দিয়ে কেবল মাত্র পাস হওয়া যায় কিন্তু সুশিক্ষিত হওয়া যায় না আর এ ভাবে পরীক্ষা দেয়া মানে নিজেকে নিজের বিবেকের কাছে অপরাধী করা তাই এ সব নকল বা প্রশ্নপত্র ফাস হওয়া প্রশ্নগুলোকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে এসো না বলি সত্য সুন্দর জ্ঞান অর্জনের পথে চলি।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া
    মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া সবচেয়ে ভালো লাগল সবশেষ লাইনটি। প্রশ্নপত্র ফাঁস জাতীর জন্য গলার ফাঁসের মতো। কি হচ্ছে এসব! যা হোক ভালো লাগল গল্পটি। আপনি অনেক দিন ধরে গল্প ও কবিতা পড়ছেন জেনে ভালো লাগল। তবে আপনি সায়েন্স ফিকশন লিখলেও ভালো করবেন। ধন্যবাদ বন্ধু। পছন্দ, ভোট ও শুভকামনা রইল।
    প্রত্যুত্তর . ৫ ফেব্রুয়ারী
  • ম নি র  মো হা ম্ম দ
    ম নি র মো হা ম্ম দ সত্য সুন্দর জ্ঞান অর্জনের পথে চলি।
    ভোট ও শুভকামনা রইল।আসবেন আমার কবিতার পাতায় আমন্ত্রণ!
    প্রত্যুত্তর . ১২ ফেব্রুয়ারী
  • সালসাবিলা নকি
    সালসাবিলা নকি খুব ভালো লিখেছেন? তবে এটা তো বিষয়বস্তুর সাথে মিলেনি।
    প্রত্যুত্তর . ১৩ ফেব্রুয়ারী

advertisement