আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয়“রমণী”

কবিতার বিষয়“রমণী”

লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ
২৭ জানুয়ারী, ২০১৮
প্রতিযোগিতার নিয়মাবলী

গল্পকবিতা নভেম্বর ২০১৭ সংখ্যা : " নারী / বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির " এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।

২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ প্রসেসসর

গল্পকবিতা নভেম্বর ২০১৭ সংখ্যা : " নারী / বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির " এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।


বিচারক ও পাঠকের ভোটে সেরা ৩টি গল্পঃ


"স্বর্গাদপী গরিয়সী"- এশরার লতিফ
"পিয়া"- দীপঙ্কর
"সমীকরণ এবং পরিভ্রমণ" - মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী


সেরা ৩টা কবিতাঃ


"নারী" - এশরার লতিফ
"ছলনা যখন নারীর মনে" - মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী
"নারী" - রাকিব মাহমুদ


সবাইকে গল্পকবিতা এর পক্ষ থেকে অভিনন্দন। বিজয়ীরা পাচ্ছেন :

প্রথম গল্প ও কবিতার জন্য পুরস্কার: প্রতিটি ১৫০০ টাকার প্রাইজবন্ড এবং সনদপত্র
দ্বিতীয় গল্প ও কবিতার জন্য পুরস্কার: প্রতিটি ১০০০ টাকার প্রাইজবন্ড এবং সনদপত্র
তৃতীয় গল্প ও কবিতার জন্য পুরস্কার: ১টি করে সনদপত্র


গল্প কবিতা ডটকম-এর গল্প-কবিতা প্রতিযোগিতা
নভেম্বর ২০১৭ সংখ্যার গল্পের বিষয় ‘ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ’-এর মূল্যায়ন
১.
বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৮১৭ সালে । সেই সময় মেরি ভলস্টনক্রাফট গডউইন শেলি লিখেছিলেন 'ফ্রাঙ্কেনস্টাইন অব মর্ডান প্রমিথিউস'। তারপর বিজ্ঞান কল্পকাহিনীকে সাহিত্যের মর্যাদায় উন্নীত করেছেন জুলভার্ন, আইজ্যাক আজিমভ, আর্থার সি ক্লার্ক, রে ব্র্যাডবেরীসহ আরও কয়েকজন। বলাই বাহুল্য,বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখা সহজ নয় । তাই যারা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখার চেষ্টা করেছেন,তাদের সবাইকে জানাই অভিনন্দন।
কয়েকজনের প্রচেষ্টা বেশ ভালো। 'স্বর্গাদপী গরিয়সী'-এর কথাই ধরা যাক। এ গল্পে ভবিষ্যৎ পৃথিবীর পটভূমিতে যে গল্পটি লেখা হয়েছে তা পাঠকদের যেমন হৃদয় স্পর্শ করবে তেমনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আলোও যেন প্রত্যক্ষ করবে তারা । এখানে গল্পের যে কথক, তার বাবার সঙ্গে মায়ের দাম্পত্যজীবন সুখের ছিল না । আসলে একতরফা ভালোবাসায় সুখ ধরাদেয় না।
গল্পে কথকের বাবাও জীবনে সুখ পাননি স্ত্রী কাছ থেকে । সেই বৈজ্ঞানিক বাবা তাই ঘটনাচক্রে আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে যে স্ত্রীকে তৈরি করেছিলেন, সে ছিল তার মনের মতো। সেই স্ত্রী রক্ত মাংসের কেউ না । এক দুর্ঘটনায় সেই স্ত্রী যখন বিধ্বস্ত হয় , তখন আপন সন্তান (গল্পের কথক)-এর কাছে পুরো বিষয়টি উন্মোচিত হয় । 'সমীকরণ এবং পরিভ্রমণ' গল্পটি ভালো । এখানে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে টাইম এবং স্পেসের ইন্টারেস্টিং কিছু বিষয় মূর্ত হয়ে উঠেছে । ' আলব্রাটোর চন্দ্র ভ্রমণ ' একটি ভালো বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী হতে পারত। এখানে ভবিষ্যতে চাঁদে বসতি স্থাপনের যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে তা চমৎকার। লেখকের কল্পনার প্রশংসা করতেই হয় । কিন্তু এখানে গল্প কোথায় ? আরও কয়েকটি ভালো গল্প হলো ' আমি কোহেন বলছি ',' ভিন্ন পৃথ্বী ', ' পিয়া ', 'ট্রাভেলার' প্রভৃতি। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, কয়েকটি গল্প খুবই হাস্যকর এবং কয়েকটি গল্প বিষয়কেই ধারণ করতে পারে নি। আশা করছি আগামীতে এ বিষয়ে সবাই আরও যত্নবান হবেন ।
শুভেচ্ছা ।


মোমিন রহমান ।

 

2.
মূল্যায়ন রিপোর্টঃ কবিতা
এবারের বিষয়ঃ নারী

কোন বিশেষ মুহুর্তের অনুভুতি বা উপলব্ধিকে কবিতায় রূপায়িত করা যতো সহজ ,কোনো নির্ধারিত বিষয়ে কবিতা রচনা করা ঠিক ততোটা কঠিন।কারণ বিশেষ কোনো ভাব বা অনুভূতি কবিকে যে ভাবে উস্কে দিতে পারে ,যেভাবে সেই ভাব বা অনুভূতি চিত্রকল্প বা উপমায় পর্যবসতি হতে পারে, পূর্ব-নির্ধারিত কবিতা রচনার সময় চিত্রকল্প বা উপমা ঠিক একই ভাবে কবিতায় সৃষ্টি করা সম্ভব হয় না । ফ্লে এধরনের কবিতায় নির্মাণের চিহ্ন থেকে যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয় ।নির্বাচিত বিষয়টি সঙ্গে কবির উপলব্ধির সংযোগ স্থাপিত না হলে কবিতা রচনার কাজটা সত্যি সত্যি কঠিন হতে বাধ্য।
এবার যেসব কবি ‘নারী” নিয়ে লিখেছেন, তাঁদের সকলকে অভিনন্দন জানাই। তারা সবাই চেষ্টা করেছেন কবিতার মধ্যে বিষয়টিকে ফুটিয়ে তোলার জন্য। তবে,অধিকাংশ কবিই এবার সফল হননি!যারা এ প্রতিযোগিতায় শামিল হয়েছেন, তাদের সকলকেই অনুরোধ করবো, বেশি বেশি কবিতা পাঠের জন্য।কবিতার ভাষা রপ্ত করতে কবিতা পাঠের বিকল্প আর কিছু নেই।যে কয়েকজন কবি সফল হয়েছেন তাদেরকে অভিনন্দন জানাই।


এবার যারা ‘নারী’ বিষয়ে কবিতা লিখেছেন, তাদের মধ্য থেকে কয়েকটি কবিতার কিছু পঙক্তি উল্লেখ করা যাক:

 


‘নারী’ শিরোনামের এ কবিতাটির শব্দব্যবহারে অভিনবত্ব আছে। এ কবিতাটির কিছু লাইন উদ্ধৃত করা যাক:

 

মনে পড়ে হীরক-চূর্ণ দিন।
ক্রায়নিক জল ছেড়ে তুমি উঠে এলে।
কী সুপ্রতিভ হিউমেনয়েড
...
আজ লোহিত-রশ্মিপ্লুত
এই বাইনারি কোলাহলে
দ্যাখো নারী
কী দার্ঢ্যময় আমাদের হাইব্রিড,
আধো জীব, আধো সিলিকন চিপ...
আরেক কবি লিখেছেন-
‘তুমি একটা উন্মাদ! জলের মতো!
আজো যে রঙের কোন রঙ নাই
শুধু শব্দ করে গেছে স্পন্দনযন্ত্র খুব জোরে
ভাবি-আমিও কি তবে পথ হারালাম?
সেই জলরঙের পথে পথে!!
(জল রঙ)

কিংবা,
‘খুব একটা আসো না তুমি এ হৃদয়ে যুক্ত থাকা পশমি মেঘের দ্বীপপুঞ্জে
তবে আজও সন্ধ্যের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে দেখি
কসমিক শূণ্যতার সিঁড়ি বেয়ে ঢলে পড়েছে মায়োপিয়া...
(ছলনা যখন নারীর মনে)

যারা বিষয়টিকে কবিতায় রূপান্তর করতে পেরেছেন তাদের অভিনন্দন।


ফরিদ কবির।