বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ মার্চ ১৯৯৭
গল্প/কবিতা: ১১টি

সমন্বিত স্কোর

২.৯

বিচারক স্কোরঃ ১.৪ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৫ / ৩.০

কামনা

কামনা আগস্ট ২০১৭

নিয়তির খেলা

কামনা আগস্ট ২০১৭

অধিকার

ঋণ জুলাই ২০১৭

গল্প - ঐশ্বরিক (মার্চ ২০১৭)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৯ একটা অন্তিম পরিবারের জিবন কাহিনী

মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী
comment ১৬  favorite ০  import_contacts ১,৬৪৪
রাত পেরিয়ে দিন আসা মানে কারও জিবনে অকল্যান বর্জ্যপাতের জিবন শুরু হওয়া। তেমনি রাহুলের জিবনের মর্মকাহিনী কাউকে যে স্তম্ভিত করবে না তাহা বোঝা অসম্ভব কিছু নয়। জন্মের কিছু দিন পর রাহুলের বাবা মানিক সাহেব পৃথিবী নামের ক্ষনিক জিবন থেকে চলে গেলেন। এক বোন আর এক ভাই নিয়ে জিবনের অন্যতম কঠিন পথে চলতে লাগলেন তার মা রোহানা। বোনের বয়সটাও বেশি নয় মাত্র ৩ বছর শেষ করে ৪ বছরে পরবে। রাহুলের জিবনটা মাত্র শুরু বলা যায়। কারন বয়স সবে মাত্র বছর খানিক হবে। এই বয়সে বাবা মারা যাওয়া মানে কারও জিবনে দুর্বিষহ নেমে আসবে। রাহুল এখনও অবুঝ শিশু। বোনটার মোটামোটি জ্ঞান আসতেছে। বাবা চলে যাওয়ার কয়েক দিন পর তার নামে খানা দানা শেষ হল। এই দিকে রাহুলের নানা ছিলেন একজন কুটনিতীবিদ। তার মেয়েকে নিয়ে গেলেন তার বাড়িতে। কারন এ পরিবারে থাকাটা তার জন্য কঠিন হয়ে যাবে। রাহুলের দাদি মারা গেছেন তার জন্মেরও অনেক আগে। দাদা থাকেন তার ছেলে কবিরের সাথে। এই দিকে মানিক সাহেব ছেলে রাহুল, তার মেয়ে সোহানা ও তার স্ত্রী রোহানাকে নিয়ে ভিন্ন থাকতেন। তিনি বাড়িতে তেমন থাকতেন না। পেটের দায়ে তাকে শহরে থাকতে হত। শহরে গাড়ী চালিয়ে টাকা আয় করে সংসার চালাতেন। যদিও ভিন্ন থাকতেন কিন্তু চার ভাই, তিন বোন ও বাবাকে দেখতেন। কখনও টাকা পয়সা দিয়ে, কখনও বাজার করে দিয়ে আবার কখনও খাবার দিয়ে। ভাইদের ভিতরে ২ নম্বর থাকার কারনে সংসারের চাপটা একটু বেশিই তার ওপরে থাকতো। তবু এটাকে তিনি কষ্ট মনে করতেন না। রাহুল জন্ম গ্রহন করার কিছু দিন পর তিনি শহরে চলে আসলেন। থাকতে লাগলেন, খাইতে লাগলেন, চলেতে লাগলেন। হঠাৎ তার শরীরে ওষুক হয়ে পড়ে। তাও ভয়ানক রোগ টিউমার। তাও পেটে। কিন্তু বোঝে উঠতে পারলেন না এটা যে রোগ। দেড়ি করে বাড়িতে গেলেন। রোগ ধরা পড়ছে টিউমার। তাও পেঁকে গেছে। পেট ফুলে গেছে। অনেক টাকা খরচ করেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পৃথিবী থেকে মাত্র স্বল্প বয়সের এ জিবন নিয়ে তাকে বিদায় নিতে হল।
.
এই পরিবারে যেহেতু ভিন্ন থাকতেন তাই কেউ সংসারে রাখতে তেমন বেশি চাপ দিলেন না। তবু মানিকের বড় ভাই আবির তাদের পরিবারে রোহানাকে রাখতে চাইলেন। কিসের সমস্যা? কোনো সমস্যা নাই জমি আছে চাষ করবো তাতে দিয়ে আমাদের সংসার চলে যাবে- আবিরের উক্তি। যেহেতু রোহানাকে তার বাবা নিতে আসলেন তাই সে বেশি থাকতে চাইলেন না। এই দিকে রোহানার বাবা তার নাতি ও নাতনিকে নিতে না বলছেন। অন্য দিকে রোহানা চিৎকার মেরে কাঁদতে লাগলেন। এক স্বামীর মৃত্যু দ্বিতীয়ত সন্তানকে নিজের সাথে নিতে দিবেন না। হায় রে এখান থেকে বোঝি আমার কষ্ট শুরু- রোহানার উক্তি। রোহানার বাবা চাইলেন রোহানাকে আবার বিয়ে দিবেন। যদি তার সন্তান তার সাথে নিয়ে যায় তাহলে তাকে বিয়ে করতে কেউ রাজি হবেন না রোহানার বাবা মনের মাঝে রেখে ভাবছেন। এটা রোহানার মোটেও জানা ছিল না। তবু জোর পূর্বক রোহানাকে তার বাবা নিয়ে গেলেন। রোহানার মা জামিলা বেশ সোজাসাজি একজন নারী। রোহানা চিৎকার মেরে কাঁদতে লাগলেন। এটা জামিলার সহ্য হয় না। জামিলা বোঝাতে লাগলেন। সেই বোঝ রোহানা মোটেও নিচ্ছে না। একদিন চলে গেল, মাত্র ২ দিনে পড়ছে। রোহানা আর সন্তানকে না দেখে থাকতে পারলেন না। পালাই চলে গেলেন ২ সন্তানকে দেখার জন্য। বেশি দুর নয় বাবার বাড়ি থেকে ৮-১০ মাইল হবে। তাও পায়ে হেটে। এই দিকে তার মা জামিলা তাকে চিন্ন চিন্ন করে খোঁজতেছেন। মোটেও পেলেন না। মেয়ের জন্য নিজেও খাবার ছেড়ে দিলেন। চিন্তা করতে লাগলেন মেয়ে কোথায় গেল। এই দিকে রোহানার বাবা সরদার সাহেব খোঁজ পেয়েছেন তার মেয়ে তার জামাই বাড়ি চলে গেলেন তার সন্তানকে দেখার জন্য। সরদার অনেক রাগি মানুষ। কলাগাছ হয়ে আছেন রোহানা যদি তার বাড়িতে সন্তান নিয়ে আসে তাহলে সন্তানকেও রাখবেন না, তাকেও রাখবেন না মেরে ফেলবেন। রোহানা গিয়ে দেখে তার সন্তানকে তার ননদ ডাল ভাজা খেতে দিলেন। মেয়েটা খাইতেছে আর ১ বছরের ভাই রাহুলের সাথে মজা করতেছে। রাহুল কি আর থাকে ক্ষুধার জ্বালাতনে। চিৎকার করে উঠানে কাঁদতেছে। সবাই সবার কাজে ব্যাস্ত। তাদেরকে দেখার মত মা ছাড়া আর কে থাকে এ বয়সে। রোহানা অলোকুনে দাড়ায়ে দেখতেছেন তাদের এ অবস্থা। সন্তান যখন কান্না করে তখন মা কি আর চুপটি করে থাকতে পারে? কখনও না। মা চলে গিয়ে দুই সন্তানকে বুকে নিয়ে কাঁদতে লাগলেন। এই দিকে তার ভাবনা- যদি আমি আমার সন্তানকে রেখে যায় এদেরকে দেখবে কে? খাওয়াবে কে? রাহুলকে বাচানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই নিজের সোনা মানিক দু’টোকে বুকে নিয়ে নিজের সাজানো সংসার রেখে চলতে থাকলেন বাপের বাড়িতে। এইদিকে রোহানার ফুফু খুব একজন ভালো নারী ছিলেন। রোহানা কখন আসবে তাকে রাস্তায় পাহাড়া দিচ্ছেন। কারন যদি বাড়িতে যায় তাহলে তার ভাই রোহানার বাবা তাদেরকে রাখবেননা। দিন পেরিয়ে সন্ধ্যার পূর্ব মুহূর্তে তার ফুফু দেখতেছেন রোহানা তার সন্তান দু’টোকে নিয়ে ধীরে ধীরে বাবার বাড়িতে যেতে লাগলেন। তার ফুফু তাকে ডেকে সব খুলে বললেন আর তাকে তার বাড়িতে রেখে দিলেন। তুই কয়টা দিন এখানে থাক, তোর বাবার মাথা ঠান্ডা হলে তোর বাবাই তোরে নিতে আসবে। এই দিকে তার বাবা, মা কেউ তাকে খোঁজে পেলেন না। রোহানার দুঃখ আরও বাড়তে লাগলো। একদিন সে নদীর পাড়ে দুই সন্তানকে নিয়ে গেল নদীতে ঝাপ দিয়ে এক সাথে তিনজন মারা যাবেন। কিন্তু পাড়া-পরশি দেখে ফেলেছেন। আর পারলেন না। খবর চলে গেল রাহুলের দাদার বাড়ি। রাহুলের দাদা এখন চাপ দিলেন- আমার বউ ও নাতি নাতনি তাড়াতাড়ি হাজির করেন। যদিও তারা জানে কিন্তু আসছে যে বলার জন্য না করে দিয়েছে। কিন্তু কোথায় থাকেন এটা কেউ জানেন না। তারা মনে করলেন- এখান থেকে যাওয়ার পরে তাদেরকে মেরে ফেলেছেন। যা হোক শেষ মুহূর্তে যখন রাহুলের দাদা আরও জোর পূর্বক চাপ দিতে লাগলেন তখন রোহানার ফুফু তার ভাইয়ের বাড়িতে খবর পৌছালেন। আর বললেন- দুই বাড়ি থেকে আপনারা স্বীদ্ধান্ত নিন। আর আমার বাড়িতে উক্ত দিন দুই দলই আসুন। আমার বাড়িতে বিচার হবে। বিচার না হওয়া পর্যন্ত রোহানাকে যেতে দিব না এবং রোহানা আমাদের বাড়িতে থাকবে।
দুই পরিবারের থেকে লোক আসলো, বিচারে বসলো। বিচার শুরু হল- আমি আমার সন্তানকে নিয়ে প্রয়োজনে ভিক্ষা করে খাব, প্রয়োজনে আপনাদের থেকে অনেক দুরে চলে যাব যেখানে আমাকে কেউ চিনবে না, দুরে গিয়ে মানুষের কাজ করে খাব যেখানে আপনাদের সম্মান যেন নষ্ট না হয়- রোহানার উক্তি। আমি আমার বউ ও নাতি- নাতনিকে আমার বাড়িতে নিয়ে যাব, তারা এখানে থাকার কোনো অধিকার নেই, আমি না খেলে রোহানাও না খেয়ে থাকবে, আমি খাইলে সেও খাবে তবুও আমরা একসাথে মিলে মিশে থাকবো- রাহুলের দাদার উক্তি। আমার মেয়েকে আমি নিয়ে যাব, ওর আজও অল্প বয়স ওরে বিয়ে দিব, আপনারা আপনাদের নাতি- নাতনি নিয়ে যান- রোহানার বাবার উক্তি। অনেক সময় ধরে বিচার চলতে লাগলো, কেউ কাউকে ছাড় দিতেছেন না। শেষ পর্যন্ত রোহানাকে তার মা বোঝালো দেখ তুই যদি এখানে না থাকিস তাহলে আমি বাঁচব না। শোঁকে শোঁকে মারা যাব। রোহানা স্বীদ্ধান্ত নিল আমি কষ্ট করে খাব, মানুষের কাজ করে টাকা দিয়ে, একমুটো চাল দিয়ে হলেও আমি আমার সন্তানের খাবার ঝুটাবো তবুও আমি আমার সন্তানকে আমার ছায়ার আঁচলে ছেড়ে যেতে দিব না। যদি তুমি এই শর্ত মেনে নাও তাহলে বাবাকে বোঝাও। জামিলা বোঝাতে লাগলেন- অনেক বোঝানোর পরে রোহানার বাবা বোঝ নিলেন আর তার মেয়েকে ও নাতি নাতনিকে তার ঘরে রাখতে সম্মত হলেন।
.
ঘরে নিয়ে আসলেন। এই দিকে রোহানার বড় ভাই আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ। কিভাবে তাদেরকে রাখবে? আমি তাদেরকে রাখতে পারবো না! নিজের বউ পুলাপানের খাবার জুটাতে পারি না, তাদের খাবার জুটাবো কোথায় থেকে?- রোহানার বড় ভাই কাবিলের উক্তি। কারন তাদের পরিবারে রোহানা সহ তারা ভাই বোন ৮ জন। রোহানার সন্তান ২ জন, মা বাবা ২ জন, ২নং ভাইয়ের স্ত্রী এবং কাবিলের স্ত্রী-বউ ও সন্তান ৩ জন। টোটাল- ১৬ জনের সংসার। কিছু দিন পর সেখানে সবাই বিচারে বসলো- তাহলে কি করা যায়? বিচার শুরু হল- আমি পারবো না তাদের জন্য খাবার জুটাতে। বাবা তুমি পারলে রাখ আমি ভিন্ন হয়ে যাব কাবিল এটা বলে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বড় এক খেঁজুর গাছের লাম্বা কাটা তার পায়ে বিধে গেল। পায়ের তালুতে ডুকে উপরে চলে আসলো। সবাই বলে এখানে এত মানুষ আসতেছে-যাইতেছে কারও কিছু হল না অথচ ওর পায়ে কাটা বিধলো কি করে? নিশ্চয়ই আল্লাহ বিচার করে দেখালেন। কাবিলের স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তাদেরকে ভিন্ন করে পাক ঘরের মত একটা তার বাবা ব্যবস্থা করে দিলেন। আমার মেয়ে আমার কাছে থাকবে তোর খাওয়ান লাগবে না তুই ভিন্ন খা- রোহানার বাবা।
.
এই দিকে রোহানার জন্য কঠিন সময় আসতেছে। রোহানা মানুষের কাজ করা শুরু করে দিল। কখনও মাঠে ধান কুঁড়াতে লাগলেন, কখনও বাবার সাথে তাদের ক্ষেতে কাজ করতে লাগলেন। কখনও মাঠে ছাগল- গরু রেখে বড় করতে লাগলেন। কখনও আবার হাঁস- মুরগি পালন করতে লাগলেন। তবুও হতাশ হলেন না। এই দিকে রাহুল ও তার বোন সোহানা বড় হতে লাগলো। কষ্ট করে সংসার চলতে থাকলো। যেখানে দামী কিছু খাবেন সেখানে সেটা না খেয়ে কম দামী জিনিস খেয়ে বাঁচতে লাগলেন। অন্যদিকে রোহানাকে বিয়ের জন্য ভালো ভালো পাটি আসেন কিন্তু রোহানা কোনো ভাবে তাতে রাজি হন না। কারন মানিক সাহেব মারা যাওয়ার আগে বলে গেছেন- আমি যদি মারা যায় আমার পোলাপাইনেরে শোঁকের সাগরে ভাসাইয়া তুমি কখনও সুখ পেতে যাইও না। যদি যাও তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত দায়ী থাকবা। তাই রোহানা কোনো ভাবে কখনও রাজি হননি।
একদিন রাহুল খেলতে খেলতে পানিতে পড়ে গেলেন তার নানা-নানি- মা কেউ ঘরে ছিল না। ঘরে ছিল তার মামা কাবিলের স্ত্রী। তিনি দেখে আছেন অথচ রাহুল যে হাবুডুবু খাচ্ছে তাকে পানি থেকে উঠাচ্ছেন না। পাশের ঘর থেকে একজন বুড়ো মহিলা বের হয়ে দেখেন রাহুল পানিতে পড়ে গেছেন সে দ্রুত পানিতে ঝাপ দিয়ে রাহুলকে উঠালেন। কেমনে মানুষ গুলো এতটা স্বার্থপর-বেঈমান হতে পারেন? দেখে আছে অথচ নিষ্পাপ ছেলেটাকে তুলছে না- পাশের বাড়ির মহিলার উক্তি। রোহানা শুনে মাত্র চলে আসলেন এবং সোনা চাঁনকে কোলে নিয়ে কাঁদলেন, আর ছেলেটাকে আদর করতে লাগলেন। এই দিকে তার মামি কাবিলের স্ত্রী রাহুলদেরকে নিয়ে একটু হিংসা করতেন। কারন, তারা যে কোনো খাবার খান আর সন্তান তেমন খাবার খান না। শয়তানিও করতো না। সারা দিন সাথে সাথে থাকে এ জন্য।
.
যা হোক, এমন করে দীর্ঘ ৫ বছর বাবার সংসারে থাকতে লাগলেন।
চলতে লাগলেন খাইতে লাগলেন।
দীর্ঘ ৫ বছরের এই সময়টুকুতে এখন আয় তেমন হচ্ছে না। কি করবেন ভাবতে লাগলেন। কিছু দিনের ভিতরে তার এক আত্মীয়ের পরিবার থেকে তার খবর আসে অনেক দুরে বড় এক মালিকের বাড়িতে কাজ করার জন্য। তাও শহরে গিয়ে। অনেক চিন্তা ভাবনা করলেন। শেষে রাজি হলেন। কারন আজ রাহুল ছোট নয়। ৬ বছর বয়স রাহুলের। রাহুল তার নানুর কাছে থাকতে থাকতে নানুকে ভালোবাসতে, তার কাছে থাকতে- খাইতে আর ঘুমাতে শিখে গেছে। তাই রোহানা চলে আসলেন শহরে তার ১০ বছরের মেয়ে সোহানাকে নিয়ে। মানুষের কাজ করে চলতে লাগলেন, খাইতে লাগলেন আর মাঝে মাঝে ছেলের জন্য টাকা পাঠাতেন। টাকা পাটালে কি আর মনের আদর দুর করে দেয়া যায়? সম্ভব নয়। তাই সৃষ্টিকর্তার কাছে দুই হাত তোলে কাঁদতেন আর ছেলের জন্য দোয়া করতে লাগলেন।
.
এইদিকে ১ বছর পেরিয়ে গেল। বাড়িতে আসলেন- ৩ নং ভাইয়ের স্ত্রী ছিল সামান্য শিক্ষিত। তাই তার সাথে কথা বলে রাহুলকে স্কুলে ভর্তি করে দিলেন। এভাবে রাহুল শিখতে লাগল, বড় হতে লাগলো আর স্কুলে ভালো ফলাফল করে ভালো একজন ছাত্র হিসেবে জনসম্মুখে পরিচিত হতে লাগলো। ঐ দিকে মা শহরে মানুষের ঘরে কাজ করে টাকা আয় করে ছেলের পড়ালেখা খরচ চালাতে লাগলেন। স্কুলে রাহুলের কাছ থেকে কোনো বেতন নেয়া হত না। কিন্তু বই- খাতা তো আর দোকানদার এমনে দিবে না সেগুলো কিনে নিতে হয়।
এভাবে রাহুল অনেক কষ্ট করে প্রাইমারী শেষ করলো। তার নানু খেয়ে- না খেয়ে রাহুলকে খাওয়াতেন। ভাত না থাকলে একমুঠো সে কম খেয়ে রাহুলের জন্য রেখে দিত। রাহুলের জন্য যতটা কষ্ট করছে তার সন্তানের জন্যও এতটা কষ্ট করেনি!
এবার রাহুল প্রাইমারী শেষ করে মাধ্যমিক স্কুলে পর্দাপন করলো। খরচ আরও বাড়তে লাগলো। সেখানেও তার কাছে বেতন নেয়া হত না। উল্টো সে আরও উপবৃত্তি পেত। শিক্ষক গুলোও তাকে খুব সাহায্য করতো। যা হোক কষ্ট করে মোটামোটি ভালোই চলতে লাগলো।
.
এই দিকে তার বোন বড় হতে থাকলো। বিয়ের বয়স হল। বেশি বয়স হলে মানুষ বলবে-বুড়ি হয়ে যাবে। তাই রোহানার জমানো কিছু টাকা আর রাহুল ও সোহানা তার দাদার বাড়িতে কিছু জমি ভাগ পেয়ে ছিল সেটা বিক্রি করে কিছু টাকা দিয়ে তার মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিলেন। ছেলেটা মোটামোটি ভালো। কিন্তু আপনজন ছিল।
.
রাহুল এবার মাধ্যমিক শেষ করছে। ভালো ফলাফল করে সবার মুখ উজ্জল করলো। সবাই খুশি। তার মাথায় বুদ্ধির উদয় হল। কারন রাহুল এখন ছোট নয়, বড় হয়েছে। ভালো- খারাপ বোঝে, বোঝে মায়ের কষ্ট। যা হোক- তার মামা কাবিল শহরে থাকে। নানার সাথে মামার বাসায় বেড়াতে শহরে চলে আসলো। সেখানে আসার পরই তার এক আত্মীয় তাকে এক অফিসে চাকরি নিয়ে দিলেন। সে সাথে ভর্তি হল একটা কলেজে বিজ্ঞান শাখায়। পড়তে লাগলো চাকরিও করতে লাগলো। মোটামোটি ভালোই চলতেছে। এই দিকে মা আর মানুষের কাজ করতে পারে না। দীর্ঘ ১৪ বছর একই বাড়িতে কাজ করছেন। সব সময় ওষুক লেগেই থাকে। কারন রোহানার ডায়াবেটিস আছে। অন্যদিকে রোহানার নাতিও সোহানার ৫ বছরের ১টা ছেলেও আছে।
.
এই দিকে রাহুল কলেজও শেষ করলো। অন্য রকম এক ফলাফল। সবাইতো অবাক। খুশিতে মা কেঁদে দিলেন। অফিসে তার আগে যে বেতন ছিল এখন তার বেতন আগের চেয়ে তিনগুন। কারন, সে এক সময় কাজ করছে সাধারন হিসেবে আজ সে সব কাজের একজন অভিজ্ঞতাবান বীর পুরুষ। আজ তাকে ম্যানাজার পদে অফিসে নিযুক্ত করা হয়েছে। এর মাঝে সে আবার আর একটি চাকরি করেন সে সাথে কিছু টিউশনিও করেন।
২০১৫ সালে রাহুল একটা ভার্সিটিতে বি.এসসি. করার জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং এ কম্পিউটার সাইন্সে চান্স পেয়েছেন। এখন সে তার মাকে আর মানুষের বাড়িতে কাজ করতে দেয় না। এখন অনেক শান্তিতে রাহুল তার মাকে নিয়ে সুখে আছেন। সুতরাং মায়ের মত আপন, ধৈর্য্যধারীনি, কষ্টকারীনি কিংবা বড় বান্দব পৃথিবীতে আর কেউ নাই। মায়ের দোয়া থাকলে জিবনে অনেক বড় হওয়া কঠিন কিছু নয়।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন