বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৬ আগস্ট ১৯৯৪
গল্প/কবিতা: ১৪টি

সমন্বিত স্কোর

২.১৫

বিচারক স্কোরঃ ১.১ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.০৫ / ৩.০

“কামনা”

কামনা আগস্ট ২০১৭

“ঋণ”

ঋণ জুলাই ২০১৭

“পার্থিব”

পার্থিব জুন ২০১৭

গল্প - ঐশ্বরিক (মার্চ ২০১৭)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.১৫ ঐশ্বরিক

মোঃ নয়ন আহামেদ
comment ১২  favorite ০  import_contacts ২৪৯
আজ বেলা দশ টায়, আমি আর শতরুপ গিয়েছিলাম বর্ধমানে। শতরুপকে ডাক্তার দেখাতে, বাড়ী ফেরার সময় ট্রেন লেট থাকায় স্টোশনের প্লাটফ্রমে একটা ব্রেঞ্চে আমরা বসলাম। হঠাৎ বছর সাত একের একটা ছেলে কথা থেকে বা পা শুধী ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে টাল খেতে খেতে সে এসে বসলো। বসার ভঙ্গিটা কেমন অন্যরকম যেন। এক হাতে হাটুর কাচটা ধরে, তারপর ধপাশ করে বসলো। দেখে যেন কেমন মনে হলো? সে বলে উঠলো দিদি মণি এ্য আপনার জুতোটা পালিশ করে দেব? তারপর আমি ওকে জিগ্গেস করলাম? কি হয়েছে তোমার পায়ে? ও ও কিছু নয় দিদি মণি। আসলে কত্ত তাবিজ কবজ করলাম। তারপরো কোনো কাজ হলো না। পরে পলিও হয়েছে আর কি ডাক্তার দেখাবার পয়সা নাইতো তাই। ও ! তোমার মা বাবা নেই কোথায় থাকো? আহাহ্রা শুধী মা আছেন। তবে বাবা উপরে যাওয়ার পর আমাকে একা রেখে চলে গেছেন। আর বাড়ী ঐ যে দেখছেন না ব্রিজের কাছে সাখো, আরে ঐ গাছ টার নিচেই আমরা থাকি। তারপর আবার ভর হতে না হতেই চলে আসি স্টোশনে। ওর কথা শুনে আমার গলার কাচে কেমন একটা বাস্প জমা হলো। এই টুকু ছেলের এই অবস্থা? একটা সময় জুতো পালিশ করা হয়ে গেল, ওকে কুঁড়িঁ টাকা নোট দিয়ে বললাম? এটা তোমার কাছে রাখো। তখন সে বলে উঠলো এ্যহে দিদি মণি জুতো পালিশ করার মূল্যতো পাঁচ টাকা। এ্য আপনাকে ফেরৎ দিতে হবে পনেরো টাকা। এত টাকা আমার কাছে তো নেই? তোমাকে ফেরৎ দিতে হবে না কেমন? এটা তোমার কাছে রেখে দাও। ছেলেটি বললো এ্য কিন্তু এর বেশি দাম তো আমি নিতে পারবোনা। এতটা আত্বসম্মান এই টুকু বয়সেই? তখন আমি অবাক হয়ে গেলাম। ওর দিকে চেয়ে থাকলাম ফেল ফেল করে। এ সময়েই হঠাৎ বছর দশে একের একটা মে ছেড়া ময়লা জামা পড়া। তার একদিকে ছেড়া আদ ময়রা ওরনা শুকনো আলো ধালো অবস্থা। সামনে এসে সন্ধিকদ্ধো চখে এদিক সেদিক দেখে তারপর ছেলেটিকে বলে উঠলো? এই সেই কখন থেকে তোকে খুঁজে বেড়াচ্ছি এ প্লাট ফ্রম ও প্লাট ফ্রম, আর তুই এখানে বসে। কতোবার যে তোকে বললাম আজ বেরুবী না? কাল সারাদিন তোর না জ্বর ছিলো। এ দিকে আয়তো কই এই দেখি দেখি ইস তরতো জ্বরে গাঁ পুড়ে যাচ্ছে। এই বলে ওর ওরনাটা গাঁয়ে চাপিয়ে দিলো। বললো এই এই ধর এই বিস্কুটটা ধোর। ওই বাবুটা দিলেন, কাল থেকে তোর পেটে তো কিছুই পড়েনি। ছেলেটা কামড়ে আধ খানা বিস্কুট খেয়ে মেটিকে দিয়ে বললো? এ্যায়া এই নে আর বাকিটা তুইও খা। তুইতো কাল আমার পাশে সারারাত জেগেছিলি? তুই ভাবছিছ আমি জ্বরের ঘরে কিছুই টের পাইনি। তখন ছেলেটিকে বললাম আচ্ছা ও তোমার কে হয় গো? বললো আহ্ ও আমার বন্ধু আছে। জানেন? ওর বাবা আর সৎ মা ওকে বাড়ী থেকে বের করে দিয়েছে। মে টি হঠাৎ বলে উঠলো? এই চলে আয় এই প্লাট ফ্রমে। ওর হাত ধরে কোনোরকম খোড়াতে খোড়াতে সেই ছেলেটিকে নিয়ে চললো। তারপর আমি আর শতরুপ চেয়ে রইলাম ওদের দিকে। যতক্ষন না দৃষ্টির আড়াল হয়। অনেক বছর পার হবার পর হয়তো ওরা দুজনে সংসার পাতবে। ওদের সন্তান কে নিয়ে সুখে থাকবে। ওরা আমাদের সংসারকে বিদ্রুপ করে লাইনের ধারে গোল পাতার ছাউনির তোলায় ওদের পৃথীবি ভরে উঠবে। তখন আমার দু'চোখ জলে ঝাপশা হয়ে আসছে। ওমনি ট্রেন আসার ঘোষণা শুনলাম।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন