বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
গল্প/কবিতা: ১টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

গল্প - ঐশ্বরিক (মার্চ ২০১৭)

মোট ভোট তুমি এবং আমার জীবনের শেষ বিকেল

নিশাত এহসান
comment ৩  favorite ০  import_contacts ৫৪
-কলেজের একটি ফানশনে ,নতুন স্টুডেন্ট রুপকথাকে
দিয়ে ,তার কয়েকজন বান্ধবী জোর করে রাজী করায়, গান
গাওয়ার জন্য । মেয়েটি অসম্ভব রকম ভাল গান গায়॥ নিরব কলেজ
ফানশনে রুপকথার গান শুনে, ওকে ভীষণ ভাল লেগে যায়।
মেয়েটি দেখতে তেমন একটা সুন্দরী না তবে , রুপকথার
কন্ঠের প্রেমে পড়ে যায় নিরব॥ অতঃপর একমাস পর নিরব
প্রপোস করে রুপকথাকে, কিন্তু রুপকথা নিরব'কে
ফিরিয়ে দেয়। রুপকথা বলে : শোনো নিরব , আমার বাবা মা
খুশি হয়ে আমাকে যেখানে বিয়ে দিবে , আমি সেখানেই বিয়ে
করতে চাই , আমি বড়জোর তোমার সাথে বন্ধুত্ব করতে
পারবো , এর বেশি কিছুই না।অতঃপর দু'জন বন্ধুত্ব করে!! কিন্তু
তবুও নিরব হাল ছাড়েনি, প্রতি বছর রুপকথার জন্মদিনে উইস
করে , রুপকথাকে গিফ্ট কিনে দেয়। রুপকথার যা যা ভাল
লাগে , নিরব ও তাই করে ॥ ক্রমে ক্রমে রুপকথা ও দুর্বল
হয়ে পরে নিরবের প্রতি। হার মানে নিরবের ভালবাসার কাছে॥
,
আজ ১ বছর ৩ মাস পাঁচদিন পর॥ নিরব পরন্ত বিকেলে পার্কের
একটি নিরিবিলি জায়গায় বসে বই পড়ছে। হঠাৎ পেছন থেকে
আলতো করে একটি হাতের স্পর্শ ,নিরব পিছন ফিরে তাকাতেই ,
দেখতে পেলো একটি লাল গোলাপ হাতে রুপকথা
নিরবের সামনে দাড়িয়ে॥
........
--কি ব্যাপার পরুপকথা তুমি এই অবেলায়? ওয়াট এ নাইস সার্প্রাইজ।
--হুম ! এই গোলাপ আর চিরকুট টা তোমার জন্য !!
-- ও তাই বুঝি? দাও দেখিতো!!
নিরব চিরকুটটি খুলে দেখতে পেলো ছোট্ট করে লিখা--
নিজের মনের সাথে অনেক যুদ্ধ করেছি শেষপর্যন্ত আমি
পরাজিত তোমার ভালবাসার কাছে '' I love you '' নিরব। ততক্ষণে
লজ্জায় মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে ফেললো রুপকথা।
--কি ব্যাপার রুপকথা!! সূর্য আজকে কোন দিকে উঠলো?
তুমি যা লিখেছো তা কি সত্যি ?
--হুম!!
--কি? হুম , যা বলার মুখে বলো! আমি এইসব ইংরেজী বুঝিনা!!
--আমি পারবোনা! আমার লজ্জা করে॥
--না আজ তোমাকে বলতেই হবে!! প্লিজ বলো।
--আজ না প্লিজ অন্য একদিন, আজ যতটুকু বলেছি এইটুই অনেক
প্লিজ মাইন্ড করোনা ।
--ঠিক আছে তোমার হাতটা ধরতে পারি?
-- উমমম । না ।
নিরবের হাসিমাখা মুখটা নিমিষেই আবার কালো হয়ে গেলো ।
--আচ্ছা ঠিকাছে এই নাও ধরো পাগল একটা।
সন্ধ্যা প্রায় হয়ে এলো সূর্যটা পশ্চিম আকাশে লাল হয়ে
আসছে, সূর্যাস্ত হবে এখনই ।পার্ক থেকে বের হয়ে
প্রিয়ন্তীর হাতটা ধরে ,গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে মেইন
রাস্তাটায় আসলো নিরব..। দু'জন দু'জনার হাতটা শক্ত করে ধরে
রাস্তার এক পাশ দিয়ে হাটছে॥
..........
--রুপকথা জানো আজ আমি ভীষণ খুশি ।
--কেন ? খুশির কি হলো?
--বাব্বা! খুশি হবোনা ! আজ এক বছর ৩ মাস পাঁচ দিন পর তুমি আমাকে
বললে ভালবাসো। এরচেয়ে সুখ আর কি হতে পারে বল?
--হুম । তুমি পাগল একটা ।
--হ্যা আমি পাগল শুধু তোমার জন্য রুপকথা।
--আচ্ছা 'নিরব' আমি ছাড়া তোমার কি আর কোনো মেয়ে
চোখে পড়েনি? যে তুমি শুধু আমার পিছনেই ভালবাসি কথাটা
শোনার জন্য এতটা দিন ঘুরলে এতদিন অপেক্ষা করলে? তাছাড়া
আমি তো দেখতেও তেমন সুন্দরী না।
--আরে পাগলি শোনো, কাউকে ভালবাসতে গেলে তার
চেহারা যে সুন্দর হতে হবে, এমন তো কোনো নেই।
কেউ একজন বলেছিলো , ফুলেতে গোলাপ সুন্দর বাগান
করে আলো, গুণেতে নারি সুন্দর যদিও হয় কালো।
--ওমা তাই নাকি !! কথাটা বলেই খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো
রুপকথা
--(একটি মুচকি হাসি দিয়ে) হুমমম! রুপকথা শোনো। আমি
তোমাকে দেখতে দেখতে কখন যে নিজের অগোচরে
তোমাকে ভালবেসেফেলেছি ! তা আমি নিজেও টের পাইনি॥
তোমার প্রতি আমি দুর্বল হয়ে পরেছি । আর শোনো শুধুমাত্র
টাইম পাসের জন্য যদি আমি প্রেম করতাম তাহলে এতদিনে
অনেক প্রেম করতে পারতাম। অনেক মেয়ের প্রপোস
পেয়েছি গত একটি বছরে। কিন্তু আমি পারবনা প্লে বয়দের মত
টাইম পাস করে মেয়েদের মন নিয়ে খেলা করতে, ভালবাসা
নামের মিথ্যা অভিনয় করতে, তাই সবাইকে ফিরিয়ে দিয়েছি !! আমি
শুধু তোমাকেই ভালবাসি , তোমাকেই চাই । আর তাইতো আজ
পর্যন্ত আশায় বুক বেধে অপেক্ষায় ছিলাম॥ প্লীজ বলে দাওনা
রুপকথা, আমাকে ভালবাসো প্লীজ। হাতটতে হাটতে দুজনে
প্রায় রুপকথার বাসার কাছাকাছি চলে এসেছে ॥ রুপকথা
নিরবকে মুখ ফুটে বলেনি ভালবাসি তাই নিরবের মনটা একটু খারাপ॥
...
হঠাৎ করেই নিরব রুপকথা হাতটা ধরে রাস্তার মাঝামাঝি চলে
গেলো । একটা দুটো গাড়ি আসছিলো কিছুক্ষণ পর পর । হঠাৎ
একটা মালবাহী ট্রাক হাইস্পিডে এগিয়ে আসছে । সম্ভবত গাড়িটি
ব্রেক-ফেল করেছে মুহুর্তের মধ্যেই গাড়িটি চলে আসে।
নিরব রুপকথার হাতটা ছেড়ে সাথে সাথে এক ধাক্কায়
রুপকথাকে রাস্তার এক পাশে ফেলে দেয় । অতঃপর
ট্রাকের ধাক্কায় ছিটকে পরে নিরব ওপাশের দেয়ালে!! মাথায়
প্রচণ্ড ভাবে আঘাত পাওয়ায় প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে। রুপকথা
চিৎকার দিয়ে নিরবকে জরিয়ে ধরে । নিরবের রক্তে লাল হয়ে
যায় রুপকথার সাদা ড্রেসটা । নিরবের ঠোঁট দুইটা কাপছে
রুপকথার চোখের দিকে বড় বড় চোখ করে, তাকিয়ে
আছে অপলক দৃষ্টিতে মুখ দিয়ে গর গর করে রক্ত বের
হচ্ছে । কিছু একটা বলতে চাচ্ছে নিরব , তাই রুপকথা ওর মাথাটা
নুইয়ে দিল । নিরব আস্তে করে মৃদু স্বরে রুপকথাকে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী
    মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী বেশ লিখেছেন কবি। পুরো গল্পটা পড়ে খুব ভাল লাগলো। ভোট রেখে গেলাম।
    প্রত্যুত্তর . ২ মার্চ
  • মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী
    মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী অন্যের গল্প কবিতা গুলো একটু পড়তে চেষ্টা করুন। ভালো লাগার উপরে ভিত্তি করে তাকে মন্তব্য করুন এবং ভোট দিন। দেখবেন নিজের লেখার মান বাড়বে এবং এক সময় তরুন প্রজন্মকে ভালো কিছু উপহার দিতে পারবেন। শুভকামনা রইলো।
    প্রত্যুত্তর . ৮ মার্চ
  • কাজী জাহাঙ্গীর
    কাজী জাহাঙ্গীর মর্মান্তিক প্রেমের গল্প । কিন্তু ভাই বিষয়টা প্রেম ছিল না, বিষয় ছিল ঐশ্বরিক। তবু বেশ ভালো লিখতে পারেন বোঝা গেল। গল্প কবিতায় স্বাগতম। বিষয়ের দিকে নজর রেখে আশা করি লিখা অব্যাহত রাখবেন। অনেক শুভকামনা আর আমার পাতায় আমন্ত্রণ।
    প্রত্যুত্তর . ১৭ মার্চ