লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৮ অক্টোবর ১৯৬৫
গল্প/কবিতা: ৩৭টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftউচ্ছ্বাস (জুন ২০১৪)

সাজিন
উচ্ছ্বাস

সংখ্যা

মোঃ মোজাহারুল ইসলাম শাওন

comment ৩  favorite ০  import_contacts ৯৪৩
রহমান সাহেব ১ম শ্রেণীর সরকারী চাকুরে। চাকুরির বয়স ৮ বৎসর হল। বিবাহ করেছেন ৬ বৎসর হল। দুই জনের সংসারে বেগম হোসনে আরা তার সহ ধর্মিণী। খুব ভালো ঘরের মেয়ে বলে রহমান সাহেব তার বাবার ইচ্ছেয় এই মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে এনেছিল। অধ্যাপক টিএ চৌধুরী, অধ্যাপিকা শায়লা বেগম সহ বাংলাদেশের নামকরা নামকরা সব চিকিৎসক দেখিয়েও কোন ফল পান নাই। আজকাল অফিসের কামে তেমন উৎসাহ পান না। পর পর ৩ বার তার স্ত্রী গর্ভবতী হলেও বাচ্চা পেটে ধরে রাখতে পারেন নি। কোন কারণ ছাড়াই বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসকেরা এটিকে অনিবার্য গর্ভপাত এবং এক ধরনের জটিল সমস্যা বলেই তাকে বলেছেন ! রহমান সাহেব বুঝতে পারছেন না কি করবেন ! বেগম হোসনে আরা আজকাল খুব কম কথা বলে। সারাদিন মন মরা হয়ে ঘরেই বসে থেকে। রহমান সাহেবও বাসায় ফিরে সাধারণতঃ টি ভি দেখতে ব্যস্ত থাকেন। এর মধ্যে চা খাওয়ার পর্ব শেষ করে আবারো টিভি দেখেন। তার প্রিয় চ্যানেল খেলা ধুলার চ্যানেল। সেখানে যদি রেস্লিং দেখায় তো আর কোন কথাই নাই। একা একাই হাসতে থাকবেন আর মাঝে মাঝে বাচ্চাদের মত চিৎকার দেবেন... ‘মার শালারে মার। মেরে তক্তা বানিয়ে দে !’
রহমান সাহেব থাকেন আনসার ক্যম্পের ডি টাইপ কোয়ার্টারে। অফিস থেকে আজ আগের গাড়িতেই এসে মিরপুর ১ নং এ নেমেছেন। ইচ্ছে কিছু কাঁচা বাজার করা। বাজারে ঢুকেই চোখ ছানাবড়া তার গিন্নিও বাজারে। উনি আড় চোখে গিন্নিকে ফলো করে যাচ্ছেন ! গিন্নী তার পছন্দের চিতল মাছ, চিংড়ি মাছ আর গরুর গোস্ত কিনল। গিন্নীকে ধরা না দিয়ে আস্তে করে মাছের বাজার থেকে বেড়িয়ে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের শাড়ির দোকানে গিয়ে একটি প্রিন্টের শাড়ি কিনলেন এবং প্রিন্স ব্যাকারি থেকে গিন্নীর পছন্দের চিকেন বার্গার কিনে বাসার দিকে রিক্সা নিলেন। রহমান সাহেব আগে বাসায় ঢুকলেন। ওনার ঠিক ১৩ মিনিট পর গিন্নী ঢুকলে রহমান সাহেব বলে উঠলেন, ‘এই অবেলায় কই গিয়েছিলে?’
গিন্নী স্বভাব সুলভ মুচকি হাসি দিয়ে বলল, ‘না আ, তেমন কিছুনা। এই আর কি !’
রহমান সাহেব আর কিছুই না বলে টিভির দিকে মনোনিবেশ করলেন। রাতে চিতলের কোপ্তা বানানো হল। চিংড়ির দো পেয়াজা আর গরুর মাংসের তীব্র ঘ্রানে ঘরে থাকাই কষ্ট হয়ে গেলো। দুই জনের সংসারে খাওয়া দাওয়া শেষ করে বিছানায় যেতেই বেগম হোসনে আরা দেখল ড্রেসিং টেবিলের উপর একটি প্রিন্টের শাড়ি উঁকি দিয়ে তাকে দেখছে। নিজের অলক্ষ্যেই স্বামীর প্রতি তার ভালোবাসা উদ্বেলিত হয়ে গেলো। সে বুঝল তার স্বামীকে সে সারপ্রাইজ দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

আজ তাদের ৭ম বিবাহ বার্ষিকী।
গভীর রাতে রহমান সাহেব গিন্নিকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠলেন। হোসনে আরা কি সান্ত্বনা দেবে ? রহমান সাহেবকে বুকে চেপে ধরে খুব ক্ষীণ কণ্ঠে বলল, ‘এই শোন, তুমি আবারো বিয়ে কর। আমার এই অসহায় অবস্থার জন্য তুমি কেন কষ্ট করবে !’
রহমান সাহেব তার মুখ চেপে ধরলেন। এরপর খুব বেশী হলে ১৫ মিনিট দুই জন দুই জনকে জড়িয়ে ধরে থাকলেন, তারপর আদিম কাজে বেপরয়া হয়ে গেলেন। তাদের কাছে মনেই হলনা আজ এমন ৭ম বিশেষ কোন দিবস, মনে হল আজ ১ম দিনের সুখ উপভোগ করছেন !
১৫ দিন পর হোসনে আরা জানালো আবার সম্ভবনার কথা। এইবার ডাঃ মালিহা রশিদের কাছে নেয়া হল। উনি পুরো বিশ্রামে রেখে ১৫ দিন পর পর কিসব ইঞ্জেকশন দিলেন এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে কি যেন এক অপারেশনের ইঙ্গিত দিলেন ! রহমান সাহেব বিনা বাক্য ব্যয়ে সব কিছুতে সায় দিলেন। না এইবার আল্লাহ্‌ পাক তাদের দিকে মুখ তুলে চাইলেন। এইবার অনিবার্য গর্ভপাত ঠেকানো গেলো। ধীরে ধীরে বেগম হোসনে আরা মা হবার দিকে এগিয়ে চললেন। রাতে শুয়ে ছেলে হলে হোসনে আরা তার নাম রাখবে শুভ্র, আর রহমান সাহেব মেয়ে হলে নাম রাখবে সাজিন...এসব গল্প করে রাত কাটায়। রহমান সাহেব আজকাল আর রেস্লিং দেখেন না। উনিই গিন্নীর জন্য সময় দেন। দেখতে দেখতে সময় ঘনিয়ে এলো। আর এক সপ্তাহ পর ডেলিভারির তারিখ দেয়া আছে। ডাঃ মালিহা রশিদ কোন ঝুঁকি নেবেন না বলে দিয়েছেন। হোসনে আরার ডায়াবেটিস ধরা পড়ায় ৭ দিন আগেই সিজার করা হল। বাইরে ছটপট করতে ছিলেন রহমান সাহেব। এমন সময় ওটির দরোজা খুলে গেলো । সিস্টার এসে বললেন, ‘স্যার, আপনার একটি সুন্দর মেয়ে হয়েছে। দেখতে খুব ফর্সা হবে ! ১ম সন্তান মেয়ে হওয়াই ভালো।’ এরপর রহমান সাহেবের কোলে তার মেয়েকে দেয়া হল। মেয়ে তার কোলে তোয়ালে দিয়ে মোড়ানো। উনি তাকিয়ে থাকতে পারছিলেন না। চিৎকার দিয়ে উঠলেন...’আলহামদুলিল্লাহ’ বলে !
রাতে হোসনে আরার অবস্থা স্বাভাবিক হল । তার কোলে বাচ্চাকে দেয়া হল। তার মুখের মায়াবী হাসি দেখে রহমান সাহেবের মন ভরে উঠল। এই সময় রহমান সাহেবের মনের উছ্বাস কেউ বুঝতে পারল না, কেউ জানল না। আসলে বাবা বা মা হওয়ার এই উচ্ছ্বাস কিছু দিয়েই পূর্ণ হবার নয় ! রহমান সাহেবের দুই চোখ জলে ভরে গেলো। আজ হোসনে আরাকে পুরনাংগ একজন নারী হিসাবে মনে হচ্ছিল ! রহমান সাহেব হসনে আরার কানে কানে বললেন, ‘এই মেয়ে হয়েছে নাম কিন্তু সাজিন রেখেছি, তুমি খুশী তো !’ হোসনে আরার হাসিতেই বোঝা গেলো কত উচ্ছ্বাস তার মনে ধরা পরেছে !

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement