সেই তো তুমি এলেই বড়ো দেরি করে,
এতক্ষণে অভিমানী চলে গেছে দূরে ।
তোমার আশায় তার কেটেছে যে নিশি
অনাহারে, অনিদ্রায়- পথপানে বসি ।
হাড় কাঁপানো শীতে খুঁজেছে কতো স্থানে,
লুকিয়েছিলে কোথায় অতি সন্তর্পণে!
তোমার হৃদয় মাঝে পাবে বলে ঠাঁই,
ঘুরেছে যে কতো পথ তার অন্ত নাই ।
পরিজন সব ছাড়ি গেল সে তোমার বাড়ি,
তারে না বাসলে ভালো- শূন্য হাতে এল ফিরি ।
তোমারেই ভালোবাসি হল সে সন্ন্যাসি,
তীর্থে তীর্থে ঘুরে ফেরে, দূর পরবাসী ।
পরিজন কেও আর নেই সংসারে,
সকলেই চলে গেছে আঁধার কবরে ।
শূন্য ভিটায় কখনো কোন দ্বিপ্রহরে
বানরেরা নাচানাচি, খেলাধুলা করে ।
খাঁ খাঁ করে রৌদ্র বাড়ির উঠোনে,
মৃত্যুপুরী যেন এক- ঘুঘু ডাকে বনে ।
একেলা এসেছ তুমি এ সন্ধ্যাবেলায়,
ঢের দেরি হয়ে গেছে বিলুপ্ত অধ্যায় ।
সময়ে যে চিনলেনা, চিনেছ হে পরে;
এখন কী লাভ বল, বৃথা খুঁজে ফিরে ।
মাঝে মাঝে সে আসে অমাবশ্যার রাতে,
চুপিচুপি কথা বলে আকাশের সাথে ।
থাকে কল্পলোকে, আসেনা কারোর ডাকে;
সে যে অভিমানী- পাবেনা তো আর তাকে ।
অবিরাম বয়ে যাবে পৃথিবী, সময়;
আসবেনা আর, শুনবেনা অনুনয় ।