বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৫ জানুয়ারী ১৯৯৬
গল্প/কবিতা: ৪টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

গল্প - ভৌতিক (সেপ্টেম্বর ২০১৭)

ভূত রহস্য

মোস্তাফিজার রহমান
comment ৩  favorite ০  import_contacts ৮৩
অনেক বেশী দেরী হয়ে গেলো। বাস যখন থামলো ঘড়িতে তখন রাত ১০টা বাজে। কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টিতে রাস্তার বেহাল দশা। তার মধ্যে জ্যাম তো আছেই। ঢাকা থেকে বগুড়া আসতে ১৩ ঘন্টার বেশী সময় লাগলো। বাড়িতে বড় ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান। তা না হলে এত ঝুট ঝামেলা করে এই অসময়ে বাড়িই আসতামনা। সাথে অবশ্য মানিককে নিয়ে আসছি। এর আগে মানিক কোনদিন আমাদের বাড়িতে যায়নি। এবারই প্রথম। তাই পুরোটা রাস্তা আমার পরিবার সম্পর্কে বলতে বলতে সময় কেটে গেলো। মানিক ছেলে হিসাবে খুব ভালো। স্মাট, সুদর্শন ভদ্র সহ ভালো ছেলের সকল গুনই আছে। শুধু একটাই সমস্যা। প্রায় সব ধরনের কুসংস্কারই বিশ্বাস করে। যেমন: আজকে সকাল বেলা বের হওয়ার সময় হাত থেকে গ্লাসটা ভেঙ্গে গেল। অমঙ্গল হবে ভেবে পাক্কা আধাঘন্টা পর ঘর হইতে বের হইতে দিছে। আর একটু হলে তো বাসটাই মিস করতাম। কতবার বলছি এগুলো কুসংস্কার, কিন্ত কে শোনে কার কথা।

বাসষ্ট্যান্ডে নেমে রিকশার জন্য খুব একটা বেগ পেতে হলোনা। তবে আমরা বাড়ি যাওয়ার সিএনজি পাবো কিনা এটা নিয়ে টেনশনে ছিলাম। সুখানপুকুরের সিএনজি দিনেই তেমন একটা পাওয়া যায়না,সেখানে আজকে তো ১০টা পার হয়ে গেছে। ভাগ্য ভালো ছিল বলে সিএনজি ষ্ট্যান্ডে নামার ১৫-২০ মিনিট পরই একটা সিএনজি পেলাম। যদিও ভাড়া অনেক বেশী চাইলো। কিন্তু কিছু করার ছিলোনা। আর কিছুক্ষন দেরী হলে সারা রাত হয়তো এখানেই কাটাতে হবে।

আমাদের বাড়ীটা শহর থেকে অনেকটা দূরে। এই রাস্তায় খুব একটা যান চলাচল করেনা। তার মধ্যে গ্রামে তো রাত ১০টা মানে অনেক রাত। দুই একটা দোকান বন্ধ করার তোড়জোড় ছাড়া তেমন কিছু চোখে পড়তে ছিলোনা। ফাকা রাস্তা পেয়ে সিএনজিটা মনে হয় একটু জোরেই যাচ্ছে। এলাকার কাছাকাছি আসলে ড্রাইভার মামাকে আমতলী পাড়ায় নেমে দিতে বললাম। কিছুক্ষন পর পোড়াপাড়া এসে গেছে বলে নামতে বললেন। ড্রাইভারকে বিদায় করে চাচার জন্য অপেক্ষা করতে থাকলাম আমরা।
-আচ্ছা, তুই বললি আমতলী পড়া নামবি, কিন্তু ড্রাইভার তোক পোড়াপাড়া নেমে দিলো কেন? নামটাও কেমন বিশ্রী..
-এই জায়গার নামটা আসলে আমতলী পাড়া। কিন্তু এলাকার লোকেরা পোড়াপড়া হিসাবেই বেশী ডাকে। আমরা যেখানে দাড়িয়ে আছি, তার একটু দূরেই শ্মশান আছে। আছে পাশের ৪-৫টা গ্রামের হিন্দু কেউ মারা গেলে এখানেই পোড়া হয়। তাই এলাকার নামটা এমন হয়ে গেছে।
-(ভয়ার্ত কন্ঠে) তা আমরা মরা মানুষের আত্মাদের মাঝে দাড়িয়ে আছি কেন?
-মানুষ মারা যাওয়ার পর আত্মাও চলে যায়। আর আমরা এখানে চাচার জন্য অপেক্ষা করছে। তার আমাদেরকে নিতে আসার কথা।
-আমরা তো নিজেরাই যেতে পারতাম। তোর বাড়ি আরও কতদূর?
-এখানো অনেক দূর যেতে হবে। চাচা সাথে করে ভ্যান আনবে।
-এই শ্মশানের কাছে কেউ কারও জন্য অপেক্ষা করে নাকি?
হুট করে আমাদের চোখে একটা আলো এসে পড়ে। মানিক তো এমনিতেই ভয়ে আছে,তার উপর চাচা হঠাৎ করে মুখে এসে লাইট ধরছে। দুইজনই হালকা ঝাকি দিয়ে ইঠছি।ৎ
-চাচা, এভাবে কেউ হুট করে মুখে লাইট ধরে?
-নারে বাবা, অন্ধকারে তোদের দেখতে পাচ্ছিলামনা। তাই হুট করে তোদের উপর লাইট পড়ে গেছে।
-ভ্যান আনছেন কি?
-হ, আনছি। পাশে দাড়ে আছে। তাড়াতাড়ি উঠে পড়ো দুইজন।
-ও, চাচা এটা আমার বন্ধু মানিক। যার কথা বলছিলাম আপনাদের।
-আচ্ছা, যেতে যেতে পরিচিত হওয়া যাবে। তোমার বাপে খুব টেনশনে করতেছে। এই রাস্তাটা তেমন ভালোনা। কিছুদিন পরপর কাওকে না কাওকে ভ’তের আছড় করেই।
- এখন এসব গল্প বাদ দিয়ে অন্য কিছু থাকলে বলেন। আর ভূত বলতে কিছু হয়না। এসব মানুষের বানানো আজগুবি গল্প। এ যুগের মানুষ হয়েও কেন যে আপনারা এসব বিশ্বাস করেন বঝিতে পারিনা।
- তোমরা এই যুগের ছোলপোল তো এসবের কিছুই বিশ্বাস করতে চাওনা। যাকে ভূতে আছড় করে, সেই বুঝতে পারে।

এতক্ষন মানিক বসে থেকে আমাদের কথা শুনতেছিলো।
-(আস্তে আস্তে) তোদের এলাকায় ভূতের উপদ্রবটা কি বেশী।
-আবার তুই শুরু করলি? তুই এই জেনারেশনের ছেলে হয়ে ভূত বিশ্বাস করিস কোন হিসাবে? বিজ্ঞান বলে ভূত বলতে কিছু নাই। যেটা নাই সেটা ভেবে লাভ আছে কি?
-আমি যেটা বললাম সেটার উত্তর দে। এর আগে তোদের বাড়িতে কি কেও ভূত দেখছে?
-( অনেকটা বিরক্ত হয়ে) হুম, দেখছেতো। আমাদের বাড়ির পেশনে জঙ্গলের পুরাতন কবরস্থান আছে। সেখানে নাকি অনেক ভূত থাকে। তাদের মাঝে আবার কয়েকটা ভূতের নাকি মেয়েও আছে। ভূত হলেও মেয়ে গুলোর চেহারা নাকি অনেক সুন্দর। ভাবতেছি তাদের একজনের সাথে তোর বিয়ে দিমু।
-মজা নিচ্ছিস আমাক নিয়ে,তাইনা?
-এরে, মজা নিবো কেন? সিরিয়াসলি বলতেছি।

অন্ধকার পথে ভ্যান সামনে এগিয়ে চলছে। মাঝে মাঝে চাচা লাইট ধরে পথ দেখাচ্ছে। গ্রামের অবশ্য সেই সৌন্দর্য আর নাই। দুই ধারে চিরচেনা কাশফুল অনেক আগেই হারিয়ে গেছে। অবৈধ ভাবে রাস্তার পাশে বালু তোলায় রাস্তাও আর বেশী দিন টিকেনা। রাস্তার পাশের সমতল ভূমি গুলো গভীর দিঘীতে রুপান্তর হয়ে গেছে। সাথে তৈরী হইছে নানা ধরনের আষাঢ়ে গল্প। আমার চাচা আবার খুব ভালো গল্প বলতে পারেন। আমি যেহেতু এসব গল্প বিশ্বাস করিনা, তাই মানিককেই তার অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে আজগুবি সব গল্প গুলো শোনাতে লাগলো।
-তা মানিকের বাসায় কে কে আছে?
-বাবা,মা,দাদা,দাদী সবাই আছে। আমরা দুই ভাই।
-আরেক ভাই কি করে?
-পড়াশোনা করে। এবার ক্লাস এইটে।
-তা বাবা, নতুন গাঁয়ে আসছো। ৭ দিন না থেকে কিন্তু যাওয়া নাই।
-ওত দিন হয়তো পারবোনা।তবে তিন চারদিন তো থাকা হচ্ছেই।
-আমাদের গ্রামটা অনেক সুন্দর। খালি রাতে একটু কম বের হবা..
-কেন চাচা,কোন সমস্যা আছে কি?
-সমস্যা তেমন কিছুনা। রাত হলে ভূতের উপদ্রবটা একটু বাড়ে। তাইতো ভাই তোমাদের নিতে পাঠালো।

আমার বুঝতে বাকি রইলোনা যে এবার চাচা যতসব আজগুবি গল্প শুরু করবে।
-চাচা, এসব ভূতের আজগুবি গল্প বাদ দিয়ে অন্য কোন গল্প থাকলে বলেন...
-আজগুবি হবে কেন? মানিক তোমার শুনতে সমস্যা নাই তো?
-না না,সমস্যা নাই।বলেন...
( মনে মনে ভাবতে লাগলাম,পাইছে আজ একজনকে। নতুন মানুষ, তাই মানিকও কিছু বলতে পারছেনা। যাকে বলতেছে সে নিজেও যে এসবে ভয় পায়, চাচা তো আর সেটা জানেনা।)
-মানিক, এই যে পাশের দিঘিটা দেখতেছো (টর্চের আলো দিয়ে দেখিয়ে), এখানে একটা তালগাছ ছিল। দাদীর মুখে শুনছি এই তালগাছে নাকি একটা হুজুর ভূত থাকতো। সে নাকি অনেকের জন্যই ভালো কিছু করেছিল। কিন্তু কিছু লোক অন্য এলাকা থেকে এসে জায়গাটা কিনে নিয়ে গাছটা কেটে ফেলে এবং এখানে বালু তোলা শুরু করে। তারপর সেখান থেকে একটা কুয়া বের হয়। তারপর থেকেই হুজুর ওখানেই থাকে। তারপর থেকে কয়েকটা ছোট বাচ্চা গোসল করতে এসে এই কুয়াতে মারা গেছে।
-চাচা, আপনি মানিককে এসব অলৌকিক কল্প কাহিনীর গল্প বলতেছেন, ও মনে করবে সত্যিই এমনটা হইছে এখানে।
-এগুলো কল্প কাহিনী হবে কেন? এইতো গত বছরই একটা বাচ্চা মারা গেছে।
-চাচা, প্রথম কথা এটা কোন কূয়া নয়। গভীর থেকে বালু তুললে এরকম গর্ত অটোমেটিক তৈরী হয়। আর আপনি যে বাচ্চাদের কথা বলতেছেন, তারা কেউ সাতার জানতো না। অল্প পানিতে খেলতে খেলতে কখন যে গভীর পানিতে গেছে বুঝতে পারেনি। তাই মারা গেছে। যেহেতু মাটি ছিল, তাই দ্রুত তলিয়ে গেছিল।আর আপনিই তো বললেন ভূতটা হুজুর ছিল। তাহলে সে ছোট বাচ্চাদের মারবে কেন? আর এতে তাদের লাভ কি?
-শুনছি তালগাছটা কাটার জন্য হুজুর রাগে এমনটা করে।
-চাচা, এগুলো সব শোনা কথা। আর শোনা কথা বিশ্বাস করতে নাই। আচ্ছা, আপনি একটা প্রশ্নের উত্তর দেনতো। ভূত সবসময় তালগাছ, ডাবগাছ, গাবগাছ, শেওড়া গাছ বা পুরাতন ভাঙ্গা বাড়িতেই কেন বেশী থাকে?
-সেটা তো জানিনা। তবে ছোট বেলায় দাদীর মুখে শুনছি এসব গাছেই নাকি ভূত বেশী থাকে।
-কিন্তু আমি জানি।
-বলিস কি রে দোস্ত। তুই তো ভূত আছে এটাই বিশ্বাস করিসনা, তবে এসব জানলি কিভাবে?
-শোন, এসব জানতে ভূত আছে এটা বিশ্বাস করা জরুরী নয়। এটা কমনসেন্সের ব্যপার। দেখ, আগেকার সময়ে প্রযুক্তির এত অগ্রগতি ছিলনা। সবাই ঝোপঝাড় কেই টয়লেট হিসাবে ব্যবহার করতো। এখন ভাব, কেউ তালগাছ বা ডাবগাছ বা গাবগাছের নিচে পায়খানায় ব্যস্ত। কিন্তু সে সময় তাল,ডাব বা গাব যদি মাথায় পড়ে,তাহলে কি অবস্থা হবে। তাছাড়া শেওড়াগাছের ডালগুলো খুব নরম। তাই যেকোন সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে। আবার পুরাতন বাড়ির চুন,সুড়কি বা ইট যেকোন সময় খসে পড়তে পারে। তাই আমাদের দাদীরা এসব জায়গায় ভূত আছে, এমন গল্প শোনাতো। যেন আমরা সেসব জায়গায় না যাই। কিন্তু আমরা মনে করি, সত্যিই এসব জায়গায় মনে হয় ভূত আছে।
-হয়তোবা....
-হয়তোবা নয়, এটাই সত্যি। বাড়ি এসে গেছে, চলেন নেমে পরি।
-তোমরা দুজন বাড়ির ভিতর যাও। আমি জিনিষপত্র নিয়ে যাচ্ছি।
-আচ্ছা ঠিক আছে।

আমাদের বাড়িটা অনেকটা পুরানো ধাচের।আবার যে ভৌতিক টাইপের তা কিন্ত নয়। নতুন বাড়ি করতেছে, তাই কোন সংস্কার করা হয়নি। জায়গায় জায়গায় পলেস্তারা উঠে গেছে, এই যা। হুট করেই মেজ ভাই এর বিয়ে ঠিক হয়ে গেল,তাই এখানেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা করতে হচ্ছে। আমাদের বাড়ীটা বড় হলেও মানুষ খুব বেশী না। মা,আব্বা, ভাই ,ভাবী এই তো। আমি আর মেজ ভাই বেশীর ভাগ সময় ঢাকায় থাকি। রাত বেশী হওয়ার কারনে মা আর আব্বা ছাড়া সবাই ঘুমিয়ে পড়ছে। আমাদের আসতে আসতে ১১টার মত বেজে গেছে। আর গ্রামে ১১টা মানে তো মাঝরাত। মাঝে মাঝে দুই একটা কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ ছাড়া কোন ছাড়া শব্দ নাই। তাই মানিক কে শুধু মা আব্বার সাথে পরিচিত করে দিলাম। ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে আমরা শুয়ে পড়লাম।
-দোস্ত বাহিরে বা টয়লেটে যাওয়া লাগলে ডাক দিস।
-কেন? তোদের বাড়িতে আবার ভূত আছে নাকি?
-না, তেমন কিছুনা। নতুন জায়গা, তার উপর আমাদের বাড়ির টয়লেটটা বাড়ির পেশনে অংশে।
-ও, আচ্ছা ঠিক আছে।
-আচ্ছা ঘোমা এখন। সারাদিন অনেক খাটাখাটুনি গেল।

সারাদিনের ক্লান্তির কারনে রাতের ঘুম দুজনেরই ভাল হলো। কোন গাড়ীর শব্দ নাই, নেই কোন কোলাহল,চারিদিকে শুধুই নিস্তব্ধতা। অনেকদিন পর এমন পরিবেশে ভালই ঘুম হলো।
সকাল সকাল ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো।এমনিতে বিয়ে বাড়ী,তার উপর সকাল বেলার হাঁস, মুরগী, গরু, ছাগলের ডাকতো আছেই। মানিককে ডেকে তুলে ফ্রেশ হয়ে টিভি দেখতে বসলাম। একটু পর মানিককে আমার সাথে যোগ দিল।
-দোস্ত, তোদের বাড়ীর পেশনে তো যে জঙ্গল, রীতিমত ছোটখাট বন।
-(আমি জানি ও ভূতে বিশ্বাস করে। তাই মজা নেওয়ার চেষ্টা করলাম) একটু ভিতরে কিছু পুরানো কবর ও আছে। যেটার কথা তোক আগেও বলছিলাম। টেনশন নিসনা, ভূতের সর্দারের সাথে কথা বলে তোর জন্য একটা গার্লফ্রেন্ডের ব্যবস্থা করবো।
-মজা নিচ্ছিস আবার। ভূত নিয়ে মজা আমার ভালো লাগেনা।
-আচ্ছা এখন উঠেক তো। বেলা তো কম হলোনা, নাস্তা করে গ্রাম দেখতে বের হবো।
-আচ্ছা,চল...

গ্রামের প্রাকৃতিক দৃশ্য ছাড়া আমাদের গ্রামের দর্শনীয় তেমন কোন স্থান ছিলোনা। আশেপাশের গ্রামে হিন্দুদের বসবাসই বেশী। তাই কিছু পুরাতন আমলের মন্দির দেখালাম। শুক্রবার ছিলো, তাই বেশীক্ষন ঘোরার সুযোগ ছিলোনা। জুম্মার নামাজ পরে দুপুরের খাওয়া দাওয়া করে দুজনই লম্বা একটা ঘুম দিলাম। বিকালে বাজারে গেলাম। বাজারটা একটু দূরে, তাই অটো করে যেতে হয়।
-ওই ঢিবির উপর পূজা করে রাখছে কেন?
-কেন জানিসনা, তোদের এলাকায় হিন্দু নাই নাকি?
-না।
-হিন্দু ছেলে মেয়েদের বিয়ের সময় এখানে পূজা করে। এর বেশী তেমন কিছু জানিনা।
-তোদের বাড়ি থেকে রেললাইন তো কাছেই। আমার এলাকায় তো রেললাইনই নাই। ছোট আবার রেল সেতুও আছে দেখছি।
-হুম, রেলের উপর দিয়ে হাটতে কিন্তু খুব মজা। বাজারও আর বেশী দূরে নয়।
-চল, তাহলে নেমে পড়ি...

আমার পাশেই একটা মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি ছিল। নামবো এই সময় বলে উঠলো, বাবা তুমি বাবলুর বেটা না?
-হ্যা, অ্যাঙ্কেল।
-তাহলে তোমাকে একটা কথা বলি বাবা। এই ব্রীজটা ভালোনা। লোক মুখে শোনা যায় প্রতি অমাব্যস্যা রাতে একটা মহিলা নাকি বটি দিয়ে ছোট বাচ্চা কাটে। অনেকে নাকি দেখেছে।
-অ্যাঙ্কেল এগুলো মানুষের বানানো গল্প।
-আমি সেটা জানিনা বাবা, শুনছি একটা মেয়ে নাকি তার ছোট সন্তান সহ ট্রেনের নিচে আত্মহত্যা করেছিলো। তারপর থেকেই নাকি এমন দেখা যায়।

মানিক আমার পাশেই ছিল..
-দোস্ত, উনি যখন এত করে মানা করতেছে, তাতে নামার দরকার নাই।
-তুই কি আবার এটাও বিশ্বাস করতেছু..
-হতেও তো পারে।
-শোন, ছোট বাচ্চারা যেন রেলের উপর না খেলে তাই এসব গল্প তৈরী হইছে। কারন যেকোন সময় যেকোন দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।
-বাদ দে না। উনি সিনিয়ার পারসন। কথা না শুনলে বেয়াদবী হয়ে যাবে।
-আচ্ছা।

বাজার থেকে একটু দূরেই আমার হাইস্কুল। তাই বাজার যাওয়ার আগে স্কুলে গেলাম। শুক্রবার, তাই ফিল্ডে দুই একটা গরু ছাগল বাধা ছাড়া কিছু ছিলোনা। বাজার করে আসতে আসতে সন্ধ্যা পেরীয়ে গেল। এসে দেখি আবার কারেন্টও নাই। গ্রামে এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। এখানে মাঝে মাঝে কারেন্ট যায়না, মাঝে মাঝে কারেন্ট আছে। তাই বাড়ির সামনের চরাটে গ্রামের বন্ধুদের সহ ঘন্টা খানিক আড্ডা দেওয়া হলো। এর মাঝে কারেন্ট ও চলে আসলো। সবাই যে যার মতো বাড়ি চলে গেলো। আমরাও খাওয় দাওয়া করে ঘুমাতে গেলাম।

সবে মাত্র ঘুম ধরছে। এর মধ্যে মানিকের ডাকে ঘুম ভেঙ্গে গেলো।
-কিরে এত রাতে আবার কি হলো। রাত একটা বেজে গেছে।
-শুনতে পারছিস, চালের উপর কিছু একটা ঝুরঝুর করে পড়ছে। আবার তোদের জঙ্গল থেকে কেমন একটা অদ্ভুত শব্দ শোনা যাচ্ছে। আবার মনে হচ্ছে, পাশে কেউ কিছু কাটছে। আমার দাদী বলতো এসব নাকি ভূতের আলামত।
-আবার সেই ভূত। ভূতের যদি এতই ক্ষমতা থাকতো তাহলে কোন বাড়িই হাওয়ায় মিলিয়ে দিত। এমন তুচ্ছ আলামত দিতোনা। হয়তো চালের উপর দিয়ে কোন বাদুর বা পাখি উড়ে যাবার সময় পায়খানা করে দিছে। যেহেতু চারিদিকে নিস্তব্ধ এবং টিনের চাল, সেহেতু শব্দটা স্বাভাবিকের তুলনায় জোরে শোনা যাচ্ছে। আর বাদ থাকলো অদ্ভুত শব্দের ব্যপারটা। যেহেতু আমাদের এই জঙ্গলে বাঁশের পরিমান বেশী এবং বাহিরে আজ একটু বেশীই বাতাস। তাই বাঁশগুলো বাতাসে যখন দোলে, তখন একটার সাথে আরেকটা ঘর্ষন খায়, এটাই তো স্বাভাবিক। তাই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম শব্দ শোনা যায়।
-আর বাঁশ কাটার ব্যপারটা..
-পেপারে তো কিছুদিন পরপর রাতের আধারে গাছ কেটে সাবাড় করে দেওয়ার খবর আছে। তাহলে কি ওগুলো ভূতে কেটে নিয়ে যায়। ওসব জায়গায় যেমন দূবৃত্তরা এগুলো করে, তেমনি এসব গ্রামে তেমন নেশা খোরেরা এসব করে। আমরা যদি তাদের সামনে যায়, তাহলে খারাপ কিছু হতে পারে। তাই এসব ভূতের আলামত বলে আমাদের ভয় দেখনো হয়। তাই কেউ ভয়ে মানুষ ভূতের সামনে যেতে সাহস পায়না।
-হুম, বুঝলাম।
-হ, অনেক বুঝছু। এখন ঘোমা, অনেক রাত হয়ে গেছে। সকালে মামা আসবে তাকে এগিয়ে আনতে যেতে হবে।
-তোর মামা কি বিয়ে করছে নাকি?
-বিয়ে করছে, তার আবার একটা মেয়েও আছে।
-তাহলে তো এগিয়ে আনতে যেতেই হবে।
-মানে?
-তুই ছোট মানুষ। এসব বুঝবি না। এখন ঘোমা। সকালে আবার উঠা লাগবে।
-আচ্ছা ঠিক আছে। সময় হলে এই ছোট মানুষেরই দরকার লাগবেনি।
-সেটা দেখা যাবেনি। এখন ঘোমা। ডির্স্টাব করিসনা। সকাল সকাল উঠা লাগবে।


সকালে ঘুম থেকে উঠেই তো চক্ষু চড়কগাছ। সকাল ১০টা পার হয়ে গেছে। এতক্ষনে হয়তো মামা এসে অপেক্ষা করছে। মামাকে এ¤িœতেই ভয় পাই। কারন জিজ্ঞাসা করে করে জীবন শেষ করে দিবে। মানিককে ডাকতে গেলে ওর রেডী হতে হতে আরও দেরী হবে, তাই আমি একাই একটা সিএনজি ডেকে চলে গেলাম।
-কি ব্যপার, তোমার আসতে আসতে এত দেরী হলো কেন?
-না মানে মামা, আজ ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরী হয়ে গেছে।
-তা ঢাকায় গিয়েও কি এত বেলা পর্যন্ত ঘোমাও নাকি? ক্লাস ঠিকমত করো কি না, কে জানে।
-গতকাল রাতটা একটু বেশী জাগা হয়ে গেছিল। তাই একটু দেরী হয়ে গেল। আর আমি ঠিক মতই ভার্সিটি যাই।
-আচ্ছা হইছে হইছে। নিজের ঢোল নিজে আর পেটাতে হবেনা। এখন চলো রওনা হই। এ¤িœতেই অনেক দেরী হয়ে গেছে।
-আচ্ছা চলেন।

মানিককে না নিয়ে এখানে চলে আসছি, এজন্য যে কিল ঘুষি অপেক্ষা করছে। সেটা তো ঠিক মতই জানি। প্রায় পনের মিনিট পর বাসায় আসলাম। মামা, মামি ও মামাত বোনকে মানিকের সাথে পরিচয় করে দিলাম।
-চলতো, বাগানের দিকে যাবো একটু।
-(আমি তো কারনটা জানিই) না এখন যাওয়া যাবেনা। বাড়িতে অনেক কাজ আছে।
-মনে হয় তোক ছাড়া কোন কাজ হবে না। তা ছাড়া অনেক মেহমান আসছে আজ। প্রচুর হৈ চৈ হচ্ছে।
-বিয়ে বাড়িতে তো একটু হৈ চৈ হবেই।
-এত কথা আমি বুঝিনা। যাইতে বলছি, যাবি।
-আচ্ছা চল..

বাগানটা আমাদের বাড়ি থেকে একটু দূরে। অবশ্য বসার জন্য একটা চরাট ও আছে। না বসতেই কিছু কিল ঘুষি সহ্য করতে হলো।
-তুই সকালে আমাকে না নিয়ে গেছিস কেন?
-কি করবো বল,আমার উঠতে এ¤িœতেই দেরী হয়ে গেছে। আর তোর রেডী হতে তো অনেক সময় লাগে। তার মধ্যে মামা খুব রাগী। তাই বেশী দেরী করলে খবর ছিল। কিছুক্ষন দেরী হইছিলো, তাই অনেক কথা শুনতে হইছে।
-হুম, বুঝলাম। কিন্তু তোর মামাত বোন যে এত সুন্দর, সেটা তো বলিসনি।
-সব যদি বলবোই, তাহলে দেখবি কি?
-তোর মামাদের বাড়ী যেন কোথায়?
-গাইবান্ধা, কেন বলতো?
-তোর মামা মানে তো আমরাও মামা।তাই আর কি?
-অতি ভক্তি চোরের লক্ষন। কি বলবি, সেটা বল?
-তোর মামাত বোনের নাম কি? কোন ক্লাসে পড়ে?
- রুপা। এবার টেনে উঠলো।
-ভালোই তো, মানিক রুপা সব এক জায়গায় হয়ে গেলো।
-কাহিনী কি বলতো?
-কাহিনী আবার কি। তোর বোন, আমার বউ হতেই পারে।
-এবার বুঝলাম, কেন এত কথা শুনতেছু।
-দোস্ত, একটা ম্যানেজ করে দে না।
-আমার বোনের সাথে প্রেম করবি, আর আমাকেই ম্যানেজ করতে বলতেছু। আমি ছোট মানুষ, ওসব আমি পারবোনা।
-আরে ভালোই তো হবে। বন্ধু ছিলি, সাথে শালা যোগ হবে।
-এখনই আমার যে অবস্থা। ভবিষ্যতে কি হতে পারে সেটা ভাবতেও তো ভয় লাগে। কিন্তু, মেয়েটা কিন্তু একটু রাগী। ওত সহজে ম্যানেজ করতে পারবিনা। আর মামা যদি জানতে পারে এর মধ্যে আমি যুক্ত আছি, তাহলে তো খবর আছে আমার।
-কিছুই হবেনা। তুই শুধু কথা বলার সুযোগ করে দে। তারপরের ব্যপারটা আমি দেখবোনি।
-আচ্ছা, সেটা হবেনি। এখন বাড়ির দিকে চল। অনেক দেরী হয়ে গেল।
-আচ্ছা, চল..

বিয়ে বাড়িতে সবাই মিলে হৈ চৈ করে কাজ করা, সবাই এক সাথে বসে খাওয়া দাওয়া এবং এরপর সবাই মিলে আড্ডা দেওয়া। এর মধ্যে অন্য রকম একটা ভালো লাগা কাজ করে। এদিকে বিকাল হতে না হতেই মানিক বাহিরে যাওয়ার জন্য ঠেলতেছে। সাথে আবার রুপাকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এটাই বড় ঝামেলা। রুপা দেখি সবার সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছে।
-রুপা, বাহিরে ঘুরতে যাবা নাকি?
-গেলে তো ভালোই হতো। কিন্তু আব্বু তো রাজি হবেনা।
-হুম, আমি ও তো মামাকে রাজি করাতে পারবো না। তবে মাকে রাজি করাতে পারবো। আর মা যদি রাজি হয়, তবে মামা কিছু বলতে পারবেনা।
-দেখেন, ফুফি রাজি হয় কিনা।

বিয়ে বাড়িতে মা মনে হয় সব চাইতে বেশী ব্যস্ত। এখন দেখি ভাবীর বাড়িতে কি কি পাঠাবে, এগুলো দেখে নিচ্ছে।
-মা, এদিকে একটু আসোতো।
-কেন? কি হইছে।
-আসোনা একটু।
-বল, কি হইছে।
-রুপাকে নিয়ে একটু ঘুরতে বের হচ্ছি। তুমি মামাকে বলো।
-কোথায় যাবি? আর কে কে যাবে?
-মাতৃ সরোবর। মানিকও যায়নি ওখানে। তাই তিনজনই যাবো।
-আচ্ছা, ঠিক আছে। তবে একটু তাড়াতাড়ি আসিস।
-আচ্ছা।

দুইজনকে রেডী হতে বলে আমি ফ্রেশ হতে গেলাম। মানিকের যে রেডী হতে দেরী হবে, সেটা আগে থেকেই জানতাম।
-কিরে,আর কতক্ষন। তাড়াতাড়ি নে।
-আর পাঁচ মিনিট দোস্ত। প্রথম ঘুরতে যাওয়া বলে কথা।
-আর বেশী দেরী হলে যেতেই দিবেনা বাড়ি থেকে।
-আচ্ছা, হইছে। চল..

মাতৃ সরোবর যাওয়ার পরই আমার হাইস্কুলের বন্ধুদের সাথে দেখা হলো। ওদের সাথে সবাইকে পরিচয় করে দিলাম।
-তুই ওদিকে গিয়ে ঘোর। আমি এদের সাথে আড্ডা দিই।
-একটু বেশী করে আড্ডা দিস।
-সেটা না হয় হবেনি। তবে বুঝে শুনে কথা বলিস।

সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে তাও ওদের কথা শেষ হচ্ছেনা।
-এই উঠেক এখন। যেতে হবে। অনেক দেরী হয়ে গেছে।
-ভাইয়া, তুমি এতক্ষন কোথায় ছিলে।
-এইতো, অনেক দিন পর পুরাতন বন্ধুদের সাথে দেখা হইছে,তাই ওদের সাথে আড্ডা দিলাম। চলো এখন।
-আচ্চা, চলেক..

বাড়িতে এসে অবশ্য মার গালি খাইতে হলো। মেয়ে মানুষকে নিয়ে এতক্ষন বাহিরে থাকা ঠিক না, এসব বোঝাতে লাগলো। তারপর অনেক জ্ঞান মূলক কথা শুনতে হলো। মাঝ রাত পর্যন্ত মানিকের গল্প শুনতে হলো।ওদের কথাবার্তার অগ্রগতি জানাতে লাগলো।

সকালে হৈ চৈ এ ঘুম ভেঙ্গে গেল। উঠে দেখি বাড়ির সামনে জটলা। সবাই রুপাকে নিয়ে ব্যস্ত।
-চাচী ,কি হইছে রুপার।
-আর বলিসনা বাবা, রুপাকে ভূতে আছড় করছে।
-আপনারা কেমনে বুঝলেন যে, রুপাকে ভূতে আছড় করছে।
-ও নাকি গতকাল রাতে ভূতের আলো দেখছে।
-কোথায়?
-বাড়ির পেশনে।
-ও, তা এখন কি করছে ওখানে?
-ভয় পাইছে তো, তাই চালের পানি দিয়ে গোসল করানো হইছে। এখন, শিল ধোয়া পানি খাওয়ানো হবে।
-চাচী, এসব কুসংস্কার বাদ দিয়ে, ওকে গোসল করতে বলেন। তারপর ঘুমাতে বলেন। এসব কাজের সাথে ভয় কাটানোর সম্পর্ক কি? উল্টো পেটের ব্যামো ধরে যাবে।
-যাচ্ছি বাবা। কিছুক্ষন পর আবার জ্যোতিষী আসবে।তার জোগাড় যন্ত্র করতে হবে।

এবার ষোল কলা পূর্ণ হবে। আবার সেই ভন্ডামী দেখতে হবে। মানিককে ঘুম থেকে ডেকে তুললাম। হৈ চৈ এর কারন জানতে চাইল,বললাম। উল্টো ওর কেীতুহল বেড়ে গেল..
-রুপাকে কি এর আগেও ভূতে ধরছিলো?
-ভূত বলতে কিছু নাই, তবে ধরবে কি?
-আচ্ছা যেটাই হোক, এমনটা আগে হইছিলো কিনা সেটা বল?
-বলতে পারলামনা।
-রুপার মনে হয় অ্যাঁশ ভালোনা। শুনছি, যাদের অ্যাঁশ ভালোনা, তারাই নাকি এসব দেখতে পায়।
-ও, তাই নাকি। তা এসব মেয়ে আর ছোট বাচ্চারা বেশী দেখতে পারে কেন? সেটা বলতো।
-হয়তো, তাদের অ্যাঁশ খারাপ। তাই দেখতে পায়।
-ব্যপারটা তেমন নয়। ছোট বাচ্চা এবং মেয়েরা মানষিক ভাবে র্দূবল, তাই তাদের কল্পনা শক্তি বেশী কাজ করে। তাই এরা এসব বেশী দেখতে পায় এবং এসব বিশ্বাস করে। আর তুই রাশি কিভাবে বিশ্বাস করিস, আমি বুঝিনা। বৈজ্ঞানিক ভাবে ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে এমন ভাবা শুধু বোকামীই না,বরং এটা এক ধরনের শিরক্।মানুষের ভালো মন্দ আল্লাহ তায়ালা নির্ধারন করে থাকেন। কোন রাশি চক্র না। এর এটা বিস্তারের কারন হলো, এখন পেপার খুললেই রাশিফল বের হয়। তবে খেয়াল করলে দেখবি যে এসব ক্ষেত্রে ভালো কথায় বেশী লেখা থাকে। বিপদের কথা কমই থাকে। কেউ যদি হাত দেখেই সব বলে দিতে পারতো, তাহলে সে নিজের মৃত্যু কেন আটকাতে পারেনা। এসব বিশ্বাস করা মানে, তাকে সৃষ্টির্কতার সাথে তুলনা করা বোঝায়। আর এটা শিরক্। তাই, এমনটা ভাবাই যাবেনা।
-কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো অনেক সময় মিলে যায়?
-এটা সর্ম্পূণ কাকতালীয় ঘটনা। কারন, দেখবি তারা কথা বলার সময় বলে, এটা হতে পারে,ওটা হতে পারে। তারা যদি ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলতেই পারবে,তাহলে তাড়া সরাসরি কেন বলেনা যে, এটা হবেই। কারন তারা নিজেরাও জানে যে, এটা ভন্ডামী। আর এসব জ্যোতীষ শাস্ত্র বেশী হিন্দুরা বিশ্বাস করে। কিন্তু সচেতন হিন্দুরাও এখন আর এসব বিশ্বাস করেনা।
-তাই নাকি? তা তুই কেমনে বুঝলি?
-বলিউডের অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিন্হা “দি কপিল র্শমা শো” তে আসছিলো। সেখানে তিনি বলতেছিলেন, কোন এক জ্যোতিষী তার হাত দেখে বলেছিল , সে যেন বলিউডে না যায়। তাহলে তার ছবি ফ্লপ হবে। কিন্তু তার দাবাং সিনেমা সুপারহিট হইছিলো। সেখানে তিনি বলেন, যদি আজ আমি জ্যোতিষীর কথা বিশ্বাস করতাম, তাহলে আজকের জায়গায় আসতে পারতাম না। তাহলে বোঝেক, ব্যপারটা কি?
-হুম, সেটা না হয় বুঝলাম। কিন্তু, আলো যে দেখলো, সেটার কি হবে?
- মিথেন আর ফসফিনের নাম শুনছিস তো,নাকি?
-হুম। কেমেস্ট্রিতে এ সম্পর্কে পড়ছি। এটার সাথে কি সম্পর্ক?
-সম্পর্ক আছে তো। পৃথিবীর সকল গাছপালা, পশুপাখি, মানুষ মূলত জটিল হাইড্রোকার্বন জৈব যৌগের সমন্বয়ে গঠিত।
-হুম, জানি।
-এই সব জৈব যৌগের মূল উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন। এই সব জৈব যৌগ যখন উন্মুক্ত পরিবেশে অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পঁচতে থাকে, তখন বাই পোডাক্ট হিসেবে তৈরী হয় পানি, কার্বন ডাই অক্সাইড এবং কিছু পরিমান তাপ। কিন্তু যখন এসব জৈব যৌগ উন্মুক্ত পরিবেশের অক্সিজেন পায়না, তখন কি হবে বলতে পারিস?
-না, এটা আমার জানা নাই।
-খোলা বাতাসে পঁচার বদলে কোন পুকুর বা ডোবার পানির নিচে পচলে, তখন বাই পোডাক্ট হিসাবে মিথেন, কার্বন ডাই অক্সাইড, নাইট্রোজেন ও ফসফিন তৈরী হবে। ফলে,এই মিথেন এবং ফসফিন যখন পানি ছেড়ে বুদবুদের মাধ্যমে ভেসে উঠবে এবং খোলা বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসবে। তখন মিথেন গ্যাস ফসফিনের সাথে বিক্রিয়া করে নীল আলো উৎপন্ন করবে। যেটাকে আশেপাশের বাতাসে ভেসে বেড়াতে দেখা যাবে। ফসফিন হচ্ছে দাহ্য গ্যাস। যেটা বাতাসের সংস্পর্শে এলে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে জ্বলে উঠবে। তখন এটা আলোর চারপাশে একটা সাদা ধোয়ার সৃষ্টি করবে।
-কিন্তু, আমি তো শুনেছি , কেউ কেউ সাহস করে এটাকে ধরতে গেছিল। কিন্তু সেটা হারিয়ে যায়।
-যখন কেউ সেটাকে ধরতে যাবে, তখন তার উপস্থিতিতে মিথেন এবং ফসফিনের গ্যাসের মিশ্রনটা চারপাশে ছড়িয়ে যাবে। এটাই তো স্বাভাবিক। তাই আলোটা হারিয়ে যায়। এটাকে বাংলায় আলেয়া বলে। আর গ্রামের মানুষ ভূতের বাতি,পরির আলো ইত্যাদি বলে থাকে।
-হুম, অনেক তো বুঝলাম। কিন্তু অনেকের তো ভূত ধরে শুনছি। তাদের আচরন গত পার্থক্য ও লক্ষ্য করা যায়। আজকে যেমন রুপাকে ধরছে বলছে।
-চিকিৎসা শাস্ত্র মতে, এটা একটা মনের রোগ।
-বাহবা, তুই ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে ডাক্তারী পড়া শুরু করলি কবে?
-এসব জানতে ডাক্তার হওয়া লাগেনা। একটু নেট ঘাটলে ও চোখ কান খোলা রাখলেই হয়। মনের এই রোগ কে তিনভাগে ভাগ করছে চিকিৎসা শাস্ত্রে।
১.হিস্টিরিয়া
২.স্কিটসোফ্লেনিয়া
৩.ম্যানিয়াক ডিপ্রেসিস বা অবদমিত বিষন্নতা।
এখন রুপার যে অবস্থা, এটাকে হিস্টিরিয়া বলে। মানুষের কুসংস্কার ও প্রচলিত বিশ্বাসকে অন্ধভাবে মেনে নেওয়ার ফলে এই রোগ হয়। তারা কল্পনাকে বাস্তবতার সাথে গুলিয়ে ফেলে। এটা ঘটে ভ্রম বা হ্যালুসিনেশন এর কারনে।
-তাহলে তো সমস্যা।
-কোন সমস্যা না। রুপা শিক্ষিত মেয়ে। ও ব্যপার গুলো বুঝবে। আশেপাশের মানুষই ওর ভয়টা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই ও ঘাবড়ে গেছে। সময় বুঝে ওর সাথে কথা বলিস। তাহলেই দেখবি সব ঠিক হয়ে গেছে। এখন একটু উঠে ফ্রেশ হ, আমার ক্ষুধা লাগছে।
-আচ্ছা, তুই যা। আমি আসতেছি।
-আসতেছে বলে আবার যেন দেরী করিসনা।
-যা, কয়েক মিনিটের মধ্যেই আসতেছি।

খাওয়া দাওয়া শেষে কেবলই একটু টিভি দেখতে বসছি। আবার বাহিরে হৈ চৈ শুনতে পেলাম। গিয়ে দেখি জ্যোতিষী এসে গেছে। সাথে সাথে তিনি আবার ভূত তাড়ান বলে। মানে হলো, সবদিক দিয়েই টাকা কামাই করতেছে। বাড়ির মহিলা গুলো পুরো জায়গাটা ঘিরে রাখছে। এত বোঝায়, কিন্তু আমার কথা শুনলে তো। ছোট মানুষ, কিছু নাকি বুঝিনা। রুপাকে জ্যোতিষীর সামনে বসিয়ে রাখছে। খুব আগ্রহ সহকারে হাত দেখছে। হাত যদি কথা বলতে পারতো, তাহলে হয়তো বা বলেই ফেলতো, এত দেখেননা, আমার লজ্জা করছে।
-( গম্ভীর কন্ঠে ) এই মেয়ের তো অ্যাঁশ ভালোনা। এই মেয়ে গতকাল যে আলোটা দেখেছে, সেটা কোন সাধারন আলো না। ওটা একটা আত্মা। কিছু ঝাড়া ফোকা করে কিছু তাবিজ কোবজ দিলো।

ভাবতে লাগলাম, কি অদ্ভুত মানুষ আমরা। বিজ্ঞান বিশ্বাস করিনা, কিন্তু ভন্ডদের ঠিকই বিশ্বাস করি। মিথেন ও ফসফিনের আলোকে আত্মা বানিয়ে সহজেই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু যেটা বিশ্বাস করলে টাকা লাগবেনা, তারা সেটা বিশ্বাস করেনা। আলেজান্দ্রো ভোল্টা যদি আমাদের গ্রামে জন্ম গ্রহন করতো এবং প্রমান করে দিত যে এটা কোন আত্মা না। এটা মিথেন ও ফসফিনের বিক্রিয়া। তাহলেও এরা যে বিশ্বাস করতো না, সে ব্যপারে আমি শতভাগ নিশ্চিত।

হঠাৎ করে মার ডাকে সম্বিত ফিরে পেলাম।
-কি রে তোর মন কোথায়। এতক্ষন ডাকতেছি শুনতে পাস না কেন?
-হ্যা, বলো। কি করতে হবে?
-যা তো, তোর ভাইকে একটু ডেকে আনেক। ওর একটু হাত দেখাবো। কোন ফারা আছে কিনা, সেটা দেখতে হবে।
-মা, এসবের কোন দরকার নাই তো।
-দরকার আছে, বুঝবিনা। তুই গিয়ে ডেকে আন।
-আচ্ছা যাচ্ছি..

ভাইকে ডাক দিয়ে আসলাম। মানিক দেখি এখনও টিভি দেখতেছে।
-এই গাধা, একা একা টিভি না দেখে বাহিরে আয়। একটা জোকার আসছে। দেখে মজা পাবি।
-চাচা না বলে গেলো জ্যোতিষী আসছে বলে। তা জোকার কখন আসলো।
-আমার চোখে জ্যোতিষী আর জোকার একজনই। এরাও জোকরের চেয়ে কম মজা দেয়না। বেশী কথা না বলে আসেক।
-আচ্ছা,চল..

এসে দেখি ভাই এর হাত দেখা শুরু করছে। এবার মনে হয় আগের তুলনায় একটু বেশী সময় নিচ্ছে।
-(চোখ বড় বড় করে বলতে লাগলো) আপনার ছেলের এই বিয়েতে অমঙ্গল হবে।
কথা শুনে তো সবার চক্ষু চড়ক গাছ।
-(মার তো ভয়ে কন্ঠ কাপছে) তাহলে উপায়?
-আপনার ছেলের বিবাহ রেখার সাথে বিপদ রেখার যোগ আছে। এতে করে আপনার ছেলের প্রানহানি ও ঘটতে পারে। তাই এই বিপদ থেকে বাচার একমাত্র উপায় এই বিয়ে করানো যাবেনা। সাথে অষ্ট ধাতুর এই তাবিজ পরে থাকতে হবে। যেন ভবিষ্যৎ এ আর সমস্যা না হয়।
-যদি এতে আমার ছেলে বেচে যায়, তবে তাই করবো।

কারও মুখে কথা নাই। আজব তো, এত বড় ভন্ডামী করতেছে, আর সবাই চেয়ে চেয়ে দেখতেছে। ভন্ডামী তো একটু বেশীই হয়ে যাচ্ছে।
-মা, কি বলতেছেন এসব। সব কিছু ঠিকঠাক। কাল বিয়ে। সব আত্মীয় স্বজন চলে আসছে। এই সময় বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়া ঠিক হবেনা।
-ঠিক বা বেঠিক বুঝিনা। আগে আমার ছেলের জীবন। এসব তো পরেও করা যাবে।
-মা, তুমি শুধু তোমার নিজের ছেলের কথা ভাবতেছো। একবারও ভাবছো, যদি এই বিয়ে না হয় , তবে মেয়ের পরিবারে কতটা ঝড় বয়ে যাবে।
-অন্যের কথা ভেবে তো আমি আমার ছেলের জীবন বিপদে ফেলতে পারবোনা।
-আপনার কথা ঠিক আছে। কিন্তু যে কথার কোন ভিক্তি নাই, তার জন্য তো এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়না।
-বাবা, তুই জানিসনা। তোর জন্মের আগে এই জ্যোতিষী বলেছিল, আমার ছেলে হবে। তাইতো হইছে। আমি আর এ ব্যপারে তোমার সাথে কথা বলতে চাইনা।
-না মা, কথা তো বলতেই হবে। আমি তো এখন আর ছোট নাই। ভার্সিটিতে পড়ি। তাই তোমরা কোন ভুল সিদ্ধান্ত নিবা, এটা তো মেনে নিতে পারবোনা। আর আপনি এই জ্যোতিষীর কথা শুনে নিজেই শিরক্ করছেন। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ ভবিষ্যত বলতে পারেনা। আর যদি কোন কথা ঠিক হয়েও থাকে, তবে সেটা ছিল কাকতালীয়। আর যদি কোন কথা না ফলে, তখন এই জ্যোতিষীই বলে যে, গণনা ভুল হইছিলো। তাহলে তার কথা কিভাবে বিশ্বাস যোগ্য হয়। আর যদি আমার কথা বিশ্বাস না হয়, তবে ইমাম সাহেবকে ডেকে আনেন। তিনিই পুরো ব্যপারটা খোলাসা করতে পারবেন।
ছোট চাচাত ভাই রায়হানকে ইমাম সাহেবকে ডেকে পাঠানোর জন্য বললাম।

এতক্ষন জ্যোতিষী চুপ মেরেই ছিল। সে বুঝতে পারছে যে তার সকল জারিজুরি শেষ হচ্ছে।
-বাবা, তুমি ছোট মানুষ। তুমি এসব গ্রহ নক্ষত্রের হিসাব বুঝবেনা। আমি ওই ছেলের ভবিষ্যত যা দেখছি, তাই বলছি।
-রাখেন আপনার ভন্ডামী। যদি এতই ভবিষ্যত বোঝেন, তাহলে গণনা করে সব ধরনের অপরাধ বন্ধ করে দিন। কখন কোন অপরাধ ঘটবে, সেটা আগেই সরকারকে বলে দেন। তা তো পারবেন না। যেমন: এখন যদি আপনাকে পিটানো হয়, তবে সেটা কি আগে থেকে বুঝতে পারবেন আপনি। আর বুঝলে তো আসতেনইনা।
-আচ্ছা মা, আমি তাহলে যাই। আমার আবার একটা কাজ আছে।
-না না, আগেই যাবেন কেন? ইমাম সাহেব আসুক, তার পর যাবেন।
-না বাবা, আমার যাইতে হবে।

কথা শেষ হতে দেরী, যাইতে দেরী নাই। ইমাম সাহেব এসে কোরআন ও হাদীসের আলোকে সব কিছু বোঝালেন। এগুলো যে ভন্ডামী ও শিরক্ এর গুনাহ, সেটা সবাইকে বোঝালেন। মা ও রাজী হলো। ভালোই ভালোই সবকিছু মিটে গেল।
-দোস্ত, তুই না থাকলে তো আজকে বিয়েটা ভেঙ্গেই যেত।
-আরে এগুলো কোন ব্যপার না। আল্লাহ্ যা ঠিক করে রাখছেন, সেটা তো হবেই।
-এখন শুধু কাল পর্যন্ত কোন না আসলেই হয়। তাহলে তো সবাই মনে করবে যে, জ্যোতিষীর কথা ঠিক হইছে।
-আল্লাহ্ সহায়। বিকালে আজ আবার ষ্ট্যান্ডে যেতে হবে। হিরা, মেহেদী আসবে। ওরা এর আগে আমাদের বাড়ীতে আসেনি।
-আচ্ছা, ঠিক আছে।

বিকালে আমি আর মানিক গিয়ে হিরা আর মেহেদীকে নিয়ে আসলাম। প্রচুর আড্ডা, মজা ও হৈ হুল্লোড়ের সাথে খুব ভালো মতো বিয়েটা ভালো মতোই পার হলো। আল্লাহর রহমতে কোন বিপদই আসেনি।বিয়ের একদি পরেই আত্মীয় স্বজন সব চলে যায়। হিরা আর মেহেদী ও চলে গেলো। থাকতে বললাম, কাজ আছে বলে কেউ থাকলোনা। আমি আর মানিক এক জায়গাতেই থাকি। তাই আমার জন্য বাধ্য হয়েই আরেকদিন থাকার জন্য রাজি হলো।
-দোস্ত, না হয় আরেক দিন থাকলাম, তাতে সমস্যা নাই। কিন্তু রুপার সাথে তো আর দেখা হবেনা, কথাও হবেনা। ফোন নম্বর ও তো দিয়ে গেলোনা।
-নম্বর দিবে কেমনে, ওর তো ফোনই নাই।
-তাহলে তো আর কোনদিন যোগাযোগই হবেনা।
-টেনশন নিস না। যাওয়ার সময় আমার কাছে থেকে তোর নম্বর নিয়ে গেছে। সময় পেলে ফোন দিবে।
-বলিস কি রে, তাহলে তো আমার লাইন একেবারে ক্লিয়ার।
-হুম, তবে তোর হবু শ্বশুর কিন্তু ভীষন রাগী।
-টেনশন নিসনা, মেয়েকে লাইনে আনছি, বাপও লাইনে চলে আসবে।
-সেটা দেখবোনি। এখন রেডী হ, বাহিরে ঘুরতে যাবো।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
আবার কবে গ্রামে আসবোনি, তাই খুব ঘুরলাম। রাতে ব্যাগ গুছিয়ে তাড়াতাড়িই শুয়ে পড়লাম। সকাল ১০টায় আবার বাস আছে।

অনেক রাতে দুঃস্বপ্নে ঘুম ভেঙ্গে গেলো। মনে হচ্ছে কেও যেন আমার বুকের উপর চড়ে আছে। ঘুম ভেঙ্গে দেখি আব্বা, মা, মানিক আমার পাশে বসে।
-বাবা, তুই ঠিক আছিস তো?
-হ্যা, আমি ঠিক আছি। এক গ্লাস পানি দাও।
-দিচ্ছি।
-তোমায় বোবা ভূতে ধরা দেখে তো ভয়ই পেয়ে গেছিলাম।
-না, আব্বা,এটা তেমন কোন বড় ব্যপার না।
-নে বাবা, পানি খা।
-মা তোমরা ঘুমিয়ে পড়ো। দরকার লাগলে ডাকবোনি।
-আচ্ছা ঠিক আছে।

আব্বা, মা যাওয়ার পর মানিক হাসা শুরু করলো।
-তুই সবাইকে ডাক দিছিস, তাই না।
-হুম, ভয় পাইছিলাম তাই।
-তা এখানে হাসার কি আছে।
-হাসবোনা, তুই ভূতে বিশ্বাস করিসনা। আর তোকেই কিনা বোবা ভূতে ধরলো।
-এটা কোন ভূতের কারসাজি না।এটার নাম স্লিপ প্যারালাইসিস।
-সেটা আবার কি?
-ঘুমের মধ্যে আমাদের শরীর প্যারালাইসিস হয়ে থাকে। এটা আমাদের নিরাপত্তার জন্য প্রকৃত প্রদত্ত একটা ঘটনা। ঘুমের দুইটা স্টেপ থাকে। একটা র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট স্লিপ, অন্যটা নন র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট স্লিপ। এর মাঝখানে যদি আমাদের ঘুম ভেঙ্গে যায়, তবে শরীর জাগার আগেই আমাদের মস্তিষ্ক জেগে যায়। তখন মস্তিষ্ক ভাবতে থাকে, কেন শরীর জাগছেনা। তখন তৈরী হয় হ্যালুসিনেশন। তখন আমরা মনের অজান্তেই ভূত,পরীকে কল্পনা করতে থাকি। এবং এটাকে দায়ী করতে থাকি। এটার নামই স্লিপ প্যারালাইসিস। গ্রামে যেটাকে বোবা ধরা, বোবা বুড়ি বা বোবা ভূত বলে থাকে।
-কিন্তু, তুই তো ভূত বা পরী বিশ্বাস করিসনা। তবে, তোর ভাবনায় এসব আসলো কেন?
-আসলে এটা অতিরিক্ত ক্লান্তি থেকে তৈরী হয়। আর কয়েকদিন ভূত পরী নিয়ে যেসব ঘটনা ঘটে গেলো, তার প্রভাব তো পড়বেই।
-হুম, বুঝলাম।
-এখন ঘোমা, সকালে বাস আছে।

মা তো গতকালের ঘটনার জন্য আসতেই দিবেনা। কিন্তু আমি ও গুলো বিশ্বাস করিনা বলে সকাল সকাল রওনা দিলাম। বাসের মধ্যে থাকতে যে বাড়ী থেকে কতবার ফোন দিসে, তার ঠিক নাই। ঢাকায় পৌছার পর তারা নিশ্চিন্ত হতে পারছে।

আবার সেই প্রতিদিনকার একই রুটিন, একই কাজ। আবার সেই নতুন সকাল, নতুন স্বপ্ন এবং নতুন করে পথচলা।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন