লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২০ জুন ১৯৭০
গল্প/কবিতা: ২০টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

২০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftইচ্ছা (জুলাই ২০১৩)

কাল্লুজীর ইচ্ছাপুরণ
ইচ্ছা

সংখ্যা

মোট ভোট ২০

জি সি ভট্টাচার্য

comment ৫  favorite ০  import_contacts ১,০৪০
কাল্লুজীর ইচ্ছা পুরণের কথা কিন্তু নয়, কাল্লুজীর দ্বারা ইচ্ছাপুরণের কথা বলছি। কথাটায় সমাসের একটু প্রভেদ আছে। তাই অর্থভেদ তো হবেই। কিন্তু সে’সব ব্যাকরণের কচকচির কথা না হয় এখন থাক।

গল্পটা বলে ফেলা যাক। আমার একমাত্র ভাইপো অপরূপ সুন্দর ছেলে চঞ্চলের তো রোজ রাতে একটা গল্প শোনা চাইই চাই, না হ’লে ছেলের তো ঘুম হয় না আর সেই গল্প যাকে রোজ যোগাতে হয়, সে সাহিত্যিক যদি না ও হতে পারে কপালের ফেরে, কথাকার বা গল্পকার না হয়ে যায় কোথায়?

কাল্লুজী আমার বন্ধুমানুষ এবং অনেকেই আজ কাল্লুজীর নাম জানেন।

সেদিন সকালে তারই জাতের আমার পূর্ব পরিচিত এক ব্যক্তি আমাদের বাড়ীতে এসে হাজির।

নাম - লালধারী রাম।

এসেই প্রশ্ন---‘আপনি কি ডিটেক্টিভ, স্যার?’

আমি বললুম--‘না না আমি রহস্যানুসন্ধানী….’

‘তা বেশ তো, সে ও খুব ভালো জিনিষ। আমার একটা সমস্যা হয়েছে।। আপনাকে অনুসন্ধান করে সমাধানের জন্য পরামর্শ দিতে হবে। আমি গরীব মানুষ । খুব মুশ্কিলে পড়ে এসেছি আপনার কাছে…’

আমি জিজ্ঞাসা করলুম—‘তা আপনার সমস্যাটা কিসের? আপনার কেউ বা কিছু কি হারিয়েছে?’

‘না …না …’

‘তবে কি অপহরণ…?’

‘না’

‘খুন?’

‘নাঃ’

চুরী ডাকাতী?’

‘না’

‘তবে কি গুপ্তধনের খোঁজ করতে হবে?’

‘না’

‘তবে ব্যাপারটা কি? রহস্যটা কোথায়?’

‘শ্রাদ্ধে’

‘কি? কি বললেন?’ আমি আৎঁকে উঠলুম।

‘বাপের শ্রাদ্ধ নিয়ে বড় মুশ্কিল হয়েছে, স্যার। আপনাকে উপায় একটা করে দিতেই হবে’।

‘শ্রাদ্ধ করা বা করানো আমার কেস নয়। সে মানুষের হোক বা টাকারই হোক। আপনি কোন পন্ডিতজীর বাড়ী যান’।

‘আরে, কি গেরো রে বাবা…. সে’খান থেকেই তো আসছি আমি’ ।

‘তবে?’

‘এই দেখুন না, পন্ডিত তিন হাত লম্বা এক ফর্দ করে দিয়েছে । জ্ঞাতি ভোজ ছাড়া শুধু ক্রিয়া কর্ম, দান দক্ষিণা, ব্রাহ্মন ভোজন এই সব মিলিয়েই বিশ হাজারে ও হ’বে না। আবার মৃতক মানে যার শ্রাদ্ধ সে জীয়ন্তে যা খেতো বা খেতে চাইতো, পরতো বা পরতে পছন্দ করতো, ব্যবহার করতো বা করতে ভালোবাসতো, তার সেই সব অপূর্ণ ইচ্ছার জিনিষ দান করতেই হবে বা সেই সব খাবার খাওয়াতে হবে ব্রাহ্মনকে। সে যত দামই হোক। নইলে তার আত্মার তৃপ্তি হবে না। শ্রাদ্ধের পরে তার শান্তি ও হবে না’।

বললুম--‘মানে মৃতের ইচ্ছাপুরণ, তাও মৃত্যুর পরে ব্রাহ্মনের বকলমে?’

‘সেই তো কথা স্যার। আর এই করতে গিয়ে আমি তো ঠিক হার্টফেল করবো, স্যার’।

‘তা অবশ্য আপনি করতেই পারেন। আপনার হার্ট। রাখবেন না ফেল করবেন আপনার ইচ্ছা। তবে সেটা ও হবে ডাক্তারের কেস। আমার নয়’।

‘আপনি পরামর্শ দিন আমাকে তাড়াতাড়ি, স্যার। যাতে শ্রাদ্ধ ও হয় আর আমি ও না হয়ে যাই’।

শুনে আমি চুপ। এইসব হও য়া হওয়ির ভেতরে আমি কি বলি?

সুন্দর ছেলে বাদল নিজের টেবিলে বসে পড়ছিলো।

সেদিন রুটিন মতন সাত সকালেই বারো বছরের ঝকঝকে ছেলেটাকে নাইয়ে, প্রসাধন করে সাজিয়ে, দামী নরম সিল্কের হলদে ফুলশার্ট ও ব্রাউন ভেলভেট কাপড়ের ফুল প্যান্ট পরিয়ে জল খাবার টাবার খাইয়ে দিয়ে পড়তে বসতে বলে খবরের কাগজটি পড়বো বলে সবে হাতে নিয়েছি কি নিইনি, আর ঝপ করে এই ঝামেলার মধ্যে পড়ে গেছি অনেকটা ঠিক পথ চলতে গিয়ে কুয়োয় পড়ে যাবার মতন।

আমি চুপ দেখে এইবার বাদল বললো—‘এ’টা তো সোশাল কেস। কাকুর কাজ নয়। কাল্লু আংকলের কাছে গেলেই আপনার কাজ হবে। তবে তাঁর কিন্তু ফিজ চাই। হাজার টাকার নীচে তিনি মুখ খোলেন না। টাকা জমা দিলে তবে তিনি …’

‘আমার কাজ হবে?’

‘হতেই হবে। টাকা আনলে তখন বলা যাবে…’

‘এই নাও টাকা। বলো….আমি এখন মরিয়া।’

‘কাকু, তুমি ফোনে কাল্লু আংকলকে তবে ডেকে নাও। তাঁর সোশাল আই০ কিউ০ যা হাই না। আমি কোন ছার। ঠিক সমাধান করে দেবেন। কেন না আমাদের কিন্তু এই সমস্যাটা মেটানো ঠিক মানায় না। আমরা শ্রাদ্ধের পরামর্শদাতা হয়েছি শুনলে লোকে কি বলবে? হিঃ….হিঃ….হিঃ….’

‘তুমি জানো সমাধান, বেটা?’

‘আপনিও জানেন। নিজেই তো বললেন…’

‘আমি? পাগল হয়েছো? আমার মতন লোক একটা পরামর্শের জন্য হাজার টাকা গাঁট গচ্চা দেয় কখনো নিজে সমাধান জানলে…’

‘সে তো আমি বুঝতেই পেরেছি, আংকল তবে অনেক সময়ে মানুষ নিজেই জানে না যে সে কি জানে’।

‘তার মানে?........’

বাদল উত্তর না দিয়ে সুন্দর করে আবার একটু হাসলো মাত্র।

‘আমি তখন কি করি? বাদল যা বলছে তাই করলুম। ঘরের বাইরে গিয়ে কাল্লুরামকে ফোন করলুম চট করে চলে আসবার জন্যে।

কাল্লুজী উত্তরে বললো-‘আরে, আগে আমাকে পানিটা তো ভরে নিতে দে রে পন্ডিতজী। নইলে কলের পানি যাবে চলে আর তোর ভাবী তখন আমাকে না ….বিয়ে শাদী তো আর করলিনেরে পন্ডিতজী। কি বুঝবি সংসার করা কাকে বলে? বাজারে বেরুবার নাম করে তবে আসবো, কিন্তু দক্ষিণা চাইই’।

বললুম-‘আরে ছিঃ… ছিঃ…, তুমি ও আজ উল্টো গাইছো কোন আক্কেলে শুনি? দক্ষিণায় ওপরে তো পন্ডিতজীর মানে আমার অধিকার । তুমি পেতে পারো বড় জোর ডবল ডিমের গরম ওমলেট সহ চা আর মোহনভোগ’।….

‘আরে তাই সই রে পন্ডিতজী। সেই বা কম হ’লো কিসে? তুই আনিয়ে রাখ রে ভাই । এখন অবধি এক কাপ চা ও তো জোটেনি সকাল থেকে আমার কপালে…’

তা কাল্লুজী তাড়াতাড়িই এসে গেলেন নাস্তার লোভেই হয়তো।

সব শুনলেন তারপরে।

শুনে গোমড়া মুখে বসে রইলেন পুরো পাঁচ মিনিট। বাদল আড়চোখে ঘড়ি দেখছে তা বুঝলুম। ছেলেটা টাইম কাউন্ট করছে।

বাদলের মাত্র দু’মিনিট লেগেছিলো।

বুদ্ধির পরীক্ষায় সময় একটা বড়ো ফ্যাক্টর। পরে সাইকো পড়ে জেনেছি।
বাদল সে সব তখন কিছু পড়েই নি তবে নিজের প্রতিভার জোরে বেশ জানে বলে আমার মনে হ’লো।

তবে এটা শুধু বুদ্ধির কাজ নয় ক্রিয়েটিভ ট্যালেন্ট ও চাই।

মিনিট সাতেক পরে কাল্লুজী বললো—‘আরে লালধারিওয়া, তু তো হ্যায় রে বড়া মক্ষিচুষ আদমী। তেরী সহায়তা করকে নরক মে, কে জাই রে? লেকিন বিরাদরী কি বাত হও। আউর তেরা মৌত হো যায়, ই ভি তো ঠিক নহী । কুছ ন কুছ তো করনা হি হোগা। আচ্ছা, তু শশুরা জরা ইধার তো আ। জো কহুঁ শুন কান খোল কে। তেরা পন্ডিতওয়া তো পক্কা পন্ডিত হ্যায় না?’

‘জী কাল্লুজী…’

‘ফির কাম হো যাই তেরা। তু পহলে ক্রিয়া করম করবা লেনা। উসকি দচ্ছিনা ভি দে দেনা অলগ সে। ফির দান হোই। অন্ত মে ব্রহ্ম ভোজ মে পন্ডিত কো বৈঠা দেনা। ভোজন কে বাদ হোই ফির দান আউর ভোজন দচ্ছিনা। পহলে বতা দেনা পন্ডিতকো। ভোজন নহী তো কুছ নহী। দান কা সামান সব হম ভিজবা দেব। তু ফিকর মত কর। অব শুন…..’

বাকিটা কাল্লুজী লালধারীর কানে কানে বললেন বলে শোনা গেলো না তবে লালধারীর খুশী খুশী মুখ দেখেই বোঝা গেল সমস্যা মিটেছে তার।

বাদল ছেলেটা দেখি বসে মুখ টিপে হাসছে।

ওর দারুণ সুন্দর মুখের হাসি দেখে তখন আমার ভারী রাগ হয়ে গেল। বুঝে গেলুম যে এখন তো এই ছেলেটা চুপ করে আছে, কিন্তু পরে ও যে মুখ খুলবে না, তা ঠিক। ইচ্ছে করছিলো দিই ছেলেটাকে হাত ধরে টেনে এনে আচ্ছা করে কাতু কুতু। হাসি বেরিয়ে না গেছে ছেলের তো কি বলেছি। আমি তো বুঝতেই পারছিনা যে কাল্লুজী প্রেত, পন্ডিত আর পাগল যজমানের মানে শ্রাদ্ধকারীর ইচ্ছা একসাথে পুরণ করবে কি করে?


ততক্ষনে পরামর্শ শেষ।

কাল্লুজী উঠে দাঁড়িয়ে বাজারের ব্যাগ হাতে তুলে নিয়ে বললো-‘আরে কঞ্জুষবা রে, তু পন্ডিতজিকে নেওতা ওঔতা দেলা কি নাহি রে? ফির তো তেরা কিরিয়া করম সব…হম…..’

হাঁ হাঁ করে উঠলো লালধারী শুনেই।

‘আরে সে তো দেবই নেও তা। সে কী আর বলতে হয় না কী। আপলোগ জরুর আইয়েগা, হম কল কারড দে জায়েঙ্গে,..স্যার’

ভাবলুম বলি-‘বড় বয়েই গেছে আমার যেতে চামার বাড়ির শ্রাদ্ধের নেমন্তন্নে ।

তখনি মনে হ’লো ওরে বাবা, চামার বলা তো আইন অনুসারে নিষিদ্ধ। জাত তুলে গালাগালি দেওয়া হয়ে যাবে।

পন্ডিতকে পন্ডিত বলো, লালাকে লালা বলো, ঠাকুরকে ঠাকুর বলো এমন কি বাঙালীকে তো ওরা মানে হিন্দীভাষীরা বলে বঙ্গলিয়া সাথে আরো কিছু বিশেষণ ও জুড়ে দেয় দু’চোখে দেখতেই পারে না বলে, কিন্তু সেসবে কোন দোষ নেই। কিন্তু চামারকে চামার বললেই মহা অপরাধ। এখন তো শুনি জিনিষ পত্রের ও না কী জাত হয়। বৌদ্ধ দেশে তৈরী বন্দুক পিস্তল ছোরা ছুরী সব না কী অহিংস।

সে সব কথা যাক গিয়ে।

কাল্লুজীর সাথে লালধারী ও রওনা হয়ে গেলেন।

আমি বাদল পড়তে বসেছে দেখে কাগজখানা তুলে নিলুম।

পরদিন নেমন্তন্নের কার্ড ও পেলুম যথাসময়ে।

যাব না তা ঠিক, তবে রাতে বাদল শুনে বললো-‘ও কাকু, তবে কাল্লুজীর মজার ইচ্ছাপুরণ দেখবে কি করে তুমি? হিঃ……হিঃ…..হিঃ..’

বোঝ ঠ্যালা। এখন যেতে ও হবে। আর তার পরামর্শে কাজ যদি হয় তবে হাজার টাকা দিয়ে কাল্লুজীকে একটা জম্পেশ দাওয়াত মানে ডিনার ও দিতে হবে।

যথাদিবস ও সময় লালধারী রামের বাড়ী গিয়ে দেখি ইয়া টিকিওলা এক হিন্দুস্তানী পন্ডিত বসে গলা ফাটিয়ে অং বং কি সব মন্ত্র পড়ে শ্রাদ্ধ করাচ্ছে যজমানকে।

একসময় শেষ হ’লো ক্রিয়া কর্ম। দক্ষিণান্ত হ’বার পরে দানের পালা শুরু হবে।

তা প্রথমেই দেখি বেশ বিভ্রাট। দান সামগ্রী সব আনা তো হয়েছে। তবে দেখে বিশেষ সুবিধের নয় কিছুই বলে আমার মনে হ’লো। যেন পুরোনো সব জিনিষ পালিশ করিয়ে এনে রেখেছে। হয়তো কাল্লুজী পাঠিয়ে দিয়েছেন। ভাড়া করে পাঠিয়েছে না কী এই সব জিনিষপত্র’?

পোষাক, খাট, পাদুকা, ছাতা, পাখা অনেক সব দানের জিনিষ ছিল।

হাওয়া কেমন হয় দেখতে প্রথমেই পাখা খুলতে বললেন পন্ডিতজী। জিনিষ না দেখে দান নেবেন না তিনি। তা পেডাস্টেল ফ্যান ঘুরতেই জল ছিটোতে শুরু হতেই আঁক করে উঠলেন পন্ডিতজী।

‘এ …এটা কী পাখা? অ্যাঁ? বন্ধ কর…. বন্ধ কর শীগ্গীর। ভিজে মলুম যে রে বাবা এই ঠান্ডার সময়ে । এ কী পাপ? ’।

‘আজ্ঞে জল পাখা। রাজস্থানে খুব চল আছে। গা ঠান্ডা করে দেয়। জলের ড্রামের ওপরে বসানো হয়। পাখা ঘুরলেই পাইপ দিয়ে জল উঠে ছড়িয়ে পড়ে। আমার বাবার বড় ইচ্ছে ছিল ব্যবহার করবার।। তাই তো এনেছি….’

‘দূর কর । এই ঠান্ডায়….ছ্যাঃ ছ্যাঃ…’

‘ঠিক আছে। খাটটা দেখে নিন বসে একটু। ঠিক আছে কি না?’

‘বাপ রে……’

‘কি হ’লো পন্ডিতজী?’

‘আ….আমি খাটে বসতেই ছিটকে এসে দরজার কাছে পড়েছি কেন?’

‘হয়তো জোরে ধপ করে বসেছেন আপনি….’

‘তা …তা’তে কি হয়েছে, শুনি?’

‘আজ্ঞে, এটা জলগদী তো আর নীচে কাঠ তো নেই, আছে স্প্রিং…। এটা দোলনা খাট বড় ইচ্ছা ছিল বাবার যে ‘

‘দূর…. দূর কর… পাপ…জলগদীর না নিকুচি করেছে….’

‘যে আজ্ঞে। এখুনি দূর করে দিচ্ছি । তবে এইবারে এই ধুতী চাদর আর খড়ম টা পরে দেখুন। কুর্তা ও আছে সিল্কের। তবে আন্দাজে কেনা তো। পরে ফিটিং দেখে নিলে ভালো করবেন’।

‘গবেট। ধুতি চাদর আবার পরে দেখবো কি? কুর্তাটা দে। আর খড়ম কি হবে? পরে আমি পড়ে মরি আর কি? ও সব চলবে না। হাওয়াই চপ্পল নিয়ে আয়। চামড়া নেই তাই অপবিত্র বলে দোষ হবে না’।

‘আরে ..এ কী? এ কিসের কুর্তা?’

‘আজ্ঞে পিওর সিল্কের…শুদ্ধ বলে…এনেছি…’
‘হারামজাদা চামার, সিল্ক কি এই রকম ভয়ানক কুট কুট করে? ওরে বাপরে…গেলুম রে মলুম রে….. এ যে জ্বালা ও করছে দারুণ… আর তোর এই চপ্পলই বা কিসের তৈরী?’

‘কেন পন্ডিতজী? রবারের…’

‘তোমার গুষ্টির পিন্ডির। রবারের যদি তবে এটা আমার পায়েতে এ’ভাবে সেঁটে গেল কেন? খোল টেনে পা থেকে আমার শিগ্গীর এখন’।

‘হয়তো অনেক দিন ধরে পড়ে আছে বলে নরম হয়ে আছে রবার । আজকাল তো আর কেউ ব্যবহার করে না পন্ডিতজী….’

তা অনেক টানা টানি করে সেই কুর্তা ও চপ্পল খোলা গেলো বটে কিন্তু পন্ডিতজী চান করে ও আর গায়ের জ্বালা কমাতে পারেন না। জল পড়লে জ্বালা আরো বাড়ছে দেখে যজমান তখন কোথ্থেকে এক খাবলা পচা গোবর এনে পন্ডিতজীর সারা গায়ে মাখিয়ে দিলো। গন্ধে সে’খানে টেঁকা দায় হ’লো বটে কিন্তু জ্বালা কমলো…

পন্ডিতজি বললেন—‘আর আমার দানেতে কাজ নেই । খিদেয় পেট জ্বলছে । ব্রাহ্মন ভোজন করা…’

‘আসুন । সব সব রেডী….এই আসনে বসুন’।

‘তা বসলুম। কিন্তু …ওটা কি ? ভাত?’

‘আজ্ঞে না । বিরিয়ানী….’

‘কি আছে ওতে?’

‘না না মাংস নেই। তবে কম সে কম দু’টো অন্তত মুরগির ডিম না হ’লে কি বিরিয়ানী ভালো হয় পন্ডিতজী?’

‘আরেঃ ……রাম…. রাম ছিঃ…. সরিয়ে নে….সরিয়ে নে…’

‘তা না নিচ্ছি পন্ডিতজী। তবে শুয়োরের গ্রিলড মাংস, মুর্গ মুসল্লম, কাবাব আর পোলাও এনে দিচ্ছি । খেয়ে নিন আপনি। সাথে দামী মদ ও আছে। বাবার এই সবই ছিলো ভোজনের ইচ্ছা। পছন্দের ভোজন ছিল বটে তবে জোটেনি কোনদিন ও পয়সার অভাবে। আজ তাই আপনার সেবায় আনিয়েছি সব কিছু। ব্রাহ্মনের মুখ দিয়েই তো তাঁর আত্মা খেয়ে আজ তৃপ্ত হবে। তাই এইগুলো সব আপনাকে সেবা করতেই হবে’।

‘আরেঃ রাম রাম ছিঃ…ছিঃ… ক্যা অপবিত্র ভোজন লে আয়া…গঙ্গাজী মে নহানা পড়েগা যাকর অভি….’

‘সে আপনি দশবার নাহান তবে ভোজন না করলে দচ্ছিনা এক হাজার এক টাকা কিন্তু …’

‘আরে উঠছেন কেন আপনি পন্ডিতজী? অন্তত এই কেকটুকু তো মুখে দিয়ে যান। তা হ’লে ও হবে।… আরে এতে তো ….ঘরের শুদ্ধ মুরগির ডিম ছাড়া আর কিছুই নেই …ঘর কি মুরগী ও নয় তার আন্ডা ….ও তো সাগ বরাবর ভি নহী হ্যায় পন্ডিতজী….’ এই বলে তাঁর হাতে একটা কেক ধরিয়ে দিতেই তিনি ছুঁড়ে ফেলে দিলেন সেটা ভয়ানক রাগ করে …. ‘আরে, সত্যানাশ হো তেরা রে চামার’ বলে।

‘আরে দাঁড়ান দাঁড়ান পন্ডিতজী, যাবেন না। সব শেষে একটি চামার কন্যা ও আছে পন্ডিতজী। সেবিকা হিসেবে ওটি কে ও গ্রহন করতে হবে। বাবুজীর অন্তিম ইচ্ছা ছিল যে….’

বাপরে, আমার পন্ডিতাইন জানলে হাঁসুয়া তুলে নিয়ে ছুটে এসে আমার গর্দান দো ফাঁক করে দিক আর কি? এই রইলো তোর সব দান সামগ্রী আর এই রইলো তোর ভোজন…অপবিত্র ম্লেচ্ছ….চামার….মোদো মাতাল…বদমাস…দুশ্চরিত্র…দুষ্ট….তোর বাপ পরেত বনকে ওহি নীম কে পেড় পর লটকা রহে সঔ শাল তক…’

‘ও কৈসে হোগা পডিতজী? কিরিয়া করম তো হো গয়া পহলে হি, অউর উসকি দচ্ছিনা ভী আপ কবুলে হ্যায়। উ তো পরলোক চলা গয়া। অব দান ভোজন অউর উসকি দচ্ছিনা আপ ন লেঁ, তো কিসি অউর কো তো দেনা হি হোগা ন পন্ডিতজী…..’

আর পন্ডিতজী? তিনি তখন গঙ্গা অভিমুখে ছুটছেন …

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement