লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৪ মে ১৯৯০
গল্প/কবিতা: ২৩টি

সমন্বিত স্কোর

৫.৬৩

বিচারক স্কোরঃ ৩.৪১ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.২২ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগর্ব (অক্টোবর ২০১১)

বৃদ্ধ মাঝি
গর্ব

সংখ্যা

মোট ভোট ৭৪ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৫.৬৩

আদিব নাবিল

comment ৪২  favorite ১  import_contacts ৮৮৯
কাল রঙের চোখ ঝলসানো চকচকে গাড়িটি ঘ্যাঁচ করে থামে। উপস্থিত ভিড়ে গুঞ্জন আলোড়ন, বড়বাবু আজ নিজেই এসেছেন! বাবুটিকে চেনা চেনা লাগে মাঝির, কোথায় যেন দেখেছে আগে। গাড়ি থেকে নেমেই বৃদ্ধ মাঝির দিকে নজর পড়ে তার, শতচ্ছিন্ন কাপড়ে মাঝি জড়সড় কাঁচুমাচু হয়।

কি রে মাঝি বেটা, বলেছিলি তো আমার জীবন নাকি ষোল আনাই মিছে। দেখ চেয়ে দিব্যি বেঁচে আছি- শ্লেষাত্মক স্বরে বাবু বলেন।

বৃদ্ধটি ফ্যাল ফ্যাল করে শোনে, আর ভাবে, কী বলছে বড়লোক বাবুটি?

তোর নদী আমাকে খেতে পারে নি, আমিই খাচ্ছি তোর নদী- বাবু বলেই চলেন।

বৃদ্ধের স্মৃতি একটু একটু কাজ করে। মনে পড়ে এক কালবোশেখীর দিনে নদী পারাপারের ঘটনা। সে তখন তাগড়া যুবক। এই বুড়ির মত শুকিয়ে যাওয়া নদী তখন সোমত্ত যুবতী। নদীর উপর দিয়ে যখন সে বৈঠা বাইতো, নদীর পানির আলোড়নে মনে হত যেন উদ্ভিন্ন যৌবনে দোলা। এক একটি ঢেউ যেন বিশাল স্ফীত স্তন, বুকে কাঁপন লাগত মাঝির।

দীর্ঘশ্বাসে বাস্তবে ফেরে বৃদ্ধ। ঝাপসা চোখে ভাসে ঘটনাটি। বাবুটি ছিলেন এক ননীর পুতুল। যদিও দু’জনের তর্ক বড়াই চলেছিল সমানে সমানে। শেষমেষ নদীতে ঝড় উঠলে সাঁতার না জানা ধনীর দুলালকে চূড়ান্ত আঁতে ঘা দিয়েছিল মাঝি।

তারপর……..কত দিন গত হল। নদী মরল। ক্ষেতে পড়ল আরো কত আইল। বাবুটি জ্যামিতিক হারে আরো ধনী হল, উল্টো হারে অর্ধ্ব-চতুর্থাংশ-অষ্টমাংশ গতিতে সাড়ে তিন হাতের কাছাকাছি পৌঁছুল মাঝির আবাদী জমি। দারিদ্রই শক্তি দরিদ্রের, মানসিক সক্ষমতায় বেঁচে-বর্তে থাকাই তার অহঙ্কার। মাঝিরও তাই। তিন বিঘা থেকে সাড়ে তিন হাতের দূরত্ব অতিক্রান্তের সময় বৃদ্ধিতে রত।

নদীর শীর্ণধারা দিয়ে আধুনিক নৌকা চলে। ইঞ্জিনের দাপটে অনেক আগেই সে তার টাপুরে নৌকা হারিয়েছে।

এদিকে, প্রচণ্ড আত্মগরিমা বহু বছর আগের তুচ্ছ অপমানটি ভুলতে দেয় নি বাবুকে। নদীর পাড় ভরাট করে তিনি এখন নজর দিয়েছেন মাঝি’র ক’ছটাক জমিতে।

বৃদ্ধের অন্তর কাঁদে- এত অহঙ্কার আল্লায় সইবো না……!

ক্রুঢ় হাসি মিলাতে না মিলাতে অত্যাধুনিক ফোনে কী যেন খবর আসে বাবু’র কাছে। সঙ্গী সহচরের চকিত চিৎকারে মাঝি পাশ ফিরে দেখে বুক চেপে ধরে বাবু পড়ে আছে মাটিতে।

আল্লাহ সইল না!

এত সহজে গরীব মরে না। সর্বস্ব কাইড়া নিলেও শুধু দিলে’র শক্তিতে ওরা খাড়াইয়া দাড়ায়…আর ওরা? কয়েক শ’ কারখানার মইদ্যে একটায় আগুন লাগার খবরে দিলে’র ধড়ফড়ানি উইঠা খাড়ার তে’ পইড়া মইরা গেল- বিড় বিড় করে বলতে বলতে বৃদ্ধ মাঝি বাড়ির পথ ধরে।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement