লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ নভেম্বর ১৯৮২
গল্প/কবিতা: ৮টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

২৪

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবাবা (জুন ২০১২)

মনের জ্বালা
বাবা

সংখ্যা

মোট ভোট ২৪

প্রিয়ম

comment ২৩  favorite ০  import_contacts ১,৪৩০
আনেক বছর আগের কথা ,আমার ঠিক মনে নেই ,সবেমাত্র স্কুলে পরছিলাম, বেশ ভালই কাটছিল । আনন্দ উচ্ছ্বাসে মাতামাতি করে, উরন্ত পাখির মত, চঞ্চল মনে কেটে যেতো প্রতিটি দিন, প্রতিটি ক্ষণ, কিন্তু বেদনা বিদুর ছলে, কোনকিছু না বলে, একদিন সকাল বেলা হটাৎ করে সব আনন্দ উচ্চাস, বেদনায় পরিনত হয়ে, মায়া মমতা ছেড়ে, আজানার বেলাভুমে, না আশার ছলনায় পরপারে চলে গেলেন আমার ভালবাসার আবৃত মুখখানি “ মা “। আর সেই থেকে আমার বাবাই সব । কখনও মায়ের মতো, আবার কখনও বাবার মতো করে আদর স্নেহ, মমতা দিয়ে আজানা আনেক গল্প শুনাতেন । যা আমাকে মায়ের অভাব বুঝতে দিত না ।
এভাবেই কেঁদে কেঁদে সাহস বলছিল কথাগুলো রমার কোলে মাথা রেখে , তার দু-চে।খ বেয়ে অঝরে ঝরছে মমতার শিশির বিন্দু । সাহস কখনও চায়নি রমার সংগে সম্পক গড়তে , কিন্তু রমা নাছর বান্দা , সাহস কে রমার আনেক ভাল লাগে । কিন্তু আনেক ভয় পেয়েছিল যখন রমা তার পিছু ছারছিল না । সাহস একা তার কোন ভাই বোন নেই , শুধু পরিবারে বাবা আর কাজের লোক , লোকমান ও তার বউ জরিনা । তারা সাহসদের বাড়িতে থাকে , ওদের দুঃস্মপকের আত্মীয় হয় । মাঝে মাঝে ওদের ভালোবাসা দেখে সাহস মুগ্ধ হয়ে যায় । বাকুল হয়ে যায় আদর স্নেহ মমতা ভালোবাসা পেতে । কিন্তু কোথায় পাবে ভালোবাসা , কোথায় পাবে আদর ভরা গালি , তখন পাগল হয়ে যায় বাবার সান্নিধ্য পাবার জন্য । ছুটে যায় বাবার কাছে মাথা রাখে বাবার বুকে । শেষ, সব শেষ হয়ে গেল বুকের ব্যাথ্যা যেন স্বর্গরাজ্যের সমস্থ সুখ লুকিয়ে আছে ঐখানে , মুহূর্তেই ভুলে যায় পৃথিবীর সবকিছু । বাবা বুঝতে পারে সাহসের মনের ব্যাথ্যা । হাত বুলিয়ে দেয় মাথায় , আদর করে আনেক আনেক, আলত করে বলে মন খারাপ ? সাহস উত্তর দেয় হু ।

আজ সাহসের বাবা আনেক দূরে , সাহস পড়াশুনার কারনে আনেক দূরে চলে এসেছে বাবাকে গ্রামে রেখে , কিন্তু মনে পরে বার বার দেখতে ইচ্ছে করে , বুকে মাথা রাখতে ইচ্ছে করে, বাবা বলে ডাকতে ইচ্ছে করে । উপায় নেই , কোন উপায় নেই প্রয়জনের খাতিরে দূরে বহুদূরে থাকতে হচ্ছে । অস্পষ্ট স্বরে বাবা, বাবা ডাকে ও মাঝে মাঝে ।
রমা সাহসের চোখের পানি মুছে দিতে দিতে বলত আনেক কথা । আজান্তে কেঁদে ফেলত সেও , বলত সাহস আমিত আছি তোমার পাশে ,তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাব না, তোমার পাশেই রব সারাজীবন । তবুও সাহস তার বাবার কথাই বলতে থাকে । এভাবেই সন্ধ্যা হয়ে আসে , দূর আকাশে পাখিরা দল বেধে নীড়ে ফিরছে , আলত মন মাতানো বাতাস বইছে । পশ্চিমের আকাশে নেমে এসেছে আনেক রঙ , মন মাতানো হ্রদয় ভরিয়ে দিবে যে কারো সেই অপরূপ সুন্দর ।
রমা সাহসকে বুকের মাঝে শক্ত করে জরিয়ে ধরে ...............প্রকৃতি যেন হেসেছে , সমস্ত দুঃখ বেদনা ভুলে, সাহস সেই চেনা ভালোবাসার গন্ধ, মমতাময়ী ব্যাথ্যা । এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস , নিমিষেই হাড়িয়ে গেল সমস্ত বেদনা , চলতে থাকে দুজনে আজানা পথের পথিক হয়ে শেষ কোথায় কেউ জানেন কি ?

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement