বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২ জানুয়ারী ১৯৮৬
গল্প/কবিতা: ২টি

গল্প - বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী (নভেম্বর ২০১৭)

মঙ্গলগ্রহে ভ্রমণ

এস জামান হোসাইন
comment ২  favorite ০  import_contacts ৬৯
গভীর রাতে হঠাৎ এক শব্দ শুনে রাইয়ানের ঘুম ভেঙে যায় । চোখ খুলেই সারা ঘর আলোকিত দেখে আশ্চর্য হয় । লাইটের সব সুইচ তো অফ । তাহলে আলো আসলো কোথা থেকে? কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি তো? সবকিছুতে কেমন জানি নিরবতা লাগছে । একটু ভয় ভয় লাগছে । আব্বু আম্মুকে ডাকব কিনা? হঠাৎ এক মধুর কণ্ঠ ভেসে আসল ।
-রাইয়ান?
রাইয়ান আরও ভয় পেল । ভয়ে সারা শরীরে কাটা দিয়ে উঠল । কি করবে, কি বলবে, ভেবে পাচ্ছে না? ১৩ বছরের বালক, সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে রাইয়ান । অত্যন্ত মেধাবী এবং দুষ্ট ছেলে । বিজ্ঞান, সৌরজগৎ, মহাকাশ, গ্রহ, নক্ষত্র, মিল্কওয়ে ইত্যাদি নিয়ে তার জানার আগ্রহের শেষ নেই । ক্লাসের পড়ার পাশাপাশি মহাকাশ নিয়েই ব্যস্ত সে । কোন ম্যাগাজিন বা বই পেলেই সবার আগে সে সাইন্স ফিকশন পড়বে । কবে সে মঙ্গলগ্রহে যাবে এই চিন্তায় তার ঠিকমত খাওয়া দাওয়া নেই । আবার এক মধুর কণ্ঠ ভেসে আসল
-রাইয়ান?
রাইয়ান, তুমি ভয় পাইও না । আমি তোমার বন্ধু, আমি মঙ্গলগ্রহ থেকে এসেছি ।
মঙ্গলগ্রহ আর বন্ধুর কথা শুনে রাইয়ানের ভয় কেটে গেল । সে বলল,
- তুমি কে? আমিতো তোমায় দেখতে পাচ্ছি না? তুমি আমার নাম জানলে কিভাবে? আর তুমি আমার ভাষা বুঝলে কিভাবে?
- আমার নাম এন্থ্রোপিড । আমি মঙ্গলগ্রহের বাসিন্দা । আমার মস্তিষ্কে ১০০০০ TB মাইক্রো চিপস প্রসেসর লাগানো আছে । যার মাধ্যমে আমি তোমার নাম ঠিকানা সবই জানতে পারি । তোমাদের কেউকে দেখামাত্র
তার সমস্ত Data স্কান হয়ে মাথায় আসে । এমনকি Past History পর্যন্ত ।

আর ভাষা সেতো আরও সহজ । আমরা যেকোনো গ্রহের যেকোনো প্রান্তে গেলে ঐ স্থানের ভাষা এক ন্যানো সেকেন্ডের কম সময়ে Translate হয়ে আমাদের মাথায় আসে । আর তোমাদের প্লানেটের বাসিন্দারা তো নিজ স্থানের ভাষা ছাড়া অন্য স্থানের ভাষ সহজে বুঝে না । জাপানের প্রেসিডেন্টতো একদিন বিল ক্লিনটনকে , "আমিও ভালো আছি "এর পরিবর্তে বলেছিলেন, " আমিও তোমার বউ এর স্বামী " হাঁ, হাঁ, কি মজার ব্যাপার!
- মঙ্গলগ্রহের বাসিন্দা । মঙ্গলগ্রহের কথা শুনে রাইয়ান এবার অন্যমনষ্ক হয়ে যায় । তার অনেক দিনের ইচ্ছা মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার । তবে কি এবার তার ইচ্ছা পূরণ হবার পথে । যদি এন্থ্রোপিড আমার বন্ধু হয়, তাহলে তো ভালোই হবে ।
- কি হলো? ভয় পেলে নাকি?
না না, ভয় পাইনি । ভাবছি তুমি আমার বন্ধু হলে ভালোই হবে । মঙ্গলগ্রহ, মানে তোমাদের প্লানেটে যাওয়া যাবে ।
অবশ্যই, তোমাকে আমাদের প্লানেটে নিয়ে যাব ।
- তুমি আমাদের খালি চোখে দেখতে পারবে না । কেননা, আমাদের শরীরে আলোর যে রেডিয়েশন তা তোমাদের চোখের রেডিয়েশনের মাত্রা থেকে অনেক গুণ বেশী । তাই তোমার জন্য বিশেষ এক ধরনের চশমা নিয়ে এসেছি যা চোখে দিলে আমাকে দেখতে পাবে । এন্থ্রোপিড হাত বাড়িয়ে চশমাটা রাইয়ানের চোখে পরিয়ে দেয় । আর সাথে সাথে রাইয়ান সুন্দর এবং অদ্ভুত মানুষ সদৃশ্য প্রাণী দেখতে পায় ।
- কিন্তু আমাদের গ্রহের বিজ্ঞানীগন তো সেখানে কোনো প্রাণী দেখতে পান না । শুধু অনুভব করেন যে, সেখানে যেহেতু পানি আছে তাই সেখানে প্রাণীর অস্তিত্ব আছে । কিন্তু বাস্তবে কি ধরনের প্রাণী আছে তার কোনো ধারণা নেই ।
- তোমাদের প্লানেটের বিজ্ঞানীগন এত কিছু আবিষ্কার করতে পারেনি । আমাদের প্লানেটের প্রযুক্তি থেকে তোমাদের প্লানেটের প্রযুক্তি অনেক পিছিয়ে ।

তোমাদের প্লানেটের বাসিন্দারা আজব প্রাণী!
পৃথিবীতে যে পরিমাণ এটম বোম আছে তা দিয়ে তা দিয়ে এই পৃথিবীকে কয়েকবার ধ্বংস করা যাবে । বিজ্ঞানের উদ্দেশ্য সৃষ্টি করা, ধ্বংস করা নয় । আমাদের প্লানেটে কোনো মারনাস্ত্র নেই । আরও আশ্চর্য হল, যে মারণাস্ত্র বিক্রি করে অঢেল সম্পদের মালিক হল, সেই অর্থই নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় তাকে, যে এই মারণাস্ত্র নিরস্ত্রিকরন করতে চায় । আমাদের প্লানেটটি খুবই সুন্দর ।

রাইয়ান মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তার বন্ধু এন্থ্রোপিডের কথা শুনে । তার মনে মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার ইচ্ছা বার বার উঁকি দিচ্ছে । সে আবার বলল,
- তুমি কি আমাকে তোমাদের প্লানেটে নিয়ে যাবে?
- অবশ্যই নিয়ে যাব । নিয়ে যাব না কেন? তুমিতো আমার একজন ভালো বন্ধু । আচ্ছা! তোমার কি আরও বন্ধু আছে?
- হ্যাঁ, আমার একজন ভালো বন্ধু আছে । তার নাম সাদ ।
- তাহলে তোমাদের দুইজনকেই নিয়ে যাব ।
- তোমরাতো এই পোশাকে যেতে পারবে না । এর জন্য বিশেষ পোশাক এবং বিশেষ চশমার প্রয়োজন । আজ আমি আসি । বৃহস্পতিবার রাত ১১.০০টায় তোমাদের বাড়ির পাশের মাঠে আমি আসব । সেদিন আমি তোমাদের নিয়ে যাব । তৈরী থেকো । আর ভয় পেও না কিন্তু । ঠিক আছে?
- ঠিক আছে ।

রাইয়ানের চশমাটি নিয়ে এন্থ্রোপিড উধাও হয় ।

দিনের আলোর আভা প্রকাশ পাচ্ছে, পরিষ্কার আকাশ । একটু পরেই পূর্বাকাশে ঝলমলে সূর্য উঠবে । নাহ! আর ঘুমানো যাবে না । মনের মধ্যে শুধুই মঙ্গলগ্রহের কথা উঁকি দিচ্ছে । বৃহস্পতিবার আসতে আর মাত্র দুই দিন । এর মধ্যে সাদকে বলে রাজি করাতে হবে । কারণ যেকোনো দুঃসাহসিক কাজ ওরা দুজনে একসঙ্গে করে । একজন আরেকজন ছাড়া বুঝে না । সাদ ও রাইয়ানের মত দূরন্ত ।

স্কুলে টিফিনের সময় রাইয়ান সাদকে সব খুলে বলে । সাদ রাজি হয়ে যায় । সেও যাবে মঙ্গলগ্রহে । একটা নতুন এবং অদ্ভুত এক্সপেরিমেন্ট হবে ।

আজ বৃহস্পতিবার । রাতেই রাইয়ান এবং সাদ মঙ্গলগ্রহে যাবে । সত্যিই কি মঙ্গলগ্রহে যেতে পারব? তাদের মনে এই প্রশ্ন বার বার উঁকি দিচ্ছে ।

স্কুল থেকে ফিরে সাদ তার আম্মুকে বলল,
- আম্মু, আজ আমি রাইয়ানের বাসায় থাকব ।
- কেন তোমারতো সামনে পরীক্ষা ।
- না, এমনিতেই । ও যেতে বলছেতো, তাই । তাছাড়া কালকে শুক্রবার । ছুটির দিন । কাল সকালেই চলে আসব, আম্মু।
- ঠিক আছে, বাবা ।

সাদ সন্ধ্যার আগেই রাইয়ানের বাসায় আসে ।
দুজনে একসঙ্গে খাওয়ার পর শোওয়ার ঘরে চলে যায় । রাত ঠিক ১০.৩০ টায় তারা চুপিচুপি বেড়িয়ে পরে ঐ মাঠের দিকে । সেখানে তারা অপেক্ষায় থাকে । কখন আসবে এন্থ্রোপিড? কখন তারা মঙ্গলগ্রহে যাবে? কত গ্রহ, নক্ষত্র , মিল্কওয়ে দেখবে সেখান থেকে । কি অদ্ভুত দৃশ্য! সেখান থেকে আবার পৃথিবী দেখা যাবে । পৃথিবীতো ঘূর্নায়মান । তবে কি সেখান থেকে পৃথিবীকে ঘুরতে দেখা যাবে? নাহ, সেখান থেকেতো পৃথিবীর দূরত্ব অনেক । এমন আরও অনেক প্রশ্ন মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে । এমন সময় হঠাৎ এক শব্দ পেয়ে তারা পিছনে তাকিয়ে দেখে অদ্ভুত একটি বস্তুু দাড়িয়ে আছে । সেখান থেকে বেরিয়ে এলো এন্থ্রোপিড । সে বলল,
- বন্ধুরা, তোমরা কেমন আছ?
- আমরা ভালো আছি, তুমি?
- আমি ও ভালো আছি । এই বস্তুটি হচ্ছে মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার বাহন । এর নাম হচ্ছে গ্যালোপ । এর গতি হচ্ছে ১০০০ কি : মি: পার ন্যানো সেকেন্ড । তোমরা দ্রুত এতে উঠো । দ্রুত মঙ্গলগ্রহে গিয়ে রাতেই ফিরে আসতে হবে । আর তোমাদের জন্য আনা বিশেষ পোশাক এবং চশমা পরে নাও ।

রাইয়ান এবং সাদ হাত বাড়িয়ে বিশেষ পোশাক এবং চশমা নিয়ে নেয় । দ্রুত সেগুলো পরিধান করে গ্যালোপে উঠে পরে । গ্যালোপ তাদেরকে নিয়ে মঙ্গলগ্রহের উদ্দেশে রওয়ানা দিল । নিমিষের মধ্যে তারা পৃথিবীর সীমানা অতিক্রম করল । রাইয়ান এবং সাদের মনে ভয় হচ্ছে । হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে । তাদের শরীর ছিট বেল্টের সাথে বাধা । কয়েক মিনিটের মধ্যে গ্যালোপ মঙ্গলগ্রহে অবতরণ করল ।
- দ্রুত নামো এখান থেকে, বলল এন্থ্রোপিড ।
তারা সবাই গ্যালোপ থেকে নামল ।

রাইয়ান এবং সাদ মঙ্গলগ্রহে সর্বপ্রথম পা রাখল । পৃথিবী বাসির জন্য ইতিহাস গড়ল । কি সুন্দর এবং অদ্ভুত মঙ্গলগ্রহ! এত সুন্দর দৃশ্য তারা জীবনেও দেখে নি । তারা নেমেই দেখে তাদের জন্য একটি সুন্দর গাড়ি দাড়িয়ে আছে ।
- তোমরা এই গাড়িতে উঠো, বলল এন্থ্রোপিড ।
রাইয়ান এবং সাদ দুজনে এন্থ্রোপিডের সাথে গাড়িতে উঠে বসে ।
- আমরা এখন যাব? জিজ্ঞেস করল ।
- আমরা এই গাড়িতে করে মঙ্গলগ্রহের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যাবো ।
গাড়ি তাদেরকে নিয়ে ধীরে ধীরে চলল । রাইয়ান এবং সাদ উপভোগ করতে লাগল সব অপরুপ দৃশ্য । দেখল নদী, গাছ, বনবনানী, পাহাড়, পর্বত আর ঝর্না । তারা দেখল খর্বাকৃতির অদ্ভুত এবং সুন্দর বাসিন্দা । দেখল সেখানের প্রযুক্তি নির্ভর অনেক জিনিস । সেখানে প্রযুক্তি আছে, মারণাস্ত্র নেই । শুধু সুন্দর আর সুন্দর । Beauty is truth, truth beauty.

তাদের গাড়ি ঘুরতে ঘুরতে ঐ স্থানে আসল যেখানে গ্যালোপ দাড়য়ে ছিল । এবার বিদায়ের পালা । এন্থ্রোপিড বলল,
- বন্ধুরা অনেক দেরী হয়ে গেল । পৃথিবীতে ফিরে যেতে হবে ।
- হ্যাঁ, এবার আমাদের গ্রহে ফিরে যেতে হবে ।

তারা সবাই গ্যালোপে উঠে বসল । গ্যালোপ কয়েক মিনিটের মধ্যে তাদেরকে পৃথিবীতে পৌঁছে দিল । রাইয়ান এবং সাদ গ্যালোপ থেকে নেমে আসল । এন্থ্রোপিড সেখানেই থেকে গেল ।
- তোমাকে অনেক ধন্যবাদ, এন্থ্রোপিড, মঙ্গলগ্রহে নিয়ে যাওয়ার জন্য । আমরা তোমাকে ভুলতে পারব না, রাইয়ান এবং সাদ বলল ।
- তোমাদেরকেও অনেক ধন্যবাদ, তোমরা আমার ভালো বন্ধু ।

রাইয়ান এবং সাদ দুজনে বাড়িতে ফিরে ঘরে ঢুকে ঘুমিয়ে পরল ।

- রাইয়ান! রাইয়ান! উঠো, ভোর হয়েছে ।

মায়ের ডাকে রাইয়ানের ঘুম ভেঙে যায় ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন