বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৬ ডিসেম্বর ১৯৮৯
গল্প/কবিতা: ৫টি

বাবা (জুন ২০১৭)

বাবা হওয়ার সাধে

বকুল বকুল
comment ১  favorite ০  import_contacts ৩৭
নানা আমার মস্ত বড়ো থাকেন অজোপাড়ায়,
মিস্রি কাজ করে নানা সুখের সংসার চালায়।
বাড়ি করেন ইয়া বড়ো দেখতে লাগে বেশ,
নানার আছে তিন মেয়ে দারুন তাদের কেশ।

আরো আছে তিন ছেলে জুরেন চিনি শ্রিভাস ,
রানি সুরি মনি নিয়ে নিত্য তাদের বাস।
তিন মেয়ে তিন ছেলে বড় হলো যবে,
বিয়ে সাদির চিন্তা মাথায় বিয়ে দেবে কবে ?

দিনে রাইতে কাজ করে টাকা জমান ঘরে,
তিন মেয়ের বিয়ে দেবে ঝাঁক-ঝমক করে।
তিন ছেলের লেখাপড়া যতদূর এলো,
মেয়ের বিয়ে দিতে গিয়ে কাজে নামাতে হলো।

ছেলেরা এখন অনেক বড় বিয়েও করেছে সবে,
নানা নানি অনেক খুশি; নাতি নাতনি হবে।
দিনে দিনে নানার সংসার আরো বড় হলো,
আগে যত সুখ ছিল সব বেস্থে গেলো।

তিন ছেলের তিন বউ নিত্য ঝগড়া করে,
এসব দেখে নানা আমার কেমনে থাকে ঘরে।
যেদিন থেকে নানা আমার ছাড়লো সব কাজ,
সেদিন থেকে পুত্র বধুর শুনছে কথার ঝাঁঝ।

নানা আমার ভীষন ভালো ডাকলেন ছেলেদেরকে,
এবার তোমরা ঘর বাঁধ অন্য জায়গা দেখে।
তিন ছেলেই মহা খুশি কি করিবে আজ,
নানার কথা চিন্তা না করেই শুরু করলো কাজ।

দিনে দিনে নানা আমার কি যে কষ্ট করে,
নানিরে খাওনের লাগি কাজ করিয়া মরে ।
একদিন নানির কি জানি এক অসুখ হইলো বুঝি,
এর পর দিনেই নানি আমার সুখ পেল খুঁজি।

নানা এখন ভীষন একা বুড়োও হয়েছেন; বেশ,
চোয়ালে নাই একটাও দাঁত সাদা হয়েছে; কেশ।
গ্রামের যত মুরুব্বি গণ একদিন শালিস ডাকে,
বুড়ো বয়সে; নানাকে যেন কোন এক ছেলে দেখে ।

হায়রে কপাল আমার নানার তিন ছেলেই বলে,
আমাদেরও সংসার আছে,; আছে ঘরে ছেলে।
কাকে দেখবো ছেলেকে না বুড়ো বাপকে ?
কদিন পরেই তো যাবে চলে আমাদের টপকে।

এত খরচা কেমনে করুম নাইতো কানা কড়ি,
বুড়ো যে কোন দিন যাবে এই দুনিয়া ছাড়ি।
নানা; আমার কথা শুনে চুপি চুপি কাঁদে,
বিয়ে করেছিলো নানা বাবা হওয়ার সাধে।

এখন নানা ভীষন প্রস্তায় বাবা কেন হলাম,
দুনিয়াতে বাবা বলতে শুধুই কি কাজের গোলাম!
পরপারের চিন্তা এখন কখন যাবে সেথায়
সুখের দেশে পাড়ি দেবে; নানি আছে যেথায়।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন