দূরবর্তী ওই দিগন্তের এপারে বসেই মনটা,
আবিস্কার করতে থাকে অন্তর্হিত নিজেকে।
স্খলিত স্মৃতিকে স্পর্শ করে সীমান্ত থেকে,
অতীত ও স্বপ্নের মাঝে থাকা বিভাজককে।

মুহূর্তের মধ্যেই যেন নিজেকে খুঁজে পায়, ওই দিগন্তে,
তাত্-ক্ষণিকের জন্য, একান্তে ও একদৃষ্টিতে তাকিয়ে।
ভাঙা কাঁচের টুকরোতে কেটে যাওয়া কল্পনাশক্তি,
ধরা দেয় তখন অনিচ্ছুক উত্তাল তরঙ্গের হুমকি হয়ে।

পার্শ্ববর্তী বৃদ্ধ বৃক্ষটিও চেয়ে থাকে ওই দিগন্তের পানে,
অনুর্বর চেহারা যার, ফলহীন ও পত্রহীন বৃক্ষশাখা তার।
আশ্চর্যপূর্ণ দ্বন্দ্বাতীত দৃষ্টিতে সে, কি যেন বলে আপন মনে,
একাকী দাড়িয়ে থেকে, কত কি ভাবে সারাটি দিন ভর।

অপ্রতিভ দিগন্তের কথা ভাবতে গিয়ে নিজেকেই পাই খুঁজে,
অতীতের কাছে শত রঞ্জিত জীবনের অস্তিত্ব ছিল বলে।
একটি অভ্যন্তরীণ আলোর আচ্ছাদনে মোড়ানো কিছু সুখ,
ঘোর অন্ধকারে ধরে রাখে পৃথিবী, উম জড়ানো কম্বলে।

দিগন্তের কাছে অনুসন্ধানের অপার দৃষ্টি আছে বলেই,
মুছে যাওয়া পদানুসরণের চিহ্নটুকু সুস্পষ্ট দেখা যায়।
দূরবর্তী দিগন্তের পানে চেয়ে, একটি মুহূর্তের জন্য,
প্রশান্তির ছোঁয়া নিয়ে মন, অনেক দুরে হারিয়ে যায়।