বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯
গল্প/কবিতা: ১৯টি

সমন্বিত স্কোর

৫.৭৯

বিচারক স্কোরঃ ৩.৮৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৯৪ / ৩.০

কেস নাম্বার-২৭৮৫৬

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নভেম্বর ২০১৭

গল্পটা কাল্পনিক

আঁধার অক্টোবর ২০১৭

ঘুড়ি

কামনা আগস্ট ২০১৭

গল্প - ভৌতিক (সেপ্টেম্বর ২০১৭)

মোট ভোট ৪২ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৫.৭৯ অসমাধিত

সালমা সিদ্দিকা
comment ৩১  favorite ০  import_contacts ৭৫৪
"স্যার, একটা গল্প বলেন। এমনে বসতে বসতে তো পোতায় যাবো । না আছে কারেন্ট, না আছে ইন্টারনেট। কি করবো বলেন তো স্যার ?"

আনিস সাহেব নিমগ্ন হয়ে বৃষ্টি দেখছিলেন। মনে মনে কি যেন ভাবছিলেনও বুঝি। সেজন্য রবিউলের আবদার শুনে একটু বেশিই চমকে গেলেন।
"গল্প ? আমাকে দেখে মনে হয় আমি গল্প বলতে পারি?"
"তা মনে হয় না স্যার, আপনি গম্ভীর মানুষ। কিন্তু এমন চুপচাপ বইসা থাকতে আমার ভালো লাগেনা । এর জন্য বললাম স্যার । কিছু মনে করবেন না। "
"না না, কি মনে করবো ? আসলে আমার তেমন কোনো গল্প নেই।"
"সবার গল্প থাকে, আপনারও আছে স্যার। আপনি লজ্জা পাইতেছেন মনে হয়। আপনি কিছু না বললে আমি একটা গল্প বলি স্যার?"

আনিস সাহেব প্রমাদ গুনলেন। রবিউল দুদিন ধরে কথা বলে বলে পাগল বানিয়ে দিয়েছে। আনিস সাহেবের মনে হয়না রবিউল তার জীবনের কোনো গল্প আর বলতে বাকি রেখেছে।

"স্যার, আমার মেট্রিকের রেজাল্ট খারাপ হইলো। রেজাল্ট নিয়ে সারা দিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরলাম। কান্না আসে কিন্তু কানতে পারিনা। বাসায় যাইতে ভয় লাগতেছিলো। আমার আব্বা খুবই রাগী মানুষ। উনাকে দেখলে আপনারও ভয় লাগতো স্যার। এত্ত বড় মোছ ছিল আব্বার। উনার মোছ কাটতে নাপিত বাসায় আসতো। কত কায়দা কইরা যে মোছটা কাটতো ! আমরা সবাই দাঁড়ায় দাঁড়ায় দেখতাম। আব্বার সেদিন মন মেজাজ ভালো থাকতো। এরকম এক দিন নাপিত আসছে, আব্বা করলো কি , আমার মাথার চুল কামায় দিলো। আমার বয়স তখন চোদ্দ বছর। এই বয়সী ছেলের মাথা কেউ বেল করে? আমি স্কুলে গিয়া পড়লাম বিপদে। ক্লাসে আমার নাম হইলো কদবেল। একদিন হইলো কি.............."

আনিস সাহেব বুঝলেন মহাবিপদ সামনে। গল্পের ডাল পালা ছড়িয়ে মহীরুহ হতে দেরি নেই।
"রবিউল, বরং আমি একটা গল্প বলি। "
"অবশ্যই বলেন স্যার।" রবিউল আগ্রহ নিয়ে মোড়া এগিয়ে এনে আনিস সাহেবের কাছাকাছি বসলো।
"এক কাজ করো, নিচে কিচেন থেকে গরম চা আর মুড়ি নিয়ে এসো।"

রবিউল বিদ্যুৎ গতিতে ছুঁটে গেলো। আনিস সাহেবের মনে হলো অন্ধকারে ছেলেটা না আবার সিঁড়িতে পরে হাত পা ভাঙে ! রবিউল এমনিতে কাজের ছেলে কিন্তু ভীষণ অস্থির আর বাচাল।

আনিস সাহেব দুদিনের জন্য আয়নাতলীর এই সার্কিট হাউসে উঠেছেন। এখানে সাব রেজিস্টার আতাহার আলীর কিছু দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য আনিস সাহেবকে আসতে হলো, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ। এমনিতে গ্রামের দিকে এমন কাজে আসতে আনিস সাহেবের ভালোই লাগে। এবার প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে পরে একটু নাজেহাল হয়েছেন। গত দুই দিন কাজের কাজ কিছুই হয়নি। চার দিকে রাস্তা ঘাট পানিতে ডুবে গেছে। গতকাল থেকে সার্কিট হাউসেই বসে আছেন।

আনিস সাহেবকে সাহায্য করার জন্য সাথে চাঁদপুর থেকে সহকারী সচিব রবিউলকে ডেকে আনা হয়েছে। আনিস সাহেবের সাথে রবিউলও সার্কিট হাউসে আটকা পড়েছে।

এরকম ঝড় বৃষ্টি শহরে দেখা হয় না, ইট পাথরে বৃষ্টি চাপা পরে যায়। আনিস সাহেব বারান্দায় বসে দীর্ঘক্ষণ ধরে বৃষ্টি দেখছেন। রবিউল অবশ্য বিরক্ত। তার পর ঘন্টা খানেক আগে বিকট শব্দে ট্রান্সমিটার ব্রাস্ট হয়ে চারদিক অন্ধকার করে কারেন্ট চলে গেলো।

আনিস সাহেব তখন থেকেই বারান্দায় বসেছেন। বৃষ্টিতে ছাট গায়ে লাগসে সেটা আনিস সাহেবের ভালো লাগছে। অজানা কারণে তার মনে হচ্ছে এই মুহূর্তের সীমানার বাইরে অতীত ভবিষ্যৎ বলে কিছু নেই। এই বৃষ্টির রাতে সময় আটকে গেছে।

আনিস সাহেব চার্জলাইট নিভিয়ে দিয়েছেন। চাঁদের বিমর্ষ আলোতে বৃষ্টি দেখা যাচ্ছে, চার্জ লাইট জ্বললে বৃষ্টি দেখা যায়না।
আনিস একবাটি মুড়ি নিয়ে এসেছে । তার চেহারায় বিরক্তি।
"এতবড় একজন অফিসার আসছে কিন্তু বাবুর্চির মাথা ব্যাথা নাই। গিয়া দেখি চাপাতা শেষ, খালি মুড়ি নিয়ে আসলাম স্যার।"
রবিউল বসে বললো,"স্যার বিসমিল্লাহ বলে গল্প শুরু করেন।"
আনিস সাহেবের দৃষ্টি বাইরের অন্ধ কারে। একটু পর পর বিদ্যৎ চমকে তাঁর গম্ভীর মুখটা দেখতে পাচ্ছে রবিউল।

"অনেক দিন আগের কথা। এই ধরো উনিশো চল্লিশ বেয়াল্লিশের দিকে হবে । সিলেটের শ্রীমঙ্গলে হরিগঙ্গা নাম একটা গ্রামে সোলায়মান নাম একজন বাস করতেন ।তিনি ছিলেন হরগঙ্গা কলেজের বাংলার শিক্ষক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যে পড়ালেখা করেছিলেন । পরিবার বলতে তার স্ত্রী রাবেয়া ছাড়া আর কেউ ছিলনা । অনেক আগেই তার বাবা মা মারা গিয়েছিলো।


তখন সোলায়মান সাহেবের বয়স পয়তাল্লিশ হবে, রাবেয়ার বয়স সাতাশ আঠাশ। তাদের কোনো সন্তান ছিলো না। একটা সন্তানের আশায় সব চেষ্টাই তারা করেছিলেন , ডাক্তার কবিরাজ, ঝড়ফুঁক তাবিজ- সব করেছেন কিন্তু সন্তান সৌভাগ্য হয়নি। এই নিয়ে তীব্র হতাশা থাকলেও তাদের মধ্যে ভালোবাসা কম ছিলোনা।

হটাৎ সব এলেমেলো হয়ে গেলো। রাবেয়া অজানা এক অসুখে শয্যাশায়ী হলেন। শুকিয়ে কংকালসার হয়ে গেলেন , মুখে রুচি নেই। হাত পা নাড়াতে পারেন না, ঘর বাড়ি দেখাশোনা করবেন কিভাবে ? বড় বড় ডাক্তার দেখিয়েও কোনো লাভ হলোনা।
সোলায়মান সাহেবের সাজানো সংসার চুরমার হয়ে গেলো। প্রতিদিন কলেজ থেকে ফিরে তিনি রাবেয়ার পাশে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতেন আর কাঁদতেন। রাবেয়া তার মাথায় হাত বুলিয়ে ধৈর্য ধরতে বলতেন ।

রাবেয়ার দেখাশোনা করার জন্য রাবেয়ার বাবা একটা মেয়েকে পাঠালেন। মেয়েটির নাম মনা, বয়স চোদ্দ পনেরো হবে । মনা এসে কেমন করে জানি সব কিছু পরিপাটি করে তুললো। সংসারে আবার জেল্লা ফিরে আসলো । মনা রাবেয়ার খুব যত্ন করতো- ধরে ধরে বাইরে হাঁটতে নিয়ে যেত, মুখে তুলে খাইয়ে দিতো, সময় মতো ওষুধ দিতো।

একদিন কলেজ থেকে ফিরে সোলায়মান সাহেব রাবেয়ার পাশে বসে কথা বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়লে ন। হটাৎ ঘুম ভেঙে দেখেন চার দিকে অন্ধকার হয়ে গেছে, মাগরিবের ওয়াক্ত । রাবেয়া পেছনে বালিশ দিয়ে উঠে বসে আছে , তার মুখ হাসি হাসি।
সোলায়মান সাহেব রাবেয়ার হাত ধরে বললনে, "তোমার ভালো লাগতেছে রাবেয়া ?"
"জ্বী, আজকে শরীর ভালো। আপনারে একটা কথা বলবো ভাবতেছি ।কিন্তু কথাটা শুইনা আপনে হাসতে পারবেন না, আগেই মাথায় হাত দিয়া বলেন।"
সোলায়মান সাহেব রাবেয়ার মাথায় হাত দিয়ে কথা দিলেন তিনি হাসবেন না।
রাবিয়া গলা নিচু করে ফিশ ফিশ করেন বলযেন, " আমার মাথায় উকুন হইছে। দিন রাত শুইয়া থাকি, মাথায় বিলি করতে পারিনা তার জন্য। "
"উকুন হইছে তো মনারে বললেই উকুন সাফ করে দিবে। "
"না, উকুন ফালাইতে চাইনা, তারা আমার মাথার ভিতরে কথা বলে। তারা বলছে আমি সুস্থ হইয়া যাবো।"
"এগুলা কি বলো রাবেয়া! উকুন কথা বলবে কেন? আল্লাহ মানুষ ছাড়া কাউ কে কথা বলার শক্তি দেয়নাই । তোমার শরীর ভালোনা তাই তুমি এগুলা কল্পনা করতেছো।"
রাবেয়া দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে বললেন, "আপনি আমারে বিশ্বাস করেন না, আপনেরে বলে কোনো লাভ নাই। "
এর পর রাবেয়া ধীরে ধীরে শারীরিক ভাবে সুস্থ হতে লাগলেন কিন্তু তার মানসিক কোনো একটা সমস্যা দেখা দিলো । প্রায়ই দেখা যেত রাবেয়া একা একা কথা বলছেন এবং মুখটিপে হাসছেন।"


"রাবেয়া মনে হয় পাগল হইয়া গেছিলো স্যার । মেন্টাল ডাক্তার দেখাইলেই ঠিক হইয়া যাইতো । "
গল্পের মাঝখানে হটাৎ বলে উঠলো রবিউল ।
আনিস সাহেব হাসি মুখে বললেন, "তখন গ্রামেগঞ্জে মানসিক রোগের চিকিৎসা দুর্লভ ছিলো । তুমি কি গল্পের বাকিটা শুনতে চাও?"
"উকুন কথাবার্তা বলতেছে, এই রকম কখনো শুনি নাই, জ্ঞানী উকুন । গল্পটা শেষ করেন স্যার।"


"রাবেয়ার অস্বাভাবিকতা দিন দিন বাড়তে লাগলো । আগে লুকিয়ে কথা বলতো এখন সবার সামনেও নিচু গলায় কথা বলে কার সাথে যেন । ঘরের কাজ কর্ম মনা দেখাশোনা করে । সংসারের কোনো কিছুর সাথে রাবেয়ার কোনো সম্পর্ক ছিল না।


ধীরে ধীরে রাবেয়া সবার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিলেন । সারাদিন ঘর বন্ধ করে বসে থাকতেন । ঘরের ভেতর থেকে রাবেয়ার হাসি কান্নার শব্দ আসতো । মাঝে মাঝে বের হয়ে উঠানে কিছুক্ষন বসে আবার ঘরে চলে যেতেন।

কলেজ থেকে ফিরে অনেক সময় আসর নামাজ পড়ে একটু ঘুমান সোলায়মান সাহেব । এমনি এক শীতের বিকেলে তিনি বসার ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন । হটাৎ মনে হলো কেউ একজন ঠিক তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, যেন কেউ নিঃশ্বাস নিচ্ছে তার খুব কাছে ।তিনি চোখ খুলতেই মনে হলো কেউ একজন নিমিষেই উধাও হয়ে গেলো । দরজায় ঝোলানো পর্দাটাও একটু একটু কাঁপছে । মনে হচ্ছে এইমাত্র কেউ বেরিয়ে গেলো।

সোলায়মান সাহেব দোয়া পরে বুকে ফু দিলেন, ঘরের চার পাশে ফু দিলেন । তার পর বুকের ভেতর কেমন জানি ধড়ফড় করতে লাগলো । ঘর থেকে বের হয়েই দেখলেন রাবেয়া ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে আছে । হটাৎ রাবেয়াকে দেখে সোলায়মান সাহেব বুকের ভেতর একটা ধাক্কা বোধ করলেন । সূর্য ডোবার আগমুহূর্তের আলোতে তার মনে হচ্ছে রাবেয়া খুব অপরিচিত কেউ । এক মুহূর্তের জন্য তিনি ভুলে গেলেন রাবেয়া তার স্ত্রী । কেমন একটা অস্বস্তি লাগছিলো তার । কয়েক মুহূর্ত পর আবার সব বোধ যেন ফিরে আসলো । রাবেয়া খুব স্বাভাবিক ভাবে হেসে বললেন , "মাগরিবের সময় হইছে , নামাজ পড়বেন না?"
"পড়বো , তুমি সারা দিন ঘরের মধ্যে বইসা থাকো , কারো সাথে কথা বলোনা । তোমার খারাপ লাগেনা ?"
"কি বলেন কথা বলিনা ? অনেক কথা বলিতো! "
"কার সাথে কথা বলো ?"
"মনার সাথে,আপনার সাথে।"
"তোমার মাথার উকুন কথা বলেনা ?"
"উকুন কথা বলবে কেন ? কি বলেন এইসব ?" বলে রাবেয়া তার ঘরে আবার ঢুকে গেলেন।

সেদিন এশার নামাজের পর মসজিদ থেকে ঘরে ফিরছিলেন সোলায়মান সাহেব । মাঘ মাসের ঘন কুয়াশায় অদ্ভুত ফুলের গন্ধ মিশে আছে। বাতাস যেন স্তব্ধ হয়ে আছে, গাছের একটা পাতাও নড়ছে না। বাসার কাছাকাছি আসতে তিনি স্পষ্ট দেখলেন পুকুর ঘাটে রাবেয়া বসে আছে আর তার ঠিক পাশেই ছায়ার মতো একজন। কেউ যেন খুব হালকা নিচু স্বরে কথা বলছে। সোলায়মান সাহেব থমকে তাকালেন । অন্ধকারে ভুলও হতে পারে এই ভেবে একপা এগিয়ে ভালো করে দেখতে গেলেন আর ঠিক সেই মুহূর্তে তার মনে হলো ঘড়ঘড়ে গলায় কেউ তার ভেতরে থেকে বলছে, "ঘরে চইলা যান।"

সোলায়মান সাহেব প্রচন্ড আতংকিত হলেন। তার আসে পাশে কেউ কথা বলার নেই, চারপাশ নির্জন । দৌড়ে পালিয়ে আসতে আসতে শুনলেন রাবেয়া চাপা গলায় হাসছে!

রাবেয়ার বাবা অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি । রাবেয়ার ভাইয়েরা সবাই ধনী কিন্তু অশিক্ষিত । সে জন্য রাবেয়ার বাবা শিক্ষিত ছেলের কাছে রাবেয়ার বিয়ে দিয়ে ছিলেন । সোলায়মান সাহেব রাবেয়ার বাবার কাছে রাবেয়ার অসুখের কথা সব জানালেন । সব শুনে রাবেয়ার বাবা রাবেয়ার চিকিৎসার জন্য কলকাতা পাঠালেন ।

মাস খানেক পরে রাবেয়া ফিরে আসলেন । রাবেয়াকে দেখে সোলায়মান সাহেব হতভম্ব হয়ে গেলেন। রাবেয়ার মাথায় একটা চুলও নেই, মাথা পুরোপুরি মুড়ানো !জানা গেলো, মাথায় উকুন কথা বলে এই ধারণা দূর করার জন্য চুল ফেলে দেয়া হয়েছে । সোলায়মান সাহেব খুব কষ্ট পেলেন ।তিনি রাবেয়ার এই অবস্থা মেনে নিতে পারছিলেন না।
রাবেয়ার চোখে মুখে বিভ্ৰান্তি , যেন কাউকে চিনতে পারছেন না। হটাৎ সোলায়মান সাহেবকে জিজ্ঞেস করলেন," আমার মাথার চুলগুলা ফেলে দিলো, মনে করলাম উকুন আর কথা বলবে না, কিন্তু তারপর ও কথা বলে। মনা কই ?"
"তুমি নাই, মনাকে সেজন্য বাড়িতে পাঠায় দিয়েছি । "
"আপনি মিথ্যা কথা বলেন কেনো ? মনার পেটে আপনার বাচ্চা । আপনি তাকে মাইরা ধইরা ঘর থেইকা বাইর কইরা দিচ্ছেন । সে অনেক কানছে , আপনার পা ধইরা কানছে , আপনি শুনেন নাই । আমাকে এসব কথা সে বলছে । শুনে আমি মাথার চুল ফালায় দিলাম । আমি আর শুনতে চাইনা ।কিন্তু সে তবুও আমার মাথার ভিতরে কথা বলে।" রাবেয়া মুখ ঢেকে কাঁদতে লাগলেন।


রাবেয়ার কথা শুনে সবাই স্তম্ভিত । পাগল মানুষ যা ইচ্ছা বলতে পারে এই যুক্তি দিয়ে কথা গুলো উড়িয়ে দিলেন রাবেয়ার বাবা ।কিন্তু গোপনে মনার খোঁজ নিয়ে জানলেন ঘটনা সত্য। মনার বাবা মা এক বুড়োর সাথে মনার বিয়ে ঠিক করেছে।
রাবেয়ার বাবা মনাকে নিয়ে আসলেন । গোপনে সোলায়মান সাহেবকে ডাকলেন সোলায়মান সাহেব মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকলেন শ্বশুরের সামনে । চারিত্রিক কোনো দোষ কেউ কখনো দিতে পারেনি সোলায়মান সাহেবের উপর । এই প্রথম তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠলো ।

রাবেয়ার বাবা ঠান্ডা গলায় বললেন, "বাবাজি শুনো । দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়ে অসুস্থ । মনা তোমার সংসার আগলাইয়া রাখছে । তুমি তার প্রতি দুর্বল হইছো ।কিন্তু যা করছো সেটা জিনা । এইটা কঠিন গুনাহ । আল্লাহ পাক তোমার জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করবেন । এদিকে মনার পেটে বাচ্চা । আমার মেয়ের কোনো বাচ্চা নাই। আমার ধারণা একটা বাচ্চা হইলে তার মানসিক অবস্থার উন্নতি হইতে পারে। তার যে শারীরিক অবস্থা তাতে বাচ্চা হওয়ার কোনো আশা দেখিনা । আল্লাহর কি ইশারা দেখো, তিনি তোমাদের জন্য বাচ্চা পাঠায় দিছে । তুমি মনারে আজকে রাতেই বিয়া করবা । তারপর বাচ্চা হইলে বাচ্চাটা রাবেয়ার কাছে দিয়া মনা চইলা যাবে । আমি তাকে সেভাবে বলছি, সে রাজি হইছে । তাকে টাকা পয়সা দিয়া দিবো, সে ভালো থাকবে । এখন তাকে বিয়া কইরা ঘরে নিয়ে যাও । সে রাবেয়ার দেখা শুনাও করতে পারবে।"

সোলায়মান সাহেব বললেন, "আব্বা, আপনি কোরআন শরীফ আনেন, আমি তাতে হাত দিয়া বলবো, আমি এতবড় গুনাহর কাজ করিনাই । মনাকে নিজের মেয়ের মতো দেখেছি । রাবেয়া কেন এমন বলতেছে আমি জানি না ।কিন্তু আমার কথা বিশ্বাস করার জন্য যা বলবেন, করবো।"সোলায়মান সাহেব পাগলের মতো কাঁদতে লাগলেন।
"কান্নাকাটি বন্ধ করো বাবা জি। যা হওয়ার হইছে । মনে করো আল্লাহ তোমাদের জন্য সন্তান পাঠাইছে । তুমি দ্বিমত কইরো না, মনা কে বিয়া করো । রাবেয়ার দেখ শুনের জন্যও তো একটা লোক দরকার। "
সোলায়মান সাহেব মনাকে বিয়ে করে ঘরে নিয়ে গেলেন কিন্তু মনা কে স্ত্রী হিসাবে মানতে পারলেন না।
মানুষজন সোলায়মান সাহেব কে নিয়ে নানান কথা বলতে লাগলো । প্রতিদিন নানা ভাবে অতিষ্ট হতে লাগলেন সোলায়মান সাহেব । এক দিকে অসুস্থ স্ত্রী আরেক দিকে অপবাদের বোঝা সোলায়মান সাহেবকে প্রতিনিয়ত যন্ত্রনা দিতে লাগলো।"

"স্যার, মনার বাচ্চাটা আসলে কি সোলায়মান সাহেবের ছিলো ? " রবিউল বলে।
"সেটা জানতে হলে তো ধৈর্য ধরতে হবে রবিউল, আমাদের তো কোনো তাড়া হুড়ো নেই। "
"তারপর কি হইলো স্যার?"
"তারপর ধীরে ধীরে রাবেয়া সুস্থ হতে থাকলেন । আগের মতো ঘরের মধ্যে একা বসে থাকতেন না, ঘরের টুকটাক কাজ করতেন । আয়নার সামনে বসে সাজতেন । মনা চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখতো ।
একদিন মনাকে কাছে ডেকে নিয়ে রাবেয়া বললেন, "শোনো, তুমি আমাকে তোমার বাচ্চা দিয়া চলে যাইবা , তোমার কষ্ট হইবো না ?'
মনা মাথা নিচু করে চোখের পানি লুকিয়ে বলে, "না, আমার কষ্ট নাই। "
রাবেয়া মনার হাত ধরে দুই হাতে দুইটা সোনার বালা পরিয়ে দিয়ে বললেন, "তোমার অনেক কষ্ট হবে, তুমি বলতেছো না। কিন্তু তোমার যাতে কষ্ট না হয় আমি সে ব্যবস্থা করবো।"
"কি ব্যবস্থা করবেন ?"
রাবেয়া মুখটিপে হাসলেন । হাসি দেখে মনার বুকটা কেঁপে উঠলো । মিষ্টি হাসির পেছনে কেমন একটা কদর্যতা লুকিয়ে আছে যেন।
যথা সময়ে দুর্বল একটা ছেলের জন্ম দিয়ে মনা অসুস্থ হয়ে পড়লো।
রাবেয়া ছেলে কে কোলে নিয়ে চাপা গলায় সোলায়মান সাহেব কে বললেন, "আমার ছেলের ভালোর জন্য মনাকে যাইতে হবে, তাকে যাইতে দেন। "
"সে তো চইলা যাবে আগেই বলছে।"
"না, সে যাইতে চাবে না। "
মনা দুর্বল গলায় বললো, " আমি যাবো না, আমার ছেলেকে রাইখা যাবো না। আপনি আমারে ডাক্তর দেখান । এই খান থেইকা নিয়া যান । উনি আমারে বাঁচতে দিবেনা। "
সোলায়মান সাহেব মনাকে শান্ত করলেন ।কিন্তু পরদিন সকালে মনার মৃতদেহ পাওয়া গেলো বিছানার উপর । ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল,বাইরে থেকে কেউ তাকে মেরে ফেলেছে এমন হওয়ার কোনো লক্ষণ ছিলো না । সন্তান জন্মের সময় অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে সে মারা যায় -এমনটা বলে স্থানীয় ডাক্তার।
মনার মৃতদেহ দেখার পর থেকে সোলায়মান সাহেব কেমন যেন স্তব্ধ হয়ে গেলেন । অজানা ভয় এসে ভর করলো তার উপর । রাবেয়া নির্বিকার ভাবে ছেলের যত্ন করতে লাগলেন , যেন কিছুই হয়নি । রাবেয়া ছেলের নাম রাখলেন মানিক।

সোলায়মান সাহেব আলাদা ঘরে ঘুমাতেন । ভেতরে ভেতরে তিনি রাবেয়াকে ভয় করতেন, তার থেকে দূরে থাকতেন ।
একদিন গভীর রাতে বাচ্চার কান্নার শব্দে তার ঘুম ভেঙে গেলো । মনে হচ্ছে ঠিক দরজার ওপাশে বাচ্চাটা কাঁদছে ।
সোলায়মান সাহেব দরজা খুলে দেখেন মানিক মাটিতে পরে আছে, তার সারা শরীর ভেজা ।সোলায়মান সাহেব মানিককে কোলে তুলে রাবেয়ার ঘরের দিকে গিয়ে দেখেন ঘরের দরজা খোলা ।ঘরের ভেতর নিকষ অন্ধকার , কিছু দেখা যায় না । অন্ধকারে ধীরে ধীরে চোখ সয়ে আসলে তিনি দেখলেন ঘরের মাঝ খানে রাবেয়া দাঁড়িয়ে আছে, রাবেয়ার দৃষ্টি ধরে এককোণের দিকে।
সোলায়মান সাহেব পেছনে এসে দাঁড়াতেই রাবেয়া কেমন করে টেরপেয়ে বলে, "ও আপনাদের নিতে আসছে। "
"রাবেয়া, কি হইছে ? মানিক আমার ঘরের সামনে মাটিতে পইড়া আছে কেন? তার সারা শরীর পানিতে ভিজা। "
"রাবেয়া ঝট করে মাথা সোলায়মান সাহেবের দিকে । তারপর হাতের ইশারায় খাটের ওপর দেখালো । সোলায়মান সাহেব দেখলেন খাটেরর ওপর মানিক ঘুমাচ্ছে। নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে দেখলেন সেখানে কোনো বাচ্চা নেই, তিনি একদলা কাপড় ধরে আছেন !
রাবেয়া বললো, "ও আজকে আপনাদের নিতে চায় । কিন্তু আমি নিতে দিবোনা। "
সোলায়মান সাহেব কয়েক পা পিছিয়ে আসলেন। অচেনা একটা গন্ধে পুরো ঘর ভোরে আছে । প্রচন্ড ভয়ে সোলায়মান সাহেব কাঁপছিলেন । তার ইচ্ছা করছে এখান থেকে পালিয়ে যেতে কিন্তু পারছেন না ।
"কে নিয়ে যাবে আমাকে?"
রাবেয়া হাত তুলে ঘরের কোনে দেখালো । সোলায়মান সাহেব অন্ধকার কোনটায় দেখতে পেলেন কেউ একজন একটু নড়লো । তারপর মনে হলো কেউ হাঁটু মুড়িয়ে বসে আছে ।ঠিক মানবীয় অবয়বনা, দূর থেকে মনে হয় তার শরীরে মাছের আঁশের মতো কিছু আছে, ঘন কালো । যেন অন্ধকারে আরেকটু বেশি ঘন অন্ধকার। সোলায়মান সাহেব সমস্ত দোয়া দুরুদ মনে করতে চেষ্টা করলেন কিন্তু কিছুই মনে পড়লো না । বারবার মনে হলো তিনি ভুল দেখছে,আরেক বার চোখের পলক ফেলে দেখবেন সব মিথ্যা কিন্তু ঘন অন্ধকার ছায়া মানব মিলিয়ে গেলো না ।
রাবেয়া খসখসে গলায় বললেন , "আমি অনেক কষ্টে মানিককে পাইছি । আপনাদের দুইজনকে কেউ নিতে পারবে না। "
ঘরের কোন থেকে ছায়াটা এবার এগিয়ে আসতে লাগলো । সোলায়মান সাহেব স্পষ্ট দেখলেন কিছু একটা জন্তুর মতো হামা গুড়ি দিয়ে এগিয়ে আসছে । তার শরীর বড় কিন্তু মাথা ছোট । চোখদুটো গোল এবং ঘোলাটে হলুদ রঙের। মুখ নড়ছে এবং মনে হচ্ছে কিছু বলছে কিন্তু সোলায়মান সাহেব কিছুই শুনতে পারলেন না । মাথার চুলের জায়গায় কাঁটা ধরণের কিছু আছে । অন্ধকারে তার আঁশটে শরীর যেন চমকাচ্ছে । হালকা একটা ঘড় ঘড় শব্দ হচ্ছে ।


ঘরের ভেতরের গন্ধটা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে । জন্তুটা এগিয়ে এসে রাবেয়ার পা ধরলো তার পর মনে হলো রাবেয়ার পা দুটো মাটি থেকে একটু উঠে এসেছে । রাবেয়ার পায়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে সোলায়মান সাহেব জ্ঞান হারালেন ।
পরদিন রাবেয়ার লাশ পুকুরে ভেসে উঠলো । সোলায়মান সাহেব অবাক হয়ে অনুভব করলেন তিনি আসলে এই মৃত্যুতে আনন্দিত ! তার মনে হচ্ছে বুকের উপর থেকে একটা ভারী পাথর নেমে গেছে।
রাবেয়ার প্রভাবশালী ভাইরা সোলায়মান সাহেবের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ এনে তাকে জেলে পাঠালো। বহুদিন মামলা চলার পর সোলায়মান সাহেব দোষী সাব্যস্ত হলেন, তার যাবজ্জীবন জেল হলো।
"এরপর কি হলো স্যার ?"
"জেলে যাবার কিছু দিন পরে তিনি গভীর বিষন্নতায় ভুগতে শুরু করেন ।তিনি প্রায়ই রাবেয়ার সাথে কথা বলতেন । তার মনে হতে থাকে সেই রাতে চাইলে তিনি রাবেয়াকে বাঁচাতে পারতেন । জেলখানায় ছয় বছর পরে সোলায়মান সাহেব মারা যান । আর সেই মানিক হচ্ছি আমি । আমি মামাদের কাছে বড় হয়েছি।"
"স্যার এইটা আপনার গল্প ! কি আশ্চর্য !"
"তা আশ্চর্য বটে । আমি কাউকে গল্পটা বলিনি। কেনো জানি আজকে গল্পটা বলতে ইচ্ছা হলো। "
"স্যার আমার কাছে গল্পটা মিথ্যা মনে হইতেছে । "
"আমারও মনে হয় । আসলে মামাদের বাড়িতে আমি বড় হয়েছি বাবার সম্পর্কে খারাপ কথা শুনে । বাবার মৃত্যুর প্রায় পনেরো বছর পরে জেল খানায় বাবার লেখা চিঠিগুলো কেউ একজন আমাকে পাঠায় ।চিঠি গুলো কি ভাবে কোথা থেকে এলো আমি কোনো ভাবেই বের করতে পারিনি । মজার ব্যাপার হচ্ছে চিঠি গুলোতে আমার জন্মদাত্রী মা মনার কথা আছে কিন্তু আমার মামারা কখনো তার কথা উল্লেখ করেনি । তাদের ভাষ্য মতে রাবেয়া আমার মা।
চিঠি গুলো পড়ার পর বাবা সোলায়মান আর মা রাবেয়া সম্পর্কে আমি সব তথ্য জেনেছি, তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বের করেছি । কিছু জিনিসের ব্যাখ্যা পেয়েছি , কিছু জিনিসের এখনো পাইনি । কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে মনা সম্পর্কে আমি কোনো তথ্য উদ্ধার করতে পারিনি , তিনি কোথায় থাকতেন , তার পরিবারের অন্যরা কোথায়- কিছুই জানতে পারিনি ।চিঠি গুলোতে বাবা স্পষ্ট করে বলেছেন মনার সাথে তার কোনো শারীরিক সম্পর্ক হয়নি । কথাটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি । আবার মনে হয়েছে , সত্যি হতেও তো পারে। সেক্ষেত্রে আমি নিজেও নিশ্চিত করে জানিনা আমার বাবা মা আসলে কে । আমি যদি মনার সন্তান হয়ে থাকি তো আমার মামারা কেনই বা আমার দায়িত্ব নিলো ? আমার মামারা সবাই অত্যন্ত বৈষয়িক মানুষ । একটা জন্ম পরিচয়হীন বাচ্চাকে লালন পালন করার মানসিকতা তাদের নেই । হতে পারে আমার বাবা যা লিখে গেছেন সব মিথ্যা। হতে পারে উনি সত্যি আমার মাকে খুন করেছেন । অদ্ভুত ব্যাপার কি জানো ? সেই চিঠি গুলো পড়ার পর থেকে আমার মনে হয় সেই আঁশটে শরীরের লোকটা আমার সাথেই আছে । আমিও কেমন জানি ব্যাপারটাতে অভ্যস্ত হয়েগেছি । আমার মনে হয় এটাই স্বাভাবিক । আমার স্ত্রীও আমার সাথে বেশি দিন থাকতে পারেনি শুধু মাত্র এই কারণে । ইদানিং আমার মনে হচ্ছে আমাকেও লোকটা কোথাও নিয়ে যাবে , এই ব্যাপারটা ভাবতেও আমার ভয় করছেনা । এই যে তোমার সাথে গল্প করছি , এখনো কিন্তু লোকটা আমার সাথেই আছে । "
রবিউল বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে বললো ," এগুলা কি বলেন স্যার ? এই খানেও আছে? "
"আছে , তোমার পেছনে বারান্দার শেষ মাথায় দেখো । "
রবিউলের মনে হচ্ছে তার ঘাড় শক্ত হয়ে গেছে , সে কিছুতেই পেছন ফিরে দেখার সাহস পাচ্ছেনা । তার শুধু মনে হচ্ছে হালকা ঘড়ঘড় শব্দকরে কিছু একটা এগিয়ে আসছে ।
পরদিন রবিউল বন্যার পানি ডিঙিয়ে চাঁদপুর ফিরে গেলো । বাকি তদন্তের কাজ আনিস সাহেব একাই করলেন ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন