বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৩ অক্টোবর ১৯৯৮
গল্প/কবিতা: ৭টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৮৮

বিচারক স্কোরঃ ২.৬৮ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.২ / ৩.০

মধ্যবিত্ত

প্রশ্ন ডিসেম্বর ২০১৭

বিবাহ

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নভেম্বর ২০১৭

কালো হাত

আঁধার অক্টোবর ২০১৭

গল্প - ভৌতিক (সেপ্টেম্বর ২০১৭)

মোট ভোট ১১ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৮৮ মধ্যরাতের স্বপ্ন

দেয়াল ঘড়ি
comment ৫  favorite ০  import_contacts ১৪৭
(১)

ছোট বেলা থেকেই আমার ভুত প্রেতে অগাধ কৌতূহল। এখন বড় হয়ে তা যেন আরও বেড়ে গেছে। যেখানেই এমন কিছুর খবর পাই, সেখানেই হাজির হই। আর সব লিখে রাখি গল্প আকারে, মানুষ ভাবে সব মিথ্যা, কেবল আমি জানি তা সত্যি। আসলে গল্প লেখায় সবচেয়ে মজাটাই বোধ হয় এটা অকপটে সত্য বলা যায়, মিথ্যাও বলা যায়। আর লোকে সত্যে কে কখন মিথ্যা ভাবে আর মিথ্যাকে ভাবে সত্য।
কিছুদিন ধরেই একটা কেস এর কথা শুনছি, আসামি শহিদ। বাচারা নাকি তার স্ত্রীকে হত্যার জন্য জেলে, ভাবলাম একবার দেখা করা উচিত। কারণ সে নাকি বলছে সে মারে নি, মিথিলা মেরেছে, আর খালি নাকি সবুজ সাপ বলে চীৎকার করছে।
ঠিক করলাম জানতে হবে কে এই মিথিলা, আর সবুজ সাপের রহস্য টাই বা কি? যে থানায় বেচারা আসছে সে থানায় আমার বিশেষ জানাশোনা আছে। গিয়ে উঠলাম থানায়, ওসি জুবায়ের আমায় দেখে একগাল হেসে বলল আমি জানি তুমি আসবে। তার রুমেই বসলাম, চা খেতে খেতে কথা হোল।
সে জানালো ঘটনার দিন সকালে একটা ফোন আসে, তারা বলে পাশের ফ্ল্যাটে নাকি খুব চিল্লাচিল্লি হচ্ছে, মনে হয় হাতা-হাতি। আমারা যাই। নক করতে শহিদ দরজা খুলে দেয় আর বলতে থাকে “ আমি খুন করিনি, মিথিলা খুন করেছে।” আমি জিজ্ঞাস করলাম কাকে খুন করে নি, সে কোন কথা বলে না। তাই আমি আমার দল ঘর টা সার্চ করতে থাকি, বাথরুমে বালতিতে মুক দেয়া অবস্থায় আমরা লাশ তা পাই। জলে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়েই মৃত্যু।
আমি বল্লম কেন মেরেছে? তা জানি না, জনাতে চেষ্টা করছি। আচ্ছা এক বার দেখা করা যাবে কি? চল। আমাদের দেখেই শহিদ বলতে শুরু করল মিথিলা, আমায় ছাড়বে না। আমি জিজ্ঞাস করলাম কে? বলল সব লেখা আছে ডায়রিতে, তোমারা সব পাগল, সহজ কথা বুঝতে পার না। মিথিলা এসেছে।
আমি জুবায়ের ভাই কে জিজ্ঞাস করলাম তারা কোন ডায়রি পেয়েছি কি? হ্যাঁ বলায় আমি দেখতে চাইলাম। জিজ্ঞাস করলাম নিতে পারব কি না? বলল না, তাই থানায় বসেই পড়লাম, বেশি কথা লেখা নয় খুব সীমিতই লেখা। পরতে লাগলাম।


(২)


রাত আড়াইটা বাজে, কেবল ঘড়ির শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দ নেই। আমি বারান্দায় হাঁটছি, শহরটা নিস্তব্ধ হয়ে আছে। পনের তালা বাড়ির দশম তালায় থাকি, বারান্দা দিয়ে তাই অনেক টা দূর দেখা যাচ্ছে। দুরের রাস্তাও দেখা যাচ্ছে। কেবল রাস্তার বাতি গুল ছাড়া আর কোন আলো নেই, এমন কি আকাশে চাঁদও নেই। আধা ঘণ্টা ধরে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি, একটা চিকন হওয়া এসে বার বার আমার গায়ে ধাক্কা দিচ্ছে। কিছুক্ষণ আগে আমার চিৎকারে মনে হয় পুর ঢাকা জেগে গিয়েছিল, শায়েলা জেগে জিজ্ঞাস করল কি? আবার সেই স্বপ্ন, আমার উত্তর। শায়েলা এত ক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছে আবার। আমার চিৎকারে যে পোকামাকড় গুল জেগেছিল তারাও গুমিয়ে পড়েছে। কেবল জেগে আছি আমি।
আর ঘুমও হবে না আজ, তা আমার জানা। গত একমাসে প্রতি সোমবার আর বৃহস্পতি বার রাত্রে একই স্বপ্ন দেখে দেখে অভ্যাস হয়ে গেছে। এখন বরং না দেখলেই খারাপ লাগবে বেশি। গত বৃহস্পতি বার জেগে থাকার অনেক চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু পারি নি, অথচ আমি কত রাত জেগে কাটিয়েছি। ঠিক সময় অজান্তেই ঘুম এসে গেল আর সেই আবার রাত্রে সেই স্বপ্ন দেখে বাকি রাত জেগে কাটালাম। গত একমাসের এই অবস্থার জন্য শরীর টাও ভালো নেই। কোন কাজে মন বসছে না, এমন কি শকের আকা-আঁকিও বন্ধ হয়ে আছে। দূর থেকে আজানের শব্দ ভেসে আসছে, ঘনটা খানেক পরে সূর্য উঠবে আর তার পর জেগে উঠবে ঢাকা। আজ অফিসে যেতে ইচ্ছা করছে না।
সকাল হয়ে গেছে, শায়েলা নাশতা বানাচ্ছে। আমি বসে বসে পেপার পরছি। একটা জঙ্গি হামলা নিয়ে খবর, পরছি আর ভাবছি এই শান্তির ধর্ম ইসলাম এর সাথে তারা কি করে জঙ্গিবাদ মিলায়। নাশতার টেবিলে বসে আছি আমি আর শায়েলা। টেবিলেই ওর সাথে স্বপ্ন বিষয়ে আলোচনা হোল। অনেকদিন ধরেই ও বলছে একটা ভাল ফকির দেখাতে, যতোসব কুসংস্কার। অবশ্য আমার এত দিনের কথা শুনে আজকে একটা ভাল উপদেশ দিয়েছে। একটা মনরোগ-বিশেষজ্ঞ দেখাতে বলল। আমিও ভাবলাম খারাপ হবে না ব্যাপার টা। আজকেই খোজ নিবো বলে ভাবলাম।
কলেজ জীবনের এক ডাক্তার বন্ধু আছে, তার কাছ থেকেই ডাঃ আর. ঘোষ এর সন্ধান পেলাম। আমাকে তার নম্বরটা আর চেম্বারের ঠিকানাটাও দিল। ফোন করে জানলাম আজ দেখা করা হবে না, কাল বিকাল ৫:৩০ এ দেখা করা যাবে। অফিসে ফোন দিয়ে আজ সহ তিন দিনের ছুটি নিয়ে নিলাম। সাধারণত ছুটি নেই না বলে সহজেই পেলাম। ভালই হোল, তিন দিন পর শুক্রবার।
ডাঃ আর। ঘোষ এর সাথে আজ দেখা করে এলাম, শায়েলাও গেছিল আমার সঙ্গে। কিন্তু আমার সাথে কথা বলার সময় শায়েলা কে তার চেম্বার এর বাইরে ওয়েটিং রুমে থাকতে বলল।
প্রথমেই জিজ্ঞাস করল আমার সমস্যা টা কি? আম বললাম একই স্বপ্ন আমি বারা বার দেখছি। আর তার চেয়েও বড় কথা আমি সেই স্বপ্ন একটা নির্দিষ্ট সময়ে দেখছি। নির্দিষ্ট সময় মানে জিজ্ঞাস করতে আমি বুঝিয়ে বললাম যে আমি প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট দুই দিন ঠিক রাত দুইটা থেকে আড়াইটার মধ্যে দেখি।
কি দেখেন, সে আবার প্রশ্ন করল। এবার আমি একটু নড়ে বসে বলতে শুরু করলাম। প্রথমেই আমি দেখি যে আমি একটা ট্রেনে করে কোথাও যাচ্ছি, কিন্তু কোথায় যাচ্ছি তা জানি না। ট্রেনের ভিতরেও এমন কিছু দেখি না যা থেকে এটা বোঝা সম্ভব যে আমি কোথায় যাচ্ছি। মি. ঘোষ আমায় কোন রকম বাধা দিলেন না, এমন কি এর মাঝে কোন রকম প্রশ্নও করেন নি। আমি বলতে লাগলাম। তারপর আমি একটা জঙ্গলে যাই। জঙ্গলটা একটু ব্যতিক্রম। নিচে পানি, অনেকটাই হবে কারণ আমি ট্রলারে করে যাচ্ছিলাম। আমি তার ভিতর দিয়ে কতদূর যাই তার ঠিক নেই, তবে এটুকও বুঝতে পারি যে আমি যে জায়গা টা তে পৌছাই সেখানটাতে সাধারণত কেউ যায় না। একটু দম নিয়ে আমি আবার বলতে শুরু করে দিলাম। তার পর একটা ছায়া মূর্তি দেখতে পাই, আমার শরীর অবশ হয়ে পরে এবং আমি ট্রলারের উপরেই পরে যাই। কিন্তু আমার হাত টা ছিল পানির মধ্যে আর আমি দেখতে পাই আমার সে হাতের উপর দিয়ে একটা সবুজ সাপ চলে গেল। আমি থেমে সামনে রাখা পানির গ্লাস টা থেকে পানি খেলাম।
আর কিছু, ডাক্তার ঘোষ জিজ্ঞাস করলেন। আমি বললাম না, এর পরই ঘুম ভেঙ্গে যায়। স্বপ্নে যে জায়গাটি দেখেন সেটা আপনি চিনেন কি? চিনি, আমার খুব পরিচিত একটা জায়গা, সিলেটের রাতার গুল। আচ্ছা, যে ছায়া মূর্তি দেখেন তা কে কি চিনতে পারেন? না। একটা মিথ্যা কথা বললাম, জায়গাটার মত মানুষ টিও আমার চেনাই মনে হয়েছে, কিন্তু আমি তো সঠিক জানি না।
আচ্ছা, আমার মনে হচ্ছে অতীতের কোন খারাপ ঘটনার থেকেই আপনার স্বপ্নের সৃষ্টি আমি জিজ্ঞাস করলাম কিন্তু তা এত নিয়ম করে ঠিক একই সময়ে কেন হয়, আর আমার তো এমন কোন ঘটনার কথা মনে পরে না। তার জবাবে ঘোষ বললেন এরকম অনেক সময় হয়, আনি বরং অতীতের এমন কোন ঘটনা মনে করতে চেষ্টা করুন যা এই স্বপ্নের সাথে রিলেটেড, তাতে আমার জন্য সুবিধা হবে। আমি সম্মতি সূচক মাথা নেড়ে উঠে আসার সময় দেখলাম পিছে একটা ক্যামেরা, নিশ্চয়ই আমাদের সব কথা রেকর্ড করে রাখছেন। আমি উঠে বাসায় চলে এলাম।
বাসায় আসার পরেই শায়েলা নানা কথা জিজ্ঞাস করতে শুরু করল, আমি প্রায় সনই এড়িয়ে গেলাম। রাত্রের খাবার খেয়ে আমি বারান্দায় ইজি চেয়ারটায় বসে পড়লাম। অপেক্ষা করছি কখন শায়েলা ঘুমাবে আর আমি একটা সিগারেট ধরাবো। অনেক দিন আগেই, শায়েলার কথাতেই, তাই অপেক্ষা করছি ও ঘুমালে সিগারেট ধরাবো।


(৩)


কিছুক্ষণের মধ্যেই ও ঘুমিয়ে পড়ল। আমি সিগারেটে একটা লম্বা টান দিয়ে মিথিলার কথা ভাবছি। মিথিলা আমার প্রথম প্রেম, শায়েলা দ্বিতীয়। মিথিলার সাথে আমার পরিচয় যখন আমি কলেজে পড়ি, আমার বাবা সরকারির চাকরির সুবাদে তখন আমরা সিলেটে থাকতাম। পরিচয়, বন্ধুত্ব আর তারপর ভালবাসা, সব যেন খুব দ্রুতই হয়ে গেল। তখন বয়স কম ছিল, অনেক কিছুই বুঝতাম, আবার অনেক কিছুই বুঝতাম না। খুব দ্রুতই আমাদের সম্পর্ক টা অন্য রূপ নিতে শুরু করল। আমাদের সুন্দর সম্পর্কটা রূপ নিলো একটা কুৎসিত সম্পর্কে। আমি ওর সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লাম, এক রকম জোড় পূর্বকই বলা চলে।
আমারা তখন দ্বিতীয় বর্ষে উঠে গেছি। একদিন মিথিলা আমায় বলল ও মা হতে চলছে, আমি থ হয়ে গেলাম। অনেকক্ষণ পর আমি কথা বললাম, এখন এ সব সম্ভব না, যে করেই হোক আমাদের এটা বাদ দিতে হবে। ও মানতে চাইল না, আমার পরিবার কে সব বলতে বলল। আমি বললাম এখন কেউ মেনে নিবে না। কিন্তু মিথিলা মানতে রাজি না, ও একই কথা বলে যেতে লাগল।
আমি ঠিক করলাম ওকে খুন করবো, হ্যাঁ খুন না করলে নিস্তার নেই। বেশ কয়েক দিন ধরে প্লান করলাম। তারপর একদিন মিথিলাকে আমার সাথে দেখা করতে বললাম, রাতার গুল এর ভিতরে, যে জায়গাটাতে আমারা প্রায়ই দেখা করতাম। ওকে একা আস্তে বললাম, কোন মাঝি ছাড়া। আমি আগেই চলে গেছিলাম, ঠিক সময়ে ও সত্যি একা এসে পড়ল, একটা নৌকা ভাড়া করে। আমার ধরা পড়ার কোন সম্ভাবনা নেই। আমি ওকে ধাক্কা দিয়ে পানিতে ফেলেছিলাম, ও সাঁতার যানে না, দ্রুতই তলিয়ে গেল। আমি ফিরে চলে আসলাম।
তারপর তিন-চার দিন পরে সবাই লাশ খুঁজে পেলে। পুলিশ বলল এটা দুর্ঘটনা, তাই আমাকে সন্দেহ করার কারণ নেই। কলেজের অনেকেই ওর লাশ দেখতে গেছিল তাদের সাথে আমিও। তখন জানতে পারি ওর মৃত্যু হয়েছে সাপের বিষে। সাপ, তার মানে মিথিলা, মিথিলা প্রতিশোধ চায়। না, আমি বিশ্বাস করি না, কালই আমি যাব রাতার গুল। আমি দেখতে চাই কে? কি চায়?

(৪)


আমি রাতার গুলে যাবার জন্য তৈরি হচ্ছি, একটা গাড়ি ভাড়া করে ফেলেছি। আমার পরিকল্পনা আজকে গিয়ে আজকেই আসব। কিন্তু শায়েলা কিছুতেই রাজি না। তার একই প্রশ্ন কি দরকার এসবের? ওকে আমি কি করে বুঝাই যে দরকার টা আসলে কি। একটু সকাল সকালই রওনা হলাম। গিয়ে পৌঁছাতে-পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে গেল।
অনেকেই রাতার গুলে জ্যোৎস্না দেখতে যায়, আমি ঠিক করলাম আজ রাত্রেই যাব, অপেক্ষা করে লাভ নেই। কিছু খেয়ে নিয়ে আমি সারি কোরে রাখা ট্রলারের দিকে গেলাম। আমি একাই যেতে চাইলাম ট্রলার ভাড়া করে কিন্তু ট্রলারের মালিক রাজি নয়, সেও যাবে। তাকে নিয়েই রওনা হলাম, মাথার উপড়ে ততক্ষণে চাঁদ উঠে গেছে, খুবই সুন্দর লাগছে। পানি, পানির উপড়ে গাছের ছায়া, তার উপর চাঁদের ছায়া। মনে হচ্ছে রাতের আকাশ টা বুঝি আমাদের ট্রলারের নিচে। এত বছর পরে এসেছি, তবুও যেন সব চেনা, কোন এক অজানা শক্তি আমাদের টেনে নি যাচ্ছে গন্তব্যে।
খুব দ্রুতই আমারা এসে পড়লাম আমার স্বপ্নে দেখা জায়গায়। পানিতে একটা ছায়া লক্ষ করলাম, গাছের নয়। সাহস সঞ্চার করে পেছনে ট্রলারের চালকের দিকে তাকালাম, নেই, কোথায় গেল। আবার ঘুরে ছায়ার দিকে তাকাল, ধীরে ধীরে যে বস্তু থেকে ছায়া পড়ছে, ছায়ার দিক অনুসরণ করে তার দিকে ফিরলাম। মিথিলা, আমি ভয়ে চুপসে যেতে লাগলাম। মুখটা নীল বর্ণ ধারণ করেছে, সারা শরীর ভেজা, সেই নীল জামাটা পরা, যেটা পরে ও সেদিন এসেছিল।
আমি বললাম মিথিলা, তুমি। হ্যাঁ, আমি, জবাব দিল মিথিলা। গলাটা সেই আগের মধুর, এতটুক বদলায়নি। তুমি এসে গেছে শহিদ, আমার ডাকে তুমি এত দূরে এসে পড়েছ। আমি চুপ করে রইলাম। এত দিন কেন আস নি, আমি যে তোমায় আমার সাথে নিয়ে যাব, শহিদ। আমার সাথে যাবে না। আমার গলার আওয়াজ যেন রুদ্ধ হিয়ে গেল, রক্ত সব যেন জমে গেছে, শরীর টা একচুলও নরাতে পারছি না। মিথিলা জলের উপর দিয়ে হেটে আমার দিকে এগিয়ে আসছিল।
অনেক সাহস যোগাড় করে আমি বললাম , না। আমার কাছে আসবে না, দেখ সেটা একটা দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনা, শহীদ, সত্যি কি তাই। আমার শরীর জমে যেন মূর্তির মত নিশ্চল হয়ে গেল। মিথিলা আমার একদম কাছে চলে এলো। বলতে লাগল, আমি তোমায় এখন মারব না। তোমার জীবনে মুক্তি নেই। তোমার জীবনকে আমি নরক করে ছাড়ব।। তারপর আমার মাথায় হাত বোলাল, মনে হচ্ছে এক ফালি বরফ আমার মাথায়। তারপর আমি ধীরে ধীরে উপর হয়ে পরে গেলাম, দেখতে পেলাম আমার ডান হাত টা ট্রলারের বাইরে পানিতে পরে আছে আর তার উপর দিয়ে একটা সবুজ সাপ হেটে চলে গেল।
জ্ঞান ফিরলে আমি দেখলাম আমার মুখের সামনে উবু হয়ে বসে আছে ট্রলার চালক। কি হয়েছে জিজ্ঞাস করতে বলল হঠাৎ করে আমি ‘না’ বলে চীৎকার দিয়ে জ্ঞান হারাই তাই সে বনের বাইরে চলে আসে। আমি তার ভাড়া মিটয়ে আমার গাড়ি তে উঠে পড়ি, পথে এক হোটেলে থেমে খাবার খেয়ে নেই। সব কিছু কেমন শান্ত, মনে হচ্ছে কিছুই হয় নি, কিন্তু আমি জানি কিছু একটা হবে।
ঢাকায় ফিরে এলাম, একটু বিশ্রামের পর শায়েলা জিজ্ঞাস করতে লাগল কি হয়েছে। আমি বললাম কিছু না।
রাত্রের ঘুমটাও ভালই হয়েছে কিন্তু সমস্যা টা শুরু হয়েছে এখন থেকে। আমি যেন মাঝে মাঝেই সেই সবুজ সাপটা কে দেখতে পাই। একবার চীৎকার দিয়েছি, শায়েলা বলল কই কি? আমি জানি মিথিলা আমায় ছাড়বে না। শায়েলেয়ার মুখটা কেমন নীল দেখাচ্ছে।
আজ দ্বিতীয় দিন, সকালে আমি তাড়াতাড়ি উঠে পড়লাম। কিন্তু সকাল নয়টা বেজে যাবার পরেও শায়েলা উঠল না দেখে অবাক হলাম, ও তো এত দেরি করে না। বিছানায় না পেয়ে আমি ওকে পেলাম বাথরুমে একটা বালতিতে মুখ দিয়ে আছে। মারা গেছে। মিথিলা এটা তুমি কি করলে। আমি চীৎকার করে উঠলাম।
আমি যখন সকালের ঘটনা টা লিখেছি তখনি দরজায় কড়া নড়ছে, নিশ্চয়ই পুলিশ।আমি জানি আমায় জেলে যেতে হবে, আমি ডায়রি নিয়ে যাব।

(৫)

পনের-বিশ মিনিটেই সব পড়া হয়ে গেল। জুবায়ের ভাই জিজ্ঞাস করল কি বুঝলে পাগলের পাগলামি। আমি বললাম আপনি পরেছেন কি? না হলে একবার পরবেন, আপনার কেস টা সাঁজাতে সুবিধা হবে। বেরিয়ে আমি আবার বাসার দিকে রওনা হলাম। গাড়িতে বসে ভাবলাম, একটা মানুষ কতটা নিচে নামতে পারে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন