লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮
গল্প/কবিতা: ১৬টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftনববর্ষ (ডিসেম্বর ২০১৪)

শত্রু
নববর্ষ

সংখ্যা

জোহরা উম্মে হাসান

comment ১  favorite ০  import_contacts ৩৩৬
নতুন বছর এলেই মনটা কেমন যেন ভারী ভারী হয়ে যায় নীতার । কেমন যেন একটা হারাই হারাই ভাব । নেই নেই ভাব । অথচ একটু পরেই চারপাশটা কেমন উজ্জ্বল হয়ে উঠবে । চারদিকে চলবে রং আর আনন্দের খেলা । প্রাণের উৎস !
আনন্দ গানে আগামী কালের অপেক্ষা । তর সয়না যেন কারো । আজকের রাতের চাঁদটা ডুবলেই উঠবে আগামী দিনের সূর্য । আগামী দিন মানেই নতুন একটা দিন , অনেকগুলো নতুন সময় আর আশা আনন্দের মালা ! বিগত দিনের কষ্ট দুঃখ ভুলে থাকার জন্যই মাতামাতি !
নীতার ভালো লাগছে না । রাহাতও কেমন চুপচাপ বসে আছে । নীনা তাঁর তিন বছর হয় বিয়ের নতুন বছরের আগে পিছের রাত আর সকালটা জুড়ে দেখছে , এই রাতদিনটাকে রাহাত ক্যামন যেন একটু চুপসে থাকে , একেবারে ফুটো বেলুনের মতো ! তবে প্রথম বছরটা একটু অন্য রকম ছিল বৈকি !
নীতারও ভালো লাগে না । তা কি রাহাতের ভালো না লাগার জন্য কি না তা ঠিক কোরে বোলতে পারবে না সে। কিন্তু তাঁর ভাল লাগেনা তাঁর নিজের জন্যই । চারপাশের এতশত আনন্দের মাঝে নিজের বুকটা ক্যামন জানি একটা হারাই হারাই ব্যথায় বারে বারে কেঁদে উঠে । আর সেটার কারণটা কি তা খুব ভালভাবেই জানে নীতা । নিজের মনে মনে গোপনে লুকিয়ে রেখেছে সে সব দুঃখ ব্যথার কথা !
রাহাত এখন রাতের খাবার খাবে । বেশ একটু স্বাস্থ্য সচেতন রাহাত বিকেলে খুব একটা বেশী কিছু খায় না। কেবল এক কাপ র চা আর দুটো নোনতা বিস্কিট । নীতাও রাহাতের সাথে থাকতে থাকতে এ ক বছরে সল্পাহারী হয়ে গেছে ! রাতের খাবার বেশ সন্ধ্যে সন্ধ্যে সারে রাহাত । নীতাকেও একসাথে বসতে হয় । খাবার খেয়ে রাহাত বের হয়ে পড়ে কলাবাগানের মাঠটায় দুচক্কর দিতে । নীতাকেও সেধেছে সে অনেকবার । কিন্তু নীতা একটু অলস । তেমন খুব একটা প্রয়োজন না পড়লে সে সহজেই বাড়ীর বাহিরে পা রাখে না !
কাঠাল বাগানের যে ছোটখাট ছিমছাম বাড়ীটাতে থাকে নীতা আর রাহাত – তা রাহাতের বাবার । রাহাতরা দু ভাইবোন । বড় বোন গীতআরা কানাডার সিটিজেন । সেখানেই ছেলে পুলে আর স্বামী নিয়ে বেশ সুখে শান্তিতে আছে । মাঝে মধ্যে দেশে আসে । আর তা মূলতঃ ছোট ভাইয়ের সাথেই দেখা করতে । কিন্তু রাহাতের সাথে নীতার বিয়ের সময়েই সে একবার মাত্র এসেছিলো এরপর আর আসাআসি নেই তাঁর । তবে স্কাইপে বোন বা ভাগনা ভাগ্নীদের সাথে নিয়মিত কথা বলে রাহাত । মাঝে মধ্যে নীতাও যোগ দেয় । নীতার বাবা মা ছোট ছোট ভাইবোন সবাই বগুড়া থাকে । বগুড়ার শেরপুরে । নীতাই বাবা মার বড় সন্তান !
ঢাকা ইডেন কলেজে সাইকোলজিতে অনার্স নিয়ে পড়তে এসেছিল নীতা সেই শেরপুর শহর থেকে । হোস্টেলের বড় আপুদের কল্যাণে ছাত্রী হোস্টেলে বেশ একটা ভালো সিট পেয়েছিলো । কিন্তু শর্ত একটাই আর তা হোল দল করতে হবে । সরকার যখন যে দলের সেই দলের মেয়েরাই সেই পাঁচ পাঁচটা বছর অন্যসব সাধারণ মেয়েদের উপর ছড়ি ঘুরায় । দল করা মানে রাস্তায় মিছিলে মিটিং অংশ দেয়া । ভার্সিটির বড় ভাইদের সাথে উঠা বসা করা । নিজের মধ্যে অযথাই কলহ করা ! তবে নীতা নিজেকে এ সব কিছুতে খুব একটা বেশী কোন সময়ই জড়াতে চাইতো না !
এমনি হাল্কাপাতলা রাজনীতি করতে গিয়ে নীতার সাথে পরিচয় হয়েছিল দিনারের । মধ্যবিত্ত ঘরের বেশ ভদ্র ছেলে । লেখা পড়ায়ও বেশ ভালো । ঢাকা ভার্সিটিতে সেও ঠিকে থাকার জন্য নীতার মতই সবার সাথে তাল মিলিয়ে চলে !
পরিচয়ের পর পরই দুজনার দুজনকে ভালো লেগে যায় । এরপর দিনারের একটা বেসরকারি ব্যাংকে বেশ ভালো একটা চাকরী এবং তার পরপরই নীতাকে বিয়ে কোরে ঘরে তোলা । দু পরিবারের অনুমতিতেই বেশ ঘটা করে প্রথম বিয়েটা হয়েছিল নীতা আর দিনারের।
দিনগুলো চলছিলও মন্দ না। নীতা সময় কাটানোর জন্য মোহ্নমদপুরের একটা কিন্ডার গাটেন এ চাকরি নিয়েছিলো । দিনারের ব্যাংক থেকে ফিরতে বেশ একটু রাতই হতো , ব্যাংকের চাকরির যা হয় আর কি । দিনার বাড়ী ফিরলে সারাটা সময় হৈ চৈ আর মহা আনন্দে যে কিভাবে দুজনার সময় কেটে যেত তা কেউ জানতো না । শেষে দিনারকে সকাল সকাল রাতে ঘুমাতে যাবার জন্য জোর তাড়া লাগাতে হোত নীতাকেই ।
আর নুতুন বছরের আগের রাতটা ছিল একেবারের আলাদা । নীতা আর দিনার সেসব রাতগুলোতে বন্ধু বান্ধবের সাথে পার্টি আর নাচ গান খাওয়া দাওয়া করে উদাস হয়ে যেত । তারপর পরদিন সারাদিন ভর মহাঘুম ।
এই সব সুখ খুব বেশীদিন ভাগ্যে সইলো না নীতার । আর তা যেদিন ডাক্তারি পরীক্ষায় প্রমাণ হোল নীতা কোনদিন মা হতে পারবে না । তাঁর ওভারীতে মারাত্মক রকমের জন্মগত ত্রুটি রয়েছে । ব্যাস ! এরপর থেকেই দিনার একেবারেই পাল্টে গেল । একেবারে আগের উল্টোটা ।
নীতা ভেবে পেত না, সেকি কিছু নয় ? তাঁর নিজের একেবারেই কোনই মূল্য নেই । সন্তান জন্ম না দিতে পারলে কি নারীর নারীত্ব , অস্তিত্ব সব -সব একেবারেই শেষ হয়ে যায় ! নারী কি শুধুই মা হবার জন্য এ পৃথীবিতে আসে ? কন্যা , জায়া , ভগিনী , সখী এ সব সব রুপ কি জন্মগত একটা ত্রুটির কাছে অসহায় । কার কাছে মনের দুঃখের কথা বলবে সে । বিধাতার কাছে কি ? দুটি ডাগরও আঁখি যদি দিয়েছিলে সেকি তোমারি পানে ভুলে পড়িবেনা , তাই তো বলেছিল সে !
ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল দিনারের সঙ্গে নীতার এক কলমের খোঁচায় । নীতাই এ ব্যাপারে বড় ভূমিকা পালন করলো । তবে দিনারের ভাইবোন মা , কেন জানি নীতার পক্ষেই কথা কইলেন । বললেন , ওর কি দোষ । তোর নিজের যদি এমন হোত তাহলে কি তোর বউ তোকে ছেড়ে চলে যেত । আর একটু ধৈয্য ধরে দ্যাখ। কত চিকিৎসা আছে দেশের বাহিরে । কিন্তু দিনার সেসব কথা কানেই তুললো না । এর ওর মুখে শোনাও যাচ্ছিল , দিনারের নাকি তার এক কলিগের সাথে মন দেয়া নেয়া চলছে । তাহলে আর কি ?
এমন একটা নববর্ষের আগের রাতে নীতা তাঁর ব্যক্তিগত টুকিটাকি একটা কালো সুটকেসে ভরে দিনারকে কিছু না জানিয়েই এক রকম বাড়ী থেকে বেড়িয়ে এসেছিলো । এরপর বাবার বাড়ী । তারপরও অনেকদিন নীতার মনে মনে ব্যাকুল প্রত্যাশা ছিল , হয়তো দিনার তাঁর ভুলটা বুঝতে পেরে তাঁকে নিজের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে । নাহ, তেমন সুখকর কিছুই হয়নি । শেষে নীতাকেই উপযাচক হয়ে সম্পর্কটা শেষ করতে হয়েছিলো , তাতে অন্ততঃ নিজের কিছুটা সন্মান বাঁচে । এটাই তাঁর মতো কানার হাট বাজার।

এরপর তিন মাস যেতে না যেতেই দিনার তাঁর সেই কলিগ মেয়েটিকেই বিয়ে করে ঘরে তোলে । দিনার ক্যামন আছে , কিভাবে আছে , বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে কি সুখে আছে তা কোনদিনও জানতে ইচ্ছে করে না নীতার । তারপরও সম্পর্ক বলে কথা ! কোথা থেকে যেন হুট করে তা অতি নির্মমভাবে বুকের মাঝে এসে ঘা দেয় !
রাহাতের সাথে আচমকা একদিন বিয়ে হোয়ে গেল নীতার । নীতার স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির চেয়ারম্যান সাহেবের এর ভাগিনা । একটা ছোটখাট ব্যবসা করে । আয় ইনকাম একেবারেই ফেলে দেবার মতো নয় । তবে রাহাতেরও এর আগে একবার বিয়ে হোয়েছিল । বউ তার নিজের খালাতো ভাইয়ের সাথে চলে গেছে । বিয়ের আগে থেকেই নাকি প্রেম ছিল তাঁদের ।
নীতার ইচ্ছে ছিল না একটুও এভাবে নুতুন একটা সম্পর্কে জড়িয়ে পরার । কিন্তু মা বাবা আত্নীয় স্বজন আর কলিগদের চাপে এ বিয়ে কোরতেই হল ! তারমতো কম বয়সী সুন্দরী মেয়ে একা একা থাকবে কি করে এই রাজধানী শহরে ! তবে নীতা খুব ভাল্ভাবেই জানে , তাঁর এ বিয়েটাও আগের মতই ফস কোরে জ্বলে উঠে একদিন ধপ কোরে নিবে যাবে ! তারপরও ঘর বাঁধার একটা গভীর আকুতি তাঁর নারী মনকে লোভী করে তুলেছিলো । বলি বলি করেও সে রাহাতকে তাঁর মা না হতে না পারার ব্যথতার কথাগুলো বলতে পারেনি ।
রাহাতের ভালবাসা তাঁর আগের দুঃখ আর যন্ত্রণাগুলোকে একটু একটু কোরে যে ভুলিয়ে দিচ্ছে তা বেশ ভালভাবেই অনুভব কোরতে , বুঝতে পারছিল নীতা । কিন্তু এ সুখ আর কতদিনের ?
এইতো আজকে নয় কালকে , কাল নয় পরশুতেই রাহাত জেনে যাবে নীতার মা না হোতে পারার সযতনে লুকিয়ে রাখা কারণটা । তারপর ? তারপর এক ফুঁয়েই সব শেষ । দিন এক এক করে গুনছে যেন নীতা । একটা একটা কোরে দিন যায় আর ঘুরে ঘুরে আসে বছর । নতুন বছর । কত নতুন আশা আর আনন্দের । কিন্তু নীতার জীবনে আশা বলে কিছু নেই । তাঁর কাছে নতুন বছর মানেই – অনেকগুলো দিনতো গেল , আর কতদিন । এবার দড়াদড়ি গোছাও । তৈরি হয় নিজের বর্তমানকে ভুলে যাবার । ভালবাসা মুছে ফেলার ।
মাঝে মাঝে রাহাতকে নিজের মনের সব কথা , কষ্টের সব কথা খুলে বলতে চায় নীতা। দেখাতে চায় কাঠের ওয়ার্ড রোবে চুপ করে লুকিয়ে রাখা সেই সব ডাক্তারি পরীক্ষার জটিল সব কাগজ পত্র । কিন্তু পারে না । বারে বারে সংসার করার সেই ভয়ানক ইচ্ছেটা তাঁকে বোবা , নিশ্চল বানিয়ে রাখে ! কিছুই বলতে পারে না সে রাহাতকে।
নতুন বছর এলেই নীতার মনে পড়ে যাবেই যাবে – দিনারের সাথে আনন্দ ভালবাসায় কাটানো তাঁর সেইসব নিউ ইয়াস ইভগুলোর কথা । আবার সেই একই সময়ে দিনারকে ছেড়ে একবারে চলে আসার যন্ত্রণাটা । নতুন বছরের দিন রাতগুলোতেই !
রাহাত কি নীতার দুঃখ গুলো বোঝে ? কি জানি । সে এমনিতেই শান্ত শিষ্ট । বড়ই চুপচাপ । আর নীতা চুপ করে গেলে , সে আরও চুপচাপ নিস্তেজ হয়ে পড়ে । কিন্তু তাঁকে এত চুপচাপ দেখতে নীতার ভালো লাগে না একেবারেই । নীতা জেন মনেপ্রাণে রাহাতের মধ্যে দিনারকে খুঁজে পেতে চায় ! কিন্তু তারপর কি । ভালবেসে তারপর কি ? আবার সেই খালি মন দিয়ে বিদায় !
এতরাতে বাড়ীর বাহিরে যাবার কি দরকার ? ঘড়ের সামনের উঠোনে হাঁটলেই তো হয় , রাতে বাহিরে যাবার প্রশ্ন এলেই নীতা রাহাতকে প্রায় প্রতিদিনই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এই একই কথা বলে!
রাহাত নরম করে হাসে তারপর শান্তু গলায় বলে , তোমার এতো দুশ্চিন্তা আমায় নিয়ে , তাহলে নিজে আমার সাথে এলেই তো পার !
নীতা আশ্বস্ত হয় । তাহলে রাহাত এখনও তাঁর সঙ্গে আছে । কিন্তু আর কতদিন ? এই পচা নুতুন বছরটা এলেই সে হয়তো তাঁর কানে কানে একজন ন তুন অতিথির আগমনী গান শুনতে চাহিবে ! তখন কি বলবে নীতা ? নিজের ব্যর্থতার কথাগুলো আরও কয়েকটি নতুন বছরের জন্য লুকিয়ে রাখবে নাকি সত্যি কোরেই সেই সুকঠিন পাথরের আড়ালে চাপা দেয়া কথাগুলো বলেই ফেলবে !
রাহাত বাহিরে গ্যাছে । আসলে নীতা বেশ জানে নতুন বছরের এই আগের রাতটা আরও অনেক্ষন ধরে নীতার আড়ালে আড়ালে রাখবে রাহাত । তাই তো সে করে । বিয়ের প্রথম বছরটায় রাহাতও দিনারের মতো আনন্দে ভরিয়ে দিতে চেয়েছিলো নীতার অনেকগুলো সময় ক্ষণ । কিন্তু নীতার কাছ থেকে তেমন কোন সাড়া না পেয়ে রাহাতও নিজেকে গুটিয়ে নিতে নিয়েছে । আর দিনকে দিন কি রাহাতের সেই গুটানো প্রক্রিয়া বেড়েই চলেছে । কি জানি । নীতা আর এমন করে ভয়ে ভয়ে কাল কাটাতে চায় না । অনিশ্চয়তার মাঝে নিজেকে সঁপে দিয়ে সেই সুখী সুখী ভাব দিয়ে সময় কাটাতে চায় না ।
আজকেই সময় । নতুন বছরের আগের দিন মানে বছরের নতুন সূর্যটা উঠবার আগেই তাঁর আনন্দের শেষ দিন । আর কত ? তিন তিনটে বছর তো গ্যালো । ম্যালাগুলো দিন রাত্রির । আবার চার বছরের শুরু । শুরুকে আগেভাগেই শেষ কোরে দিতে চায় নীতা ।
নীতা , নীতা- অনেকদিন বাদে রাহাতের গলার একটা বেজায় উৎফুল্ল ডাক শুনতে পায় সে , ঘরের বাহির থেকে । সে বারান্দায় না বাগানের কোনে ?
নীতা ত্র্যস্ত পায়ে দোর খোলে ! একি কি ? রাহাতের বুকে জড়ানো ছোট্ট পুটুলীটা কিসের – পলক পড়ে না নীতা দু চোখের ? কে এ ? আবার বিড়ালের মতো মিউ মিউ কান্নার শব্দ ! একটা তুলতুলে পূটপূটে শিশু । যার জন্য নীতার এতো স্বপনের জীবনটা শূন্য হোতে শুরু করছে ।
নীতা এ তোমার জন্য । এতিম খানা থেকে শিশুটাকে নিয়ে এলাম । বেচারীর মা মারা গেছে , একটু আগেই । এখন তুমিই এর মা ?
আর তুমি ? পুতুলটাকে বুকে জড়িয়ে ধরে চুমোয় চুমোয় ভরিয়ে দিয়ে নীতা কান্নাভেজা কণ্ঠে রাহাতের মুখ থেকে জানতে চায় !
আমি , আমি আবার কে ? তুমি মা হোলে আমি এর বাবা !
মা , বাবা – তার মানে রাহাত লুকিয়ে লুকিয়ে কোন এক ফাঁকে নীতার কষ্টের নদীতে সিনান করছে । বলেনি , তাঁকে একটি কথাও । জানতে চায় নি কিছুই !
কি ভাবছো এখনও নীতা? ভাবনার সব শেষ । দুর্ভাবনার । তোমার জন্য এ আমার নতুন বছরের উপহার ! খুশী তো ?
নীতা মাথা নাড়ে মহা আনন্দে । খুশী দারুন খুশী সে ! আর কি আশ্চয , আগামী দিনের নতুন বছরটাকে তেমন শত্রু বলে আর মনে হোচ্ছে না তাঁর ? তবে শ্ত্রু কে ? দিনার ?

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement