লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৯ এপ্রিল ১৯৯২
গল্প/কবিতা: ১৪টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবাবা দিবস (জুন ২০১৩)

বিজ্ঞাপন বন্ধ করুন

আব্বুর গল্প
বাবা দিবস

সংখ্যা

মোঃ ইয়াসির ইরফান

comment ২  favorite ০  import_contacts ৩২২
আব্বু বা আম্মুকে নিয়ে কিছু লিখতে বা বলতে গেলে দুজনের মধ্য তুলনাটা অটোমেটিক চলে আসে । তো যখনই একজনকে নিয়ে কিছু ভাবতে গেছি, ভাবনার জায়গাটা কখন যেন দুজনই দখল করে বসে । কিশোর বয়সে এটা নিয়ে খুব ঝামেলা হত, আজকাল অবশ্য তেমন একটা সমস্যা হয় না ।
এখন বুঝেছি দুজনের অবস্থান দুই জায়গায় । তুলনা বা পরিমাপের স্থান সেখানে নাই । সাগরের গভীরতা আর আকাশের বিশালতার মাঝে কি কখনো তুলনা হতে পারে ! পারে না । দুজনের স্নেহ মায়া মমতা দুই ধরনের, তার মধ্য তুলনা করা অপ্রতুল ।

আমার আব্বু আমার কাছে অনন্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী এক সুপুরুষ । সেই ছোট থেকে আমি আব্বুর ব্যক্তিত্ব, চলন, বলন সব কিছু অনুকরনের চেষ্টা করতাম । এখনো করি । অবশ্য শৈশবের বেশীরভাগ স্বপ্নপুরুষ বাবাই হয়ে থাকেন । কিছুদিন আগে বাড়িতে গিয়েছিলাম, ঐ খানে আমার এক আপু (ফুফাতো বোন) তার বাচ্চাদের সম্বন্ধে বলছিলেন, তাদের কাছে নাকি তাদের বাবা সুপারম্যান জাতীয় কিছু ! যে কোন কিছুই তাদের বাবার বাঁ হাতের খেল, জগতের সবকিছুই তাদের বাবা পারেন ।
বাবা আসলে এমনই এক মানুষ, যিনি সন্তানের বেড়ে উঠার ক্ষনে প্রতি মূহুর্তে ছায়ার মত কাজ করেন । সর্বক্ষন বাবার প্রভাব সন্তানের উপর বিরাজমান ।
তাই তো বলা হয়, বাপ মরলে বুঝা যায়, বাপ কি !

বছর দুয়েক আগেও আমাকে আব্বু বাজারে যেতে দিতেন না, উনিশ বছরের হওয়ার পরও আমি নাকি রাস্তা পার হতে পারব না ! আব্বুর স্নেহ যেমন লাগামহীন ঠিক তেমনি অভিমানও প্রগাঢ় । শুধু আমি না, পরিচিত কেউই আব্বুর এই অভিমানের প্রকোপে পড়তে চান না । সবাই জানে আমার আব্বু মানুষটা যেমন ভালবাসতে জানেন, ঠিক তেমন রাগও করতে পারেন । উনার কাছে টেনে নেওয়া যেমন পরম আনন্দের, দূরে ঠেলে দেওয়াও তেমনি কষ্টের ।
আমি তাই সদা সচেষ্ট থাকি, অভিমানি আব্বুটাকে অভিমান থেকে দূরে রাখতে ।

আব্বুর রসবোধও প্রবল । আমাদের সাথে বন্ধুর মত মিশতেও পারেন, আবার কঠোর শাসনেও ভয়ংকর রুপে আবির্ভুত হতে পারেন । রসবোধের জন্য সবার কাছে যেমন গ্রহনীয়, তেমনি প্রবল অভিমানের কারনেও সবার কাছে সমাদৃত ।

অনেক সময় এমন হয়েছে যে, আব্বুর রসবোধ অনেকেই বুঝতে পারেন নাই । এখন আব্বুর গুনমুগ্ধ আমার মামারাও প্রথম অবস্থায় রসিকতা গুলো বুঝতে না পেরে কান্নাকাটি করে কত হ্যাপাটাই না পোহিয়েছেন । বর্তমানে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, অনেক সময় আব্বুর রাগের কথাও তারা হাসিমুখে রসিকতা মনে মেনে নেন ।

ছোটবেলায় আব্বু আমার সাথে একবার ভীষন রাগ করলেন । তখন বয়স হবে ১২-১৩ বছর । মাস খানেক আমার সাথে পুরা কথা বন্ধ করে দিলেন । পুরো রোযায় আমার সাথে একটুও কথা বললেন না । এটা আমার আব্বু আরো ছোট থেকেই করতেন, ভীষন রাগ হলে অভিমান করে আর কথা বলতেন না । এ সময়টা ছিল আমাদের ভাই বোনের জন্য সবচেয়ে কষ্টকর ।
তো সেবার ঈদের দুদিন আগে হঠাত রাতে আমায় ডেকে কথা বললেন । গলায় জড়িয়ে ধরলেন । আনন্দে দু চোখে পানি চলে আসার অবস্থা । কোনভাবে সেটা ঠেকানো গিয়েছিল । সেবারই প্রথম বুঝেছিলাম আব্বুর কাঁধে কাঁধ মেলানোর আনন্দ ।

ছোট থাকতে আব্বুর পেটের উপর উঠে শুয়ে থাকতাম । সে দিন গত হয়েছে অনেকদিন আগে । তবে কাঁধ মেলানোর আকুতিটা লালন করি সর্বক্ষন । মাঝে মাঝেই চলে আসে সে সুযোগ ।
বছর দেড়েক আগে আব্বু অফিস থেকে আসার সময়ই মিষ্টি কিনে আনলেন । এসেই ঘরের প্রত্যেককে একবার করে জড়িয়ে ধরলেন । প্রমোশনের আনন্দে যখন আব্বু অশ্রুসিক্ত চোখে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন, তখন সত্যিই আমি আবার মধ্যবিত্তের সুখ-দুখের আনন্দ নবরুপে আবিস্কার করলাম । সবার অলক্ষ্যে বাথরুমে ঢুকে অনেক কেঁদেছিলাম, অবশ্যই সুখের কান্না !

আব্বুকে কোন বিষয়ে ভেঙে পড়তে দেখলে ভীষন কষ্ট লাগে । সবসময় দেখতে চাই, প্রবল ব্যক্তিত্ববান রুপে । আমি চাই, তিনি তার ব্যক্তিত্বের প্রলেপে সব বাঁধা মাড়িয়ে যান ।
অহর্নিশ আমার হৃদয় মন্দিরে সুন্দর চেতনার, সমুন্নত সততার, প্রবল ব্যক্তিত্বের যে দ্বীপশিখা জ্বালিয়ে দিয়েছেন, তা যেন কখনো নিভে না যায় । আমি যেন উনার ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে জাগতিক-পারলৌকিক কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যেতে পারি ! এই কামনাই স্রষ্টার তরে রাখি ।



___________#######___________

advertisement

GK Responsive
GolpoKobita-Responsive
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
GolpoKobita-Masonry-300x250