লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৬ অক্টোবর ১৯৭০
গল্প/কবিতা: ৪৩টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

১০৩

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবন্ধু (জুলাই ২০১১)

মোর্চা
বন্ধু

সংখ্যা

মোট ভোট ১০৩

আহমাদ মুকুল

comment ৬৮  favorite ৫  import_contacts ৯৯৬
-পুরানা রাগ রাইখেন না ভাইসাব, খড়খড়ে কন্ঠকে যতটুকু সম্ভব তরল করল শিয়াল। নতুন সময় আইছে, সামনে তাকাই চলেন।
চোখ বুজে ধ্যানমগ্ন কুমির। জবাবতো দূরের কথা, একচুল নট নড়ন চড়ন।
নিরাপদ দূরত্বে থেকে কুমিরের খসখসে শরীরে তেল মাখতেই থাকে ধূর্ত শিয়াল।
– নদী নালা হুগাইয়া গেছে গা, আপনের খানা-খাদ্যের বড়ই অভাব। কত কষ্ট কইরা খাওনের খোজে ডাঙ্গায় আইতে হয়। আর মাটিতে যহন আইবেনই…শিয়ালের সাথে দোস্তি না কইরা উপায়ই বা কী কন?
হায়রে কলিকাল! আগে নদীতে নামতে গেলে কুমিরের লগে বিবাদের কথা ভুলতে হইত। নাকে খত দিয়া পানিতে নামত প্রাণিকূল! আর এখন….ভাবতে ভাবতে আড়মোড়া ভেঙে উঠলেন নক্ররাজ।
– সাত বাচ্চার শোক এত সহজে ভুইলা যামু?
- আপনের বয়স হইছে প্রায় তিনশ বছর, আণ্ডা-বাচ্চা কয় হাজার ফুটাইছেন আপনেই জানেন। আরো শ’দুয়েক বছর বাচবেন। কি লাভ এত ছোড মোড বিষয় মনে রাইখা?
কুমির মনে মনে বলে। মনে রাখছে কে? এইডাতো দেখাইন্যা আবেগ। কথায় আছে না, কুম্ভিরাশ্রু?
মুখে বলে। -তা নাইলে গেল। সেই যে নদীর পাড়ে মরার মত পইড়া আছিলাম। ফন্দি কইরা আমারে বোকা বানাইছিলা, আর গেরামের মানুষ ডাইকা মাইর খাওয়াইছিলা। হেইগুলানও ভুইলা যামু, শিয়াল মামু?
- আমি ডাকি ভাই, আপনি ডাকেন মামু। কী আর কমু! এইডাও মাফ দেন। আহেন, দুশমনি খ্যামা দিয়া দোস্তি করি। শিয়াল চিকন সূরে বলে।
- আমার বেনিফিট?
- বুঝবেন সময় মত। আগে হাত মিলান। থুক্কু…দরকার নাই। (মনে মনে বলে, এত কাছে এসোনা, মরনে পাইছে আমারে!)।

শিয়াল আর কুম্ভির নয়া ‘দোস্তি’র শর্ত নিয়ে বসল। আপাততঃ কুমিরের জন্য নদী থেকে শিয়ালের গ্রাম পর্যন্ত খাল কাটতে হবে।
কাজের বিনিময়ে খাদ্য’র বেশ কিছু গম এখনও আছে শিয়ালের কাছে। অর্থ বছর শেষ হচ্ছে। খরচ দেখানোর জায়গা নাই। কেটে দিল গ্রাম পর্যন্ত সরু একটা খাল। সরকার’কা মাল চিকন খাল’মে ঢাল।
দুর্মুখেরা বলে, শিয়াল খাল কাইটা কুমির আনছে। বুঝব ঠেলা!
……………………………….
ইউপি নির্বাচন। সিটিং চেয়ারম্যান শিয়াল আবারও নির্বাচন করছে। শিয়ালের পক্ষে মিছিল মিটিং হচ্ছে। শ্লোগান, মাইকিং….জনদরদী শিয়াল ভাইকে ‘কুমির’ মার্কায় ভোট দিন….। পোস্টারে কুমিরের রঙিন ছবি। নির্বাচনী প্রচারে নতুন মাত্রা। বিশাল এক জ্যান্ত কুমির শিয়ালের মিছিলের সামনে। গলায় কোরবানির গরুর মালা।
লেখাপড়া না জানা কুমির ভাবছে, সেই বুঝি হিরো। কত মর্যাদা তার। দিন ফিরল বুঝি! স্বপ্ন বোনে…সুসময় আইতাছে…খালটারে নদী বানামু…সন্তান-সন্ততি লইয়া এইখানেই থাইকা যামু।
মিছিলের মাঝখান থেকে শিয়াল ভাবে। নির্বাচনে পাশ কইরা লই। খাল কাইটা সাধে কুমির আনছি? খালটা সংস্কারের লাইগা নতুন নতুন প্রজেক্ট লমু। আর কুমিরের ‘খাল’ ট্যানারীতে বেইচা মাংস কয়ডা আফ্রিকান মাগুররে খাওয়ামু।

(শিয়াল-কুমিরের জানা কিছু কাহিনী/প্রবচনের উপর ভিত্তি করে কল্পনার ডালপালা মেলা হয়েছে। অন্য কিছুর সাথে তাল-মিল খোঁজা পাঠকের ব্যক্তিগত আন্দাজ হিসেবে বিবেচিত হবে।)

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement