লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৩ এপ্রিল ১৯৭০
গল্প/কবিতা: ৬৩টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftএকুশে ফেব্রুয়ারি (ফেব্রুয়ারী ২০১৪)

ভাষার হেরফের
একুশে ফেব্রুয়ারি

সংখ্যা

দীপঙ্কর বেরা

comment ১  favorite ০  import_contacts ৩৩৫
সেদিন বাসে উঠেই কন্ডাকটর বলছে – টিকিট কি জিয়ে । শহরের বাসে এই সমস্যা যতই সে বাঙালী হোক হিন্দিতে কথা বলবে । আমি নাছোড়বান্দা । সামনে একটা জায়গার নাম বললাম । বলল – ঠিক হ্যায় পাঁচ রূপিয়া দিজিয়ে । আমি দশ টাকা দিতেই বলল – খুল্লা নেহি হ্যায় । আমি বললাম – আমার কাছেও নেই । বলল – দেনা পড়ে গা ।
আমি বললাম – নেই তো কেমন করে দেব ।
- ও হাম কো মালুম নেহি । দেনা পড়েগা । নেহি তো এ লিজিয়ে । আমার দিকে দশ টাকার নোটটি নিয়ে একটা কাগজ বাড়িয়ে দিল ।
আমি বললাম – এটা কি ?
- বাদ মে আপ জব বাস মে সফর করেঙ্গে এ দে দেনা চলেগা ।
- তা কি করে হয় তার মানে এ বাসে চড়তেই হবে ।
এবার কন্ডাকটর রেগে কি সব বলতে লাগল , আমি বুঝতে পারলাম না । বাধ্য হয়ে বললাম – বাংলায় বলতে পারছ না । তুমি তো বাঙালী ।
- কেন ? আপনার কি অসুবিধা হছে ?
- বাংলায় বাস করছ , বাংলাতে আছ , বাঙালি তুমি | আর শুধু শুধু হিন্দী বলছো |
সে খুব ঘাবড়ে গেল | থতমত খেয়ে বলল – আসলে বাংলা খুব কম লোক বোঝে |
- তুমি ভুল জান , তোমার এই হিন্দী বলার জন্য যে জানে না সেও খটমট করে হিন্দী বলছে | বাসের মধ্যে সবাই কে জিজ্ঞেস করে দেখুন ?

বাস একটা স্টপেজে এল | লোকজন উঠানামার মাঝে বলল – এক দম হক কথায় বলেছেন | স্কুলে যাও ইংলিশ , সহরের রাস্তায় হিন্দী | খালি এক বুলি – বাংলা নাকি চলবে না |
এক বৃদ্ধ বললেন – প্রাণ খুলে সেই গ্রামে কথা বলতাম | এখন হাটে বাজারে হিন্দী ইংরেজি আর বাংলার জগাখিচুরীতে প্রাণ খুলে বলাই দায় |
আমি কন্ডাকটরের দিকে চেয়ে বললাম – কি ভাই | শুনলে তো তুমি যদি তোমার নিজের ভাষাকে না বলতে চাও তো অন্যে কেন বলবে ?
- চুপ করুন তো , আপনার জন্য আমার ভুল হয়ে যাচ্ছে | আইয়ে আইয়ে ! বলেই লম্বা জিব বের করে – ওরে বাস ! আসুন আসুন ! সঙ্গে কয়েকটা জায়গার নাম বলল |

আমারও স্টপেজ এসে গেল । নামতে নামতে বললাম – ভাই , বাংলা ভাষা খুব সুন্দর এক ভাষা । শুধু বাংলাতে খুব মধুরতা । কি সুন্দর – আমি তোমাকে ভালবাসি । বলতে বলতে বাস ছেড়ে গেল । ও বলে গেল – ছেলেকে কোথায় ভর্তি করেছো ? ইংলিশ মিডিয়ামে তো ? আবার বড় বড় কথা ।
আমি বললাম কিন্তু ও বোধ হয় শুনতে পেল না – না , আমার সে সামর্থ্য নেই । সরকারী ব্যবস্থায় পুরো ভরসা । তাছাড়া কোন ভাষাই খারাপ নয় , খারাপ হতেই পারে না । বিশ্ব জুড়ে ইংরেজী বেশ চলে । আমাদেরও সব সরকারী বেসরকারী আদেশ নির্দেশ সবই ইংরেজী । তাহলেও বাংলা একেবারেই অবহেলিত নয় । আমাদেরকেই তার মর্যাদা সবার সামনে তুলে ধরতে হবে ।
আমার কথা শুনতে শুনতে পথ চলতি মানুষ কেমন আড় চোখে তাকিয়ে চলে যাচ্ছে । আমিও এগিয়ে চললাম । ভাষা নিয়ে পড়ে থাকলে আর যাই হোক পেট চলবে না । তাছাড়া যুগের সাথে তাল মেলাতেই হবে । নিজে যে টুকু পারি তাই বলি না কেন ? লোক ঠিক আমার দেখে শিখতেও পারে । আমাদের ভাষার ভাণ্ডার তো পরিপূর্ণ ।
মলের মধ্যে একটা জোনে ঢোকার মুখে সিকিউরিটি – নমস্তে সাব !
আমি বললাম – নমস্কার বলুন না ! তুমি তো বাঙালী !
- আমার চাকরী চলে যেতে পারে !
ওরে বাপরে ! আমি তো আকাশ থেকে পড়ি । শুনেছি যে কাস্টমার যেমন সে ভাবেই তো কথা বলার মত সেলসম্যান নেওয়া হয় । যাক কি আর করা যাবে । সামনে এগিয়ে একটি ল্যাপটপের সামনে দাঁড়াতে একজন – ম্যাঁয় আই হেল্প ইউ ?
- এর একটু কর্মপদ্ধতি বুঝিয়ে দিন না ?
ও কিছু না বুঝে আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকল ।
যেন ও এরকম কথা কোনদিন শুনেই নি । ......... এই হয় !

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement