ছোট্র মেয়ে সুষমা ধীরে ধীরে বড় হয়েছে
সেই সাথে বড় হয়েছে তার ভেতরের আজন্ম
ছোট্র ছোট্র বোধেরা, বড় হয়েছে তার স্বপ্ন দেখার
প্রাণবন্ত পৃথিবীর পরিধি।

ষোড়শী সুষমার বাড়ন্ত শরীরে প্রকৃতির রং রূপ
ছড়িয়ে পড়েছে সময়ের হাত ধরে, জাগিয়ে তুলেছে
তার ঘুমন্ত প্রাণ পাড়ি দিতে জীবনের অবারিত পথ,
ছিনিয়ে নিতে আপনার অধিকার।

পুলকিত চোখে কিশোরী মুক্ত আকাশ দেখে বিস্ময়ে,
ছুটে যায় খোলা মাঠে বেণী দুলিয়ে, পাখির সুরে সুর মিলিয়ে
গায় গান, দখিন হাওয়ায় দোলানো পাতার তালে তালে নেচে
বেড়ায় নির্মল আনন্দে, ফুলের হাসি মেখে প্রাণে; হাসে উচ্ছ্বাসে।

সেকি! এতসব সূন্দর, এতসব নির্মল আনন্দে একি বীভৎস ছায়া,
একি নোংরা কালো হাতের নির্লজ্জ থাবা, একি সর্বগ্রাসী
লালসার রক্তাক্ত চোখ, একি বিষাক্ত বিকৃত ভয়াল হাসি।
সুষমার নির্ভেজাল অন্তরে আজ মানুষের ভয়।

প্রকৃতির শত ভয়ের ভিড়ে মানুষকে যেন মানুষের
বড় ভয়, ষোড়শী সুষমার আজন্ম সব অধিকার
বন্দী হয়ে যায় মানুষের বিচিত্র বোধের কারাগারে,
গুমরে গুমরে কাঁদে তার সাজানো স্বপনেরা।