লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৪ জানুয়ারী ২০১৯
গল্প/কবিতা: ৩৩টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftক্ষোভ (জানুয়ারী ২০১৪)

সমরের একদিন
ক্ষোভ

সংখ্যা

ছন্দদীপ বেরা

comment ৯  favorite ০  import_contacts ১,০২৩
সমর বাগচী । গেছে নিজের গ্রামে । খুব কষ্ট করে । যে রকম চেহারা তাতে কষ্ট হওয়ারই কথা । মোটা সোটা একেবারে ফুটবলের মতো । এই সময়ে তাদের স্কুলে শীতের ছুটি পড়েছে ।
সমর রাতে খুব তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ে । গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ে । অনেক সময়ে রাতের খাবার না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ে সমর । আর সকালে আটটা-ন'টা পর্যন্ত কুম্ভকর্ণ হয়ে থাকে ।
ওদের গ্রামে এক ছেলে আছে । কালু । তার সাথে সমরের চির শত্রুতা । যখনই দেখা হয় তখনই ঝগড়া , মারামারি , কথা কাটাকাটি ইত্যাদি হয় ।
এবার একদিন তার সাথে দেখা । কালু তো দেখেই মুখ ঘুরিয়ে নিল । সমরও দ্রুত বেগে ওই স্থান ত্যাগ করল ।
আবার একদিন দেখা । কালু মুখ ঘুরিয়ে নিতে যাচ্ছিল তখনই সমর বলল, "দাঁড়া । আর কতদিন মুখ ঘুরিয়ে নিবি । এর একটা সমাধান আজকে করতে হবে ।"
"তাহলে একটা শর্ত আছে ।"
"কী ?"
"একটা খেলা হবে । তাতে যদি তুই পাস হোস তাহলে তোর সঙ্গে বন্ধুত্ব । যদি ফেল তাহলে আজীবন শত্রুতা ।"
"ঠিক আছে । কিন্তু খেলাটা কী ?"
"খেলাটা হল এই যে -এই ভরা শীতের এক সকালে তোদের পাশের বাড়ির নীলাঞ্জন বাবুদের খেজুর গাছে চড়ে রস চুরি করতে হবে । আমিও তোর সাথে যাব । যদি ধরা পড়ে যাস তাহলে তুই ফেল । আর যদি চুরি করতে পারিস তাহলে পাস । "
"ঠিক আছে ।"
"তবে কাল সকালেই । সকাল পাঁচটায় চলে আসবি । আমিও চলে আসব ।"
পর দিন ভোর চারটায় উঠে পড়ল সমর । গুটিগুটি পায়ে গরম পোশাক পরে বেরিয়ে পড়ল সে । সব ঠিক ঠাক করে বাইরে এসে দেখে সদর দরজায় তালা । চাবি মা-র কাছে আছে । নিতে গেলেই জেনে যাবে । বাইরে কালু দাঁড়িয়ে । মনে হয় টপকেই যেতে হবে । কিন্তু সমরের যা চেহারা তাতে সদর দরজা টপকানো মানে হিমালয় পার হওয়া ।
কিন্তু তাহলে সমর কী করবে ? বাইরে থেকে কালু বলল, "তালাটা ভেঙে দে ।"
"তালা ভাঙব ? না না । বাবা খুব মারবেন ।"
"আরে কিচ্ছু হবে না ।"
"কিন্তু কী দিয়ে ভাঙব ?"
“বাগানের ধারে দেখ একটা হাতুড়ি আছে সেটা নে ।"
"ওটা আমাদের ঠাকুরদার । ওটা নিলে ঠাকুরদা খুব বকবেন । তিনি খুব রাগী।"
"কিচ্ছু হবে না । নির্ভয়ে কাজ কর ।"
সমরও তাই করল । বাগানের ধারে রাখা বড়ো হাতুড়িটা অনেক কষ্টে নিয়ে এনে সজোরে সদর দরজার বড়ো তালায় আঘাত করল সমর । একঘায়ে হল না। আরও এক ঘা দিতে তালা ভাঙল । কিন্তু শীতের রাত বলে কেউ জাগে নি ।
সমর দরজা খুলল । 'ক্যাঁচ' করে একটা শব্দ হল । বাইরে বেরিয়ে এসে কালুকে বলল, "চল ।"
নীলাঞ্জন বাবুর বিরাট বাড়ির দরজার সামনে দাঁড়ালো তারা । এ দরজায়ও তালা ! কালুর কিছু বলার আগেই সমর বলল, "এবার আর আমি তালা ভাঙতে পারব না ।"
"আমি যে তাই বলতে যাচ্ছিলাম ।"
"আমি কিন্তু ভাঙব না ।"
"আহা ! তুই না ভাঙলে দরজা টপকাতে হবে ।"
"না না , তা আমি পারব না ।"
"তালা ভাঙ নয় তো টপকে যা । যেকোনো একটা ।"
"কোনো যখন উপায় নেই তাহলে আমি তালা ভাঙছি । কিন্তু কী দিয়ে ?"
"কাছাকাছি দেখ কোনো পাথর আছে নাকি ?"
দুজনে পাথর খুঁজতে লাগল । সমর একটা বড়ো আকারের পাথর খুঁজে পেল । তা দিয়েই তালায় সজোরে নিক্ষেপ করল । এ তালা সমরের বাড়ির তালার চেয়ে খারাপ । এক ঘা খেয়ে ভাঙে গেল ।

দরজাটি ঠেলে ঢুকে পড়ল তারা । নীলাঞ্জন বাবুর বাড়ির সামনে বিরাট এক প্রস্থ বাগান । তারই এক কোণে আছে খেজুর গাছ । আবছা আলোতেও তারা খেজুর গাছটিকে দেখতে পেল । খেজুর গাছে একটা হাঁড়ি বাঁধা । তাতেই আছে খেজুর রস । সেটাই হল টার্গেট ।
সমর খেজুর গাছের নীচে গেল কালুকে দড়ি চাইল । কালু দড়িটা দিল । সমর গাছের সাথে নিজেকে বেঁধে নিল । তারপর একটু একটু করে উপরে উঠতে লাগল । প্রায় অর্ধেকটা উঠে থামল সে । হাঁপাতে লাগল । ধীরে ধীরে হাঁড়ির কাছে পৌঁছে গেল । খুব কষ্টে হাঁপাতে হাঁপাতে এই মোটা শরীরে আনন্দে চাঁদ ধরার মত চিৎকার করল ।
নীচে কালু - চুপ কর , চুপ কর । আর উঠতেই যা সময় নিলি ভোর হয়ে এল । তাড়াতাড়ি কর ।
এই তাড়াতাড়ি করতে হাঁড়িটা নামাতে গিয়ে পর পর তিনটে হাঁড়িই নিচে পড়ে গেল । আর ভূমিকম্পের মত খুব শব্দ হল ।
আর নীলাঞ্জন বাবুর বাড়ির একটি ঘরে আলো জ্বলতে দেখা গেল । এই সেরেছে ! নিমেষের মধ্যে সেখান থেকে পগার-পার হয়ে গেল সমর আর কালু । দরজার বাইরে বেরিয়ে তারা হাওয়া ।
কালু আর সমর যে যার নিজের বাড়ি চলে গেল । সমর আবার নিজের বাড়ি গিয়ে নিজের বিছানায় শুয়ে পড়ল নিঃশব্দে । আর শুতেই তৎক্ষণাৎ ঘুম ।
সেই দিন সকালে আটটার দিকে সমরের ঘুম ভাঙল । ঘুম থেকে উঠে শোনে বাইরে শোরগোল চলছে । বাইরে বেরিয়ে দেখে, তাদের সদর দরজার সামনে বাড়ির সবাই এবং আরও অনেকজন মিলে জটলা পাকিয়েছে ।
কাছে গিয়ে দেখে সবাই বলছে যে কাল রাতে নাকি চোর এসেছিল । নীলাঞ্জন বাবুদের বাড়িতেও নাকি চোর এসেছিল । কিন্তু চোর তার কোনো চিহ্ন রেখে যায় নি । শুধু ভরা খেজুর রসের হাঁড়ি ভাঙা ।
সকলে বড়ো চিন্তিত । সবাই বলছে পুলিশে ফোন করবে । অনেকে বলছে নিজেরাই যাচাই করে নেবে ।
সমর ভাবছে ,"আজকে , তাহলে আমার হয়ে গেল ।"
কিছুক্ষণ ধরে কথাবার্তার পর সমরের ঠাকুরদা আসল প্রশ্নটা করলেন,"কারোর কি কিছু চুরি গেছে ?"
সবাই এবারে নিশ্চুপ হয়ে গেল । সবাই এতক্ষণ ধরে জটলা করছিল কিন্তু কারোর মাথায় এই প্রশ্নটা এল না যে কারোর কিছু চুরি গেছে কি না ? সবাই খালি ভাবছিল যে চোরকে কীভাবে শাস্তি দেওয়া যায় । কিন্তু শাস্তিটা কেন দেবে তা কেউ ভাবেনি ।
সবাই মুখ নিচু করেই রইল । কিছুক্ষণ পরে সবাই প্রায় মিলে বলল,"না ।"
নিরঞ্জন বাবু বললেন,"তাহলে ত ঝগড়া মিটে গেল । কিছুই না চুরি গিয়ে থাকলে এত ঝগড়া করার মানেটা কি ? সব কিছুর সমাধান হয়ে গেছে এখন সবাই বাড়ি চল ।"
সমরের ঠাকুরদা সবার চেয়ে বয়সে বড়ো তাই তার কথা সবাই মানতে বাধ্য হল ।
সমর স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ল -"যাক , একদিন কাটল ।" কিন্তু কালু ! বুকের মধ্যে বন্ধুত্বের ছেঁড়া কাটাটা বিঁধেই রইল । জেদি কালু আজও গ্রামে । সমরের উপর রাগ পুষে রেখেছে সময়ে অসময়ে তা ই উগরে দেয় ।
সমর কিন্তু গ্রামে গেলেই কালুকে খুব কাছে চায় । কিন্তু কালু .........?

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement