লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৪ জুন ১৯৯৩
গল্প/কবিতা: ২৬টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftভয় (এপ্রিল ২০১৫)

অভিশাপ
ভয়

সংখ্যা

মোট ভোট

রূপক বিধৌত সাধু

comment ৯  favorite ০  import_contacts ১,২৪৭
নারাঙ্গী বাজারে এসে যখন গাড়িটা থামল, তখন অনেক রাত্রি । অন্ধকারে পথঘাট ঠিক মতো দেখা যাচ্ছেনা । মা শবনম বেগম আর তাঁর কিশোরী মেয়ে সুমাইয়া বেশ বিপদেই পড়ল । ঢাকা থেকে এসেছে তারা । কী এক ঝামেলায় পড়ে এত দেরি! তারা যাবে মরচী গ্রামে, সেটা এখান থেকে অনেকটা দূরে । বাজারে পরিচিত কোন লোক থাকলে হয়তো সহযাত্রী হতো । কোথাও কোন সাড়া শব্দ নাই । মা মেয়ের ভয় করতে লাগল ।
কিশোরী মেয়েটা ভীত হয়ে বলল, ‘‘মা, এহন কী অইব?’’ মা আর কী বলবেন! তাঁর উত্তর জানা নেই । তাঁর সব ভয় মেয়েটাকে নিয়েই । মেয়েটা যুবতী । দেখতে বেশ সুন্দরী! যদি কারো কুনজরে পড়ে! এই অজ পাড়া গাঁয়ে, তা অস্বাভাবিক নয় । অহরহ এখানে দুর্ঘটনা ঘটে ।
তবু মনে সাহস রেখে বললেন, ‘‘ভয় করিসনা । চল ।’’ মা আর মেয়ে দক্ষিণের রাস্তা দিয়ে হাঁটতে লাগল । তাদের মনে আতঙ্ক । পথে কী জানি কী বিপদ হয়! কিছুদূর যাওয়ার পর একটা দু-তলা বাড়ি । সেখানে পিদিম জ্বলছিল । জুয়া খেলে কয়েকজন লোক রাস্তায় দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছিল । হঠাৎ দুজন স্ত্রীলোককে আসতে দেখে একজন বলে ওঠল, ‘‘এত রাইতে কই যাইন আপনেরা?’’
মা শবনম বেগম চমকে দাঁড়ালেন । আতঙ্কিত হয়ে বললেন, ‘‘আমরা মরচী যামু ।’’ লোকটার নাম খালেক । নিজের পরিচয় দিয়ে বলল, ‘‘এত রাইতে যাইতে পারতাইন না! ডাকাইতে ধরব!’’ বাস্তবিকই রাস্তাঘাট ভালো না । অহরহ ডাকাত পড়ে ।
‘‘আমরা কী করি, কইন তো! দুইডা মাইয়া মানুষ!’’ মহিলার কান্নার উপক্রম । খালেক বলল, ‘‘আপনেরা এই বাড়িতে থাইক্কা যাইন । ঘর খালি আছে । সকালে যাইয়েন ।’’
মেয়েটা ফিসফিস করে মাকে বলল, ‘‘লও এইহানে থাইক্কা যাই । কী আর অইব?’’ মহিলা কী যেন ভাবলেন । খালেক বলল, “ভয়ের কিছু নাই ।”
‘‘বাড়িতে নিশ্চয় কোন মহিলা আছে । কী আর হবে।’’ মহিলা এই ভেবে রাজি হয়ে গেলেন । তিনি অনুধাবন করতে পারলেন না, কী পরিণতি অপেক্ষা করছে!
বাড়িতে কোন স্ত্রী লোক নাই । এ ব্যাপারে খালেককে জিজ্ঞেস করলে সে বলল, ‘‘আমার বউ বাপের বাইত গেছে । আমরা বন্ধুরা আছি ।’’ সে অদ্ভুতভাবে হাসল । মহিলা ভিমড়ি খেলেন । চুপচাপ বসে রইলেন, আর কিছু জিজ্ঞেস করলেন না । তাদের রাতের খাবার দেয়া হল । মা মেয়ে খেয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ল ।
শেষ রাতের ঘটনা । জুয়া খেলায় হেরেছে খালেক । মদ খেয়ে পুরো মাতাল অবস্থায় সে । বন্ধুরা বিদায় নিয়েছে আজকের মতো । মা মেয়ের দরজায় কড়া নাড়ল সে । মহিলা ভেতর থেকে বললেন, ‘‘কেডা?’’
খালেক নিজের নাম বলল । মহিলা কপাট খোলে বাইরে এলেন । নিজের মেয়ের সর্বনাশ ডেকে আনলেন তিনি । খালেক কাপড় দিয়ে তার মুখ বেঁধে ফেলল, যাতে টুঁ শব্দটাও না করতে পারে । তারপর বারান্দায় মহিলাকে খুঁটির সাথে বেঁধে রাখল । কিশোরী মেয়েটা তখন ঘুমোচ্ছিল । খালেকের ধাক্কায় জেগে ওঠল । খালেক তাকে কিছু বলার সুযোগ দিলনা । উলঙ্গ করে তার ওড়না দিয়ে নাক-মুখ বেঁধে ফেলল । শুধু চোখ দুটি খোলা রাখল । তার লোলুপ দৃষ্টি পড়ল কিশোরীর বুকের দিকে । সবে কৈশোরে পদার্পণ করেছে মেয়েটা । শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গ এখনো ছোট । দেখতে চমৎকার লাগছে! কোন পুরুষের স্পর্শ লাগেনি এখনো । খালেক পশুর মত ঝাঁপিয়ে পড়ল কিশোরীর ওপর । প্রথম কামড় বসাল কিশোরীর স্তনের ওপর । মেয়েটা কেঁপে ওঠল । স্তন কেটে রক্ত ঝরছিল । তারপর তার সারা শরীরে কুকুরের মত কামড়াল মাতাল খালেক । মেয়েটার চক্ষু বেয়ে অশ্রু ঝরছিল । মাতালের অন্তরে বিন্দু পরিমাণ মায়াও উদয় হলোনা । বাচ্চা মেয়েটাকে বর্বরের মত ধর্ষণ করতে লাগল উন্মাদটা । যোনি ফেটে রক্তে নৈরাকার হয়ে গেল । মাতালের খেয়াল যেন আরও বাড়ছিল । এভাবে একাদিকবার মেয়েটাকে ধর্ষণ করল খালেক সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত । তার বর্বরতায় প্রকৃতিও কেঁদে ওঠেছিল । রাতের শেষ প্রহরে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয় ।

সকাল হওয়ার একটু আগে মা আর মেয়েকে ছেড়ে দেয় খালেক । এলাকায় আপনজন বলে তাদের তেমন কেও নেই । তার ওপর খালেক বেশ প্রভাবশালী । মহিলা কোথায় আর কার কাছে এই অন্যায়ের বিচার দিবেন! অভাগী মা নিভৃতে শুধু কাঁদলেন । আর চলে যাওয়ার সময় কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, ‘‘আমার মাইয়ার যে ক্ষতি তুই করলি, আল্লায় তোর বিচার করব । ছয় মাসের মইধ্যে তোর মরণ অইব ।’’
অলৌকিক হলেও সত্য । ছয় মাসের মধ্যেই খালেকের মৃত্যু হয় । যে বন্ধুদের সাথে সে জুয়া খেলত, নানান কুকাজে লিপ্ত থাকত; একদিন তারাই তাকে মদের সাথে এসিড খাইয়ে মেরে ফেলে । বেচারার ভেতরের সবকিছু একেবারে পুড়ে গিয়েছিল । জানা যায়, ঘরে বাইরে তার শত্রুর অভাব ছিলনা । পয়সাওয়ালা হওয়ায় তার মাঝে এক প্রকার দম্ভ ছিল । বাজার করতে গেলে পুরো বাজারটাই নিয়ে আসত । অন্যদের সে কোন মূল্য-ই দিতনা । শত্রুরা-বন্ধুরা কেও আর তাকে বাড়তে দিতে চায়নি ।
ধীরে ধীরে তার পরিবারটাও ভেঙে পড়ে । স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে - কে কোথায়; এর কোন হদিস-ই পাওয়া যায়নি । লোক মুখে শোনা যায়, তার একমাত্র ছেলে রোকনের নাকি বাপের মত-ই নারী আর মদের প্রতি প্রচণ্ড আসক্তি । এ যেন পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া উত্তরাধিকার ।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement