বোধের নির্মলতায় যে অপরাজিত; বোধের পরাজয় তার
কাছে নির্মম, অপ্রত্যাশিত, অসহ্য। জীবনের ভাঁজে ভাঁজে
বোধের নানা রং জীবনকে করে বিচিত্র, বিকশিত, সংকোচিত
উদাসীন, উদভ্রান্ত, উদ্বেলিত আর উচ্ছ্বসিত।

বোধের অবাধ বিচরণ প্রাণের ভেতর আজন্ম, অনাদি-অনন্ত।
সভ্য মানুষের মাঝে অশুভ বোধ নিয়মের শৃংখলে বাধার প্রয়াস
মহাকাল ব্যাপি; তবু আধিপত্য তার অসীম অনন্ত, পাওয়া না পাওয়ার
ঘোরে অস্থিরতায় ভোগে অসহায় প্রাণ।

ভালবাসা সকল বোধের এক শ্রেষ্ঠ বোধ, যেমনি সে নশ্বর জীবনকে
করে তোলে সুন্দর সুখময় তেমনি করে তোলে বিষাক্ত, বিভান্ত
আর বিষণœ-বিবর্ণ। অপরাজিতার কাছে ছিল তা চেনা গল্প, কবিতার
ভাষা আর অনুভূতির অচেনা অধ্যায়।

অপরাজিতা একদিন ভাল লাগার ক্ষণিক আবেগ দেখেছিল,
সহসা একদিন তার হেয়ালী কোমল হৃদয় অস্থির হয়ে উঠল
অচেনা এক যন্ত্রণায়. তার বোধের সবটুকু যেন কালো মেঘের মত
আচ্ছন্ন করে সে শেষ্ঠ বোধ যার নাম ভালবাসা।

যে ভালবাসা সিক্ত অস্থির চোখ দুটি তার চোখে রাখার জন্য অপেক্ষা
করত, যে অধীর মন তার কাছে আসার আকুতি নিয়ে পথ খুঁজত; সে চোখ
এখন অন্য কারু চোখে ভালবাসা খোঁজে, অন্য কারু হৃদয় সমুদ্রে আবেগের
নোঙ্গর ফেলেছে। সেই চেনা মানুষটির ভেতর আজ এক অচেনা মন।

অপরাজিতার বোধের ভুবনে একি অযাচিত অস্থিরতা, একি শূণ্যতা একি
করুণ আর্তনাদ, দখিণা প্রশান্ত বাতাসে যেন ঝড় উঠেছে, আলুধালু হয়ে
বিলাপ করছে তরুলতা। পরাজিত হল অপরাজিতার লালিত অহংকার।
কে যেন বলল এরি নাম ভালবাসা, অসহায় ভালবাসা।